ঢাকা ০১:০২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চলতি অক্টোবরের শেষ দিকে জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করলেন চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উদ্বোধনের আগেই কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনালে যাত্রীসেবা শুরু সাইবার সুরক্ষা আইন যেন নিপীড়নমূলক না হয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অক্টোবর-নভেম্বরে তিন দেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের সন্ত্রাস দমন তহবিলে কাতারের ১৪১ মিলিয়ন ডলার অনুদান নিউইয়র্কে চার দিনে ৩০টি কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত সফর জাতিসংঘে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি রোধে চার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর অক্টোবরেই চালু হচ্ছে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেশে ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ১৭৮২

কিছুক্ষণ শোক আলোচনা প্রতিবাদ তারপর সব আগের মতো

আকাশ বিনোদন ডেস্ক : 

অপঘাতে মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে তীব্র উদ্বেগ ও প্রশ্ন তুলেছেন দেশের জনপ্রিয় অভিনেত্রী শবনম ফারিয়া। কুমিল্লায় চাঞ্চল্যকর কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী হত্যার প্রসঙ্গ টেনে মানুষের জীবনের মূল্য নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন অভিনেত্রী।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) রাতে নিজের ফেরিফায়েড ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে শবনম ফারিয়া লিখেছেন, আমাদের দেশে অপঘাতে মৃত্যুর খবরগুলো আমরা কেমন যেন ধীরে ধীরে ‘নিউ নর্মাল’ হিসেবে নিতে শিখে গেছি। কিছুক্ষণ শোক, কিছুক্ষণ আলোচনা, কিছু প্রতিবাদ, তারপর আবার সব আগের মতো।

তিনি লেখেন, সরকার বদলায়, আন্দোলন হয়, অনশন হয়, দেয়ালে পোস্টার লাগে… কিন্তু মানুষের জীবনের মূল্য যেন একই জায়গায় আটকে থাকে।

তারপর কোনো তারকার বিয়ে, কারো বিচ্ছেদ, কেউ উটের দুধ দিয়ে গোসল করলো, কেউ আম/চানাচুর খেল, এসব নতুন আলোচনায় আমরা ডুবে যাই, আর একেকটা অসমাপ্ত জীবন, একেকটা ভেঙে যাওয়া পরিবারকে ভুলে যাই।

তিনি নিজেও হয়তো এর বাইরে না উল্লেখ করে অভিনেত্রী লেখেন, কিন্তু কেন জানি গতকাল থেকে বুলেট বৈরাগীর স্ত্রীর মুখটা মাথা থেকে সরাতে পারছি না। কী মায়াবী একটা মেয়ে… নতুন মা। ওর চোখের দিকে তাকালেই বুকটা হাহাকার করে ওঠে। ভাবি, ওর জায়গায় আমি হতে পারতাম, আপনি হতে পারতেন, আমার বোন বা ভাবি, যে কেউ হতে পারতো।

এক মুহূর্তে জীবন ওলটপালট হয়ে গেল। যে মানুষটা ছিল ভালোবাসা, ভরসা, ভবিষ্যৎ, সে আজ শুধু স্মৃতি। নিজের বুকভাঙা কষ্ট সামলানোর আগেই এখন তাকে সন্তানের দায়িত্ব নিতে হবে, শ্বশুর-শাশুড়ির দায়িত্ব নিতে হবে। কারণ তাদেরও একমাত্র সন্তান ছিলেন বুলেট বৈরাগী।

জীবন কতটা নির্মম, কতটা অনিশ্চিত! সকালে যে মানুষ ঘর থেকে বের হয়, সন্ধ্যায় সে ফিরবে এই নিশ্চয়তাটুকুও আজ নেই। শুধু সরকার পরিবর্তন হলে হবে না। যদি মানুষের নিরাপত্তা না বদলায়, যদি রাস্তায় বের হয়ে ঘরে ফেরার নিশ্চয়তা না থাকে তাহলে আমাদের কিছুই বদলায়নি।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দিরাইয়ে মেয়েদের ফুটবল ম্যাচ বন্ধের প্রতিবাদে সোচ্চার মহিলা ক্রীড়া

কিছুক্ষণ শোক আলোচনা প্রতিবাদ তারপর সব আগের মতো

আপডেট সময় ০২:১১:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

আকাশ বিনোদন ডেস্ক : 

অপঘাতে মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে তীব্র উদ্বেগ ও প্রশ্ন তুলেছেন দেশের জনপ্রিয় অভিনেত্রী শবনম ফারিয়া। কুমিল্লায় চাঞ্চল্যকর কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী হত্যার প্রসঙ্গ টেনে মানুষের জীবনের মূল্য নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন অভিনেত্রী।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) রাতে নিজের ফেরিফায়েড ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে শবনম ফারিয়া লিখেছেন, আমাদের দেশে অপঘাতে মৃত্যুর খবরগুলো আমরা কেমন যেন ধীরে ধীরে ‘নিউ নর্মাল’ হিসেবে নিতে শিখে গেছি। কিছুক্ষণ শোক, কিছুক্ষণ আলোচনা, কিছু প্রতিবাদ, তারপর আবার সব আগের মতো।

তিনি লেখেন, সরকার বদলায়, আন্দোলন হয়, অনশন হয়, দেয়ালে পোস্টার লাগে… কিন্তু মানুষের জীবনের মূল্য যেন একই জায়গায় আটকে থাকে।

তারপর কোনো তারকার বিয়ে, কারো বিচ্ছেদ, কেউ উটের দুধ দিয়ে গোসল করলো, কেউ আম/চানাচুর খেল, এসব নতুন আলোচনায় আমরা ডুবে যাই, আর একেকটা অসমাপ্ত জীবন, একেকটা ভেঙে যাওয়া পরিবারকে ভুলে যাই।

তিনি নিজেও হয়তো এর বাইরে না উল্লেখ করে অভিনেত্রী লেখেন, কিন্তু কেন জানি গতকাল থেকে বুলেট বৈরাগীর স্ত্রীর মুখটা মাথা থেকে সরাতে পারছি না। কী মায়াবী একটা মেয়ে… নতুন মা। ওর চোখের দিকে তাকালেই বুকটা হাহাকার করে ওঠে। ভাবি, ওর জায়গায় আমি হতে পারতাম, আপনি হতে পারতেন, আমার বোন বা ভাবি, যে কেউ হতে পারতো।

এক মুহূর্তে জীবন ওলটপালট হয়ে গেল। যে মানুষটা ছিল ভালোবাসা, ভরসা, ভবিষ্যৎ, সে আজ শুধু স্মৃতি। নিজের বুকভাঙা কষ্ট সামলানোর আগেই এখন তাকে সন্তানের দায়িত্ব নিতে হবে, শ্বশুর-শাশুড়ির দায়িত্ব নিতে হবে। কারণ তাদেরও একমাত্র সন্তান ছিলেন বুলেট বৈরাগী।

জীবন কতটা নির্মম, কতটা অনিশ্চিত! সকালে যে মানুষ ঘর থেকে বের হয়, সন্ধ্যায় সে ফিরবে এই নিশ্চয়তাটুকুও আজ নেই। শুধু সরকার পরিবর্তন হলে হবে না। যদি মানুষের নিরাপত্তা না বদলায়, যদি রাস্তায় বের হয়ে ঘরে ফেরার নিশ্চয়তা না থাকে তাহলে আমাদের কিছুই বদলায়নি।