ঢাকা ০৫:২১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ, চোখে গুরুতর আঘাত পেলেন যাত্রী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সীমান্ত হত্যাকে বৈধতা দিয়েছেন: হাসনাত আবদুল্লাহ মাইলস্টোন ট্র্যাজেডির বর্ষপূতি: শোককে শক্তিতে পরিণত করে এগোতে হবে: ডা. জুবাইদা লুটপাটের জন্য ছাত্রজনতা রক্ত দেয়নি: হাসনাত আবদুল্লাহ যুক্তরাষ্ট্র ইরানে আঘাত না হানলে আজ ইসরাইলের অস্তিত্ব থাকত না: ডোনাল্ড ট্রাম্প রাজধানীতে বিএনপি কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা গণতন্ত্র না থাকায় অনেক এলাকার সমস্যা গুরুত্ব পায়নি: ডেপুটি স্পিকার ছাত্র-জনতার অধিকার রক্ষায় দলীয় প্রভাবমুক্ত রাষ্ট্রকাঠামো গড়ার বিকল্প নেই:নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী স্কুলমুখী করতে সাড়ে তিন লাখ শিশুকে স্কুল ড্রেস দেবে সরকার: শিক্ষামন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ, আটক রাহুল-প্রিয়াঙ্কা

কেয়া গাছের শিকড় মানব সভ্যতার চেয়েও পুরোনো, বলছে নতুন গবেষণা

আকাশ নিউজ ডেস্ক: 

মিষ্টি সুগন্ধের জন্য কেয়া বা কেওড়া আমাদের সবার কাছেই বেশ পরিচিত। নানা রকম মিষ্টিজাতীয় খাবার, সুগন্ধি, ওষুধ তৈরি থেকে শুরু করে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানেও এর ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে। তবে আশ্চর্যের বিষয় হলো, আমাদের চিরচেনা এই সুগন্ধি গাছটির শিকড় মানব সভ্যতার চেয়েও প্রাচীন!

সম্প্রতি এমনই এক বিস্ময়কর তথ্য উঠে এসেছে ভারতের আসামের মাকুম কয়লাখনি অঞ্চল থেকে। সেখানকার টিকাক পর্বত এলাকা থেকে কেয়া পাতার চমৎকার সংরক্ষিত কিছু জীবাশ্ম বা ফসিল উদ্ধার করেছেন বিজ্ঞানীরা। লখনৌর বীরবল সাহনি ইনস্টিটিউট অব প্যালিওসায়েন্সেস (বিএসআইপি)-এর গবেষক দলটি জীবাশ্মগুলো পরীক্ষা করে জানান, ভারতীয় উপমহাদেশে অন্তত ২ কোটি ৪০ লাখ (২৪ মিলিয়ন) বছর ধরে এই গাছের অস্তিত্ব রয়েছে।

এই গবেষণাটি সম্প্রতি বিজ্ঞানভিত্তিক জার্নাল ‘জিওবায়োস’-এ প্রকাশিত হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো (পিআইবি) জানিয়েছে, সুগন্ধি এই উদ্ভিদের বংশধররা শুধু মানব সভ্যতার চেয়েই নয়, বরং হিমালয় পর্বতমালা সৃষ্টির আগে থেকেই পৃথিবীতে টিকে আছে। বিশ্বজুড়ে এই উদ্ভিদের জীবাশ্ম পাওয়া অত্যন্ত বিরল ঘটনা। তাই গবেষকদের কাছে এই আবিষ্কার এক যুগান্তকারী সাফল্য।

বর্তমান সময়ের কেয়া পাতার সঙ্গে এই জীবাশ্মগুলোর নিখুঁত মিল পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। আজকের কেয়া পাতার মতো এতেও তলোয়ারের মতো লম্বা আকৃতি, সমান্তরাল শিরা এবং কাঁটাযুক্ত প্রান্ত রয়েছে। এই চমৎকার মিল থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, এগুলো ‘পান্ডানাসি’ (Pandanaceae) পরিবারের অন্তর্ভুক্ত।

এই যুগান্তকারী আবিষ্কার প্রমাণ করে, প্রাচীনকালে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পৃথিবীর অন্যান্য অংশ থেকে যখন গ্রীষ্মমণ্ডলীয় উদ্ভিদ হারিয়ে যাচ্ছিল, তখন ভারতীয় উপমহাদেশ তাদের জন্য একটি নিরাপদ আশ্রয়স্থল হয়ে উঠেছিল। এর মাধ্যমে উদ্ভিদ বিজ্ঞানের বিবর্তনের ইতিহাসের একটি বড় শূন্যস্থানও পূরণ হলো।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ, চোখে গুরুতর আঘাত পেলেন যাত্রী

কেয়া গাছের শিকড় মানব সভ্যতার চেয়েও পুরোনো, বলছে নতুন গবেষণা

আপডেট সময় ০৯:৩০:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

আকাশ নিউজ ডেস্ক: 

মিষ্টি সুগন্ধের জন্য কেয়া বা কেওড়া আমাদের সবার কাছেই বেশ পরিচিত। নানা রকম মিষ্টিজাতীয় খাবার, সুগন্ধি, ওষুধ তৈরি থেকে শুরু করে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানেও এর ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে। তবে আশ্চর্যের বিষয় হলো, আমাদের চিরচেনা এই সুগন্ধি গাছটির শিকড় মানব সভ্যতার চেয়েও প্রাচীন!

সম্প্রতি এমনই এক বিস্ময়কর তথ্য উঠে এসেছে ভারতের আসামের মাকুম কয়লাখনি অঞ্চল থেকে। সেখানকার টিকাক পর্বত এলাকা থেকে কেয়া পাতার চমৎকার সংরক্ষিত কিছু জীবাশ্ম বা ফসিল উদ্ধার করেছেন বিজ্ঞানীরা। লখনৌর বীরবল সাহনি ইনস্টিটিউট অব প্যালিওসায়েন্সেস (বিএসআইপি)-এর গবেষক দলটি জীবাশ্মগুলো পরীক্ষা করে জানান, ভারতীয় উপমহাদেশে অন্তত ২ কোটি ৪০ লাখ (২৪ মিলিয়ন) বছর ধরে এই গাছের অস্তিত্ব রয়েছে।

এই গবেষণাটি সম্প্রতি বিজ্ঞানভিত্তিক জার্নাল ‘জিওবায়োস’-এ প্রকাশিত হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো (পিআইবি) জানিয়েছে, সুগন্ধি এই উদ্ভিদের বংশধররা শুধু মানব সভ্যতার চেয়েই নয়, বরং হিমালয় পর্বতমালা সৃষ্টির আগে থেকেই পৃথিবীতে টিকে আছে। বিশ্বজুড়ে এই উদ্ভিদের জীবাশ্ম পাওয়া অত্যন্ত বিরল ঘটনা। তাই গবেষকদের কাছে এই আবিষ্কার এক যুগান্তকারী সাফল্য।

বর্তমান সময়ের কেয়া পাতার সঙ্গে এই জীবাশ্মগুলোর নিখুঁত মিল পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। আজকের কেয়া পাতার মতো এতেও তলোয়ারের মতো লম্বা আকৃতি, সমান্তরাল শিরা এবং কাঁটাযুক্ত প্রান্ত রয়েছে। এই চমৎকার মিল থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, এগুলো ‘পান্ডানাসি’ (Pandanaceae) পরিবারের অন্তর্ভুক্ত।

এই যুগান্তকারী আবিষ্কার প্রমাণ করে, প্রাচীনকালে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পৃথিবীর অন্যান্য অংশ থেকে যখন গ্রীষ্মমণ্ডলীয় উদ্ভিদ হারিয়ে যাচ্ছিল, তখন ভারতীয় উপমহাদেশ তাদের জন্য একটি নিরাপদ আশ্রয়স্থল হয়ে উঠেছিল। এর মাধ্যমে উদ্ভিদ বিজ্ঞানের বিবর্তনের ইতিহাসের একটি বড় শূন্যস্থানও পূরণ হলো।