ঢাকা ১২:০০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬, ২৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

গরমের দিনেও ত্বকের যত্নে মাখতে পারেন যেসব তেল

আকাশ নিউজ ডেস্ক:

শীত পড়ার সাথে সাথে ত্বক রুক্ষ হয়ে যায়। তখন সবার মধ্যে তেল, ক্রিম মাখার ধূম পড়ে যায়। এরপর গরম পড়লে ত্বকে তেল মাখার কথা কারও মাথায় আসে না । কারণ, চটচটে তেল গায়ে লেগে থাকলে বাড়তি ঘাম, অস্বস্তি হয়।

তবে ত্বক বিশেষজ্ঞদের মতে, গরমের দিনে চুলের মতো গায়েও তেল মাসাজ়ের উপকারিতা রয়েছে। হালকা গরম তেল গায়ে মালিশ করলে আরাম তো হয়ই, স্নায়ুও শিথিল হয়। শরীরে রক্ত সঞ্চালন ভালো হয়। ত্বকের উজ্জ্বলতা ধরে রাখতে রক্ত সঞ্চালন খুবই জরুরি। তা ছাড়া, সঠিক কায়দায় কেউ তেল মালিশ করলে দ্রুতই ক্লান্তি কেটে যায়, শরীরও ঝরঝরে লাগে।

এমনিতে গরমের দিনে আর্দ্রতা বেশি থাকে বলে অনেকেই তেল মাখতে চান না। তবে যে সব এলাকায় বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ কম, সেখানে গরমেও ত্বক রুক্ষ হয়ে যায়। তা ছাড়া বাড়িতে বা অফিসে অনেকটা সময় এসিতে থাকতে হলে ত্বকের ময়েশ্চারাইজ়ার বা আর্দ্রতা কমে। তেল ত্বকের সুরক্ষা বর্ম হিসাবে কাজ করে। এটি ত্বকের ময়েশ্চারাইজ়ার ধরে রাখে। বিভিন্ন ধরনের তেলে ত্বকের উপযোগী ভিটামিন, খনিজ এবং ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে। নিয়ম করে তেল মালিশ করলে ভিটামিন এবং খনিজ ত্বকের গভীরে গিয়ে পুষ্টি জোগায়। ত্বক কোমল এবং মসৃণ রাখে। ত্বকের উজ্জ্বলতাও বাড়ে।

বলিরেখা এবং ত্বকের রুক্ষ ভাব কমাতে তেল মাখা খুবই জরুরি। বিশেষ করে যাদের ত্বকের ধরন বেশি শুষ্ক,তাদের সারা বছর তেল মাখা প্রয়োজন।

গরমে কোন তেল ত্বকের জন্য ভালো-

নারকেল তেল: ফ্যাটি অ্যাসিড এবং ভিটামিন ই-তে ভরপুর নারকেল তেল চুলের পাশাপাশি ত্বকে মালিশের জন্যও ভাল। সারা বছরই এই তেল ত্বকের যত্নে ব্যবহার করা যায়। খুব বেশি ব্যবহার না করে যতখানি দরকার ততটাই ব্যবহার করা উচিত। তেল মালিশ করার আধ ঘণ্টা পরে হালকা গরম পানিতে গোসল করে নিলে ত্বক নরম এবং সুন্দর হবে। চটচটে ভাব থাকে না।

চন্দন তেল: চন্দন কাঠ থেকে পাওয়া এই তেল ত্বকের জন্য অত্যন্ত উপকারী। এতে প্রদাহনাশক উপাদান রয়েছে।তা ছাড়া,এতে অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়াল উপাদান থাকায় তেলটি ত্বকের ছোটখাটো সংক্রমণ প্রতিরোধেও সক্ষম। চন্দনের নিজস্ব গন্ধ থাকায় এর তেল স্নায়ুকে শান্ত করতে সাহায্য করে। গায়ে মাসাজের জন্য যেমন চন্দন তেল পাওয়া যায় তেমনই এসেনশিয়াল অয়েল হিসাবেও চন্দনকাঠের তেল বিক্রি হয়। এসেনশিয়াল অয়েল অবশ্য সরাসরি মাখা ঠিক নয়। ৩-৪ টেবিল চামচ নারকেল তেল বা আর্গন তেলে ৭-৮ ফোঁটা চন্দন তেল মিশিয়ে সেটি গায়ে মালিশ করতে পারেন।

কাঠবাদামের তেল: ভিটামিন এ এবং ই-তে সমৃদ্ধ কাঠবাদামের তেল ত্বকের জন্যও ভাল। কাঠবাদামের তেলে থাকা রেটিনল ত্বক মসৃণ এবং সুন্দর রাখতে সাহায্য করে। এই তেলে থাকা ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখে। তেলটি বেশি চটচটে বা ঘন থাকলে তা নারকেল তেল বা হোহোবা অয়েলের সঙ্গে মিশিয়ে পাতলা করে ব্যবহার করতে পারেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গরমের দিনেও ত্বকের যত্নে মাখতে পারেন যেসব তেল

আপডেট সময় ১০:৪৪:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬

আকাশ নিউজ ডেস্ক:

শীত পড়ার সাথে সাথে ত্বক রুক্ষ হয়ে যায়। তখন সবার মধ্যে তেল, ক্রিম মাখার ধূম পড়ে যায়। এরপর গরম পড়লে ত্বকে তেল মাখার কথা কারও মাথায় আসে না । কারণ, চটচটে তেল গায়ে লেগে থাকলে বাড়তি ঘাম, অস্বস্তি হয়।

তবে ত্বক বিশেষজ্ঞদের মতে, গরমের দিনে চুলের মতো গায়েও তেল মাসাজ়ের উপকারিতা রয়েছে। হালকা গরম তেল গায়ে মালিশ করলে আরাম তো হয়ই, স্নায়ুও শিথিল হয়। শরীরে রক্ত সঞ্চালন ভালো হয়। ত্বকের উজ্জ্বলতা ধরে রাখতে রক্ত সঞ্চালন খুবই জরুরি। তা ছাড়া, সঠিক কায়দায় কেউ তেল মালিশ করলে দ্রুতই ক্লান্তি কেটে যায়, শরীরও ঝরঝরে লাগে।

এমনিতে গরমের দিনে আর্দ্রতা বেশি থাকে বলে অনেকেই তেল মাখতে চান না। তবে যে সব এলাকায় বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ কম, সেখানে গরমেও ত্বক রুক্ষ হয়ে যায়। তা ছাড়া বাড়িতে বা অফিসে অনেকটা সময় এসিতে থাকতে হলে ত্বকের ময়েশ্চারাইজ়ার বা আর্দ্রতা কমে। তেল ত্বকের সুরক্ষা বর্ম হিসাবে কাজ করে। এটি ত্বকের ময়েশ্চারাইজ়ার ধরে রাখে। বিভিন্ন ধরনের তেলে ত্বকের উপযোগী ভিটামিন, খনিজ এবং ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে। নিয়ম করে তেল মালিশ করলে ভিটামিন এবং খনিজ ত্বকের গভীরে গিয়ে পুষ্টি জোগায়। ত্বক কোমল এবং মসৃণ রাখে। ত্বকের উজ্জ্বলতাও বাড়ে।

বলিরেখা এবং ত্বকের রুক্ষ ভাব কমাতে তেল মাখা খুবই জরুরি। বিশেষ করে যাদের ত্বকের ধরন বেশি শুষ্ক,তাদের সারা বছর তেল মাখা প্রয়োজন।

গরমে কোন তেল ত্বকের জন্য ভালো-

নারকেল তেল: ফ্যাটি অ্যাসিড এবং ভিটামিন ই-তে ভরপুর নারকেল তেল চুলের পাশাপাশি ত্বকে মালিশের জন্যও ভাল। সারা বছরই এই তেল ত্বকের যত্নে ব্যবহার করা যায়। খুব বেশি ব্যবহার না করে যতখানি দরকার ততটাই ব্যবহার করা উচিত। তেল মালিশ করার আধ ঘণ্টা পরে হালকা গরম পানিতে গোসল করে নিলে ত্বক নরম এবং সুন্দর হবে। চটচটে ভাব থাকে না।

চন্দন তেল: চন্দন কাঠ থেকে পাওয়া এই তেল ত্বকের জন্য অত্যন্ত উপকারী। এতে প্রদাহনাশক উপাদান রয়েছে।তা ছাড়া,এতে অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়াল উপাদান থাকায় তেলটি ত্বকের ছোটখাটো সংক্রমণ প্রতিরোধেও সক্ষম। চন্দনের নিজস্ব গন্ধ থাকায় এর তেল স্নায়ুকে শান্ত করতে সাহায্য করে। গায়ে মাসাজের জন্য যেমন চন্দন তেল পাওয়া যায় তেমনই এসেনশিয়াল অয়েল হিসাবেও চন্দনকাঠের তেল বিক্রি হয়। এসেনশিয়াল অয়েল অবশ্য সরাসরি মাখা ঠিক নয়। ৩-৪ টেবিল চামচ নারকেল তেল বা আর্গন তেলে ৭-৮ ফোঁটা চন্দন তেল মিশিয়ে সেটি গায়ে মালিশ করতে পারেন।

কাঠবাদামের তেল: ভিটামিন এ এবং ই-তে সমৃদ্ধ কাঠবাদামের তেল ত্বকের জন্যও ভাল। কাঠবাদামের তেলে থাকা রেটিনল ত্বক মসৃণ এবং সুন্দর রাখতে সাহায্য করে। এই তেলে থাকা ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখে। তেলটি বেশি চটচটে বা ঘন থাকলে তা নারকেল তেল বা হোহোবা অয়েলের সঙ্গে মিশিয়ে পাতলা করে ব্যবহার করতে পারেন।