ঢাকা ০৬:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬, ২৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গাজায় ‘গণহত্যা’ বন্ধে ইইউ’র প্রতি যে আহ্বান জানালো স্পেন-স্লোভেনিয়া দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের ফলে দেশ ফ্যাসিস্টমুক্ত হয়েছে: দুদু সৌদির আকাশপথ ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা, বাধ্য হয়ে ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ স্থগিত করেন ট্রাম্প তদবিরেও ছাড় মিলবে না চাঁদাবাজদের, কঠোর অবস্থানে ডিএমপি শাপলা চত্বর গণহত্যার তথ্য লুকানোর অভিযোগে দীপু মনিসহ অন্যদের জিজ্ঞাসাবাদের সিদ্ধান্ত:চিফ প্রসিকিউটর পর্যায়ক্রমে মাঠ থেকে সশস্ত্র বাহিনী প্রত্যাহার করা হচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কারণে দেশে ৫৬ লাখ কর্মসংস্থান হারিয়ে যেতে পারে: দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য জিডিপির ৫ শতাংশ শিক্ষা খাতে বিনিয়োগের পরিকল্পনা সরকারের: শিক্ষামন্ত্রী পায়ুপথে বাতাস ঢুকিয়ে শিশুকে হত্যা ধর্ষণে শিশু অন্তঃসত্ত্বা : অভিযুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষক ৩ দিনের রিমান্ডে

অভিনয়ে আমার সামর্থ্যের অর্ধেকও দেখাতে পারিনি: ইরফান

আকাশ বিনোদন ডেস্ক :

সম্প্রতি ‘এটা আমাদের গল্প’ নাটকে অভিনয় করে দর্শক প্রশংসা পেয়েছেন ইরফান সাজ্জাদ। মুহম্মদ মোস্তফা কামাল রাজ পরিচালিত এ নাটক ও অন্যান্য প্রসঙ্গে কথা হয় তাঁর সঙ্গে–

‘এটা আমাদেরই গল্প’ নাটকে আপনার অভিনয় নিয়ে দর্শকদের দারুণ প্রতিক্রিয়া। আপনি কীভাবে দেখছেন এই ভালোবাসা?
সত্যি বলতে, এতটা ভালোবাসা পাব ভাবিনি। মোস্তফা কামাল রাজ ভাইয়ের পরিচালনায় কাজটা শুরু থেকেই বিশেষ ছিল। ‘ফাহাদ’ চরিত্রটা খুব বাস্তব, আমাদের চারপাশের অনেক মানুষের প্রতিচ্ছবি। শেষ পর্বগুলোতে চরিত্রটার ভাঙন, অনুশোচনা– এসব ফুটিয়ে তুলতে চেষ্টা করেছি। দর্শক সেটি অনুভব করেছেন, এটাই আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।

নাটকটি দেখে সহকর্মীরা কে কী বলছেন?
সত্যি বলতে, কাছের মানুষ ও সহকর্মীদের কাছ থেকে যে ভালোবাসা আর উৎসাহ পাচ্ছি, এটি আমার জন্য দারুণ অনুপ্রেরণার। ইন্তেখাব দিনার, তারিন জাহান, সাদিয়া আয়মান, আইশা খানসহ অনেকের মুখে প্রশংসা শুনেছি। বিশেষ করে তারকা অভিনেতা জিয়াউল ফারুক অপূর্ব ভাই-এর কাছ থেকে পাওয়া প্রশংসা আমার কাছে অনেক বড় ঘটনা। তিনি আমাকে ফোন করে বলেছিলেন, আমি যে ইমোশনাল অ্যাক্টিং এত ভালো করি, সেটা নাকি তাঁর জানা ছিল না। আরও বলেছেন, এভাবে ভালো কাজ করে যেতে হবে, কারণ আমাদের দেশের দর্শকদের জন্য আমাদেরই দায়িত্ব নিতে হবে। এই কথাগুলো আমার জন্য শুধু প্রশংসা না, একটা দায়িত্ববোধও তৈরি করেছে। আমি মনে করি, সিনিয়রদের কাছ থেকে এমন স্বীকৃতি পাওয়া একজন অভিনেতার জন্য অনেক বড় পাওয়া। তিনি সময় নিয়ে আমার কাজ দেখেছেন, এটাই আমার কাছে সবচেয়ে মূল্যবান। এই ভালোবাসা আর সমর্থনই আমাকে আরও ভালো কাজ করার সাহস দেয়। আমি চেষ্টা করছি যেন এই বিশ্বাসের মর্যাদা রাখতে এবং সামনে আরও ভালো কিছু উপহার দিতে পারি।

একইভাবে গত ঈদের নাটক ‘যে বাঁধন যায় না ছাড়া’তেও আপনার অভিনয় প্রশংসিত হয়েছে। এই কাজটি নিয়ে কিছু বলুন–
এই নাটকের গল্পটাই আমাকে টেনেছে। বাবা-মা আর সন্তানের সম্পর্ক খুব সংবেদনশীল জায়গা। অভিনেত্রী সুনেরাহ কামালের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতাও দারুণ ছিল। গুণী অভিনেতা আবুল হায়াতের সঙ্গে অভিনয়তো আলাদা এক অনুভূতি। শেষ দৃশ্যে আবেগটা ধরে রাখা কঠিন ছিল, কারণ সেটাই ছিল পুরো গল্পের ক্লাইম্যাক্স। নাটকের গল্পটি খুব পরিচিত এক বাস্তবতার কথা বলে। আমাদের সমাজে অনেক পরিবারেই এমন পরিস্থিতি দেখা যায়। সেই অনুভূতিটাই নাটকে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন যুগল নির্মাতা অমিতাভ আহমেদ রানা ও সুব্রত মিত্র। যে কারণে নাটকটি এরই মধ্যে ৩৫ লাখেরও বেশি দর্শক দেখেছেন।

আবেগঘন দৃশ্যে আপনি বরাবরই শক্তিশালী। এটা কি আপনার সচেতন প্রস্তুতির ফল?
আমি সবসময় চরিত্রকে নিজের মধ্যে ধারণ করার চেষ্টা করি। শুধু সংলাপ বললেই হয় না, চরিত্রটি কী অনুভব করছে সেটি বুঝতে হয়। অনেক সময় নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকেও অনুভূতি নিই। তবে এখনও শেখার অনেক বাকি।

আপনার ক্যারিয়ারের শুরু হয়েছিল একটি প্রতিযোগিতা দিয়ে। পেছনে ফিরে তাকালে কী দেখতে পান?
২০১৩ সালে ‘ফেয়ার অ্যান্ড হ্যান্ডসাম’ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে আমার মিডিয়ায় আসা। পথচলাটা বেশ আনন্দময়ই ছিল। ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে অভিনয় সম্পর্কে খুব বেশি ধারণা ছিল না। ধীরে ধীরে কাজ করতে করতে শিখেছি। নাটক, টেলিছবি–সব জায়গাতেই নিজেকে গড়ার চেষ্টা করেছি। যত্ন নিয়ে কাজ করেছি ওটিটি প্ল্যাটফর্মেও। দর্শকের ভালোবাসা আমার চলার পথের পাথেয় ছিল।

ছোটপর্দা থেকে এখন বড়পর্দা ও ওটিটিতে বেশি মনোযোগ দিচ্ছেন। এই পরিবর্তনের কারণ কী?
আসলে আমি সবসময় ভালো গল্প আর চ্যালেঞ্জিং চরিত্র খুঁজেছি। এখন ওটিটি ও সিনেমায় সেই সুযোগটা বেশি পাচ্ছি। তাই একটু ফোকাস পরিবর্তন করেছি। তবে ভালো গল্প পেলে ছোটপর্দাতেও কাজ করব।

আপনার অভিনীত সিনেমা ‘ঠিকানা বাংলাদেশ’ নিয়ে দর্শকের আগ্রহ আছে। এই কাজটি নিয়ে কী বলবেন?
‘ঠিকানা বাংলাদেশ’ আমার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি কাজ। এখানে শুধু খেলার গল্প নয়, আমাদের মুক্তিযুদ্ধের একটি গৌরবময় অধ্যায় তুলে ধরা হয়েছে। চরিত্রটি করার সময় অনেক দায়িত্ব অনুভব করেছি। নির্মাতা অনম বিশ্বাস বেশ যত্ন নিয়ে কাজটি করেছেন। মাল্টিকাস্টের সিনেমাটি এখন মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে। আশা করি দর্শকরা এটি ভালোভাবে গ্রহণ করবেন।

ক্যারিয়ারের প্রায় এক যুগ পেরিয়ে গেল। নিজের কাজ নিয়ে কতটা সন্তুষ্ট?
আমি মনে করি, অভিনয়ে এখনও আমার সামর্থ্যের অর্ধেকও দেখাতে পারিনি। অনেক কিছু শেখার আছে, অনেক কিছু করার বাকি। আমি তারকা হতে চাই না, ভালো অভিনেতা হতে চাই

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গাজায় ‘গণহত্যা’ বন্ধে ইইউ’র প্রতি যে আহ্বান জানালো স্পেন-স্লোভেনিয়া

অভিনয়ে আমার সামর্থ্যের অর্ধেকও দেখাতে পারিনি: ইরফান

আপডেট সময় ০১:৩৭:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬

আকাশ বিনোদন ডেস্ক :

সম্প্রতি ‘এটা আমাদের গল্প’ নাটকে অভিনয় করে দর্শক প্রশংসা পেয়েছেন ইরফান সাজ্জাদ। মুহম্মদ মোস্তফা কামাল রাজ পরিচালিত এ নাটক ও অন্যান্য প্রসঙ্গে কথা হয় তাঁর সঙ্গে–

‘এটা আমাদেরই গল্প’ নাটকে আপনার অভিনয় নিয়ে দর্শকদের দারুণ প্রতিক্রিয়া। আপনি কীভাবে দেখছেন এই ভালোবাসা?
সত্যি বলতে, এতটা ভালোবাসা পাব ভাবিনি। মোস্তফা কামাল রাজ ভাইয়ের পরিচালনায় কাজটা শুরু থেকেই বিশেষ ছিল। ‘ফাহাদ’ চরিত্রটা খুব বাস্তব, আমাদের চারপাশের অনেক মানুষের প্রতিচ্ছবি। শেষ পর্বগুলোতে চরিত্রটার ভাঙন, অনুশোচনা– এসব ফুটিয়ে তুলতে চেষ্টা করেছি। দর্শক সেটি অনুভব করেছেন, এটাই আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।

নাটকটি দেখে সহকর্মীরা কে কী বলছেন?
সত্যি বলতে, কাছের মানুষ ও সহকর্মীদের কাছ থেকে যে ভালোবাসা আর উৎসাহ পাচ্ছি, এটি আমার জন্য দারুণ অনুপ্রেরণার। ইন্তেখাব দিনার, তারিন জাহান, সাদিয়া আয়মান, আইশা খানসহ অনেকের মুখে প্রশংসা শুনেছি। বিশেষ করে তারকা অভিনেতা জিয়াউল ফারুক অপূর্ব ভাই-এর কাছ থেকে পাওয়া প্রশংসা আমার কাছে অনেক বড় ঘটনা। তিনি আমাকে ফোন করে বলেছিলেন, আমি যে ইমোশনাল অ্যাক্টিং এত ভালো করি, সেটা নাকি তাঁর জানা ছিল না। আরও বলেছেন, এভাবে ভালো কাজ করে যেতে হবে, কারণ আমাদের দেশের দর্শকদের জন্য আমাদেরই দায়িত্ব নিতে হবে। এই কথাগুলো আমার জন্য শুধু প্রশংসা না, একটা দায়িত্ববোধও তৈরি করেছে। আমি মনে করি, সিনিয়রদের কাছ থেকে এমন স্বীকৃতি পাওয়া একজন অভিনেতার জন্য অনেক বড় পাওয়া। তিনি সময় নিয়ে আমার কাজ দেখেছেন, এটাই আমার কাছে সবচেয়ে মূল্যবান। এই ভালোবাসা আর সমর্থনই আমাকে আরও ভালো কাজ করার সাহস দেয়। আমি চেষ্টা করছি যেন এই বিশ্বাসের মর্যাদা রাখতে এবং সামনে আরও ভালো কিছু উপহার দিতে পারি।

একইভাবে গত ঈদের নাটক ‘যে বাঁধন যায় না ছাড়া’তেও আপনার অভিনয় প্রশংসিত হয়েছে। এই কাজটি নিয়ে কিছু বলুন–
এই নাটকের গল্পটাই আমাকে টেনেছে। বাবা-মা আর সন্তানের সম্পর্ক খুব সংবেদনশীল জায়গা। অভিনেত্রী সুনেরাহ কামালের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতাও দারুণ ছিল। গুণী অভিনেতা আবুল হায়াতের সঙ্গে অভিনয়তো আলাদা এক অনুভূতি। শেষ দৃশ্যে আবেগটা ধরে রাখা কঠিন ছিল, কারণ সেটাই ছিল পুরো গল্পের ক্লাইম্যাক্স। নাটকের গল্পটি খুব পরিচিত এক বাস্তবতার কথা বলে। আমাদের সমাজে অনেক পরিবারেই এমন পরিস্থিতি দেখা যায়। সেই অনুভূতিটাই নাটকে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন যুগল নির্মাতা অমিতাভ আহমেদ রানা ও সুব্রত মিত্র। যে কারণে নাটকটি এরই মধ্যে ৩৫ লাখেরও বেশি দর্শক দেখেছেন।

আবেগঘন দৃশ্যে আপনি বরাবরই শক্তিশালী। এটা কি আপনার সচেতন প্রস্তুতির ফল?
আমি সবসময় চরিত্রকে নিজের মধ্যে ধারণ করার চেষ্টা করি। শুধু সংলাপ বললেই হয় না, চরিত্রটি কী অনুভব করছে সেটি বুঝতে হয়। অনেক সময় নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকেও অনুভূতি নিই। তবে এখনও শেখার অনেক বাকি।

আপনার ক্যারিয়ারের শুরু হয়েছিল একটি প্রতিযোগিতা দিয়ে। পেছনে ফিরে তাকালে কী দেখতে পান?
২০১৩ সালে ‘ফেয়ার অ্যান্ড হ্যান্ডসাম’ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে আমার মিডিয়ায় আসা। পথচলাটা বেশ আনন্দময়ই ছিল। ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে অভিনয় সম্পর্কে খুব বেশি ধারণা ছিল না। ধীরে ধীরে কাজ করতে করতে শিখেছি। নাটক, টেলিছবি–সব জায়গাতেই নিজেকে গড়ার চেষ্টা করেছি। যত্ন নিয়ে কাজ করেছি ওটিটি প্ল্যাটফর্মেও। দর্শকের ভালোবাসা আমার চলার পথের পাথেয় ছিল।

ছোটপর্দা থেকে এখন বড়পর্দা ও ওটিটিতে বেশি মনোযোগ দিচ্ছেন। এই পরিবর্তনের কারণ কী?
আসলে আমি সবসময় ভালো গল্প আর চ্যালেঞ্জিং চরিত্র খুঁজেছি। এখন ওটিটি ও সিনেমায় সেই সুযোগটা বেশি পাচ্ছি। তাই একটু ফোকাস পরিবর্তন করেছি। তবে ভালো গল্প পেলে ছোটপর্দাতেও কাজ করব।

আপনার অভিনীত সিনেমা ‘ঠিকানা বাংলাদেশ’ নিয়ে দর্শকের আগ্রহ আছে। এই কাজটি নিয়ে কী বলবেন?
‘ঠিকানা বাংলাদেশ’ আমার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি কাজ। এখানে শুধু খেলার গল্প নয়, আমাদের মুক্তিযুদ্ধের একটি গৌরবময় অধ্যায় তুলে ধরা হয়েছে। চরিত্রটি করার সময় অনেক দায়িত্ব অনুভব করেছি। নির্মাতা অনম বিশ্বাস বেশ যত্ন নিয়ে কাজটি করেছেন। মাল্টিকাস্টের সিনেমাটি এখন মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে। আশা করি দর্শকরা এটি ভালোভাবে গ্রহণ করবেন।

ক্যারিয়ারের প্রায় এক যুগ পেরিয়ে গেল। নিজের কাজ নিয়ে কতটা সন্তুষ্ট?
আমি মনে করি, অভিনয়ে এখনও আমার সামর্থ্যের অর্ধেকও দেখাতে পারিনি। অনেক কিছু শেখার আছে, অনেক কিছু করার বাকি। আমি তারকা হতে চাই না, ভালো অভিনেতা হতে চাই