ঢাকা ০৬:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

প্রধান বিচারপতির দায়িত্বে ফেরা সুদূরপরাহত: অ্যাটর্নি জেনারেল

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের ভিত্তি রয়েছে বলে মনে করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। শনিবার বিকালে এক সংবাদ সম্মলনে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, বাস্তব অবস্থা বিচার করলে প্রধান বিচারপতির ফিরে এসে দায়িত্ব গ্রহণ করা সুদূরপরাহত।

যেহেতু অন্য বিচারপতিরা তার সঙ্গে বসতে চাচ্ছেন না, সেহেতু তার দায়িত্ব ফিরে আসার কোনো সম্ভাবনা নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি। অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞার প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালনে কোনো বাধা নেই। পাশাপাশি সুপ্রিমকোর্টের বিবৃতির মাধ্যমে প্রধান বিচারপতি-সম্পর্কিত সব বিতর্কের অবসান হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন মাহবুবে আলম। এ নিয়ে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা বন্ধ করারও আহ্বান জানান অ্যাটর্নি জেনারেল।

তিনি আরও বলেন, প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে, সেসব যদি সত্য না হতো, তাহলে এসব কথা বলা কি সম্ভব হতো?

বিএনপি বলে আসছে, প্রধান বিচারপতিকে জোর করে ছুটি দিয়ে বিদেশ যেতে বাধ্য করা হয়েছে। অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, তাকে সরানোর বা বেঞ্চে না বসার ব্যাপারে সরকারের কোনো ‍ভূমিকাই নেই। এর আগে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়ার কয়েক ঘন্টার মধ্যেই তার বক্তব্যকে বিভ্রান্তিকর বলে পাল্টা বিবৃতি দিয়েছে সুপ্রিমকোর্ট।

সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতিদের বৈঠকের পর রেজিস্ট্রার দপ্তরের দেয়া বিবৃতিতে প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার বিরুদ্ধে অর্থপাচার, নৈতিক স্খলনসহ ১১টি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে। শনিবার দুপুরে রেজিস্ট্রার জেনারেল সৈয়দ আমিনুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়। তার মধ্যে বিদেশে অর্থ পাচার, আর্থিক অনিয়ম, দুর্নীতি, নৈতিক স্ফলনসহ আরো সুনির্দিষ্ট গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।

এ অভিযোগ প্রধান বিচারপতিকে জানিয়ে আপিল বিভাগের অন্যান্য বিচারপতি তার কাছে ব্যাখ্যা দাবি করলে তিনি সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। বরং বাকি বিচারপতিরা তার সঙ্গে কাজ করতে অস্বীকৃতি জানালে তিনি পদত্যাগ করবেন বলেও জানিয়েছিলেন বলে বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।

বিবৃতির শেষে বলা হয়েছে, প্রধান বিচারপতির পদটি একটি সাংবিধানিক পদ। সেই পদের ও বিচার বিভাগের মর্যাদা রাখার স্বার্থে ইতঃপূ্র্বে সুপ্রিম কোর্টের তরফ থেকে কোনো প্রকার বক্তব্য বা বিবৃতি প্রদান করা হয়নি। কিন্তু উদ্ভূত পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে নির্দেশক্রমে বিবৃতি প্রদান করা হলো।

শুক্রবার রাতে দেশত্যাগের আগে বাসভবনের সামনে সাংবাদিকদের প্রধান বিচারপতি জানান, ‘আমি অসুস্থ না, আমি ভালো আছি, আমি পালিয়েও যাচ্ছি না। আমি আবার ফিরে আসবো। আমাকে ছুটিতে যেতে বাধ্য করা হয়নি। আমি নিজে থেকেই ছুটি নিয়েছি।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমি একটু বিব্রত, আমি বিব্রত। আমি বিচার বিভাগের অভিভাবক। আমি চাই না, বিচার বিভাগ কলুষিত হোক। বিচার বিভাগের স্বার্থে আমি সাময়িকভাবে যাচ্ছি। কারো প্রতি আমার কোনো বিরাগ নেই। বিচার বিভাগ স্বাধীন থাকুক, এটাই আমি চাই।’ এর পরিপ্রেক্ষিতে পরের দিন শনিবার সুপ্রিমকোর্ট একটি বিবৃতি আকারে বিজ্ঞপ্তি দেয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, গত ১ অক্টোবর আপিল বিভাগের পাঁচ বিচারপতি (মাননীয় ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি আবদুল ওয়াহহার মিঞা, মাননীয় বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, মাননীয় বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী, মাননীয় বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার) এক বৈঠকে উক্ত ১১টি অভিযোগ বিষদভাবে পর্যালোচনার পর এই সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে, ওই সকল গুরুতর অভিযোগ মাননীয় প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহাকে অবহিত করা হবে। তিনি ওই সব অভিযোগের ব্যাপারে কোনো সদুত্তর দিতে যদি ব্যর্থ হন তাহলে তার সঙ্গে বিচারালয়ে বসে বিচার কার্য পরিচালনা সম্ভব হবে না। ওই সিদ্ধান্তের পর ওইদিনই বেলা সাড়ে ১১টায় মাননীয় প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার হেয়ার রোডের বাসায় সাক্ষাৎ করে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সমূহ নিয়ে বিশদভাবে আলোচনা করেন।

কিন্তু দীর্ঘ আলোচনার পরও তার কাছ হতে কোনো গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা বা সদুত্তর না পেয়ে আপিল বিভাগের উল্লেখিত মাননীয় পাঁচজন বিচারপতি তাকে সুস্পষ্টভাবে জানান, এমতবস্থায় উক্ত অভিযোগ সমূহের সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত তার সঙ্গে একই বেঞ্চে বসে তাদের পক্ষে বিচার কাজ পরিচালনা করা সম্ভব হবে না। এ পর্যায়ে মাননীয় প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা সুস্পষ্টভাবে বলেন যে, তিনি পদত্যাগ করবেন।

এর আগে ৩০ সেপ্টেম্বর মহামান্য রাষ্ট্রপতি মাননীয় প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা ব্যতীত আপিল বিভাগের অন্য পাঁচ বিচারপতি মহোদয়কে বঙ্গভবনে আমন্ত্রণ জানান বলে উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, মাননীয় বিচারপতি মো. ইমান আলী দেশের বাইরে থাকায় বঙ্গভবনে উপস্থিত থাকতে পারেননি। বাকিরা দীর্ঘ আলোচনায় এক পর্যায়ে মাননীয় রাষ্ট্রপতি, মাননীয় প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা মহোদয়ের বিরুদ্ধে ১১টি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ সম্বলিত দালিলিক তথ্যাদি হস্তান্তর করেন।

আপিল বিভাগের ৫ বিচারপতির কাছে পদত্যাগের কথা জানিয়ে পরদিন ২ অক্টোবর এস কে সিনহা ‍উল্লেখিত মাননীয় বিচারপতিগণকে কোন কিছু অবহিত না করে মহামান্য রাষ্ট্রপতির কাছে এক মাসের ছুটির দরখাস্ত প্রদান করেছেন উল্লেখ করে বিবৃতিতে আরো বলা হয়, তৎপ্রেক্ষিতে মহামান্য রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ৯৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, প্রধান বিচারপতির অনুপস্থিতিতে আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠতম বিচারপতি মাননীয় বিচারপতি আবদুল ওহহাব মিঞাকে বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতির অনুপস্থিতিতে প্রধান বিচারপতির অনুরূপ কার্যভার পালনের দায়্ত্বি প্রদান করেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

প্রধান বিচারপতির দায়িত্বে ফেরা সুদূরপরাহত: অ্যাটর্নি জেনারেল

আপডেট সময় ১০:৩৬:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ অক্টোবর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের ভিত্তি রয়েছে বলে মনে করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। শনিবার বিকালে এক সংবাদ সম্মলনে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, বাস্তব অবস্থা বিচার করলে প্রধান বিচারপতির ফিরে এসে দায়িত্ব গ্রহণ করা সুদূরপরাহত।

যেহেতু অন্য বিচারপতিরা তার সঙ্গে বসতে চাচ্ছেন না, সেহেতু তার দায়িত্ব ফিরে আসার কোনো সম্ভাবনা নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি। অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞার প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালনে কোনো বাধা নেই। পাশাপাশি সুপ্রিমকোর্টের বিবৃতির মাধ্যমে প্রধান বিচারপতি-সম্পর্কিত সব বিতর্কের অবসান হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন মাহবুবে আলম। এ নিয়ে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা বন্ধ করারও আহ্বান জানান অ্যাটর্নি জেনারেল।

তিনি আরও বলেন, প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে, সেসব যদি সত্য না হতো, তাহলে এসব কথা বলা কি সম্ভব হতো?

বিএনপি বলে আসছে, প্রধান বিচারপতিকে জোর করে ছুটি দিয়ে বিদেশ যেতে বাধ্য করা হয়েছে। অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, তাকে সরানোর বা বেঞ্চে না বসার ব্যাপারে সরকারের কোনো ‍ভূমিকাই নেই। এর আগে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়ার কয়েক ঘন্টার মধ্যেই তার বক্তব্যকে বিভ্রান্তিকর বলে পাল্টা বিবৃতি দিয়েছে সুপ্রিমকোর্ট।

সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতিদের বৈঠকের পর রেজিস্ট্রার দপ্তরের দেয়া বিবৃতিতে প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার বিরুদ্ধে অর্থপাচার, নৈতিক স্খলনসহ ১১টি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে। শনিবার দুপুরে রেজিস্ট্রার জেনারেল সৈয়দ আমিনুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়। তার মধ্যে বিদেশে অর্থ পাচার, আর্থিক অনিয়ম, দুর্নীতি, নৈতিক স্ফলনসহ আরো সুনির্দিষ্ট গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।

এ অভিযোগ প্রধান বিচারপতিকে জানিয়ে আপিল বিভাগের অন্যান্য বিচারপতি তার কাছে ব্যাখ্যা দাবি করলে তিনি সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। বরং বাকি বিচারপতিরা তার সঙ্গে কাজ করতে অস্বীকৃতি জানালে তিনি পদত্যাগ করবেন বলেও জানিয়েছিলেন বলে বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।

বিবৃতির শেষে বলা হয়েছে, প্রধান বিচারপতির পদটি একটি সাংবিধানিক পদ। সেই পদের ও বিচার বিভাগের মর্যাদা রাখার স্বার্থে ইতঃপূ্র্বে সুপ্রিম কোর্টের তরফ থেকে কোনো প্রকার বক্তব্য বা বিবৃতি প্রদান করা হয়নি। কিন্তু উদ্ভূত পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে নির্দেশক্রমে বিবৃতি প্রদান করা হলো।

শুক্রবার রাতে দেশত্যাগের আগে বাসভবনের সামনে সাংবাদিকদের প্রধান বিচারপতি জানান, ‘আমি অসুস্থ না, আমি ভালো আছি, আমি পালিয়েও যাচ্ছি না। আমি আবার ফিরে আসবো। আমাকে ছুটিতে যেতে বাধ্য করা হয়নি। আমি নিজে থেকেই ছুটি নিয়েছি।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমি একটু বিব্রত, আমি বিব্রত। আমি বিচার বিভাগের অভিভাবক। আমি চাই না, বিচার বিভাগ কলুষিত হোক। বিচার বিভাগের স্বার্থে আমি সাময়িকভাবে যাচ্ছি। কারো প্রতি আমার কোনো বিরাগ নেই। বিচার বিভাগ স্বাধীন থাকুক, এটাই আমি চাই।’ এর পরিপ্রেক্ষিতে পরের দিন শনিবার সুপ্রিমকোর্ট একটি বিবৃতি আকারে বিজ্ঞপ্তি দেয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, গত ১ অক্টোবর আপিল বিভাগের পাঁচ বিচারপতি (মাননীয় ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি আবদুল ওয়াহহার মিঞা, মাননীয় বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, মাননীয় বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী, মাননীয় বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার) এক বৈঠকে উক্ত ১১টি অভিযোগ বিষদভাবে পর্যালোচনার পর এই সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে, ওই সকল গুরুতর অভিযোগ মাননীয় প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহাকে অবহিত করা হবে। তিনি ওই সব অভিযোগের ব্যাপারে কোনো সদুত্তর দিতে যদি ব্যর্থ হন তাহলে তার সঙ্গে বিচারালয়ে বসে বিচার কার্য পরিচালনা সম্ভব হবে না। ওই সিদ্ধান্তের পর ওইদিনই বেলা সাড়ে ১১টায় মাননীয় প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার হেয়ার রোডের বাসায় সাক্ষাৎ করে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সমূহ নিয়ে বিশদভাবে আলোচনা করেন।

কিন্তু দীর্ঘ আলোচনার পরও তার কাছ হতে কোনো গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা বা সদুত্তর না পেয়ে আপিল বিভাগের উল্লেখিত মাননীয় পাঁচজন বিচারপতি তাকে সুস্পষ্টভাবে জানান, এমতবস্থায় উক্ত অভিযোগ সমূহের সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত তার সঙ্গে একই বেঞ্চে বসে তাদের পক্ষে বিচার কাজ পরিচালনা করা সম্ভব হবে না। এ পর্যায়ে মাননীয় প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা সুস্পষ্টভাবে বলেন যে, তিনি পদত্যাগ করবেন।

এর আগে ৩০ সেপ্টেম্বর মহামান্য রাষ্ট্রপতি মাননীয় প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা ব্যতীত আপিল বিভাগের অন্য পাঁচ বিচারপতি মহোদয়কে বঙ্গভবনে আমন্ত্রণ জানান বলে উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, মাননীয় বিচারপতি মো. ইমান আলী দেশের বাইরে থাকায় বঙ্গভবনে উপস্থিত থাকতে পারেননি। বাকিরা দীর্ঘ আলোচনায় এক পর্যায়ে মাননীয় রাষ্ট্রপতি, মাননীয় প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা মহোদয়ের বিরুদ্ধে ১১টি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ সম্বলিত দালিলিক তথ্যাদি হস্তান্তর করেন।

আপিল বিভাগের ৫ বিচারপতির কাছে পদত্যাগের কথা জানিয়ে পরদিন ২ অক্টোবর এস কে সিনহা ‍উল্লেখিত মাননীয় বিচারপতিগণকে কোন কিছু অবহিত না করে মহামান্য রাষ্ট্রপতির কাছে এক মাসের ছুটির দরখাস্ত প্রদান করেছেন উল্লেখ করে বিবৃতিতে আরো বলা হয়, তৎপ্রেক্ষিতে মহামান্য রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ৯৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, প্রধান বিচারপতির অনুপস্থিতিতে আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠতম বিচারপতি মাননীয় বিচারপতি আবদুল ওহহাব মিঞাকে বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতির অনুপস্থিতিতে প্রধান বিচারপতির অনুরূপ কার্যভার পালনের দায়্ত্বি প্রদান করেন।