ঢাকা ০১:১৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

গ্যালাক্সির লুকানো চেহারা দেখার সুযোগ দিচ্ছে বিজ্ঞান

আকাশ নিউজ ডেস্ক:

জ্বলন্ত একটি মোমবাতির সামনে যদি বক্র কাচের গ্লাস ধরা হয়, তাহলে গ্লাসের বক্রতার কারণে মোমবাতির আলো বাঁকতে থাকে। ফলে শিখাটি বড় একটি বলয় বা বৃত্তের মতো দেখা যায়। এই সাধারণ ঘটনা থেকেই মহাকাশের এক বিস্ময়কর বৈজ্ঞানিক ধারণা বোঝা যায়—যাকে বলা হয় মহাকর্ষীয় লেন্সিং।

মহাকাশে যদি কোনো গ্যালাক্সি বা বিশাল ভরের বস্তু থাকে, তাহলে আইনস্টাইনের সাধারণ আপেক্ষিকতা তত্ত্ব অনুযায়ী তার চারপাশের স্থান ও সময় বাঁকিয়ে যায়। সেই বাঁকানো পথ দিয়ে আলো চলার সময় আলোও বেঁকে যায়। ফলে দূরে থাকা কোনো গ্যালাক্সির আলো সামনে থাকা ভারী গ্যালাক্সির চারপাশে ধনুক বা নিখুঁত বৃত্তের মতো দেখা যায়। এই বৃত্তকে বলা হয় আইনস্টাইন রিং। এটি কোনো চোখের বিভ্রম নয়—মহাবিশ্ব নিজেই আলোকে বাঁকিয়ে দিচ্ছে।

ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার ইউক্লিড টেলিস্কোপ সম্প্রতি মহাবিশ্বের বিশাল পরিমাণ ছবি ও তথ্য প্রকাশ করেছে। এই ছবিগুলোর মধ্যে লুকিয়ে থাকা মহাকর্ষীয় লেন্স খুঁজে বের করতে এবার বিজ্ঞানীরা সাধারণ মানুষের সাহায্য চাইছেন। এ জন্য জুনাইভার্স প্ল্যাটফর্মে শুরু হয়েছে স্পেস ওয়ার্পস নামের একটি সিটিজেন সায়েন্স প্রকল্প।

এই প্রকল্পে অংশ নিতে কোনো টেলিস্কোপ বা বিজ্ঞানের ডিগ্রি দরকার নেই। শুধু মনোযোগ দিয়ে ছবির ভেতরে অস্বাভাবিক বাঁকানো আলো বা বৃত্তাকার গঠন খুঁজে বের করলেই হবে। এর মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা হাজার হাজার লেন্স শনাক্ত করতে পারবেন।

মহাকর্ষীয় লেন্স গ্যালাক্সির ভরের পরিমাণ মাপতে সাহায্য করে, বিশেষ করে ডার্ক ম্যাটার, যা দেখা যায় না। এই গবেষণা থেকে বিজ্ঞানীরা জানতে চান—মহাবিশ্ব কীভাবে গড়ে উঠেছে এবং ডার্ক এনার্জি কীভাবে মহাবিশ্বকে দ্রুত সম্প্রসারিত করছে। এই মহাজাগতিক অনুসন্ধানে আপনিও ঘরে বসে বিজ্ঞানীর অংশীদার হতে পারেন—শুধু কৌতূহল আর একটু তীক্ষ্ণ দৃষ্টি থাকলেই যথেষ্ট। বিস্তারিত জানা যাবে এই ঠিকানা থেকে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

গ্যালাক্সির লুকানো চেহারা দেখার সুযোগ দিচ্ছে বিজ্ঞান

আপডেট সময় ০৯:৩৫:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬

আকাশ নিউজ ডেস্ক:

জ্বলন্ত একটি মোমবাতির সামনে যদি বক্র কাচের গ্লাস ধরা হয়, তাহলে গ্লাসের বক্রতার কারণে মোমবাতির আলো বাঁকতে থাকে। ফলে শিখাটি বড় একটি বলয় বা বৃত্তের মতো দেখা যায়। এই সাধারণ ঘটনা থেকেই মহাকাশের এক বিস্ময়কর বৈজ্ঞানিক ধারণা বোঝা যায়—যাকে বলা হয় মহাকর্ষীয় লেন্সিং।

মহাকাশে যদি কোনো গ্যালাক্সি বা বিশাল ভরের বস্তু থাকে, তাহলে আইনস্টাইনের সাধারণ আপেক্ষিকতা তত্ত্ব অনুযায়ী তার চারপাশের স্থান ও সময় বাঁকিয়ে যায়। সেই বাঁকানো পথ দিয়ে আলো চলার সময় আলোও বেঁকে যায়। ফলে দূরে থাকা কোনো গ্যালাক্সির আলো সামনে থাকা ভারী গ্যালাক্সির চারপাশে ধনুক বা নিখুঁত বৃত্তের মতো দেখা যায়। এই বৃত্তকে বলা হয় আইনস্টাইন রিং। এটি কোনো চোখের বিভ্রম নয়—মহাবিশ্ব নিজেই আলোকে বাঁকিয়ে দিচ্ছে।

ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার ইউক্লিড টেলিস্কোপ সম্প্রতি মহাবিশ্বের বিশাল পরিমাণ ছবি ও তথ্য প্রকাশ করেছে। এই ছবিগুলোর মধ্যে লুকিয়ে থাকা মহাকর্ষীয় লেন্স খুঁজে বের করতে এবার বিজ্ঞানীরা সাধারণ মানুষের সাহায্য চাইছেন। এ জন্য জুনাইভার্স প্ল্যাটফর্মে শুরু হয়েছে স্পেস ওয়ার্পস নামের একটি সিটিজেন সায়েন্স প্রকল্প।

এই প্রকল্পে অংশ নিতে কোনো টেলিস্কোপ বা বিজ্ঞানের ডিগ্রি দরকার নেই। শুধু মনোযোগ দিয়ে ছবির ভেতরে অস্বাভাবিক বাঁকানো আলো বা বৃত্তাকার গঠন খুঁজে বের করলেই হবে। এর মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা হাজার হাজার লেন্স শনাক্ত করতে পারবেন।

মহাকর্ষীয় লেন্স গ্যালাক্সির ভরের পরিমাণ মাপতে সাহায্য করে, বিশেষ করে ডার্ক ম্যাটার, যা দেখা যায় না। এই গবেষণা থেকে বিজ্ঞানীরা জানতে চান—মহাবিশ্ব কীভাবে গড়ে উঠেছে এবং ডার্ক এনার্জি কীভাবে মহাবিশ্বকে দ্রুত সম্প্রসারিত করছে। এই মহাজাগতিক অনুসন্ধানে আপনিও ঘরে বসে বিজ্ঞানীর অংশীদার হতে পারেন—শুধু কৌতূহল আর একটু তীক্ষ্ণ দৃষ্টি থাকলেই যথেষ্ট। বিস্তারিত জানা যাবে এই ঠিকানা থেকে।