ঢাকা ০৫:২৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চলতি অক্টোবরের শেষ দিকে জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করলেন চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উদ্বোধনের আগেই কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনালে যাত্রীসেবা শুরু সাইবার সুরক্ষা আইন যেন নিপীড়নমূলক না হয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অক্টোবর-নভেম্বরে তিন দেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের সন্ত্রাস দমন তহবিলে কাতারের ১৪১ মিলিয়ন ডলার অনুদান নিউইয়র্কে চার দিনে ৩০টি কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত সফর জাতিসংঘে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি রোধে চার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর অক্টোবরেই চালু হচ্ছে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেশে ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ১৭৮২

মানুষ সুখী নারীকে সহ্য করতে পারে না: হানিয়া আমির

আকাশ বিনোদন ডেস্ক : 

জনপ্রিয় পাকিস্তানি অভিনেত্রী হানিয়া আমির সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনলাইন হয়রানি এবং বুলিং নিয়ে নিজের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করেছেন। ইনস্টাগ্রামে একটি ভিডিও পোস্ট করে ক্যাপশনে তিনি বিদ্রূপাত্মকভাবে লিখেছেন ‘অ্যাটেনশন সিকার’, সেখানে তিনি ডিজিটাল জগতের রূঢ় বাস্তবতা তুলে ধরেন।

‘কাভি ম্যাঁয় কাভি তুম’ (২০২৪) এবং ‘মেরি জিন্দেগি হ্যায় তু’ (২০২৫)-এর মতো জনপ্রিয় পাকিস্তানি ড্রামার এই অভিনেত্রী জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার সাম্প্রতিক অনুপস্থিতির কারণ ছিল ক্রমাগত নেতিবাচকতা। এমনিতে অনলাইন দুনিয়ায় এই অভিনেত্রী বেশ সরব থাকেন।

হানিয়া বলেন, ‘আমি বিতর্কের কাছে নতুন কেউ নই। কিন্তু এই নেতিবাচকতা আমাকে ভাবিয়ে তুলেছিল যে আমার নিজেকে বদলে ফেলা উচিত কিনা।’

তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘মানুষ সুখী নারীদের ঘৃণা করে। শুধু পুরুষরাই নয়, এমনকি নারীরাও এই তালিকায় রয়েছে।’

নারীদের প্রতি অন্য নারীদের নেতিবাচক মনোভাব নিয়ে হানিয়া চরম হতাশাও প্রকাশ করেন। একে তিনি একটি ‘হেট ট্রেন’ বা ঘৃণার মিছিল হিসেবে অভিহিত করে বলেন, ‘আমরা যেন অন্য নারীকে নিচু করার মধ্যেই এক ধরণের শান্তি খুঁজে পাই।’

তিনি আরও যোগ করেন, আগে এই সামাজিক বিচারগুলো ঘরে বা সমাজে সীমাবদ্ধ ছিল, এখন তা ইনস্টাগ্রামে চলে এসেছে। এখনও মানুষের বর্ণ বা শারীরিক গঠন নিয়ে মন্তব্য করা হচ্ছে।

হানিয়া সম্প্রতি তার এবং এক বান্ধবীর পোশাকের মধ্যে করা একটি ‘দিস অর দ্যাট’ তুলনামূলক পোস্টের উদাহরণ টেনে প্রশ্ন তোলেন— কেন এই ধরণের কনটেন্ট তৈরি করা হয়?

তার ভাষায়, ‘যদি এটি ফ্যাশন নিয়েই হতো, তবে আপনারা কেন পুরুষদের সঙ্গে অন্য পুরুষের তুলনা করেন না?’ তার মতে, এই ধরণের তুলনা কেবল নারীদের মধ্যে অহেতুক প্রতিযোগিতাই বাড়িয়ে দেয়।

খ্যাতি অর্জন করলে প্লাস্টিক সার্জারি বা অসৎ উপায়ের আশ্রয় নেওয়ার যে অপবাদ নারীদের দেওয়া হয়, তারও প্রতিবাদ জানান হানিয়া।

তিনি বলেন, ‘কোনো নারী যখন প্রচলিত নিয়ম নিয়ে প্রশ্ন তোলে, তখন সে নিরাপদ থাকে না। আপনারা একটু ভাবুন তো, একজন সুখী ও সন্তুষ্ট নারীকে দেখলে আপনাদের কেন খারাপ লাগে?’

হানিয়া তার অনুসারীদের উদ্দেশে প্রশ্ন রাখেন, ‘আমাদের একটু থামা উচিত এবং ভাবা উচিত— আমরা কি কাউকে কেবল সে জনপ্রিয় বলে ঘৃণা করছি? নাকি সে অনেক কিছু অর্জন করেছে বলে? নাকি সে তার জীবনকে দারুণভাবে উপভোগ করছে বলে?’

হানিয়ার এই সাহসী পোস্টের নিচে দেশটির অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তি এবং তারকা অভিনেত্রীর প্রশংসা করেছেন। পরিশেষে তিনি সবাইকে ইতিবাচক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘মানুষকে তার নিজের মতো থাকতে দিন।’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দিরাইয়ে মেয়েদের ফুটবল ম্যাচ বন্ধের প্রতিবাদে সোচ্চার মহিলা ক্রীড়া

মানুষ সুখী নারীকে সহ্য করতে পারে না: হানিয়া আমির

আপডেট সময় ০৪:১৮:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬

আকাশ বিনোদন ডেস্ক : 

জনপ্রিয় পাকিস্তানি অভিনেত্রী হানিয়া আমির সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনলাইন হয়রানি এবং বুলিং নিয়ে নিজের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করেছেন। ইনস্টাগ্রামে একটি ভিডিও পোস্ট করে ক্যাপশনে তিনি বিদ্রূপাত্মকভাবে লিখেছেন ‘অ্যাটেনশন সিকার’, সেখানে তিনি ডিজিটাল জগতের রূঢ় বাস্তবতা তুলে ধরেন।

‘কাভি ম্যাঁয় কাভি তুম’ (২০২৪) এবং ‘মেরি জিন্দেগি হ্যায় তু’ (২০২৫)-এর মতো জনপ্রিয় পাকিস্তানি ড্রামার এই অভিনেত্রী জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার সাম্প্রতিক অনুপস্থিতির কারণ ছিল ক্রমাগত নেতিবাচকতা। এমনিতে অনলাইন দুনিয়ায় এই অভিনেত্রী বেশ সরব থাকেন।

হানিয়া বলেন, ‘আমি বিতর্কের কাছে নতুন কেউ নই। কিন্তু এই নেতিবাচকতা আমাকে ভাবিয়ে তুলেছিল যে আমার নিজেকে বদলে ফেলা উচিত কিনা।’

তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘মানুষ সুখী নারীদের ঘৃণা করে। শুধু পুরুষরাই নয়, এমনকি নারীরাও এই তালিকায় রয়েছে।’

নারীদের প্রতি অন্য নারীদের নেতিবাচক মনোভাব নিয়ে হানিয়া চরম হতাশাও প্রকাশ করেন। একে তিনি একটি ‘হেট ট্রেন’ বা ঘৃণার মিছিল হিসেবে অভিহিত করে বলেন, ‘আমরা যেন অন্য নারীকে নিচু করার মধ্যেই এক ধরণের শান্তি খুঁজে পাই।’

তিনি আরও যোগ করেন, আগে এই সামাজিক বিচারগুলো ঘরে বা সমাজে সীমাবদ্ধ ছিল, এখন তা ইনস্টাগ্রামে চলে এসেছে। এখনও মানুষের বর্ণ বা শারীরিক গঠন নিয়ে মন্তব্য করা হচ্ছে।

হানিয়া সম্প্রতি তার এবং এক বান্ধবীর পোশাকের মধ্যে করা একটি ‘দিস অর দ্যাট’ তুলনামূলক পোস্টের উদাহরণ টেনে প্রশ্ন তোলেন— কেন এই ধরণের কনটেন্ট তৈরি করা হয়?

তার ভাষায়, ‘যদি এটি ফ্যাশন নিয়েই হতো, তবে আপনারা কেন পুরুষদের সঙ্গে অন্য পুরুষের তুলনা করেন না?’ তার মতে, এই ধরণের তুলনা কেবল নারীদের মধ্যে অহেতুক প্রতিযোগিতাই বাড়িয়ে দেয়।

খ্যাতি অর্জন করলে প্লাস্টিক সার্জারি বা অসৎ উপায়ের আশ্রয় নেওয়ার যে অপবাদ নারীদের দেওয়া হয়, তারও প্রতিবাদ জানান হানিয়া।

তিনি বলেন, ‘কোনো নারী যখন প্রচলিত নিয়ম নিয়ে প্রশ্ন তোলে, তখন সে নিরাপদ থাকে না। আপনারা একটু ভাবুন তো, একজন সুখী ও সন্তুষ্ট নারীকে দেখলে আপনাদের কেন খারাপ লাগে?’

হানিয়া তার অনুসারীদের উদ্দেশে প্রশ্ন রাখেন, ‘আমাদের একটু থামা উচিত এবং ভাবা উচিত— আমরা কি কাউকে কেবল সে জনপ্রিয় বলে ঘৃণা করছি? নাকি সে অনেক কিছু অর্জন করেছে বলে? নাকি সে তার জীবনকে দারুণভাবে উপভোগ করছে বলে?’

হানিয়ার এই সাহসী পোস্টের নিচে দেশটির অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তি এবং তারকা অভিনেত্রীর প্রশংসা করেছেন। পরিশেষে তিনি সবাইকে ইতিবাচক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘মানুষকে তার নিজের মতো থাকতে দিন।’