আকাশ জাতীয় ডেস্ক:
ইমপ্লান্ট বা দীর্ঘমেয়াদি জন্মনিরোধক হলো নারীদের হাতের ওপরের অংশের চামড়ার নিচে স্থাপন করা ছোট নমনীয় রড, যা একটানা ৩ থেকে ৫ বছর পর্যন্ত গর্ভাবস্থা রোধ করে।
ইমপ্লান্টের সুবিধা: এটি গর্ভাবস্থা রোধে ৯৯% এর বেশি কার্যকর, যা পিলের চেয়েও বেশি নির্ভরযোগ্য।
দীর্ঘস্থায়ী ও ঝামেলাহীন: একবার স্থাপন করলে ৩-৫ বছর পর্যন্ত প্রতিদিন পিল খাওয়ার বা ইনজেকশন নেওয়ার ঝামেলা থাকে না।
দ্রুত উর্বরতা (fertility) ফিরে পাওয়া: ইমপ্লান্ট খুলে ফেলার সঙ্গে সঙ্গে গর্ভধারণের ক্ষমতা দ্রুত ফিরে আসে।
ইস্ট্রোজেন মুক্ত: এতে শুধু প্রোজেস্টিন হরমোন থাকে, তাই যারা ইস্ট্রোজেনযুক্ত বড়ি খেতে পারেন না (যেমন- উচ্চ রক্তচাপ বা বুকের দুধ খাওয়ানো মা) তাদের জন্য এটি নিরাপদ। পিরিয়ড হালকা ও কম বেদনাদায়ক হওয়া। অনেকের মাসিক পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায় বা খুব অল্প রক্তপাত হয়, যা পিরিয়ডজনিত সমস্যা কমায়।
ইমপ্লান্টের অসুবিধা: রক্তপাতের ধরনে পরিবর্তন হওয়া। সাধারণ অসুবিধা হলো অনিয়মিত মাসিক, পিরিয়ডের মাঝে স্পটিং (অল্প রক্তপাত) বা পিরিয়ড পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়া।
ইমপ্লান্ট স্থাপন ও অপসারণের জন্য চিকিৎসকের প্রয়োজন: এটি নিজে ব্যবহার করা যায় না; প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মীর মাধ্যমে বাহুতে ছোট অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হয়। যৌনবাহিত রোগ থেকে সুরক্ষা পাওয়া যায় না। এটি শুধুমাত্র গর্ভাবস্থা রোধ করে, এইডস বা অন্যান্য যৌনরোগ প্রতিরোধ করে না।
স্বাস্থ্যঝুঁকি ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হরমোনজনিত কারণে মাথাব্যথা, স্তনে ব্যথা, মুখে ব্রণ বা ওজনে পরিবর্তন হতে পারে।
সংক্রমণ: ইমপ্লান্ট লাগানোর স্থানে ইনফেকশন, ব্যথা বা কালো দাগ পড়তে পারে।
স্থানচ্যুতি: কদাচিৎ ইমপ্লান্টটি স্থাপিত স্থান থেকে সামান্য সরে যেতে পারে, যা অপসারণ কঠিন করে তোলে।
একটোপিক প্রেগন্যান্সি: যদিও ইমপ্লান্টে গর্ভাবস্থা হওয়ার ঝুঁকি খুবই কম, কিন্তু যদি কেউ ইমপ্লান্ট থাকা অবস্থায় গর্ভবতী হন, তবে জরায়ুর বাইরে গর্ভধারণের ঝুঁকি কিছুটা বেশি থাকে।
যেকোনো দীর্ঘমেয়াদি পদ্ধতি গ্রহণের আগে অবশ্যই একজন গাইনি বিশেষজ্ঞ এর পরামর্শ নিয়ে কাজ করতে হবে এবং ফলোআপ করতে হবে যদি কোনো সমস্যা দেখা দেয়।
লেখক: আয়েশা আক্তার
আকাশ নিউজ ডেস্ক 
























