আকাশ জাতীয় ডেস্ক:
ঢাকার ফুটপাত ও সড়কে দীর্ঘদিনের বিশৃঙ্খলা, যানজট এবং পথচারীদের ভোগান্তি কমাতে প্রথমবারের মতো হকার ব্যবস্থাপনাকে নীতিমালার আওতায় নিয়ে এসেছে সরকার।
স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব মো. রবিউল ইসলাম সই করা পত্রে এ তথ্য জানানো হয়। স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেন।
‘ঢাকা শহরের হকার পুনর্বাসন নীতিমালা-২০২৬’ শীর্ষক এ নীতিমালায় হকারদের নিবন্ধন, নির্দিষ্ট জোনে ব্যবসা পরিচালনা, হলিডে ও নৈশকালীন মার্কেট চালুসহ বিভিন্ন নির্দেশনা রাখা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে একদিকে যেমন নগরীর শৃঙ্খলা ফিরবে, অন্যদিকে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবিকাও সুরক্ষিত হবে। বর্তমানে রাজধানীতে ফুটপাত ও সড়কের বড় অংশই দখল করে বসেন ভ্রাম্যমাণ ও অস্থায়ী দোকানদাররা। কোথাও কোথাও ফুটপাত পুরোপুরি দখল হয়ে যাওয়ায় পথচারীদের বাধ্য হয়ে সড়কে চলাচল করতে হয়। এতে যেমন দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে, তেমনি যানজটও তীব্র হয়। এতদিন হকার ব্যবস্থাপনায় কোনো সুনির্দিষ্ট নীতিমালা না থাকায় যে যেখানে পারছেন দোকান বসাচ্ছেন। এবার সেই অব্যবস্থাপনা দূর করতে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পর্যালোচনাধীন নীতিমালাটি মূলত ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতাধীন এলাকার জন্য প্রণয়ন করা হয়েছে। এটি দেশের প্রথম পূর্ণাঙ্গ হকার নীতিমালা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
খসড়ায় বলা হয়েছে, ফুটপাত ও গণপরিসরে পথচারীদের স্বাচ্ছন্দ্যময় চলাচল নিশ্চিত করার পাশাপাশি হকারদের নিবন্ধনের আওতায় এনে নির্দিষ্ট জোনে ব্যবসার সুযোগ সৃষ্টি করাই এ নীতিমালার মূল উদ্দেশ্য।
নীতিমালায় হকারদের জন্য বাধ্যতামূলক নিবন্ধনের বিধান রাখা হয়েছে। এ জন্য সিটি করপোরেশনের অধীনে ‘হকার ব্যবস্থাপনা কমিটি’ গঠন করা হবে। কমিটির মাধ্যমে নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য স্মার্টকার্ড বা পরিচয়পত্র প্রদান করা হবে।
নিবন্ধনের জন্য আবেদনকারীকে অবশ্যই বাংলাদেশের নাগরিক এবং কমপক্ষে ১৮ বছর বয়সী হতে হবে। একটি পরিবার থেকে একাধিক লাইসেন্স দেয়া হবে না। নিবন্ধিত ব্যক্তিকেই ব্যবসা পরিচালনা করতে হবে এবং বরাদ্দকৃত জায়গা অন্য কাউকে ভাড়া দেয়া বা ব্যবহার করতে দেয়া যাবে না।
নীতিমালায় স্থান নির্বাচনের বিষয়েও স্পষ্ট নির্দেশনা রাখা হয়েছে। যেসব ফুটপাতে হকার বসার পরও পথচারীদের চলাচলের জন্য কমপক্ষে ৫ থেকে ৬ ফুট জায়গা ফাঁকা থাকবে, শুধু সেসব এলাকাতেই হকার বসার অনুমতি দেয়া হবে।
প্রধান সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সড়কের পাশে হকার বসতে পারবেন না। মেট্রোরেল স্টেশন, বাসস্ট্যান্ড এবং গুরুত্বপূর্ণ মোড় থেকে অন্তত ২০ থেকে ৩০ ফুট দূরে হকার জোন নির্ধারণ করতে হবে, যাতে যানজট সৃষ্টি না হয়।
এছাড়া চালু করা হচ্ছে ‘হলিডে মার্কেট’ ও ‘নৈশকালীন মার্কেট’। শুক্র, শনিবার ও সরকারি ছুটির দিনে সকাল ৭টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত নির্ধারিত এলাকায় হলিডে মার্কেট বসবে।
অন্যদিকে বাণিজ্যিক এলাকায় অফিস শেষে বিকাল সাড়ে ৫টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত নৈশকালীন মার্কেট পরিচালিত হবে। এসব মার্কেটে নারী ও প্রতিবন্ধীদের অগ্রাধিকার দেয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
নীতিমালায় আরো বলা হয়েছে, কোনো হকার স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণ করতে পারবেন না। প্রতিদিন নির্ধারিত সময় শেষে মালামাল সরিয়ে নিতে হবে। নিয়ম ভঙ্গ করলে লাইসেন্স বাতিলসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। লাইসেন্স ছাড়া হকারদের বিরুদ্ধে বিনা নোটিসে উচ্ছেদ অভিযান চালানো যাবে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম বলেছেন, নগরীতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এবং পথচারীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতেই এ নীতিমালা করা হয়েছে। তবে সীমিত জায়গার কারণে সব হকারকে পুনর্বাসন করা সম্ভব হবে না। তাই কোন এলাকায় কতজন হকার বসতে পারবেন, তা পরিকল্পনার ভিত্তিতেই নির্ধারণ করা হবে।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 


















