ঢাকা ১০:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬, ২৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মানবাধিকার পরিস্থিতির সূচক উন্নতির দিকে: আইনমন্ত্রী জুনে চালু হতে পারে ই-হেলথ কার্ড: স্বাস্থ্যমন্ত্রী বর্তমান সরকার সবার, কারও প্রতিপক্ষ নয়: প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নূর সংসদের অধিবেশন কক্ষে কালিমা তাইয়্যেবা লেখা আরবি ক্যালিগ্রাফি স্থাপন জুলাই যোদ্ধাদের দায়মুক্তিতে আমরা জাতীয়ভাবে সম্মত আছি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নাহিদের গতি ও তানজিদ ঝড়ে পাকিস্তানকে উড়িয়ে দিল বাংলাদেশ খণ্ডিতভাবে ডেপুটি স্পিকার চাচ্ছি না, আমরা চাই প্যাকেজ: জামায়াত আমির অগ্রণী ব্যাংকের ভল্ট থেকে ৪৩ কোটি টাকা গায়েব, পালালেন কর্মকর্তা যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলকে ঘায়েল করতে মুসলিমদের প্রতি যে আহ্বান জানাল ইরান আমি জনগণকে বিনা পয়সায় সেবা দিতে বাধ্য: হাসনাত আবদুল্লাহ

যাদের পক্ষ থেকে ফিতরা দেওয়া ওয়াজিব

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

মাসআলা— সদকাতুল ফিতর ওয়াজিব এমন প্রত্যেকে তার নিজের পক্ষ থেকে এবং নাবালেগ সন্তানের পক্ষ থেকে (যদি সন্তানের নেসাব পরিমাণ সম্পদ না থাকে) সদকাতুল ফিতর আদায় করবে। (ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৯৩)

মাসআলা— পিতা-মাতা, স্ত্রী ও বালেগ সন্তানের পক্ষ থেকে সদকাতুল ফিতর আদায় করা ওয়াজিব নয়। তারা নিজেরা প্রয়োজনের অতিরিক্ত নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হলে তাদের ওপর সদকায়ে ফিতর আদায় করা ওয়াজিব হবে। (ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৯৩, মারাকিল ফালাহ পৃ. ৩৯৫)

মাসআলা— মা সামর্থ্যবান হলেও নাবালেগ সন্তানের পক্ষ থেকে সদকায়ে ফিতর আদায় করা তার ওপর ওয়াজিব নয়। (কিতাবুল আছল ২/১৭৭, ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৯৩, রদ্দুল মুহতার ২/৩৬৩)

মাসআলা— সামর্থ্যবান দাদার ওপর নাতি-নাতনিদের সদকায়ে ফিতর আদায় করা ওয়াজিব নয়। পিতা জীবিত না থাকলে এবং দাদা নাতি-নাতনিদের ভরণপোষণের দায়িত্ব আঞ্জাম দিলেও দাদার ওপর তাদের সদকাতুল ফিতর আদায় করা জরুরি নয়। অবশ্য কোনো কোনো আলেমের মতে, এক্ষেত্রে দাদার ওপর নাতির সদকা আদায় করা জরুরি। তাই এমন ক্ষেত্রে দাদা যদি নাতি-নাতনিদের সদকা আদায় করে দেন তাহলে সেটি ভালো হয়। (কিতাবুল আছল ২/১৭৭, ফাতাওয়া খানিয়া ১/২২৮, রদ্দুল মুহতার ২/৩৬৩)

মাসআলা— বালেগ সন্তানাদি ও স্ত্রীর পক্ষ থেকে সদকায়ে ফিতর আদায় করে দিলে তা আদায় হয়ে যাবে। হজরত নাফে‘ রাহ. বলেন–

كَانَ ابْنُ عُمَرَ يُعْطِيهِ عَمَّنْ يَعُولُ مِنْ نِسَائِهِ.

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) তাঁর স্ত্রীদের পক্ষ থেকে সদাকাতুল ফিতর প্রদান করতেন। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা ১০৪৫৫)

বিষয়টি প্রচলিত হওয়ায় তাদের অনুমতি জরুরি নয়। তবে আদায়ের আগে তাদেরকে বলে নেওয়া ভালো। আর স্ত্রীর দায়িত্ব হল, সদাকাতুল ফিতর নিজেই আদায় করা অথবা তার পক্ষ থেকে আদায় করা হয়েছে কি না– এর খোঁজ রাখা। –আলমাবসূত, সারাখসী ৩/১০৫, ফাতাওয়া খানিয়া ১/২২৮, ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৩/৪৬১, আলবাহরুর রায়েক ২/২৫২, ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৯৩)

মাসআলা— নেসাবের মালিক নাবালেগ ছেলে-মেয়ের সদকাতুল ফিতর তার সম্পদ থেকেই আদায় করা নিয়ম। তাই অভিভাবক বাচ্চার সম্পদ থেকে ফিতরা আদায় করে দেবে। তবে পিতা ইচ্ছা করলে নিজ সম্পদ থেকেও তা আদায় করে দিতে পারেন। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা ৩/৬৩, বুখারি ১/২০৪, বাদায়েউস সানায়ে ২/১৯৯, আলবাহরুর রায়েক ২/৪৩৯-৪৪০, আলমাবসূত সারাখসী ৩/১০৪, হেদায়া ২/২২১, খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/২৭৩)

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

যাদের পক্ষ থেকে ফিতরা দেওয়া ওয়াজিব

আপডেট সময় ০৮:০৫:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

মাসআলা— সদকাতুল ফিতর ওয়াজিব এমন প্রত্যেকে তার নিজের পক্ষ থেকে এবং নাবালেগ সন্তানের পক্ষ থেকে (যদি সন্তানের নেসাব পরিমাণ সম্পদ না থাকে) সদকাতুল ফিতর আদায় করবে। (ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৯৩)

মাসআলা— পিতা-মাতা, স্ত্রী ও বালেগ সন্তানের পক্ষ থেকে সদকাতুল ফিতর আদায় করা ওয়াজিব নয়। তারা নিজেরা প্রয়োজনের অতিরিক্ত নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হলে তাদের ওপর সদকায়ে ফিতর আদায় করা ওয়াজিব হবে। (ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৯৩, মারাকিল ফালাহ পৃ. ৩৯৫)

মাসআলা— মা সামর্থ্যবান হলেও নাবালেগ সন্তানের পক্ষ থেকে সদকায়ে ফিতর আদায় করা তার ওপর ওয়াজিব নয়। (কিতাবুল আছল ২/১৭৭, ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৯৩, রদ্দুল মুহতার ২/৩৬৩)

মাসআলা— সামর্থ্যবান দাদার ওপর নাতি-নাতনিদের সদকায়ে ফিতর আদায় করা ওয়াজিব নয়। পিতা জীবিত না থাকলে এবং দাদা নাতি-নাতনিদের ভরণপোষণের দায়িত্ব আঞ্জাম দিলেও দাদার ওপর তাদের সদকাতুল ফিতর আদায় করা জরুরি নয়। অবশ্য কোনো কোনো আলেমের মতে, এক্ষেত্রে দাদার ওপর নাতির সদকা আদায় করা জরুরি। তাই এমন ক্ষেত্রে দাদা যদি নাতি-নাতনিদের সদকা আদায় করে দেন তাহলে সেটি ভালো হয়। (কিতাবুল আছল ২/১৭৭, ফাতাওয়া খানিয়া ১/২২৮, রদ্দুল মুহতার ২/৩৬৩)

মাসআলা— বালেগ সন্তানাদি ও স্ত্রীর পক্ষ থেকে সদকায়ে ফিতর আদায় করে দিলে তা আদায় হয়ে যাবে। হজরত নাফে‘ রাহ. বলেন–

كَانَ ابْنُ عُمَرَ يُعْطِيهِ عَمَّنْ يَعُولُ مِنْ نِسَائِهِ.

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) তাঁর স্ত্রীদের পক্ষ থেকে সদাকাতুল ফিতর প্রদান করতেন। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা ১০৪৫৫)

বিষয়টি প্রচলিত হওয়ায় তাদের অনুমতি জরুরি নয়। তবে আদায়ের আগে তাদেরকে বলে নেওয়া ভালো। আর স্ত্রীর দায়িত্ব হল, সদাকাতুল ফিতর নিজেই আদায় করা অথবা তার পক্ষ থেকে আদায় করা হয়েছে কি না– এর খোঁজ রাখা। –আলমাবসূত, সারাখসী ৩/১০৫, ফাতাওয়া খানিয়া ১/২২৮, ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৩/৪৬১, আলবাহরুর রায়েক ২/২৫২, ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৯৩)

মাসআলা— নেসাবের মালিক নাবালেগ ছেলে-মেয়ের সদকাতুল ফিতর তার সম্পদ থেকেই আদায় করা নিয়ম। তাই অভিভাবক বাচ্চার সম্পদ থেকে ফিতরা আদায় করে দেবে। তবে পিতা ইচ্ছা করলে নিজ সম্পদ থেকেও তা আদায় করে দিতে পারেন। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা ৩/৬৩, বুখারি ১/২০৪, বাদায়েউস সানায়ে ২/১৯৯, আলবাহরুর রায়েক ২/৪৩৯-৪৪০, আলমাবসূত সারাখসী ৩/১০৪, হেদায়া ২/২২১, খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/২৭৩)