ঢাকা ০৭:০৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

ব্যাঙের বিষ দিয়ে বিরোধীদলীয় নেতাকে হত্যা করে রাশিয়া: গোয়েন্দা তথ্য

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক : 

রাশিয়ার বিরোধীদলীয় নেতা অ্যালেক্সেই নাভালনিকে ব্যাঙের বিষ (ডার্ট ব্যাঙ) দিয়ে হত্যা করা হয়েছিল। এতে জড়িত ছিল খোদ দেশটির প্রশাসন। যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, সুইডেন ও নেদারল্যান্ডসের যৌথ গোয়েন্দা তদন্তে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

গ্যাস খাতের সরকারি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ‘গ্যাজপ্রম’ এবং তেল খাতের সংস্থা ‘রসনেফট’-এর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ২০০৮ সালে আলোচনার জন্ম দেন নাভালনি। এর দুই বছর পর তিনি আইনজীবীদের নিয়ে ‘রসপিল’ নামে একটি দুর্নীতিবিরোধী প্রকল্প হাতে নেন। এই প্রকল্পটি সরকারি সংস্থা ও কোম্পানিগুলোর খরচের হিসাব বিশ্লেষণ করে অনিয়ম তুলে ধরতো। ২০১১ সালে তিনি ‘ফাউন্ডেশন ফর ফাইটিং করাপশন’ প্রতিষ্ঠা করেন। এটি রাশিয়ার উচ্চপদস্থ রাজনৈতিক মহলের দুর্নীতির তথ্য ফাঁস করে।

দুই বছর আগে সাইবেরিয়ার একটি কারাগারে মারা যান নাভালনি। দাফনের আগে তাঁর দেহ থেকে সংগ্রহ করা নমুনা পরীক্ষার জন্য দুটি দেশে পাঠানো হয়েছিল। তদন্তের বরাত দিয়ে যুক্তরাজ্য সরকার দাবি করেছে, বিষ প্রয়োগের ঘটনাটি অত্যন্ত ‘বর্বর’। রাসায়নিক অস্ত্র কনভেনশন লঙ্ঘনের দায়ে তারা রাশিয়ার বিরুদ্ধে রাসায়নিক অস্ত্র নিষেধ সংস্থার কাছে অভিযোগ করবে।

নমুনা পরীক্ষার মাধ্যমে দেখা গেছে, নাভালনির শরীরে ইকুয়েডরের ডার্ট ব্যাঙের চামড়ায় থাকা প্রাণঘাতী বিষ (এপিবাটিডিন) ছিল। গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বিবৃতিতে জানিয়েছে, সম্ভবত এর ফলেই তিনি মারা গেছেন। কারাগারে বন্দি থাকা নাভালনির শরীরে এই বিষ প্রয়োগের সামর্থ্য, উদ্দেশ্য এবং সুযোগ কেবল রুশ প্রশাসনেরই ছিল। ফলে মস্কোই এই মৃত্যুর জন্য দায়ী।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, এপিবাটিডিন প্রাকৃতিকভাবে দক্ষিণ আমেরিকার বন্য ডার্ট ব্যাঙের শরীরে পাওয়া যায়। বদ্ধ থাকা অবস্থায় ডার্ট ব্যাঙ এই বিষ তৈরি করে না। রাশিয়ার প্রকৃতিতেও এই ব্যাঙ পাওয়া যায় না।

এর আগেও নাভালনিকে বিষ প্রয়োগে হত্যার সন্দেহ করা হয়েছিল। এখন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর প্রতিবেদন ঘটনায় নতুন মোড় যোগ করল। নাভালনির স্ত্রী ইউলিয়া নাভালনাও গত বছরের সেপ্টেম্বরে জানিয়েছিলেন, ময়নাতদন্তের সময় শরীরে বিষের অস্তিত্বের প্রমাণ পাওয়া গিয়েছিল।

বিরোধীদের দমনে বিষকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ক্রেমলিনের দীর্ঘ ইতিহাস আছে। ২০০৬ সালে লন্ডনে তেজস্ক্রিয় পোলোনিয়াম প্রয়োগে আলেকজান্ডার লিটভিনেঙ্কোর মৃত্যু হয়। ২০১৮ সালে সলসবেরিতে সাবেক গোয়েন্দা সের্গেই স্ক্রিপালকে নার্ভ এজেন্ট প্রয়োগ করা হয়।

রাশিয়ার বার্তা সংস্থা তাস জানিয়েছে, নাভালনিকে হত্যার অভিযোগ সম্পর্কে মস্কোর প্রশাসন বলেছে এটি পশ্চিমা ‘প্রোপাগান্ডা’। রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা বলেছেন, ‘যখন পরীক্ষার ফলাফল হাতে আসবে এবং উপাদানগুলোর সংকেত প্রকাশ করা হবে, তখন আমরা মন্তব্য করব।’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

লক্ষ্মীপুর জেলা জামায়াতের আমির হলেন এ আর হাফিজ উল্লাহ

ব্যাঙের বিষ দিয়ে বিরোধীদলীয় নেতাকে হত্যা করে রাশিয়া: গোয়েন্দা তথ্য

আপডেট সময় ০৪:০০:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক : 

রাশিয়ার বিরোধীদলীয় নেতা অ্যালেক্সেই নাভালনিকে ব্যাঙের বিষ (ডার্ট ব্যাঙ) দিয়ে হত্যা করা হয়েছিল। এতে জড়িত ছিল খোদ দেশটির প্রশাসন। যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, সুইডেন ও নেদারল্যান্ডসের যৌথ গোয়েন্দা তদন্তে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

গ্যাস খাতের সরকারি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ‘গ্যাজপ্রম’ এবং তেল খাতের সংস্থা ‘রসনেফট’-এর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ২০০৮ সালে আলোচনার জন্ম দেন নাভালনি। এর দুই বছর পর তিনি আইনজীবীদের নিয়ে ‘রসপিল’ নামে একটি দুর্নীতিবিরোধী প্রকল্প হাতে নেন। এই প্রকল্পটি সরকারি সংস্থা ও কোম্পানিগুলোর খরচের হিসাব বিশ্লেষণ করে অনিয়ম তুলে ধরতো। ২০১১ সালে তিনি ‘ফাউন্ডেশন ফর ফাইটিং করাপশন’ প্রতিষ্ঠা করেন। এটি রাশিয়ার উচ্চপদস্থ রাজনৈতিক মহলের দুর্নীতির তথ্য ফাঁস করে।

দুই বছর আগে সাইবেরিয়ার একটি কারাগারে মারা যান নাভালনি। দাফনের আগে তাঁর দেহ থেকে সংগ্রহ করা নমুনা পরীক্ষার জন্য দুটি দেশে পাঠানো হয়েছিল। তদন্তের বরাত দিয়ে যুক্তরাজ্য সরকার দাবি করেছে, বিষ প্রয়োগের ঘটনাটি অত্যন্ত ‘বর্বর’। রাসায়নিক অস্ত্র কনভেনশন লঙ্ঘনের দায়ে তারা রাশিয়ার বিরুদ্ধে রাসায়নিক অস্ত্র নিষেধ সংস্থার কাছে অভিযোগ করবে।

নমুনা পরীক্ষার মাধ্যমে দেখা গেছে, নাভালনির শরীরে ইকুয়েডরের ডার্ট ব্যাঙের চামড়ায় থাকা প্রাণঘাতী বিষ (এপিবাটিডিন) ছিল। গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বিবৃতিতে জানিয়েছে, সম্ভবত এর ফলেই তিনি মারা গেছেন। কারাগারে বন্দি থাকা নাভালনির শরীরে এই বিষ প্রয়োগের সামর্থ্য, উদ্দেশ্য এবং সুযোগ কেবল রুশ প্রশাসনেরই ছিল। ফলে মস্কোই এই মৃত্যুর জন্য দায়ী।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, এপিবাটিডিন প্রাকৃতিকভাবে দক্ষিণ আমেরিকার বন্য ডার্ট ব্যাঙের শরীরে পাওয়া যায়। বদ্ধ থাকা অবস্থায় ডার্ট ব্যাঙ এই বিষ তৈরি করে না। রাশিয়ার প্রকৃতিতেও এই ব্যাঙ পাওয়া যায় না।

এর আগেও নাভালনিকে বিষ প্রয়োগে হত্যার সন্দেহ করা হয়েছিল। এখন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর প্রতিবেদন ঘটনায় নতুন মোড় যোগ করল। নাভালনির স্ত্রী ইউলিয়া নাভালনাও গত বছরের সেপ্টেম্বরে জানিয়েছিলেন, ময়নাতদন্তের সময় শরীরে বিষের অস্তিত্বের প্রমাণ পাওয়া গিয়েছিল।

বিরোধীদের দমনে বিষকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ক্রেমলিনের দীর্ঘ ইতিহাস আছে। ২০০৬ সালে লন্ডনে তেজস্ক্রিয় পোলোনিয়াম প্রয়োগে আলেকজান্ডার লিটভিনেঙ্কোর মৃত্যু হয়। ২০১৮ সালে সলসবেরিতে সাবেক গোয়েন্দা সের্গেই স্ক্রিপালকে নার্ভ এজেন্ট প্রয়োগ করা হয়।

রাশিয়ার বার্তা সংস্থা তাস জানিয়েছে, নাভালনিকে হত্যার অভিযোগ সম্পর্কে মস্কোর প্রশাসন বলেছে এটি পশ্চিমা ‘প্রোপাগান্ডা’। রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা বলেছেন, ‘যখন পরীক্ষার ফলাফল হাতে আসবে এবং উপাদানগুলোর সংকেত প্রকাশ করা হবে, তখন আমরা মন্তব্য করব।’