ঢাকা ০২:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ভারতকে সব সময় শক্তিশালী ও প্রস্তুত থাকতে হবে: নরেন্দ্র মোদি

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

বিশ্ব পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ভারতকে সব সময় প্রস্তুত থাকতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেন, পরিবর্তিত বৈশ্বিক বাস্তবতায় ভারতকে সব সময় শক্তিশালী ও প্রস্তুত থাকতে হবে। প্রতিরক্ষা খাতে রেকর্ড বরাদ্দ সেই দীর্ঘমেয়াদি কৌশলেরই অংশ। খবর এনডিটিভি

ভারতীয় সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মোদি বলেন, গত এক দশকে প্রতিরক্ষা খাতে যে সংস্কার হয়েছে, তার সুফল ‘অপারেশন সিন্দুর’-এর সময় স্পষ্টভাবে দেখা গেছে। তবে প্রতিরক্ষা বাজেট বৃদ্ধি বা আধুনিকায়নকে কোনও নির্দিষ্ট ঘটনার সঙ্গে যুক্ত করে দেখা ঠিক নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের কেন্দ্রীয় বাজেটে প্রতিরক্ষা খাতে ৭ লাখ ৮৫ হাজার কোটি রুপি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এটি আগের বছরের তুলনায় ১৫ শতাংশ বেশি এবং কোনও মন্ত্রণালয় বা বিভাগের জন্য এটিই সর্বোচ্চ বরাদ্দ।

ভারতের এই প্রধানমন্ত্রী বলেন, আধুনিকায়নের জন্য ১ লাখ ৮৫ হাজার কোটি রুপি রাখা হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ২৫ শতাংশ বেশি। তিন বাহিনীর মূলধনী ব্যয়ের জন্য বরাদ্দ প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার কোটি রুপি। এর মধ্যে ৭৫ শতাংশ দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্প থেকে সরঞ্জাম কেনার জন্য নির্ধারিত। এতে একদিকে নিরাপত্তা জোরদার হবে, অন্যদিকে কর্মসংস্থান বাড়বে এবং শিল্পভিত্তি শক্তিশালী হবে।

তিনি জানান, গত এক দশকে প্রতিরক্ষা রপ্তানি প্রায় ৩৫ গুণ বেড়ে ২৩ হাজার কোটি রুপি ছাড়িয়েছে। দেশীয় প্রতিরক্ষা উৎপাদনও রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিন থেকেই তার সরকার অত্যন্ত স্পষ্ট অবস্থানে ছিল যে দেশের প্রতিরক্ষা বাহিনীকে শক্তিশালী করতে যা প্রয়োজন, তা-ই করা হবে। প্রযুক্তি বিশ্বকে দ্রুত বদলে দিচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীকে দেশীয় উদ্ভাবন ও শিল্পের সেরা সক্ষমতায় সজ্জিত করা হচ্ছে। গত ১১ বছর ধরে প্রতিরক্ষা খাতে আধুনিকায়ন ও আত্মনির্ভরতার ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।

‘অপারেশন সিন্দুর’ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ওই অভিযানে সশস্ত্র বাহিনীর সাহসিকতায় পুরো দেশ গর্বিত। একই সঙ্গে গত এক দশকের সংস্কারের সুফলও সেখানে দেখা গেছে।

সাক্ষাৎকারে তাকে জিজ্ঞেস করা হয়, ‘অপারেশন সিন্দুর’ থেকে শিক্ষা নিয়েই কি বাজেট বাড়ানো হয়েছে কিনা এবং এতে কি প্রতিবেশী দেশ বিশেষ করে পাকিস্তানের প্রতি অবিশ্বাসের ইঙ্গিত রয়েছে কিনা? জবাবে তিনি বলেন, বাস্তবতা হলো— ভারতকে সব সময় শক্তিশালী ও প্রস্তুত থাকতে হবে এবং সরকার সেটিই করছে।

সাবেক সেনা সদস্যদের কল্যাণেও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানান তিনি। এ বছর তাদের স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচির জন্য ১২ হাজার কোটি রুপির বেশি বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা আগের তুলনায় ৪৫ শতাংশ বেশি।

প্রধানমন্ত্রী মোদি আরও বলেন, দীর্ঘদিনের দাবি ‘ওয়ান র‌্যাঙ্ক ওয়ান পেনশন’ বাস্তবায়ন করেছে এনডিএ সরকার। পাশাপাশি তিনি ইঙ্গিত দেন, অতীতে যারা দেশ শাসন করেছে, তাদের আমলে প্রতিরক্ষা খাতে একাধিক কেলেঙ্কারি হয়েছে।

তিনি জানান, বর্তমানে প্রতিরক্ষা খাতে বহু স্টার্টআপ কাজ করছে। ভারতীয় মেধা ও শিল্পকে সুযোগ দিয়ে বাহিনীকে আরও শক্তিশালী করাই সরকারের লক্ষ্য।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ক্লিনিকে হামলা-ভাঙচুর, দুই চিকিৎসক আহত

ভারতকে সব সময় শক্তিশালী ও প্রস্তুত থাকতে হবে: নরেন্দ্র মোদি

আপডেট সময় ০২:০০:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

বিশ্ব পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ভারতকে সব সময় প্রস্তুত থাকতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেন, পরিবর্তিত বৈশ্বিক বাস্তবতায় ভারতকে সব সময় শক্তিশালী ও প্রস্তুত থাকতে হবে। প্রতিরক্ষা খাতে রেকর্ড বরাদ্দ সেই দীর্ঘমেয়াদি কৌশলেরই অংশ। খবর এনডিটিভি

ভারতীয় সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মোদি বলেন, গত এক দশকে প্রতিরক্ষা খাতে যে সংস্কার হয়েছে, তার সুফল ‘অপারেশন সিন্দুর’-এর সময় স্পষ্টভাবে দেখা গেছে। তবে প্রতিরক্ষা বাজেট বৃদ্ধি বা আধুনিকায়নকে কোনও নির্দিষ্ট ঘটনার সঙ্গে যুক্ত করে দেখা ঠিক নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের কেন্দ্রীয় বাজেটে প্রতিরক্ষা খাতে ৭ লাখ ৮৫ হাজার কোটি রুপি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এটি আগের বছরের তুলনায় ১৫ শতাংশ বেশি এবং কোনও মন্ত্রণালয় বা বিভাগের জন্য এটিই সর্বোচ্চ বরাদ্দ।

ভারতের এই প্রধানমন্ত্রী বলেন, আধুনিকায়নের জন্য ১ লাখ ৮৫ হাজার কোটি রুপি রাখা হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ২৫ শতাংশ বেশি। তিন বাহিনীর মূলধনী ব্যয়ের জন্য বরাদ্দ প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার কোটি রুপি। এর মধ্যে ৭৫ শতাংশ দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্প থেকে সরঞ্জাম কেনার জন্য নির্ধারিত। এতে একদিকে নিরাপত্তা জোরদার হবে, অন্যদিকে কর্মসংস্থান বাড়বে এবং শিল্পভিত্তি শক্তিশালী হবে।

তিনি জানান, গত এক দশকে প্রতিরক্ষা রপ্তানি প্রায় ৩৫ গুণ বেড়ে ২৩ হাজার কোটি রুপি ছাড়িয়েছে। দেশীয় প্রতিরক্ষা উৎপাদনও রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিন থেকেই তার সরকার অত্যন্ত স্পষ্ট অবস্থানে ছিল যে দেশের প্রতিরক্ষা বাহিনীকে শক্তিশালী করতে যা প্রয়োজন, তা-ই করা হবে। প্রযুক্তি বিশ্বকে দ্রুত বদলে দিচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীকে দেশীয় উদ্ভাবন ও শিল্পের সেরা সক্ষমতায় সজ্জিত করা হচ্ছে। গত ১১ বছর ধরে প্রতিরক্ষা খাতে আধুনিকায়ন ও আত্মনির্ভরতার ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।

‘অপারেশন সিন্দুর’ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ওই অভিযানে সশস্ত্র বাহিনীর সাহসিকতায় পুরো দেশ গর্বিত। একই সঙ্গে গত এক দশকের সংস্কারের সুফলও সেখানে দেখা গেছে।

সাক্ষাৎকারে তাকে জিজ্ঞেস করা হয়, ‘অপারেশন সিন্দুর’ থেকে শিক্ষা নিয়েই কি বাজেট বাড়ানো হয়েছে কিনা এবং এতে কি প্রতিবেশী দেশ বিশেষ করে পাকিস্তানের প্রতি অবিশ্বাসের ইঙ্গিত রয়েছে কিনা? জবাবে তিনি বলেন, বাস্তবতা হলো— ভারতকে সব সময় শক্তিশালী ও প্রস্তুত থাকতে হবে এবং সরকার সেটিই করছে।

সাবেক সেনা সদস্যদের কল্যাণেও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানান তিনি। এ বছর তাদের স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচির জন্য ১২ হাজার কোটি রুপির বেশি বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা আগের তুলনায় ৪৫ শতাংশ বেশি।

প্রধানমন্ত্রী মোদি আরও বলেন, দীর্ঘদিনের দাবি ‘ওয়ান র‌্যাঙ্ক ওয়ান পেনশন’ বাস্তবায়ন করেছে এনডিএ সরকার। পাশাপাশি তিনি ইঙ্গিত দেন, অতীতে যারা দেশ শাসন করেছে, তাদের আমলে প্রতিরক্ষা খাতে একাধিক কেলেঙ্কারি হয়েছে।

তিনি জানান, বর্তমানে প্রতিরক্ষা খাতে বহু স্টার্টআপ কাজ করছে। ভারতীয় মেধা ও শিল্পকে সুযোগ দিয়ে বাহিনীকে আরও শক্তিশালী করাই সরকারের লক্ষ্য।