ঢাকা ০৮:৩০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বিএনপি সরকার হাতে হারিকেন ধরিয়ে দিয়েছে: হাসনাত আবদুল্লাহ সায়েদাবাদ হবে শুধু সিটি টার্মিনাল, আন্তঃজেলা বাস যাবে কাঁচপুরে: দক্ষিণ সিটি প্রশাসক সীমান্তে ৭ জনকে পুশইনের প্রচেষ্টা প্রতিহত করল বিজিবি মিথ্যা ও প্রোপাগান্ডায় জামায়াতের কাছে আওয়ামী লীগ শিশু: রাশেদ খাঁন শেষ ১৫ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে সিরিজ হারল বাংলাদেশ বাংলাদেশকে বিনিয়োগবান্ধব করতে সরকার সবকিছু করবে: মাহদী আমিন চীনে জুতার কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, নিহত ২৮ আসামি মৃত্যুর গুজবে থানায় হামলা, পুলিশসহ আহত ১২ হেরে যাওয়ায় ব্রাজিলের সাপোর্টাররা হতাশ: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী দেশ হোক সব প্রাণী ও প্রাণের নিরাপদ আবাসস্থল: প্রধানমন্ত্রী

ক্যানসার চিকিৎসার কার্যকারিতা কমাতে পারে ভিটামিন বি৩: নতুন গবেষণা

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

সাধারণত শক্তি বৃদ্ধি ও ক্লান্তি কমাতে অনেকেই ভিটামিন বি৩ সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করেন। কেমোথেরাপি নেওয়া অনেক ক্যানসার রোগীও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সামাল দিতে এটি ব্যবহার করেন। তবে নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে, এই প্রচলিত সাপ্লিমেন্ট ক্যানসার চিকিৎসার কার্যকারিতা কমিয়ে দিতে পারে এবং ক্যানসার কোষকে চিকিৎসার মধ্যেও টিকে থাকতে সহায়তা করতে পারে।

কেস ওয়েস্টার্ন রিজার্ভ ইউনিভার্সিটির গবেষকেরা জানিয়েছেন, ভিটামিন বি৩ শরীরে এনএডি প্লাস নামের একটি গুরুত্বপূর্ণ অণু তৈরিতে সহায়তা করে, যা কোষের বিপাকক্রিয়া ও ক্ষত মেরামতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সুস্থ কোষের জন্য এটি উপকারী হলেও ক্যানসার কোষও একই সুবিধা কাজে লাগাতে পারে।

গবেষণায় দেখা গেছে, বিশেষ করে অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসার কোষ ভিটামিন বি৩–এর উপাদান ব্যবহার করে এমন চিকিৎসা এড়িয়ে যেতে পারে, যা স্বাভাবিকভাবে ওই কোষগুলোকে ধ্বংস করার কথা। বিষয়টি আরও উদ্বেগজনক, কারণ এই ধরনের ক্যানসার সাধারণত দেরিতে ধরা পড়ে এবং এর পাঁচ বছরের বেঁচে থাকার হার মাত্র ১৩ শ।

গবেষকেরা তিনটি প্রধান উপায়ে ভিটামিন বি৩–এর প্রভাব ব্যাখ্যা করেছেন। প্রথমত, এই ভিটামিন সুস্থ ও ক্যানসার কোষের মধ্যে পার্থক্য করে না, ফলে কেমোথেরাপিতে ধ্বংস হওয়ার কথা থাকা টিউমার কোষও শক্তি পেতে পারে। দ্বিতীয়ত, এটি শরীরের অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমায়। যদিও সাধারণভাবে এটি উপকারী, কেমোথেরাপি মূলত এই স্ট্রেস বাড়িয়ে ক্যানসার কোষ ধ্বংস করে। ফলে স্ট্রেস কমে গেলে ক্যানসার কোষ টিকে যাওয়ার সুযোগ পায়। তৃতীয়ত, এটি ডিএনএ ক্ষতি থেকে কোষকে সুরক্ষা দেয়, অথচ কেমোথেরাপি ক্যানসার কোষের ডিএনএ ক্ষতিগ্রস্ত করেই তার বৃদ্ধি থামায়।

গবেষণার প্রধান লেখক জর্ডান উইন্টার বলেন, শুরুতে তারা ভেবেছিলেন এই ভিটামিন সুস্থ টিস্যুকে সুরক্ষা দেবে। তবে একই সঙ্গে ক্যানসার কোষও সুরক্ষা পেতে পারে কি না, সেটিই ছিল তাদের অনুসন্ধানের মূল বিষয়। ফলাফলের ধারাবাহিকতা ও কার্যকারিতা তাদের বিস্মিত করেছে।

এখন গবেষকেরা একই ধরনের প্রভাব রয়েছে কি না তা জানতে অন্য ভিটামিন ও দীর্ঘায়ু–সহায়ক সাপ্লিমেন্ট নিয়েও গবেষণার পরিকল্পনা করছেন। একই সঙ্গে চিকিৎসকদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, ক্যানসার রোগীরা কী কী সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করছেন তা বিস্তারিতভাবে জেনে চিকিৎসা পরিকল্পনা নির্ধারণ করতে।

তবে গবেষকেরা স্পষ্ট করেছেন, এই ফলাফল সুস্থ মানুষের ক্ষেত্রে সরাসরি প্রযোজ্য নয়। তাদের মতে, যাদের ক্যানসার নেই তাদের জন্য ভিটামিন বি৩ সাপ্লিমেন্ট উপকারী হতে পারে; এর প্রভাব মূলত ব্যবহারের পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ক্যানসার চিকিৎসার কার্যকারিতা কমাতে পারে ভিটামিন বি৩: নতুন গবেষণা

আপডেট সময় ০৪:৫৫:২৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

সাধারণত শক্তি বৃদ্ধি ও ক্লান্তি কমাতে অনেকেই ভিটামিন বি৩ সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করেন। কেমোথেরাপি নেওয়া অনেক ক্যানসার রোগীও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সামাল দিতে এটি ব্যবহার করেন। তবে নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে, এই প্রচলিত সাপ্লিমেন্ট ক্যানসার চিকিৎসার কার্যকারিতা কমিয়ে দিতে পারে এবং ক্যানসার কোষকে চিকিৎসার মধ্যেও টিকে থাকতে সহায়তা করতে পারে।

কেস ওয়েস্টার্ন রিজার্ভ ইউনিভার্সিটির গবেষকেরা জানিয়েছেন, ভিটামিন বি৩ শরীরে এনএডি প্লাস নামের একটি গুরুত্বপূর্ণ অণু তৈরিতে সহায়তা করে, যা কোষের বিপাকক্রিয়া ও ক্ষত মেরামতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সুস্থ কোষের জন্য এটি উপকারী হলেও ক্যানসার কোষও একই সুবিধা কাজে লাগাতে পারে।

গবেষণায় দেখা গেছে, বিশেষ করে অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসার কোষ ভিটামিন বি৩–এর উপাদান ব্যবহার করে এমন চিকিৎসা এড়িয়ে যেতে পারে, যা স্বাভাবিকভাবে ওই কোষগুলোকে ধ্বংস করার কথা। বিষয়টি আরও উদ্বেগজনক, কারণ এই ধরনের ক্যানসার সাধারণত দেরিতে ধরা পড়ে এবং এর পাঁচ বছরের বেঁচে থাকার হার মাত্র ১৩ শ।

গবেষকেরা তিনটি প্রধান উপায়ে ভিটামিন বি৩–এর প্রভাব ব্যাখ্যা করেছেন। প্রথমত, এই ভিটামিন সুস্থ ও ক্যানসার কোষের মধ্যে পার্থক্য করে না, ফলে কেমোথেরাপিতে ধ্বংস হওয়ার কথা থাকা টিউমার কোষও শক্তি পেতে পারে। দ্বিতীয়ত, এটি শরীরের অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমায়। যদিও সাধারণভাবে এটি উপকারী, কেমোথেরাপি মূলত এই স্ট্রেস বাড়িয়ে ক্যানসার কোষ ধ্বংস করে। ফলে স্ট্রেস কমে গেলে ক্যানসার কোষ টিকে যাওয়ার সুযোগ পায়। তৃতীয়ত, এটি ডিএনএ ক্ষতি থেকে কোষকে সুরক্ষা দেয়, অথচ কেমোথেরাপি ক্যানসার কোষের ডিএনএ ক্ষতিগ্রস্ত করেই তার বৃদ্ধি থামায়।

গবেষণার প্রধান লেখক জর্ডান উইন্টার বলেন, শুরুতে তারা ভেবেছিলেন এই ভিটামিন সুস্থ টিস্যুকে সুরক্ষা দেবে। তবে একই সঙ্গে ক্যানসার কোষও সুরক্ষা পেতে পারে কি না, সেটিই ছিল তাদের অনুসন্ধানের মূল বিষয়। ফলাফলের ধারাবাহিকতা ও কার্যকারিতা তাদের বিস্মিত করেছে।

এখন গবেষকেরা একই ধরনের প্রভাব রয়েছে কি না তা জানতে অন্য ভিটামিন ও দীর্ঘায়ু–সহায়ক সাপ্লিমেন্ট নিয়েও গবেষণার পরিকল্পনা করছেন। একই সঙ্গে চিকিৎসকদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, ক্যানসার রোগীরা কী কী সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করছেন তা বিস্তারিতভাবে জেনে চিকিৎসা পরিকল্পনা নির্ধারণ করতে।

তবে গবেষকেরা স্পষ্ট করেছেন, এই ফলাফল সুস্থ মানুষের ক্ষেত্রে সরাসরি প্রযোজ্য নয়। তাদের মতে, যাদের ক্যানসার নেই তাদের জন্য ভিটামিন বি৩ সাপ্লিমেন্ট উপকারী হতে পারে; এর প্রভাব মূলত ব্যবহারের পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে।