ঢাকা ১২:৫১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৯ মার্চ ২০২৬, ২৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সৌদি আরবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বাংলাদেশি নিহত মার্কিন অনুমোদন ছাড়া ইরানের কোনো সর্বোচ্চ নেতা টিকবে না: ট্রাম্প টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডকে উড়িয়ে চ্যাম্পিয়ন ভারত ৫০০ জন খেলোয়াড়কে বেতনের আওতায় আনা হচ্ছে : ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ফয়সাল-আলমগীরকে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু প্রথম অধিবেশনে সংস্কার পরিষদ গঠিত না হলে রাস্তায় নামতে হবে: নাহিদ ইসলাম ইঞ্জিনিয়ারিং করে ক্ষমতায় গিয়েই জুলাই ইতিহাস ভুলে গেলেন: গোলাম পরওয়ার মেয়েকে উত্যক্তের প্রতিবাদ করায় বাবাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ মোহাম্মদপুরে ছিনতাইয়ের কবলে দুদক মহাপরিচালক যারা সরকার পতনের স্বপ্ন দেখছেন তারা সাবধান হয়ে যান : মির্জা আব্বাস

রোজার কাফফারা আদায়ে অক্ষম হলে কী করবেন?

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

ইচ্ছাকৃত রোজা ভেঙে ফেললে তার ওপর রোজার কাফফার আবশ্যক। কিন্তু কোনো ব্যক্তি যদি কাফফারা তথা ৬০টি রোজা রাখা বা ৬০জন মিসকিনকে খাওয়াতে অক্ষম হয় তবে তার করণীয় কী?

ইচ্ছাকৃত আল্লাহর আইনকে লঙ্ঘন করা নাজায়েজ ও হারাম। উল্লেখিত ক্ষেত্রে বাস্তবেই যদি কেউ কাফফারা আদায়ে অক্ষম হয়ে থাকেন, তাহলে বেশি বেশি ইস্তেগফার করতে হবে। যাতে আল্লাহ তাআলা তাকে ক্ষমা করে দেন।

শরঈ দলিল—

البحر الرائق شرح كنز الدقائق – (2 / 308):

“ولأن الفدية لاتجوز إلا عن صوم هو أصل بنفسه لا بدل عن غيره فجازت عن رمضان وقضائه والنذر، حتى لو نذر صوم الأبد فضعف عن الصوم لاشتغاله بالمعيشة له أن يطعم ويفطر، لأنه استيقن أن لايقدر على قضائه وإن لم يقدر على الإطعام لعسرته يستغفر الله تعالی”.

আল-বাহরুর রায়িক শরহু কানযুদ দাকায়িক গ্রন্থে বলা হয়েছে—

ফিদিয়া কেবল সেই রোজার পরিবর্তে দেওয়া যায়, যা নিজেই মূল ফরজ রোজা; অন্য কোনো রোজার বদলি হিসেবে নয়। তাই রমজানের রোজা, তার কাজা রোজা এবং মান্নতের (নজরের) রোজার ক্ষেত্রে ফিদিয়া দেওয়া জায়েজ।

এমনকি কেউ যদি সারাজীবন রোজা রাখার মান্নত করে এবং জীবিকা নির্বাহের কাজে ব্যস্ত থাকার কারণে দুর্বল হয়ে পড়ে রোজা রাখতে না পারে, তবে তার জন্য রোজা না রেখে ফিদিয়া (গরিবকে খাদ্য দেওয়া) দেওয়া বৈধ। কারণ সে নিশ্চিতভাবে বুঝতে পারে যে পরে সে এসব রোজা কাজা করতেও সক্ষম হবে না।

আর যদি দারিদ্র্যের কারণে ফিদিয়াও দিতে না পারে, তাহলে সে আল্লাহ তাআলার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করবে।

الدر المختار شرح تنوير الأبصار في فقه مذهب الإمام أبي حنيفة – (2 / 427):

• “(وللشيخ الفاني العاجز عن الصوم الفطر ويفدي) وجوبًا ولو في أول الشهر وبلا تعدد فقير كالفطرة لو موسرًا و إلا فيستغفر الله”. فقط والله أعلم

আদ-দুররুল মুখতার শরহ তানওীরুল আবসার গ্রন্থে বলা হয়েছে—

অত্যন্ত বৃদ্ধ ব্যক্তি, যিনি রোজা রাখার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছেন, তার জন্য রোজা না রাখা বৈধ। তবে এর পরিবর্তে তার ওপর ফিদিয়া দেওয়া ওয়াজিব। চাইলে তিনি রমজান মাসের শুরুতেই ফিদিয়া দিতে পারেন। ফিদিয়া দেওয়ার ক্ষেত্রে একাধিক গরিব হওয়া শর্ত নয়; ফিতরার মতো একজন গরিবকেও দেওয়া যেতে পারে—যদি তিনি সচ্ছল হন।

আর যদি তিনি এতটাই অসচ্ছল হন যে ফিদিয়াও দিতে পারেন না, তাহলে তিনি আল্লাহ তাআলার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করবেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সৌদি আরবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বাংলাদেশি নিহত

রোজার কাফফারা আদায়ে অক্ষম হলে কী করবেন?

আপডেট সময় ১০:৩৫:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

ইচ্ছাকৃত রোজা ভেঙে ফেললে তার ওপর রোজার কাফফার আবশ্যক। কিন্তু কোনো ব্যক্তি যদি কাফফারা তথা ৬০টি রোজা রাখা বা ৬০জন মিসকিনকে খাওয়াতে অক্ষম হয় তবে তার করণীয় কী?

ইচ্ছাকৃত আল্লাহর আইনকে লঙ্ঘন করা নাজায়েজ ও হারাম। উল্লেখিত ক্ষেত্রে বাস্তবেই যদি কেউ কাফফারা আদায়ে অক্ষম হয়ে থাকেন, তাহলে বেশি বেশি ইস্তেগফার করতে হবে। যাতে আল্লাহ তাআলা তাকে ক্ষমা করে দেন।

শরঈ দলিল—

البحر الرائق شرح كنز الدقائق – (2 / 308):

“ولأن الفدية لاتجوز إلا عن صوم هو أصل بنفسه لا بدل عن غيره فجازت عن رمضان وقضائه والنذر، حتى لو نذر صوم الأبد فضعف عن الصوم لاشتغاله بالمعيشة له أن يطعم ويفطر، لأنه استيقن أن لايقدر على قضائه وإن لم يقدر على الإطعام لعسرته يستغفر الله تعالی”.

আল-বাহরুর রায়িক শরহু কানযুদ দাকায়িক গ্রন্থে বলা হয়েছে—

ফিদিয়া কেবল সেই রোজার পরিবর্তে দেওয়া যায়, যা নিজেই মূল ফরজ রোজা; অন্য কোনো রোজার বদলি হিসেবে নয়। তাই রমজানের রোজা, তার কাজা রোজা এবং মান্নতের (নজরের) রোজার ক্ষেত্রে ফিদিয়া দেওয়া জায়েজ।

এমনকি কেউ যদি সারাজীবন রোজা রাখার মান্নত করে এবং জীবিকা নির্বাহের কাজে ব্যস্ত থাকার কারণে দুর্বল হয়ে পড়ে রোজা রাখতে না পারে, তবে তার জন্য রোজা না রেখে ফিদিয়া (গরিবকে খাদ্য দেওয়া) দেওয়া বৈধ। কারণ সে নিশ্চিতভাবে বুঝতে পারে যে পরে সে এসব রোজা কাজা করতেও সক্ষম হবে না।

আর যদি দারিদ্র্যের কারণে ফিদিয়াও দিতে না পারে, তাহলে সে আল্লাহ তাআলার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করবে।

الدر المختار شرح تنوير الأبصار في فقه مذهب الإمام أبي حنيفة – (2 / 427):

• “(وللشيخ الفاني العاجز عن الصوم الفطر ويفدي) وجوبًا ولو في أول الشهر وبلا تعدد فقير كالفطرة لو موسرًا و إلا فيستغفر الله”. فقط والله أعلم

আদ-দুররুল মুখতার শরহ তানওীরুল আবসার গ্রন্থে বলা হয়েছে—

অত্যন্ত বৃদ্ধ ব্যক্তি, যিনি রোজা রাখার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছেন, তার জন্য রোজা না রাখা বৈধ। তবে এর পরিবর্তে তার ওপর ফিদিয়া দেওয়া ওয়াজিব। চাইলে তিনি রমজান মাসের শুরুতেই ফিদিয়া দিতে পারেন। ফিদিয়া দেওয়ার ক্ষেত্রে একাধিক গরিব হওয়া শর্ত নয়; ফিতরার মতো একজন গরিবকেও দেওয়া যেতে পারে—যদি তিনি সচ্ছল হন।

আর যদি তিনি এতটাই অসচ্ছল হন যে ফিদিয়াও দিতে পারেন না, তাহলে তিনি আল্লাহ তাআলার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করবেন।