ঢাকা ০৬:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

‘যুক্তরাষ্ট্রকে আমরা ভয় পাই না’:আব্বাস আরাগচি

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

ওয়াশিংটনের প্রচণ্ড চাপ সত্ত্বেও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অধিকার থেকে ইরান কখনোই পিছু হটবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।

ওমানে মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে বৈঠকের মাত্র দুদিন পর তেহরানে এক ফোরামে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এই কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেন। আরাগচি বলেন, ইরানের ওপর যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া হলেও তারা এই পথ থেকে সরবে না, কারণ কোনো বিদেশি শক্তির ইরানের আচরণ নির্ধারণ করে দেওয়ার অধিকার নেই।

ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে তাদের শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচি এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের জন্য ইরানকে ইতোমধ্যে অনেক চড়া মূল্য দিতে হয়েছে। উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন নৌবাহিনীর সাম্প্রতিক মোতায়েন এবং সামরিক শক্তি প্রদর্শন তেহরানকে মোটেও ভীত করতে পারছে না বলে তিনি মন্তব্য করেন। তার মতে, অঞ্চলের এই সামরিক উপস্থিতি ইরানের নীতি পরিবর্তনের ক্ষেত্রে কোনো প্রভাব ফেলবে না।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে একটি নতুন চুক্তিতে বাধ্য করতে বারবার সামরিক শক্তি ব্যবহারের হুমকি দিয়ে আসছেন। বিশেষ করে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনের প্রেক্ষাপটে ওই অঞ্চলে মার্কিন সেনা মোতায়েন বাড়ানো হয়েছে।

গত বছরের সংঘাতের আগে ইরান ৬০ শতাংশ পর্যন্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করেছিল, যা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির উপাদানের খুব কাছাকাছি। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) এর আগে সতর্ক করেছিল যে ইরানই একমাত্র রাষ্ট্র যারা পারমাণবিক বোমা না থাকা সত্ত্বেও এই উচ্চ মাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করছে।

অন্যদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও গত সপ্তাহে স্পষ্ট করেছেন যে, ইরানের সঙ্গে যেকোনো আলোচনায় কেবল পারমাণবিক ইস্যু নয়, বরং তাদের ব্যালেস্টিক মিসাইল কর্মসূচি, আঞ্চলিক প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়গুলোকেও গুরুত্ব দিতে হবে। ফলে তেহরানের এই অনড় অবস্থান এবং ওয়াশিংটনের বহুমুখী শর্তের কারণে দুই দেশের মধ্যকার উত্তেজনা আরও দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দ্বিতীয় পদ্মা-যমুনা সেতু ও পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

‘যুক্তরাষ্ট্রকে আমরা ভয় পাই না’:আব্বাস আরাগচি

আপডেট সময় ০৬:৪২:৩৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

ওয়াশিংটনের প্রচণ্ড চাপ সত্ত্বেও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অধিকার থেকে ইরান কখনোই পিছু হটবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।

ওমানে মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে বৈঠকের মাত্র দুদিন পর তেহরানে এক ফোরামে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এই কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেন। আরাগচি বলেন, ইরানের ওপর যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া হলেও তারা এই পথ থেকে সরবে না, কারণ কোনো বিদেশি শক্তির ইরানের আচরণ নির্ধারণ করে দেওয়ার অধিকার নেই।

ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে তাদের শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচি এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের জন্য ইরানকে ইতোমধ্যে অনেক চড়া মূল্য দিতে হয়েছে। উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন নৌবাহিনীর সাম্প্রতিক মোতায়েন এবং সামরিক শক্তি প্রদর্শন তেহরানকে মোটেও ভীত করতে পারছে না বলে তিনি মন্তব্য করেন। তার মতে, অঞ্চলের এই সামরিক উপস্থিতি ইরানের নীতি পরিবর্তনের ক্ষেত্রে কোনো প্রভাব ফেলবে না।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে একটি নতুন চুক্তিতে বাধ্য করতে বারবার সামরিক শক্তি ব্যবহারের হুমকি দিয়ে আসছেন। বিশেষ করে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনের প্রেক্ষাপটে ওই অঞ্চলে মার্কিন সেনা মোতায়েন বাড়ানো হয়েছে।

গত বছরের সংঘাতের আগে ইরান ৬০ শতাংশ পর্যন্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করেছিল, যা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির উপাদানের খুব কাছাকাছি। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) এর আগে সতর্ক করেছিল যে ইরানই একমাত্র রাষ্ট্র যারা পারমাণবিক বোমা না থাকা সত্ত্বেও এই উচ্চ মাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করছে।

অন্যদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও গত সপ্তাহে স্পষ্ট করেছেন যে, ইরানের সঙ্গে যেকোনো আলোচনায় কেবল পারমাণবিক ইস্যু নয়, বরং তাদের ব্যালেস্টিক মিসাইল কর্মসূচি, আঞ্চলিক প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়গুলোকেও গুরুত্ব দিতে হবে। ফলে তেহরানের এই অনড় অবস্থান এবং ওয়াশিংটনের বহুমুখী শর্তের কারণে দুই দেশের মধ্যকার উত্তেজনা আরও দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।