আকাশ জাতীয় ডেস্ক:
বাড়ির লোহার গেট ও শয়নকক্ষ ভেতর থেকে লাগানো। শয়নকক্ষের বিছানায় পড়ে ছিল মরদেহ। মরদেহের চারপাশে মাছি ভনভন করছিল। দুর্গন্ধের কারণে নাকে কাপড় চেপে জানালা দিয়ে ঘরে উঁকি দিচ্ছিলেন গ্রামের মানুষ। সোমবার রাতে ঘটনাস্থল থেকে অর্ধগলিত একটি মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার নিমপাড়া ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর উত্তরপাড়া গ্রামে মারা যাওয়া ওই ব্যক্তির নাম মিজানুর রহমান রিপন।
রিপন (৫২) একই গ্রামের মৃত নুরুল আজীম মণ্ডলের ছেলে। তাঁর মৃত্যুর বিষয়ে পরিবার বা প্রতিবেশীদের কেউ কিছু বলতে পারছেন না। কীভাবে তাঁর মৃত্যু হয়েছে, পুলিশও নিশ্চিত নয়। তবে পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়া মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রিপন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স পড়াশোনা শেষ করে পারিবারিক জমিজমা দেখাশোনা করতেন। পৈতৃক সূত্রে পাওয়া সম্পদ থাকার কারণে তাঁর অভাব-অনটন ছিল না। কিন্তু তিনি মাদকে আসক্ত ছিলেন। মাদক সেবন করে স্ত্রী ও স্বজনদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করতেন। এ কারণে দুই কন্যা সন্তান নিয়ে তাঁর স্ত্রী রাজশাহী শহরে থাকতেন। রিপন বাসায় একাই থাকতেন। নিজেই রান্না করতেন। তিন-চার দিন পরপর বাড়ি থেকে বের হতেন প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতে।
রোববার সন্ধ্যার দিকে রিপনের শোবার ঘর থেকে পচা দুর্গন্ধ ছড়ালে স্থানীয়রা জানালা দিয়ে উঁকি দিয়ে দেখেন বিছানার ওপরে তিনি শুয়ে আছেন; কিন্তু নড়াচড়া করছেন না। পচা দুর্গন্ধের পাশাপাশি শরীরের ওপর মাছি ভনভন করছে। পরে তাঁর স্ত্রীকে ফোন করলে তিনি রাজশাহী শহর থেকে আসেন। খবর পেয়ে থানা থেকে পুলিশও আসে। পরে পরিবারের সদস্যরা বাড়ির গেট ও শয়নকক্ষের দরজা ভেঙে মরদেহ উদ্ধার করেন।
রিপনের স্ত্রী আলপনা সাহাদ বলেন, তাঁর স্বামী উচ্চ রক্তচাপজনিত রোগে ভুগছিলেন। তিনি দুই মেয়ের পড়াশোনার জন্য তাদের নিয়ে রাজশাহী শহরে থাকেন। তাঁর সঙ্গে সর্বশেষ ১১ ফেব্রুয়ারি ফোনে কথা হয়েছে। এরপর থেকে তাঁকে আর ফোনে পাওয়া যায়নি। স্বজনদের ফোন পেয়ে এসে দরজা ভেঙে দেখি বিছানায় তাঁর মরদেহ পড়ে আছে। আমরা ধারণা করছি, উচ্চ রক্তচাপজনিত কারণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
নিমপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বলেন, রিপন এলাকার মধ্যে উচ্চ শিক্ষিত একজন মানুষ ছিল। সে পুরো বাড়িতে একাই থাকত। পরিবারের সঙ্গে তেমন যোগাযোগ ছিল না। পাড়া-প্রতিবেশী কারও সঙ্গে মিশত না। ২৪ ঘণ্টা ঘরবন্দি থাকত। মাদকাসক্ত ছিল বলে শুনেছি।
এ বিষয়ে চারঘাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হেলাল উদ্দিন ফারুকী বলেন, পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মরদেহ ময়নাতদন্ত ছাড়া হস্তান্তর করা হয়েছে। এ বিষয়ে একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 






















