ঢাকা ১০:৩৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান সরকার অনুমোদন দিলে ক্রসফায়ারও করবে পুলিশ: আইজিপি ব্যবসায়ীকে আটকে চাঁদা দাবি: ডিজিএফআই সদস্যসহ কারাগারে ৬ দেশে হামের উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই নির্বাচন হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আইজিপি: চাঁদাবাজির অভিযোগে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা করার ক্ষমতা পাচ্ছে পুলিশ জাপান সফরে তারেক রহমান: অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে নতুন গতির আশা

চিকিৎসকের অবহেলায় প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগে হাসপাতাল ভাঙচুর

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

ভোলার চরফ্যাশনে ডাক্তারের অবহেলায় প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ তুলে প্রাইভেট হাসপাতালে (ইকরা হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে) হামলা করছে স্বজনরা। এ সময় ভাঙচুর করা হয়।

বুধবার রাতের সন্তান প্রসবের সময় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনার পর থেকে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত ওই হাসপাতালে কয়েক দফা হামলা ও ভাঙচুর করা হয়। বাজারে বিক্ষোভ মিছিল করা হয়েছে।

স্বজনরা মুন্নি আক্তারের (২০) মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না। চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ভুল চিকিৎসার অভিযোগ তুলে প্রতিবাদে রাস্তায় নামে তারা।

এদিকে স্থানীয় একটি গ্রুপ এক লাখ টাকার বিনিময়ে বিষয়টি মীমাংসা চেষ্টা করছে বলে জানা গেছে।

মৃত মুন্নি আক্তার আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের আনোয়ার হোসেনের মেয়ে। তার স্বামী কাশেম খন্দকার স্থানীয় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী।

মুন্নির বাবা আনোয়ার হোসেনের জানান, তার মেয়ের প্রসব ব্যথা শুরু হলে পরিবারের সদস্যরা চরফ্যাশনের ইকরা হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে যায়। সেখানে ডা. আঁখি আক্তার কোনো পরীক্ষা ছাড়াই গর্ভের সন্তানের অবস্থা সংকটাপন্ন তাই অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে শিশু বের করতে হবে বলে জানান। নার্সের মাধ্যমে ইনজেকশন (ইনজেকশন) দেওয়ার পর থেকেই রোগীর অবস্থার অবনতি ঘটে। এ সময় ছেলের জন্ম হয়। তবে মুন্নি মারা যান।

আনোয়ারের অভিযোগ, মুন্নির মৃত্যুর বিষয়টি গোপন করে চিকিৎসক ও নার্সরা অবস্থা সংকটাপন্ন জানিয়ে তাকে দ্রুত বরিশাল নেওয়ার পরামর্শ দেন। তবে তারা বিষয়টি বুঝতে পেরে ওই ক্লিনিকে প্রতিবাদ শুরু করেন। কর্তৃপক্ষ প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের চাপে পড়ে মেয়েকে লালমোহন হাসপাতালে নিয়ে যান।

সেখানে চিকিৎসকরা জানান, অস্ত্রোপচারের সময়ই রোগী মারা গেছেন। পরে তারা লাশ ইকরা হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে আসেন। ইকরা হাসপাতাল কর্মকর্তাদের চাপে পড়ে লাশ নিয়ে বাড়ি ফেরেন।

আনোয়ার জানিয়েছেন, রাতেই তারা বাড়িতে মুন্নির লাশ দাফন করেন। এরপর হাসপাতালের কর্মকর্তারা বাড়িতে এসে ভূমিষ্ঠ নবজাতকের চিকিৎসা করানোর জন্য ১ লাখ টাকা তুলে দেন।

হাসপাতালের পরিচালক বশির আহমেদের জানান, নারীর পরিবার বাড়িতে স্বাভাবিক প্রসবের চেষ্টা করেছিল। যখন হাসপাতালে আনা হয়, তখনই প্রসূতির অবস্থা সংকটাপন্ন ছিল। গর্ভের সন্তানের অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় দ্রুত অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন চিকিৎসক। পরে প্রসূতির জ্ঞান ফেরেনি। এজন্য তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল নেওয়ার পরামর্শ দেন।

চিকিৎসকের ধারণা, অস্ত্রোপচারের সময় ওই নারী স্ট্রোক করেন। এতেই তিনি মারা যান। সর্বশেষ এ ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা দ্রুত অভিযুক্ত চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্টদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করে হামলা করে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে চরফ্যাশন থানার ওসি জানান, লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

ব্যালন ডি’অর জিতে হতাশা আর অপমানের জবাব দিলেন হ্যারি কেইন

চিকিৎসকের অবহেলায় প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগে হাসপাতাল ভাঙচুর

আপডেট সময় ১০:৪৫:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

ভোলার চরফ্যাশনে ডাক্তারের অবহেলায় প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ তুলে প্রাইভেট হাসপাতালে (ইকরা হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে) হামলা করছে স্বজনরা। এ সময় ভাঙচুর করা হয়।

বুধবার রাতের সন্তান প্রসবের সময় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনার পর থেকে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত ওই হাসপাতালে কয়েক দফা হামলা ও ভাঙচুর করা হয়। বাজারে বিক্ষোভ মিছিল করা হয়েছে।

স্বজনরা মুন্নি আক্তারের (২০) মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না। চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ভুল চিকিৎসার অভিযোগ তুলে প্রতিবাদে রাস্তায় নামে তারা।

এদিকে স্থানীয় একটি গ্রুপ এক লাখ টাকার বিনিময়ে বিষয়টি মীমাংসা চেষ্টা করছে বলে জানা গেছে।

মৃত মুন্নি আক্তার আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের আনোয়ার হোসেনের মেয়ে। তার স্বামী কাশেম খন্দকার স্থানীয় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী।

মুন্নির বাবা আনোয়ার হোসেনের জানান, তার মেয়ের প্রসব ব্যথা শুরু হলে পরিবারের সদস্যরা চরফ্যাশনের ইকরা হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে যায়। সেখানে ডা. আঁখি আক্তার কোনো পরীক্ষা ছাড়াই গর্ভের সন্তানের অবস্থা সংকটাপন্ন তাই অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে শিশু বের করতে হবে বলে জানান। নার্সের মাধ্যমে ইনজেকশন (ইনজেকশন) দেওয়ার পর থেকেই রোগীর অবস্থার অবনতি ঘটে। এ সময় ছেলের জন্ম হয়। তবে মুন্নি মারা যান।

আনোয়ারের অভিযোগ, মুন্নির মৃত্যুর বিষয়টি গোপন করে চিকিৎসক ও নার্সরা অবস্থা সংকটাপন্ন জানিয়ে তাকে দ্রুত বরিশাল নেওয়ার পরামর্শ দেন। তবে তারা বিষয়টি বুঝতে পেরে ওই ক্লিনিকে প্রতিবাদ শুরু করেন। কর্তৃপক্ষ প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের চাপে পড়ে মেয়েকে লালমোহন হাসপাতালে নিয়ে যান।

সেখানে চিকিৎসকরা জানান, অস্ত্রোপচারের সময়ই রোগী মারা গেছেন। পরে তারা লাশ ইকরা হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে আসেন। ইকরা হাসপাতাল কর্মকর্তাদের চাপে পড়ে লাশ নিয়ে বাড়ি ফেরেন।

আনোয়ার জানিয়েছেন, রাতেই তারা বাড়িতে মুন্নির লাশ দাফন করেন। এরপর হাসপাতালের কর্মকর্তারা বাড়িতে এসে ভূমিষ্ঠ নবজাতকের চিকিৎসা করানোর জন্য ১ লাখ টাকা তুলে দেন।

হাসপাতালের পরিচালক বশির আহমেদের জানান, নারীর পরিবার বাড়িতে স্বাভাবিক প্রসবের চেষ্টা করেছিল। যখন হাসপাতালে আনা হয়, তখনই প্রসূতির অবস্থা সংকটাপন্ন ছিল। গর্ভের সন্তানের অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় দ্রুত অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন চিকিৎসক। পরে প্রসূতির জ্ঞান ফেরেনি। এজন্য তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল নেওয়ার পরামর্শ দেন।

চিকিৎসকের ধারণা, অস্ত্রোপচারের সময় ওই নারী স্ট্রোক করেন। এতেই তিনি মারা যান। সর্বশেষ এ ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা দ্রুত অভিযুক্ত চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্টদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করে হামলা করে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে চরফ্যাশন থানার ওসি জানান, লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।