ঢাকা ০৩:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬, ২১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

যুদ্ধের মধ্যেই ট্রাম্পকে হত্যাচেষ্টায় ইরানকে জড়ালেন পাকিস্তানি ব্যবসায়ী

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

গত শনিবার থেকে ইরানে ভয়াবহ হামলা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এতে এরই মধ্যে ১৭৬ শিশুসহ এক হাজারের বেশি বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে। ইরানও পাল্টা হামলা চালাচ্ছে। ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মার্কিন স্বার্থ সংশ্লিষ্ট স্থাপনায় হামলা চালাচ্ছে। এতে অগ্নিগর্ভে পরিণত হয়েছে গোটা মধ্যপ্রাচ্য। এরই মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যাচেষ্টায় ইরানকে জড়ালেন পাকিস্তানি এক ব্যবসায়ী।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালতে নিজেই সব কথা স্বীকার করে নিয়েছেন ওই পাকিস্তানি নাগরিক আসিফ মার্চেন্ট।

নিউ ইয়র্কের ব্রুকলিন ফেডেরাল কোর্টে ওই তার বিচারকাজ চলছে। তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদে যুক্ত থাকার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার আদালতের বিচারকদের সামনে তিনি দাবি করেন, ট্রাম্পকে খুন করতে ইরানের নাগরিক মেহরদাদ ইউসুফ দায়িত্ব দেওয়া হয়, যিনি আবার ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড কোরের সদস্য।

মূলত এ কারণেই এ ঘটনার সঙ্গে জড়িয়ে গিয়েছে তেহরান প্রশাসনের নাম।

৪৭ বছর বয়সি পাকিস্তানি ব্যবসায়ী আসিফ মার্চেন্ট আদালতে দাবি করেন, ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে তাকে খুনের পরিকল্পনা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হয়। তবে কাকে বা কাদের হত্যা করতে হবে, তা স্পষ্ট করে বলা হয়নি। পরে নাকি বলা হয়, ট্রাম্প, তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এবং সাউথ ক্যারোলাইনা প্রদেশের প্রাক্তন গভর্নর নিকি হ্যালেকে খুন করতে হবে।

ওয়াশিংটন পোস্ট-এর প্রতিবেদন অনুসারে, তিনজনকে খুন করার জন্য দুই ঘাতককে খুঁজে বের করেছিলেন আসিফ মার্চেন্ট। এজন্য তাদেরকে আগাম ৫০০০ মার্কিন ডলার দিয়ে রেখেছিলেন। কিন্তু ওই তিনি জানতেন না যে, যাদেরকে তিনি খুনের কন্ট্রাক্ট দিচ্ছেন, তারা আসলে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই-এর এজেন্ট। ২০২৪ সালের জুন মাসে ধরা পড়ে যান আসিফ মার্চেন্ট। এতে বানচাল হয়ে যায় তার ছক।

যদিও আসিফ মার্চেন্ট দাবি করেছেন, চাপের মুখে এই কাজ করতে বাধ্য হয়েছেন তিনি। অন্যথায় ইরানে থাকা তার আত্মীয়স্বজনদের প্রাণসংশয় হতে পারত। আদালতে তিনি বলেন, “আমার কাছে অন্য কোনও উপায় ছিল না। আমার পরিবারকে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল।”

প্রতিবেদন অনুসারে, আসিফ মার্চেন্ট আগে পাকিস্তানের একটি ব্যাংকের উচ্চপদে চাকরি করতেন। ব্যাংক খাতে দীর্ঘ ২০ বছরের কাজের অভিজ্ঞতা তার। পরে তিনি পোশাক, গাড়ি বিক্রয়, কলা রফতানির ব্যবসা করেন। কিন্তু সাফল্যের মুখ দেখেননি।

তবে কীভাবে তিনি ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ডের এক সদস্যের সংস্পর্শে এলেন, তা অবশ্য স্পষ্ট নয়।

ঘটনাচক্রে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ট্রাম্প দাবি করেছেন, ২০২৪ সালে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা (সদ্য প্রয়াত) আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি তাকে দু’বার হত্যার চেষ্টা করেছিলেন। ট্রাম্প বলেন, “উনি (খামেনি) আমাকে পাওয়ার আগে আমিই তাকে পেয়ে গিয়েছি। তারা দু’বার চেষ্টা করেছিল। আমি প্রথমবারেই পেয়ে গেলাম।” তবে ট্রাম্প এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলেননি।

প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে পেনসিলভেনিয়ার সভায় ট্রাম্পের কান ঘেঁষে বেরিয়ে গিয়েছিল গুলি। ওই বছরই সেপ্টেম্বরে ওয়েস্ট পাম বিচে গলফ খেলার সময় ট্রাম্পের দিকে বন্দুক তাক করার অভিযোগ উঠেছিল। ওই ঘটনায় একজনকে গ্রেফতার করা হয়। কয়েক মাস পরে আফগানিস্তানের বাসিন্দা ফারহাদ শাকেরির বিরুদ্ধে ট্রাম্পকে হত্যার ছক কষার অভিযোগে চার্জ গঠন করা হয়েছিল। ২০০৮ সালে তাকে আমেরিকা থেকে বের করে দেওয়া হয়। অভিযোগ ছিল, ট্রাম্পকে খুনের ছক কষেছিল ইরানের বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)। অবশ্য, ইরান সেই অভিযোগ সঙ্গে সঙ্গেই অস্বীকার করে। এক্ষেত্রেও তেহরান একই পথে হাঁটবে বলেই মনে করা হচ্ছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

যুদ্ধের মধ্যেই ট্রাম্পকে হত্যাচেষ্টায় ইরানকে জড়ালেন পাকিস্তানি ব্যবসায়ী

আপডেট সময় ১১:৪৩:২২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

গত শনিবার থেকে ইরানে ভয়াবহ হামলা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এতে এরই মধ্যে ১৭৬ শিশুসহ এক হাজারের বেশি বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে। ইরানও পাল্টা হামলা চালাচ্ছে। ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মার্কিন স্বার্থ সংশ্লিষ্ট স্থাপনায় হামলা চালাচ্ছে। এতে অগ্নিগর্ভে পরিণত হয়েছে গোটা মধ্যপ্রাচ্য। এরই মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যাচেষ্টায় ইরানকে জড়ালেন পাকিস্তানি এক ব্যবসায়ী।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালতে নিজেই সব কথা স্বীকার করে নিয়েছেন ওই পাকিস্তানি নাগরিক আসিফ মার্চেন্ট।

নিউ ইয়র্কের ব্রুকলিন ফেডেরাল কোর্টে ওই তার বিচারকাজ চলছে। তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদে যুক্ত থাকার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার আদালতের বিচারকদের সামনে তিনি দাবি করেন, ট্রাম্পকে খুন করতে ইরানের নাগরিক মেহরদাদ ইউসুফ দায়িত্ব দেওয়া হয়, যিনি আবার ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড কোরের সদস্য।

মূলত এ কারণেই এ ঘটনার সঙ্গে জড়িয়ে গিয়েছে তেহরান প্রশাসনের নাম।

৪৭ বছর বয়সি পাকিস্তানি ব্যবসায়ী আসিফ মার্চেন্ট আদালতে দাবি করেন, ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে তাকে খুনের পরিকল্পনা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হয়। তবে কাকে বা কাদের হত্যা করতে হবে, তা স্পষ্ট করে বলা হয়নি। পরে নাকি বলা হয়, ট্রাম্প, তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এবং সাউথ ক্যারোলাইনা প্রদেশের প্রাক্তন গভর্নর নিকি হ্যালেকে খুন করতে হবে।

ওয়াশিংটন পোস্ট-এর প্রতিবেদন অনুসারে, তিনজনকে খুন করার জন্য দুই ঘাতককে খুঁজে বের করেছিলেন আসিফ মার্চেন্ট। এজন্য তাদেরকে আগাম ৫০০০ মার্কিন ডলার দিয়ে রেখেছিলেন। কিন্তু ওই তিনি জানতেন না যে, যাদেরকে তিনি খুনের কন্ট্রাক্ট দিচ্ছেন, তারা আসলে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই-এর এজেন্ট। ২০২৪ সালের জুন মাসে ধরা পড়ে যান আসিফ মার্চেন্ট। এতে বানচাল হয়ে যায় তার ছক।

যদিও আসিফ মার্চেন্ট দাবি করেছেন, চাপের মুখে এই কাজ করতে বাধ্য হয়েছেন তিনি। অন্যথায় ইরানে থাকা তার আত্মীয়স্বজনদের প্রাণসংশয় হতে পারত। আদালতে তিনি বলেন, “আমার কাছে অন্য কোনও উপায় ছিল না। আমার পরিবারকে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল।”

প্রতিবেদন অনুসারে, আসিফ মার্চেন্ট আগে পাকিস্তানের একটি ব্যাংকের উচ্চপদে চাকরি করতেন। ব্যাংক খাতে দীর্ঘ ২০ বছরের কাজের অভিজ্ঞতা তার। পরে তিনি পোশাক, গাড়ি বিক্রয়, কলা রফতানির ব্যবসা করেন। কিন্তু সাফল্যের মুখ দেখেননি।

তবে কীভাবে তিনি ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ডের এক সদস্যের সংস্পর্শে এলেন, তা অবশ্য স্পষ্ট নয়।

ঘটনাচক্রে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ট্রাম্প দাবি করেছেন, ২০২৪ সালে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা (সদ্য প্রয়াত) আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি তাকে দু’বার হত্যার চেষ্টা করেছিলেন। ট্রাম্প বলেন, “উনি (খামেনি) আমাকে পাওয়ার আগে আমিই তাকে পেয়ে গিয়েছি। তারা দু’বার চেষ্টা করেছিল। আমি প্রথমবারেই পেয়ে গেলাম।” তবে ট্রাম্প এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলেননি।

প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে পেনসিলভেনিয়ার সভায় ট্রাম্পের কান ঘেঁষে বেরিয়ে গিয়েছিল গুলি। ওই বছরই সেপ্টেম্বরে ওয়েস্ট পাম বিচে গলফ খেলার সময় ট্রাম্পের দিকে বন্দুক তাক করার অভিযোগ উঠেছিল। ওই ঘটনায় একজনকে গ্রেফতার করা হয়। কয়েক মাস পরে আফগানিস্তানের বাসিন্দা ফারহাদ শাকেরির বিরুদ্ধে ট্রাম্পকে হত্যার ছক কষার অভিযোগে চার্জ গঠন করা হয়েছিল। ২০০৮ সালে তাকে আমেরিকা থেকে বের করে দেওয়া হয়। অভিযোগ ছিল, ট্রাম্পকে খুনের ছক কষেছিল ইরানের বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)। অবশ্য, ইরান সেই অভিযোগ সঙ্গে সঙ্গেই অস্বীকার করে। এক্ষেত্রেও তেহরান একই পথে হাঁটবে বলেই মনে করা হচ্ছে।