ঢাকা ০৭:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ মার্চ ২০২৬, ২২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
দেশে পর্যাপ্ত তেল আছে, উদ্বিগ্ন হয়ে মজুত না করার আহ্বান প্রতিমন্ত্রীর প্ল্যান বি’তেও হারবে যুক্তরাষ্ট্র, ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেল ক্রয় নিয়ে নির্দেশনা জারি, আছে ৫ শর্ত ইরানের স্কুলে প্রাণঘাতী হামলা: দ্রুত তদন্ত ও জবাবদিহিতা চাইল জাতিসংঘ বিদেশি চুক্তি নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার আমাদের সঙ্গে আলোচনা করেনি: জামায়াত আমির প্রধানমন্ত্রী পাটশিল্পের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার গুরুদায়িত্ব দিয়েছেন: বাণিজ্যমন্ত্রী হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সংবর্ধনায় মেসি-সুয়ারেজরা শিশু যৌন নির্যাতনের অভিযোগ: মালয়েশিয়া থেকে বাংলাদেশিকে ধরে নিয়ে গেছে এফবিআই পোশাক রপ্তানির আড়ালে কৌশলে অর্থপাচার ভারতের যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত, ২ পাইলট নিহত

রাজধানীর উত্তরায় গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে নারী-শিশুসহ দগ্ধ ১০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

রাজধানীর উত্তরায় একটি আবাসিক ভবনে গ্যাসের পাইপলাইনের লিকেজ থেকে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে দুই শিশু ও এক অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ একই পরিবারের ১০ জন দগ্ধ হয়েছেন।

শুক্রবার (৬ মার্চ) ভোরে উত্তরার কামারপাড়া এলাকার ১০ নম্বর সেক্টরের একটি ভবনে এ ঘটনা ঘটে। দগ্ধরা হলেন- রুবেল (৩০), তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী সোনিয়া আক্তার (২৫), মেয়ে রোজা (৩), সোনিয়ার বড় বোন রিয়া আক্তার (২৭), রুবেলের চাচাতো ভাই দুবাইপ্রবাসী এনায়েত আলী (৩২), তার স্ত্রী দেলেরা খাতুন (২৮), ছেলে জুনায়েদ (১০), এনায়েতের ছোট ভাই হাবিব (৩০), ভাগনি আয়েশা আক্তার (১৯) এবং রুবেল (৩৫)। দগ্ধদের জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে।

জানা গেছে, কামারপাড়ার ১০ নম্বর সেক্টরের কবরস্থান রোডে মেম্বার বাড়ির পাশে আবুল কালামের মালিকানাধীন ভবনের দ্বিতীয় তলায় বিস্ফোরণের ঘটনাটি ঘটে। ওই বাসায় পরিবার নিয়ে থাকেন রাইড শেয়ারিং চালক রুবেল। তার চাচাতো ভাই এনায়েত আলী দুবাই থেকে দেশে এসে গ্রাম থেকে পরিবারসহ বেড়াতে এসেছিলেন। তাদের বাড়ি মাদারীপুরের শিবচর উপজেলায়।

একই ভবনের চারতলায় থাকা স্বজন সাজেদ মাতব্বর জানান, ভোরে বিকট শব্দ শুনে নিচে নেমে দেখেন নিচতলা ও দ্বিতীয় তলার দেয়াল ভেঙে গেছে। ঘরের ভেতরে থাকা ১০ জনই দগ্ধ হন। পরে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান জানান, দগ্ধদের মধ্যে সোনিয়া আক্তারের শরীরের ১০০ শতাংশ পুড়ে গেছে। এছাড়া এনায়েত আলীর ৪৫ শতাংশ, রিয়া আক্তারের ৩২ শতাংশ, রুবেলের (৩০) ৩২ শতাংশ, শিশু রোজার ১৮ শতাংশ, জুনায়েদের ২৪ শতাংশ, দেলেরা খাতুনের ১৪ শতাংশ, রুবেলের (৩৫) ৭ শতাংশ, হাবিবের ১৯ শতাংশ এবং আয়েশা আক্তারের ১২ শতাংশ শরীর দগ্ধ হয়েছে।

তিনি আরও জানান, যাদের শরীরে দগ্ধের পরিমাণ বেশি তাদের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়া হয়েছে। অন্যরা চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।

ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ডিউটি অফিসার রোজিনা আক্তার জানান, বিস্ফোরণের খবর পেয়ে দ্রুত দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। তবে ফায়ার সার্ভিস পৌঁছানোর আগেই স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গিজার বা গ্যাস লাইনের লিকেজ থেকে বিস্ফোরণটি ঘটেছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দেশে পর্যাপ্ত তেল আছে, উদ্বিগ্ন হয়ে মজুত না করার আহ্বান প্রতিমন্ত্রীর

রাজধানীর উত্তরায় গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে নারী-শিশুসহ দগ্ধ ১০

আপডেট সময় ১১:১৫:৩২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ মার্চ ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

রাজধানীর উত্তরায় একটি আবাসিক ভবনে গ্যাসের পাইপলাইনের লিকেজ থেকে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে দুই শিশু ও এক অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ একই পরিবারের ১০ জন দগ্ধ হয়েছেন।

শুক্রবার (৬ মার্চ) ভোরে উত্তরার কামারপাড়া এলাকার ১০ নম্বর সেক্টরের একটি ভবনে এ ঘটনা ঘটে। দগ্ধরা হলেন- রুবেল (৩০), তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী সোনিয়া আক্তার (২৫), মেয়ে রোজা (৩), সোনিয়ার বড় বোন রিয়া আক্তার (২৭), রুবেলের চাচাতো ভাই দুবাইপ্রবাসী এনায়েত আলী (৩২), তার স্ত্রী দেলেরা খাতুন (২৮), ছেলে জুনায়েদ (১০), এনায়েতের ছোট ভাই হাবিব (৩০), ভাগনি আয়েশা আক্তার (১৯) এবং রুবেল (৩৫)। দগ্ধদের জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে।

জানা গেছে, কামারপাড়ার ১০ নম্বর সেক্টরের কবরস্থান রোডে মেম্বার বাড়ির পাশে আবুল কালামের মালিকানাধীন ভবনের দ্বিতীয় তলায় বিস্ফোরণের ঘটনাটি ঘটে। ওই বাসায় পরিবার নিয়ে থাকেন রাইড শেয়ারিং চালক রুবেল। তার চাচাতো ভাই এনায়েত আলী দুবাই থেকে দেশে এসে গ্রাম থেকে পরিবারসহ বেড়াতে এসেছিলেন। তাদের বাড়ি মাদারীপুরের শিবচর উপজেলায়।

একই ভবনের চারতলায় থাকা স্বজন সাজেদ মাতব্বর জানান, ভোরে বিকট শব্দ শুনে নিচে নেমে দেখেন নিচতলা ও দ্বিতীয় তলার দেয়াল ভেঙে গেছে। ঘরের ভেতরে থাকা ১০ জনই দগ্ধ হন। পরে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান জানান, দগ্ধদের মধ্যে সোনিয়া আক্তারের শরীরের ১০০ শতাংশ পুড়ে গেছে। এছাড়া এনায়েত আলীর ৪৫ শতাংশ, রিয়া আক্তারের ৩২ শতাংশ, রুবেলের (৩০) ৩২ শতাংশ, শিশু রোজার ১৮ শতাংশ, জুনায়েদের ২৪ শতাংশ, দেলেরা খাতুনের ১৪ শতাংশ, রুবেলের (৩৫) ৭ শতাংশ, হাবিবের ১৯ শতাংশ এবং আয়েশা আক্তারের ১২ শতাংশ শরীর দগ্ধ হয়েছে।

তিনি আরও জানান, যাদের শরীরে দগ্ধের পরিমাণ বেশি তাদের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়া হয়েছে। অন্যরা চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।

ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ডিউটি অফিসার রোজিনা আক্তার জানান, বিস্ফোরণের খবর পেয়ে দ্রুত দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। তবে ফায়ার সার্ভিস পৌঁছানোর আগেই স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গিজার বা গ্যাস লাইনের লিকেজ থেকে বিস্ফোরণটি ঘটেছে।