ঢাকা ১০:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬, ৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পদত্যাগপত্রে যা লিখলেন মো. সাহাবুদ্দিন ফেসবুক স্ট্যাটাসে ৯ দফার ঘোষক কাদের: ফিমেল জোন যেন ফিমেল উইংয়ের ‘টিএসসি শাখা অফিস’ না হয় ৩০০ এমপিকে হাওড় ঘুরে আসার আহ্বান নাহিদের ভয়াবহ দাবানল : ফ্রান্সে সরানো হলো ৬৩ হাজার মানুষ, স্পেনে জরুরি অবস্থা মোহাম্মদপুরে এসআইয়ের পিঠে ছুরিকাঘাত, লেগেছে ৪৩ সেলাই আসিয়ানকে আরও শক্তিশালী করতে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে বাংলাদেশ : পররাষ্ট্রমন্ত্রী ধর্মের নামে যারা বিভক্তি চায়, তারা জাতি ও ঈশ্বরের শত্রু: তথ্যমন্ত্রী স্পিকারের দায়িত্বে কায়সার কামাল বিনিয়োগনির্ভর উৎপাদন ও কর্মসংস্থানই বাংলাদেশের পরবর্তী প্রবৃদ্ধির চাবিকাঠি: তিতুমীর মাফিয়া আমলে নির্বাচিত হলেও সাহাবুদ্দিনের বর্তমান সরকারের প্রতি শ্রদ্ধা ছিল: স্পিকার

পিঠে বড়শি বিঁধিয়ে শূন্যে ঘুরছেন যুবক

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার ছোটভাকলা ইউনিয়নের কাঁটাখালীতে চৈত্র সংক্রান্তি উপলক্ষ্যে শত বছরের ঐতিহ্যবাহী চড়ক পূজা ও গ্রামীণ মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মেলার ঐতিহ্য হিসেবে পিঠে বড়শি বিঁধিয়ে শূন্যে ঘোরানো হয় দুই যুবককে।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বিকালে কাটাখালীর প্রেমচরণ ফকিরের বাড়ির পাশের মাঠে এই পূজা ও মেলার আয়োজন করা হয়। চৈত্র মাসের শেষ দিনে (পঞ্জিকা মতে) প্রতিবছরই এই চড়ক পূজা অনুষ্ঠিত হয়।

ওইদিন বিকালে পূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়ে চলে সন্ধ্যা পর্যন্ত। সন্ধ্যায় পিঠে বড়শি বিঁধিয়ে শত শত মানুষের উপস্থিতিতে শূন্যতে মানুষকে ঘোরানো হয়। এ সময় রাজবাড়ী জেলাসহ বিভিন্ন উপজেলার স্থানীয় মানুষজন এ চড়ক পূজা ও মেলা দেখতে ভিড় করেন। পূজা উপলক্ষ্যে মাঠে বসে বিশাল গ্রামীণ মেলা। সেখানে নাগরদোলা, চরকি, মুখরোচক খাবারসহ বিভিন্ন দোকানগুলো বসে। দিনভর উৎসব মুখর পরিবেশ বিরাজ করে।

মেলায় গোয়ালন্দ থেকে আসা দর্শনার্থী সুরজিত বলেন, আমি প্রতিবছর এ চড়ক পূজা ও মেলা দেখতে আসি। শরীরের মধ্যে বড়শি বিঁধিয়ে চরকিতে ঘোরার বিষয়টি শুনলেই গা শিউরে ওঠে। এই খেলাটা আবার অনেক এলাকায় হয় না। তাই পরিবারের সবাইকে নিয়ে এখানে এসেছি।

ফরিদপুর থেকে আসা আরেক দর্শনার্থী সবিতা কুন্ডু বলেন, পরিবারের সবাইকে নিয়ে প্রতিবছর এখানে চড়ক পূজায় আসি। পিঠে বড়শি বিঁধিয়ে বেশ কয়েকবার ঘোরানো হয়। এটা অবাক করার মতো বিষয়।

এ বিষয়ে কাটাখালীর চড়ক পূজা কমিটির সভাপতি বাবলু বিশ্বাস বলেন, এই পূজাটি প্রায় ২০০ বছর ধরে হচ্ছে। এখানে মেলা হচ্ছে প্রায় ৪০ বছর। রাতে হাজরা পূজা, সকালে নীল পূজা ও গঙ্গা পূজা হয়ে, বিকালে চড়ক পূজা ও বান পূজা শুরু হয়। এরপর পিঠে বড়শি বিঁধিয়ে দুজনকে ঘোরানো হয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পদত্যাগপত্রে যা লিখলেন মো. সাহাবুদ্দিন

পিঠে বড়শি বিঁধিয়ে শূন্যে ঘুরছেন যুবক

আপডেট সময় ১০:৪৫:০৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার ছোটভাকলা ইউনিয়নের কাঁটাখালীতে চৈত্র সংক্রান্তি উপলক্ষ্যে শত বছরের ঐতিহ্যবাহী চড়ক পূজা ও গ্রামীণ মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মেলার ঐতিহ্য হিসেবে পিঠে বড়শি বিঁধিয়ে শূন্যে ঘোরানো হয় দুই যুবককে।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বিকালে কাটাখালীর প্রেমচরণ ফকিরের বাড়ির পাশের মাঠে এই পূজা ও মেলার আয়োজন করা হয়। চৈত্র মাসের শেষ দিনে (পঞ্জিকা মতে) প্রতিবছরই এই চড়ক পূজা অনুষ্ঠিত হয়।

ওইদিন বিকালে পূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়ে চলে সন্ধ্যা পর্যন্ত। সন্ধ্যায় পিঠে বড়শি বিঁধিয়ে শত শত মানুষের উপস্থিতিতে শূন্যতে মানুষকে ঘোরানো হয়। এ সময় রাজবাড়ী জেলাসহ বিভিন্ন উপজেলার স্থানীয় মানুষজন এ চড়ক পূজা ও মেলা দেখতে ভিড় করেন। পূজা উপলক্ষ্যে মাঠে বসে বিশাল গ্রামীণ মেলা। সেখানে নাগরদোলা, চরকি, মুখরোচক খাবারসহ বিভিন্ন দোকানগুলো বসে। দিনভর উৎসব মুখর পরিবেশ বিরাজ করে।

মেলায় গোয়ালন্দ থেকে আসা দর্শনার্থী সুরজিত বলেন, আমি প্রতিবছর এ চড়ক পূজা ও মেলা দেখতে আসি। শরীরের মধ্যে বড়শি বিঁধিয়ে চরকিতে ঘোরার বিষয়টি শুনলেই গা শিউরে ওঠে। এই খেলাটা আবার অনেক এলাকায় হয় না। তাই পরিবারের সবাইকে নিয়ে এখানে এসেছি।

ফরিদপুর থেকে আসা আরেক দর্শনার্থী সবিতা কুন্ডু বলেন, পরিবারের সবাইকে নিয়ে প্রতিবছর এখানে চড়ক পূজায় আসি। পিঠে বড়শি বিঁধিয়ে বেশ কয়েকবার ঘোরানো হয়। এটা অবাক করার মতো বিষয়।

এ বিষয়ে কাটাখালীর চড়ক পূজা কমিটির সভাপতি বাবলু বিশ্বাস বলেন, এই পূজাটি প্রায় ২০০ বছর ধরে হচ্ছে। এখানে মেলা হচ্ছে প্রায় ৪০ বছর। রাতে হাজরা পূজা, সকালে নীল পূজা ও গঙ্গা পূজা হয়ে, বিকালে চড়ক পূজা ও বান পূজা শুরু হয়। এরপর পিঠে বড়শি বিঁধিয়ে দুজনকে ঘোরানো হয়েছে।