ঢাকা ০৬:২৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চলতি অক্টোবরের শেষ দিকে জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করলেন চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উদ্বোধনের আগেই কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনালে যাত্রীসেবা শুরু সাইবার সুরক্ষা আইন যেন নিপীড়নমূলক না হয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অক্টোবর-নভেম্বরে তিন দেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের সন্ত্রাস দমন তহবিলে কাতারের ১৪১ মিলিয়ন ডলার অনুদান নিউইয়র্কে চার দিনে ৩০টি কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত সফর জাতিসংঘে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি রোধে চার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর অক্টোবরেই চালু হচ্ছে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেশে ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ১৭৮২

নাসাকে টপকাতে মরিয়া চীন, চাঁদ জয়ের লড়াইয়ে বড় ঘোষণা

আকাশ নিউজ ডেস্ক:

চাঁদে মানুষ পাঠানোর লক্ষ্যে বড় পদক্ষেপ নিল চীন। এক বছরের দীর্ঘ মহাকাশ মিশন শুরু করতে যাচ্ছে দেশটি, যা তাদের ভবিষ্যৎ চন্দ্র অভিযানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আজ রবিবার রাতে তিন নভোচারী নিয়ে শেনঝৌ তেইশ মহাকাশযান উৎক্ষেপণ করা হবে। উত্তর পশ্চিম চীনের জিউকুয়ান স্যাটেলাইট লঞ্চ সেন্টার থেকে স্থানীয় সময় রাত ১১টা ০৮ মিনিটে লং মার্চ টু এফ ওয়াই তেইশ রকেটের মাধ্যমে এটি উৎক্ষেপণ করা হবে।

এই মিশনের বিশেষ দিক হলো, তিন নভোচারীর মধ্যে একজন টানা এক বছর তিয়াংগং স্পেস স্টেশনে অবস্থান করবেন। এটি চীনের ইতিহাসে দীর্ঘতম মহাকাশ মিশনের একটি নতুন রেকর্ড গড়তে যাচ্ছে।

দলের অন্যতম সদস্য লি জিয়াইং, যিনি হংকং পুলিশের সাবেক ইন্সপেক্টর। তিনি প্রথম হংকং নাগরিক হিসেবে চীনের মহাকাশ মিশনে অংশ নিচ্ছেন। অন্য দুই সদস্য কমান্ডার ঝু ইয়াংঝু এবং পাইলট ঝাং ইউয়ানঝি, যারা পিপলস লিবারেশন আর্মির মহাকাশচারী ইউনিটের সদস্য।

চীন মানববাহী মহাকাশ সংস্থা জানিয়েছে, মিশনের অগ্রগতির ওপর ভিত্তি করে নির্ধারণ করা হবে কে দীর্ঘ সময় মহাকাশে থাকবেন। দীর্ঘদিন মহাশূন্যে থাকার ফলে মানবদেহ ও মানসিক অবস্থার পরিবর্তন নিয়ে গবেষণা করাই এর মূল উদ্দেশ্য।

এই মিশন এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন মহাকাশে আধিপত্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের প্রতিযোগিতা তীব্র হয়ে উঠেছে। নাসা ২০২৮ সালের মধ্যে চাঁদে মানুষ পাঠানোর পরিকল্পনা করেছে। অন্যদিকে চীন ২০৩০ সালের মধ্যে এই লক্ষ্য পূরণ করতে চায়।

চীন ইতোমধ্যে চাঁদের অন্ধকার অংশ থেকে নমুনা সংগ্রহ করে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এবার তারা মানুষ পাঠানোর প্রস্তুতি হিসেবে লং মার্চ দশ রকেট, মেংঝৌ মহাকাশযান এবং লানিউ ল্যান্ডারের পরীক্ষা চালাচ্ছে।

এই মিশনে মহাকাশের বিকিরণ, হাড়ের ঘনত্ব কমে যাওয়া এবং মানসিক চাপের প্রভাব নিয়ে গবেষণা করা হবে। পাশাপাশি তিয়াংগং স্টেশনে মানব স্টেম সেল ব্যবহার করে কৃত্রিম ভ্রূণ নিয়ে পরীক্ষাও চালানো হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে মহাকাশে মানুষের বসবাসের সম্ভাবনা যাচাইয়ে সহায়ক হতে পারে।

সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে, এই মিশন চীনকে চাঁদে মানুষ পাঠানোর লক্ষ্যের আরও এক ধাপ কাছাকাছি নিয়ে যাবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মালয়েশিয়ায় ২৬৫ বাংলাদেশি পাসপোর্টসহ ২০ জন আটক

নাসাকে টপকাতে মরিয়া চীন, চাঁদ জয়ের লড়াইয়ে বড় ঘোষণা

আপডেট সময় ১১:১৫:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬

আকাশ নিউজ ডেস্ক:

চাঁদে মানুষ পাঠানোর লক্ষ্যে বড় পদক্ষেপ নিল চীন। এক বছরের দীর্ঘ মহাকাশ মিশন শুরু করতে যাচ্ছে দেশটি, যা তাদের ভবিষ্যৎ চন্দ্র অভিযানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আজ রবিবার রাতে তিন নভোচারী নিয়ে শেনঝৌ তেইশ মহাকাশযান উৎক্ষেপণ করা হবে। উত্তর পশ্চিম চীনের জিউকুয়ান স্যাটেলাইট লঞ্চ সেন্টার থেকে স্থানীয় সময় রাত ১১টা ০৮ মিনিটে লং মার্চ টু এফ ওয়াই তেইশ রকেটের মাধ্যমে এটি উৎক্ষেপণ করা হবে।

এই মিশনের বিশেষ দিক হলো, তিন নভোচারীর মধ্যে একজন টানা এক বছর তিয়াংগং স্পেস স্টেশনে অবস্থান করবেন। এটি চীনের ইতিহাসে দীর্ঘতম মহাকাশ মিশনের একটি নতুন রেকর্ড গড়তে যাচ্ছে।

দলের অন্যতম সদস্য লি জিয়াইং, যিনি হংকং পুলিশের সাবেক ইন্সপেক্টর। তিনি প্রথম হংকং নাগরিক হিসেবে চীনের মহাকাশ মিশনে অংশ নিচ্ছেন। অন্য দুই সদস্য কমান্ডার ঝু ইয়াংঝু এবং পাইলট ঝাং ইউয়ানঝি, যারা পিপলস লিবারেশন আর্মির মহাকাশচারী ইউনিটের সদস্য।

চীন মানববাহী মহাকাশ সংস্থা জানিয়েছে, মিশনের অগ্রগতির ওপর ভিত্তি করে নির্ধারণ করা হবে কে দীর্ঘ সময় মহাকাশে থাকবেন। দীর্ঘদিন মহাশূন্যে থাকার ফলে মানবদেহ ও মানসিক অবস্থার পরিবর্তন নিয়ে গবেষণা করাই এর মূল উদ্দেশ্য।

এই মিশন এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন মহাকাশে আধিপত্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের প্রতিযোগিতা তীব্র হয়ে উঠেছে। নাসা ২০২৮ সালের মধ্যে চাঁদে মানুষ পাঠানোর পরিকল্পনা করেছে। অন্যদিকে চীন ২০৩০ সালের মধ্যে এই লক্ষ্য পূরণ করতে চায়।

চীন ইতোমধ্যে চাঁদের অন্ধকার অংশ থেকে নমুনা সংগ্রহ করে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এবার তারা মানুষ পাঠানোর প্রস্তুতি হিসেবে লং মার্চ দশ রকেট, মেংঝৌ মহাকাশযান এবং লানিউ ল্যান্ডারের পরীক্ষা চালাচ্ছে।

এই মিশনে মহাকাশের বিকিরণ, হাড়ের ঘনত্ব কমে যাওয়া এবং মানসিক চাপের প্রভাব নিয়ে গবেষণা করা হবে। পাশাপাশি তিয়াংগং স্টেশনে মানব স্টেম সেল ব্যবহার করে কৃত্রিম ভ্রূণ নিয়ে পরীক্ষাও চালানো হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে মহাকাশে মানুষের বসবাসের সম্ভাবনা যাচাইয়ে সহায়ক হতে পারে।

সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে, এই মিশন চীনকে চাঁদে মানুষ পাঠানোর লক্ষ্যের আরও এক ধাপ কাছাকাছি নিয়ে যাবে।