ঢাকা ০৪:২১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
যারা ১৭ বছর দেশের বাইরে ছিল তারাই গুপ্ত: গোলাম পরওয়ার ক্যাম্পাসগুলোকে অস্থিতিশীল করার প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী রাজপথে নামলে সরকারের পতন ঘটাতে বেশি সময় লাগবে না: ইসহাক সরকার নাটোরে যুবদলের দু’পক্ষে সংঘর্ষ, মোটরসাইকেলে আগুন দোকান ভাঙচুর ধামরাইয়ে ঘরে ঢুকে এসএসসি পরীক্ষার্থীকে কুপিয়ে হত্যা এনসিপিতে যোগ দিলেন ইসহাক সরকার, রনি ও কাফি শিবির কি রগকাটা, শিবির কি গুপ্ত: গোলাম পরওয়ার দেশের অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করতে চাইলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না: অর্থমন্ত্রী ‘শিক্ষকরা কোনো দলের নেতা নন, রাজনীতি করলে শিক্ষকতা ছেড়ে দিন’:কায়সার কামাল দেশে তেলের সংকট নেই, কিছু মানুষ অনৈতিক ব্যবসা করছে: মির্জা ফখরুল

অ্যাসপিরিন ক্যানসারের ঝুঁকি কমায়?

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ব্যথানাশক হিসেবে বিশ্বজুড়ে সমাদৃত ৪ হাজার বছরের পুরনো ওষুধ অ্যাসপিরিন এখন ক্যানসার প্রতিরোধের লড়াইয়ে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছে। সাম্প্রতিক চিকিৎসা গবেষণায় দেখা গেছে, এই সাধারণ ওষুধটি শরীরের ভেতরে টিউমার গঠন এবং তা ছড়িয়ে পড়া রোধে অভাবনীয় ভূমিকা পালন করতে পারে।

বিশেষ করে বংশগত কারণে যারা কোলন বা মলাশয়ের ক্যানসারের ঝুঁকিতে রয়েছেন, তাদের জন্য এটি আশীর্বাদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ব্রিটেনের ফার্নিচার নির্মাতা নিক জেমসের গল্পটি এক্ষেত্রে এক বড় উদাহরণ। পারিবারিক ইতিহাসের কারণে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে থাকা জেমস গত ১০ বছর ধরে নিয়মিত স্বল্প মাত্রায় অ্যাসপিরিন সেবন করছেন এবং দীর্ঘ এই সময়ে তার শরীরে ক্যানসারের কোনো লক্ষণ দেখা দেয়নি।

ইতিহাস ঘেঁটে দেখা যায়, মেসোপটেমিয়া সভ্যতা থেকে শুরু করে প্রাচীন মিশরীয় ও গ্রিকরা উইলো গাছের ছাল থেকে তৈরি এই উপাদানের ব্যবহার জানত। উনিশ শতকের শেষে আধুনিক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে একে বাজারজাত করা শুরু হলেও এর ক্যানসাররোধী গুণের কথা গবেষকদের নজরে আসতে বেশ সময় লেগেছে।

২০১০ সালের দিকে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক পিটার রথওয়েল লক্ষ্য করেন, হৃদরোগ প্রতিরোধের জন্য যারা নিয়মিত অ্যাসপিরিন নিতেন, তাদের মধ্যে ক্যানসারের প্রকোপ উল্লেখযোগ্যভাবে কম। এই সূত্র ধরেই পরবর্তী এক দশকে পরিচালিত বিভিন্ন ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে দেখা গেছে, লিন্ড সিনড্রোমের মতো উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ জেনেটিক সমস্যায় আক্রান্ত রোগীরা প্রতিদিন নির্দিষ্ট মাত্রায় অ্যাসপিরিন সেবন করলে তাদের মলাশয়ের ক্যান্সারের ঝুঁকি প্রায় অর্ধেক হয়ে যায়।

বিজ্ঞানীরা এখন এই ওষুধের কাজ করার রহস্যও ভেদ করতে শুরু করেছেন। গবেষণায় দেখা গেছে, অ্যাসপিরিন কোষের ভেতর ‘কক্স-টু’ নামক এনজাইমকে বাধা দেয়, যা অনিয়ন্ত্রিত কোষ বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে। এছাড়া রক্ত জমাট বাঁধার জন্য দায়ী ‘থ্রোম্বোক্সেন’ নামক উপাদানটি ক্যান্সার কোষকে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার নজর থেকে লুকিয়ে রাখতে সাহায্য করে। নিয়মিত অ্যাসপিরিন সেবনের ফলে এই বাধা অপসারিত হয়, যার ফলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা খুব সহজেই ক্যানসার কোষগুলোকে শনাক্ত করে ধ্বংস করে দিতে পারে। এই সাফল্যের ওপর ভিত্তি করে সুইডেনের মতো কিছু দেশ ইতোমধ্যে তাদের চিকিৎসা নীতিমালায় পরিবর্তন এনেছে এবং নির্দিষ্ট কিছু ক্যান্সার রোগীদের ক্ষেত্রে এটি নিয়মিত ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছে।

তবে অঘোষিতভাবে এই ওষুধের ঢালাও ব্যবহার নিয়ে গবেষকরা সতর্কবাণীও দিয়েছেন। তারা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, অ্যাসপিরিনের রক্ত তরল করার ক্ষমতা যেমন উপকারী, তেমনি এর কারণে পাকস্থলীর আলসার বা অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণের মতো মারাত্মক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে। তাই এটি ক্যান্সার প্রতিরোধে বিপ্লব ঘটালেও, সাধারণ মানুষের জন্য এটি কোনো জাদুকরী সমাধান নয়।

বিশেষজ্ঞরা জোরালোভাবে পরামর্শ দিয়েছেন, শুধুমাত্র উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ রোগীদের ক্ষেত্রেই এটি কার্যকর এবং যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অবশ্যই একজন দক্ষ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া বাধ্যতামূলক। গবেষকদের আশা, ল্যাবরেটরিতে চলমান বর্তমান পরীক্ষাগুলো সফল হলে ভবিষ্যতে অন্যান্য বিভিন্ন ধরণের ক্যানসার মোকাবিলায় অ্যাসপিরিন হয়ে উঠবে এক সাশ্রয়ী ও শক্তিশালী হাতিয়ার।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

অ্যাসপিরিন ক্যানসারের ঝুঁকি কমায়?

আপডেট সময় ০৩:২২:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ব্যথানাশক হিসেবে বিশ্বজুড়ে সমাদৃত ৪ হাজার বছরের পুরনো ওষুধ অ্যাসপিরিন এখন ক্যানসার প্রতিরোধের লড়াইয়ে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছে। সাম্প্রতিক চিকিৎসা গবেষণায় দেখা গেছে, এই সাধারণ ওষুধটি শরীরের ভেতরে টিউমার গঠন এবং তা ছড়িয়ে পড়া রোধে অভাবনীয় ভূমিকা পালন করতে পারে।

বিশেষ করে বংশগত কারণে যারা কোলন বা মলাশয়ের ক্যানসারের ঝুঁকিতে রয়েছেন, তাদের জন্য এটি আশীর্বাদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ব্রিটেনের ফার্নিচার নির্মাতা নিক জেমসের গল্পটি এক্ষেত্রে এক বড় উদাহরণ। পারিবারিক ইতিহাসের কারণে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে থাকা জেমস গত ১০ বছর ধরে নিয়মিত স্বল্প মাত্রায় অ্যাসপিরিন সেবন করছেন এবং দীর্ঘ এই সময়ে তার শরীরে ক্যানসারের কোনো লক্ষণ দেখা দেয়নি।

ইতিহাস ঘেঁটে দেখা যায়, মেসোপটেমিয়া সভ্যতা থেকে শুরু করে প্রাচীন মিশরীয় ও গ্রিকরা উইলো গাছের ছাল থেকে তৈরি এই উপাদানের ব্যবহার জানত। উনিশ শতকের শেষে আধুনিক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে একে বাজারজাত করা শুরু হলেও এর ক্যানসাররোধী গুণের কথা গবেষকদের নজরে আসতে বেশ সময় লেগেছে।

২০১০ সালের দিকে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক পিটার রথওয়েল লক্ষ্য করেন, হৃদরোগ প্রতিরোধের জন্য যারা নিয়মিত অ্যাসপিরিন নিতেন, তাদের মধ্যে ক্যানসারের প্রকোপ উল্লেখযোগ্যভাবে কম। এই সূত্র ধরেই পরবর্তী এক দশকে পরিচালিত বিভিন্ন ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে দেখা গেছে, লিন্ড সিনড্রোমের মতো উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ জেনেটিক সমস্যায় আক্রান্ত রোগীরা প্রতিদিন নির্দিষ্ট মাত্রায় অ্যাসপিরিন সেবন করলে তাদের মলাশয়ের ক্যান্সারের ঝুঁকি প্রায় অর্ধেক হয়ে যায়।

বিজ্ঞানীরা এখন এই ওষুধের কাজ করার রহস্যও ভেদ করতে শুরু করেছেন। গবেষণায় দেখা গেছে, অ্যাসপিরিন কোষের ভেতর ‘কক্স-টু’ নামক এনজাইমকে বাধা দেয়, যা অনিয়ন্ত্রিত কোষ বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে। এছাড়া রক্ত জমাট বাঁধার জন্য দায়ী ‘থ্রোম্বোক্সেন’ নামক উপাদানটি ক্যান্সার কোষকে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার নজর থেকে লুকিয়ে রাখতে সাহায্য করে। নিয়মিত অ্যাসপিরিন সেবনের ফলে এই বাধা অপসারিত হয়, যার ফলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা খুব সহজেই ক্যানসার কোষগুলোকে শনাক্ত করে ধ্বংস করে দিতে পারে। এই সাফল্যের ওপর ভিত্তি করে সুইডেনের মতো কিছু দেশ ইতোমধ্যে তাদের চিকিৎসা নীতিমালায় পরিবর্তন এনেছে এবং নির্দিষ্ট কিছু ক্যান্সার রোগীদের ক্ষেত্রে এটি নিয়মিত ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছে।

তবে অঘোষিতভাবে এই ওষুধের ঢালাও ব্যবহার নিয়ে গবেষকরা সতর্কবাণীও দিয়েছেন। তারা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, অ্যাসপিরিনের রক্ত তরল করার ক্ষমতা যেমন উপকারী, তেমনি এর কারণে পাকস্থলীর আলসার বা অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণের মতো মারাত্মক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে। তাই এটি ক্যান্সার প্রতিরোধে বিপ্লব ঘটালেও, সাধারণ মানুষের জন্য এটি কোনো জাদুকরী সমাধান নয়।

বিশেষজ্ঞরা জোরালোভাবে পরামর্শ দিয়েছেন, শুধুমাত্র উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ রোগীদের ক্ষেত্রেই এটি কার্যকর এবং যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অবশ্যই একজন দক্ষ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া বাধ্যতামূলক। গবেষকদের আশা, ল্যাবরেটরিতে চলমান বর্তমান পরীক্ষাগুলো সফল হলে ভবিষ্যতে অন্যান্য বিভিন্ন ধরণের ক্যানসার মোকাবিলায় অ্যাসপিরিন হয়ে উঠবে এক সাশ্রয়ী ও শক্তিশালী হাতিয়ার।