ঢাকা ০৬:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার শিখিয়ে শিশু-কিশোরদের ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করতে হবে : ববি হাজ্জাজ প্রবাসী কার্ডধারীদের জন্য বিমান টিকিট ও লাউঞ্জসহ বিশেষ সুবিধা অন্তর্ভুক্ত করা হবে মোদি-শাহ’র পদত্যাগ দাবি রাহুল গান্ধীর শেখ হাসিনার লাশ বাংলাদেশে জানাজা পাবে না: সরোয়ার তুষার বিএনপি সরকার হাওয়ায় ভেসে আসেনি: আযম খান ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে ক্রীড়ার বিকল্প নেই: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী সচিব পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী পদে দায়িত্ব গ্রহণ করলেন রাশেদ যেকোনো দুর্যোগে দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করতে হবে: জুবাইদা রহমান নেতাকর্মীকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান রিজভীর ভাইরাল ভিডিওর নারীকে ‘দ্বিতীয় স্ত্রী’ দাবি জামায়াত এমপির

ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে সরকারি কর্মচারীর আত্মহত্যা

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

অনলাইন জুয়ার দেড় কোটি টাকার লেনদেন ও ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে বিরোধের জেরে টাঙ্গাইলের গোপালপুরে মো. আমিনুল ইসলাম (২৭) নামে ভূমি অফিসের এক কর্মচারীর আত্মহত্যার অভিযোগ উঠেছে।

বুধবার (৬ মে) সন্ধ্যায় নিজ বাড়ির রান্নাঘরের আড়ার সঙ্গে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন তিনি।

আত্মহত্যার আগে ফেসবুকে দেওয়া এক আবেগঘন স্ট্যাটাসে তিনি এক ব্যাংক কর্মকর্তাকে দায়ী করেন।

নিহত আমিনুল উপজেলার সৈয়দপুর হাদিরা ভূমি অফিসের অফিস সহকারী ছিলেন এবং চাতুটিয়া গ্রামের আজিজুর রহমান ভোলার ছেলে।

ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, গোপালপুর অগ্রণী ব্যাংকের অফিসার সাদেক আরমান তাকে অনলাইন জুয়ার সঙ্গে যুক্ত করেন। একপর্যায়ে সাদেক তার কাছ থেকে দেড় কোটি টাকা ধার নেন। পরে সেই টাকা ফেরত না দিয়ে উল্টো ব্যাংক চেকে স্বাক্ষর নিয়ে তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিতে থাকেন বলেও পোস্টে উল্লেখ করেন তিনি।

নিহতের বাবা ভোলা জানান, অনলাইনে জুয়া খেলতে গিয়ে তার ছেলে ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েন। একই সঙ্গে ধার দেওয়া টাকাও ফেরত পাচ্ছিলেন না। পাওনাদারদের চাপের কারণে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন।

তিনি জানান, বুধবার রাতে বাড়ির রান্নাঘরের আড়ার সঙ্গে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন আমিনুল। তার তিন বছর বয়সি একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। এছাড়া তার স্ত্রী তিন মাসের অন্তঃস্বত্ত্বা।

ভোলার দাবি, পাওনা টাকা ফেরত না পাওয়ার হতাশা থেকেই তার ছেলে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন। এ ঘটনায় জড়িতদের বিচার দাবি করেন তিনি।

অপরদিকে অভিযুক্ত ব্যাংক কর্মকর্তা সাদেক আরমানের মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। তবে, তার পরিবারের দাবি- আমিনুল ইসলামের কাছ থেকে নেওয়া সব টাকা যথাসময়ে পরিশোধ করা হয়েছে। ফেসবুকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে মিথ্যা অভিযোগ তুলে তাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

অগ্রণী ব্যাংক গোপালপুর শাখার ভারপ্রাপ্ত প্রধান সোলায়মান কবীর বলেন, সাদেক আরমান বৃহস্পতিবার ব্যাংকে আসেননি। তিনি হয়তো ছুটিতে রয়েছেন।

গোপালপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. নবাব আলী বলেন, বিষয়টি নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পরিবারকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

গোপালপুর থানার ওসি আনোয়ার হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার শিখিয়ে শিশু-কিশোরদের ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করতে হবে : ববি হাজ্জাজ

ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে সরকারি কর্মচারীর আত্মহত্যা

আপডেট সময় ১০:৩৮:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

অনলাইন জুয়ার দেড় কোটি টাকার লেনদেন ও ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে বিরোধের জেরে টাঙ্গাইলের গোপালপুরে মো. আমিনুল ইসলাম (২৭) নামে ভূমি অফিসের এক কর্মচারীর আত্মহত্যার অভিযোগ উঠেছে।

বুধবার (৬ মে) সন্ধ্যায় নিজ বাড়ির রান্নাঘরের আড়ার সঙ্গে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন তিনি।

আত্মহত্যার আগে ফেসবুকে দেওয়া এক আবেগঘন স্ট্যাটাসে তিনি এক ব্যাংক কর্মকর্তাকে দায়ী করেন।

নিহত আমিনুল উপজেলার সৈয়দপুর হাদিরা ভূমি অফিসের অফিস সহকারী ছিলেন এবং চাতুটিয়া গ্রামের আজিজুর রহমান ভোলার ছেলে।

ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, গোপালপুর অগ্রণী ব্যাংকের অফিসার সাদেক আরমান তাকে অনলাইন জুয়ার সঙ্গে যুক্ত করেন। একপর্যায়ে সাদেক তার কাছ থেকে দেড় কোটি টাকা ধার নেন। পরে সেই টাকা ফেরত না দিয়ে উল্টো ব্যাংক চেকে স্বাক্ষর নিয়ে তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিতে থাকেন বলেও পোস্টে উল্লেখ করেন তিনি।

নিহতের বাবা ভোলা জানান, অনলাইনে জুয়া খেলতে গিয়ে তার ছেলে ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েন। একই সঙ্গে ধার দেওয়া টাকাও ফেরত পাচ্ছিলেন না। পাওনাদারদের চাপের কারণে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন।

তিনি জানান, বুধবার রাতে বাড়ির রান্নাঘরের আড়ার সঙ্গে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন আমিনুল। তার তিন বছর বয়সি একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। এছাড়া তার স্ত্রী তিন মাসের অন্তঃস্বত্ত্বা।

ভোলার দাবি, পাওনা টাকা ফেরত না পাওয়ার হতাশা থেকেই তার ছেলে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন। এ ঘটনায় জড়িতদের বিচার দাবি করেন তিনি।

অপরদিকে অভিযুক্ত ব্যাংক কর্মকর্তা সাদেক আরমানের মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। তবে, তার পরিবারের দাবি- আমিনুল ইসলামের কাছ থেকে নেওয়া সব টাকা যথাসময়ে পরিশোধ করা হয়েছে। ফেসবুকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে মিথ্যা অভিযোগ তুলে তাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

অগ্রণী ব্যাংক গোপালপুর শাখার ভারপ্রাপ্ত প্রধান সোলায়মান কবীর বলেন, সাদেক আরমান বৃহস্পতিবার ব্যাংকে আসেননি। তিনি হয়তো ছুটিতে রয়েছেন।

গোপালপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. নবাব আলী বলেন, বিষয়টি নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পরিবারকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

গোপালপুর থানার ওসি আনোয়ার হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।