ঢাকা ০৯:২২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

গ্যালাক্সির লুকানো চেহারা দেখার সুযোগ দিচ্ছে বিজ্ঞান

আকাশ নিউজ ডেস্ক:

জ্বলন্ত একটি মোমবাতির সামনে যদি বক্র কাচের গ্লাস ধরা হয়, তাহলে গ্লাসের বক্রতার কারণে মোমবাতির আলো বাঁকতে থাকে। ফলে শিখাটি বড় একটি বলয় বা বৃত্তের মতো দেখা যায়। এই সাধারণ ঘটনা থেকেই মহাকাশের এক বিস্ময়কর বৈজ্ঞানিক ধারণা বোঝা যায়—যাকে বলা হয় মহাকর্ষীয় লেন্সিং।

মহাকাশে যদি কোনো গ্যালাক্সি বা বিশাল ভরের বস্তু থাকে, তাহলে আইনস্টাইনের সাধারণ আপেক্ষিকতা তত্ত্ব অনুযায়ী তার চারপাশের স্থান ও সময় বাঁকিয়ে যায়। সেই বাঁকানো পথ দিয়ে আলো চলার সময় আলোও বেঁকে যায়। ফলে দূরে থাকা কোনো গ্যালাক্সির আলো সামনে থাকা ভারী গ্যালাক্সির চারপাশে ধনুক বা নিখুঁত বৃত্তের মতো দেখা যায়। এই বৃত্তকে বলা হয় আইনস্টাইন রিং। এটি কোনো চোখের বিভ্রম নয়—মহাবিশ্ব নিজেই আলোকে বাঁকিয়ে দিচ্ছে।

ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার ইউক্লিড টেলিস্কোপ সম্প্রতি মহাবিশ্বের বিশাল পরিমাণ ছবি ও তথ্য প্রকাশ করেছে। এই ছবিগুলোর মধ্যে লুকিয়ে থাকা মহাকর্ষীয় লেন্স খুঁজে বের করতে এবার বিজ্ঞানীরা সাধারণ মানুষের সাহায্য চাইছেন। এ জন্য জুনাইভার্স প্ল্যাটফর্মে শুরু হয়েছে স্পেস ওয়ার্পস নামের একটি সিটিজেন সায়েন্স প্রকল্প।

এই প্রকল্পে অংশ নিতে কোনো টেলিস্কোপ বা বিজ্ঞানের ডিগ্রি দরকার নেই। শুধু মনোযোগ দিয়ে ছবির ভেতরে অস্বাভাবিক বাঁকানো আলো বা বৃত্তাকার গঠন খুঁজে বের করলেই হবে। এর মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা হাজার হাজার লেন্স শনাক্ত করতে পারবেন।

মহাকর্ষীয় লেন্স গ্যালাক্সির ভরের পরিমাণ মাপতে সাহায্য করে, বিশেষ করে ডার্ক ম্যাটার, যা দেখা যায় না। এই গবেষণা থেকে বিজ্ঞানীরা জানতে চান—মহাবিশ্ব কীভাবে গড়ে উঠেছে এবং ডার্ক এনার্জি কীভাবে মহাবিশ্বকে দ্রুত সম্প্রসারিত করছে। এই মহাজাগতিক অনুসন্ধানে আপনিও ঘরে বসে বিজ্ঞানীর অংশীদার হতে পারেন—শুধু কৌতূহল আর একটু তীক্ষ্ণ দৃষ্টি থাকলেই যথেষ্ট। বিস্তারিত জানা যাবে এই ঠিকানা থেকে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগকে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

গ্যালাক্সির লুকানো চেহারা দেখার সুযোগ দিচ্ছে বিজ্ঞান

আপডেট সময় ০৯:৩৫:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬

আকাশ নিউজ ডেস্ক:

জ্বলন্ত একটি মোমবাতির সামনে যদি বক্র কাচের গ্লাস ধরা হয়, তাহলে গ্লাসের বক্রতার কারণে মোমবাতির আলো বাঁকতে থাকে। ফলে শিখাটি বড় একটি বলয় বা বৃত্তের মতো দেখা যায়। এই সাধারণ ঘটনা থেকেই মহাকাশের এক বিস্ময়কর বৈজ্ঞানিক ধারণা বোঝা যায়—যাকে বলা হয় মহাকর্ষীয় লেন্সিং।

মহাকাশে যদি কোনো গ্যালাক্সি বা বিশাল ভরের বস্তু থাকে, তাহলে আইনস্টাইনের সাধারণ আপেক্ষিকতা তত্ত্ব অনুযায়ী তার চারপাশের স্থান ও সময় বাঁকিয়ে যায়। সেই বাঁকানো পথ দিয়ে আলো চলার সময় আলোও বেঁকে যায়। ফলে দূরে থাকা কোনো গ্যালাক্সির আলো সামনে থাকা ভারী গ্যালাক্সির চারপাশে ধনুক বা নিখুঁত বৃত্তের মতো দেখা যায়। এই বৃত্তকে বলা হয় আইনস্টাইন রিং। এটি কোনো চোখের বিভ্রম নয়—মহাবিশ্ব নিজেই আলোকে বাঁকিয়ে দিচ্ছে।

ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার ইউক্লিড টেলিস্কোপ সম্প্রতি মহাবিশ্বের বিশাল পরিমাণ ছবি ও তথ্য প্রকাশ করেছে। এই ছবিগুলোর মধ্যে লুকিয়ে থাকা মহাকর্ষীয় লেন্স খুঁজে বের করতে এবার বিজ্ঞানীরা সাধারণ মানুষের সাহায্য চাইছেন। এ জন্য জুনাইভার্স প্ল্যাটফর্মে শুরু হয়েছে স্পেস ওয়ার্পস নামের একটি সিটিজেন সায়েন্স প্রকল্প।

এই প্রকল্পে অংশ নিতে কোনো টেলিস্কোপ বা বিজ্ঞানের ডিগ্রি দরকার নেই। শুধু মনোযোগ দিয়ে ছবির ভেতরে অস্বাভাবিক বাঁকানো আলো বা বৃত্তাকার গঠন খুঁজে বের করলেই হবে। এর মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা হাজার হাজার লেন্স শনাক্ত করতে পারবেন।

মহাকর্ষীয় লেন্স গ্যালাক্সির ভরের পরিমাণ মাপতে সাহায্য করে, বিশেষ করে ডার্ক ম্যাটার, যা দেখা যায় না। এই গবেষণা থেকে বিজ্ঞানীরা জানতে চান—মহাবিশ্ব কীভাবে গড়ে উঠেছে এবং ডার্ক এনার্জি কীভাবে মহাবিশ্বকে দ্রুত সম্প্রসারিত করছে। এই মহাজাগতিক অনুসন্ধানে আপনিও ঘরে বসে বিজ্ঞানীর অংশীদার হতে পারেন—শুধু কৌতূহল আর একটু তীক্ষ্ণ দৃষ্টি থাকলেই যথেষ্ট। বিস্তারিত জানা যাবে এই ঠিকানা থেকে।