ঢাকা ০৮:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
যারা মা–বোনদের বোরখা খুলতে চায়, ক্ষমতায় গেলে তারা দেশকে বিবস্ত্র করবে: হাসনাত ‘যুক্তরাষ্ট্রকে আমরা ভয় পাই না’:আব্বাস আরাগচি শ্রমবাজারে সুনাম ধরে রাখতে সনদ জালিয়াতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থার নির্দেশ প্রধান উপদেষ্টার রাশিয়ায় ছুরিকাঘাতে ৪ ভারতীয় শিক্ষার্থী আহত নির্বাচনকে ম্যানিপুলেট করার চেষ্টা হচ্ছে : মির্জা আব্বাস এই সরকারের আমলে চট্টগ্রাম বন্দর ইজারা চুক্তি হচ্ছে না: বিডা চেয়ারম্যান নারীর নিরাপত্তার দায়িত্ব সব দলকে নিতে হবে : জাইমা রহমান ঢাকায় প্রচারে তারেক রহমান, এলাকার সন্তান হিসেবে চাইলেন ভোট যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি, শুল্ক আরও কমার আশা বাণিজ্য উপদেষ্টার ঢাকায় ৪০টি খেলার মাঠ করার প্রতিশ্রুতি তারেক রহমানের

যারা মা–বোনদের বোরখা খুলতে চায়, ক্ষমতায় গেলে তারা দেশকে বিবস্ত্র করবে: হাসনাত

আকাশ জাতীয় ডেস্ক :

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, ‘যারা আজ আমাদের মা–বোনদের হিজাব, বোরখা খুলে ফেলতে চায়, তারা ক্ষমতায় গেলে শুধু নারীদের নয়—পুরো বাংলাদেশকেই বিবস্ত্র করে ফেলব। একটি রাজনৈতিক শক্তি পরিকল্পিতভাবে দেশের নারীসমাজের সম্মান, নিরাপত্তা ও ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর আঘাত হানছে।’

আজ রোববার দুপুরে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর সরকারি কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য জোটের ‘ইনসাফের যাত্রা’ নামে জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে সিরাজগঞ্জ-৬ (শাহজাদপুর) আসনে ১১ দলীয় জোট সমর্থিত প্রার্থী এসএম সাইফ মোস্তাফিজের সমর্থনে এ জনসভার আয়োজন করা হয়। তিনি এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব।

হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘গত এক মাস ধরে একটি দল প্রকাশ্যেই আমাদের মা–বোনদের হিজাব, বোরখা ও শালীনতার বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছে। তারা ক্ষমতায় গেলে দেশের মা–বোনদের সম্মান ও নিরাপত্তা ভয়াবহ হুমকির মুখে পড়বে। শুধু তাই নয়, দেশ আবারও ঘুষ, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের রাজত্বে পরিণত হবে।’

ভোটকেন্দ্র দখলকারীদের হুঁশিয়ার করে তিনি বলেন, ‘যারা তরুণ প্রজন্মের বিরুদ্ধে গিয়ে ভোটকেন্দ্র দখলের প্রস্তুতি নিচ্ছেন—এবার সেই সুযোগ দেওয়া হবে না। যদি কেউ ভোটাধিকার হরণ করতে আসে আমাদের শরীরের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে হলেও তাদের প্রতিহত করা হবে। জনগণের ভোটাধিকার এবার নিশ্চিত করা হবে।’

এনসিপির এ নেতা আরও বলেন, ‘চব্বিশের গণআন্দোলনের মাধ্যমে আমরা ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান চেয়েছিলাম। বিচার বিভাগ, পুলিশ ও সিভিল প্রশাসনের সংস্কার চেয়েছিলাম। কিন্তু আজও তা হয়নি। যারা অতীতে ফ্যাসিস্ট সরকারের সঙ্গে আঁতাত করে দেশ লুটপাট করেছে, টাকা পাচার করেছে এবং নিজেদের পরিবারকে বিদেশে নিরাপদে রেখেছে—তারা আবারও ক্ষমতায় ফেরার ষড়যন্ত্র করছে। এই নির্বাচনেই তাদের ব্যালটের মাধ্যমে জনগণকে প্রত্যাখ্যান করতে হবে।’

তরুণ প্রজন্মকে উদ্দেশ করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘একটি পক্ষ তরুণদের ব্যর্থ প্রমাণ করতে উঠেপড়ে লেগেছে। ভারত চায় না তরুণ প্রজন্ম জিতুক, চায় না মিডিয়া মাফিয়ারা, চায় না টেন্ডারবাজ ও চাঁদাবাজরা। পুরনো বস্তাপচা রাজনীতিবিদরাও তরুণদের উত্থান চায় না। এই লড়াইয়ে তরুণদেরই নেতৃত্ব দিতে হবে।’

নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিরপেক্ষ থাকার আহ্বান জানিয়ে এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক প্রশাসনের উদ্দেশে বলেন, ‘বিগত তিনটি নির্বাচনে জনগণের ভোটাধিকার হরণ করা হয়েছে। দিনের ভোট রাতে দেওয়া হয়েছে, মৃত মানুষকে কবর থেকে তুলে এনে ভোট দেওয়া হয়েছে। এসব কর্মকাণ্ডের ফলে প্রশাসনের প্রতি জনগণের অনাস্থা তৈরি হয়েছে। সেই অনাস্থা দূর করে জনগণের কাতারে দাঁড়িয়ে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করুন—জনগণ আপনাদের নিরাপত্তার দায়িত্ব নেবে।’

গণমাধ্যমের ভূমিকার সমালোচনা করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘অনেক সাংবাদিক আমাদের কাছে এসে তাঁদের অসহায়ত্বের কথা বলেন। দালাল মালিকানাধীন মিডিয়া সত্য সংবাদ প্রচার করতে দেয় না। ৫ আগস্টের পর আমরা যখন মন্দির–মসজিদ পাহারা দিয়েছি, সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছি, তখন একটি গোষ্ঠী টেলিভিশন ও সরকারি প্রতিষ্ঠান দখল করে মিডিয়া মাফিয়াগিরি শুরু করেছে। দালালি পরিহার করে জনগণের পক্ষে সত্য সংবাদ প্রচারের আহ্বান জানাই।’

জনসভায় সভাপতিত্ব করেন শাহজাদপুর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মো. মিজানুর রহমান। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, ‘আমরা চাঁদাবাজি ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে চাই। এই নির্বাচন নির্ধারণ করবে—চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিবাজরা দেশ চালাবে, নাকি সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব দেশ পরিচালনা করবে। সরকার পতনের পর ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে এ পর্যন্ত বিএনপির ২০০ জন নির্মমভাবে খুন হয়েছেন। নেপথ্যে রয়েছে চাঁদাবাজি, দখল বাজি ও টেন্ডারবাজি। যাদের হাতে নিজেদের দলের লোকই নিরাপদ না তাদের হাতে দেশ, সীমানা ও মা বোনরা কতটুক নিরাপদ হবে।’

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এনসিপি প্রার্থী এসএম সাইফ মোস্তাফিজ বলেন, ‘টেন্ডারবাজ, বালুখেকো ও দুর্নীতিবাজদের শাহজাদপুরের জনগণ ভোটের মাধ্যমেই প্রত্যাখ্যান করবে—ইনশাআল্লাহ।’

এদিন জনসভায় জামায়াতে ইসলামী, খেলাফত মজলিসসহ ১১ দলীয় জোটের নেতারা বক্তব্য দেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

চিত্রনায়িকা পরীমনিকে হত্যার হুমকি

যারা মা–বোনদের বোরখা খুলতে চায়, ক্ষমতায় গেলে তারা দেশকে বিবস্ত্র করবে: হাসনাত

আপডেট সময় ০৬:৪৮:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক :

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, ‘যারা আজ আমাদের মা–বোনদের হিজাব, বোরখা খুলে ফেলতে চায়, তারা ক্ষমতায় গেলে শুধু নারীদের নয়—পুরো বাংলাদেশকেই বিবস্ত্র করে ফেলব। একটি রাজনৈতিক শক্তি পরিকল্পিতভাবে দেশের নারীসমাজের সম্মান, নিরাপত্তা ও ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর আঘাত হানছে।’

আজ রোববার দুপুরে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর সরকারি কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য জোটের ‘ইনসাফের যাত্রা’ নামে জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে সিরাজগঞ্জ-৬ (শাহজাদপুর) আসনে ১১ দলীয় জোট সমর্থিত প্রার্থী এসএম সাইফ মোস্তাফিজের সমর্থনে এ জনসভার আয়োজন করা হয়। তিনি এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব।

হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘গত এক মাস ধরে একটি দল প্রকাশ্যেই আমাদের মা–বোনদের হিজাব, বোরখা ও শালীনতার বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছে। তারা ক্ষমতায় গেলে দেশের মা–বোনদের সম্মান ও নিরাপত্তা ভয়াবহ হুমকির মুখে পড়বে। শুধু তাই নয়, দেশ আবারও ঘুষ, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের রাজত্বে পরিণত হবে।’

ভোটকেন্দ্র দখলকারীদের হুঁশিয়ার করে তিনি বলেন, ‘যারা তরুণ প্রজন্মের বিরুদ্ধে গিয়ে ভোটকেন্দ্র দখলের প্রস্তুতি নিচ্ছেন—এবার সেই সুযোগ দেওয়া হবে না। যদি কেউ ভোটাধিকার হরণ করতে আসে আমাদের শরীরের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে হলেও তাদের প্রতিহত করা হবে। জনগণের ভোটাধিকার এবার নিশ্চিত করা হবে।’

এনসিপির এ নেতা আরও বলেন, ‘চব্বিশের গণআন্দোলনের মাধ্যমে আমরা ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান চেয়েছিলাম। বিচার বিভাগ, পুলিশ ও সিভিল প্রশাসনের সংস্কার চেয়েছিলাম। কিন্তু আজও তা হয়নি। যারা অতীতে ফ্যাসিস্ট সরকারের সঙ্গে আঁতাত করে দেশ লুটপাট করেছে, টাকা পাচার করেছে এবং নিজেদের পরিবারকে বিদেশে নিরাপদে রেখেছে—তারা আবারও ক্ষমতায় ফেরার ষড়যন্ত্র করছে। এই নির্বাচনেই তাদের ব্যালটের মাধ্যমে জনগণকে প্রত্যাখ্যান করতে হবে।’

তরুণ প্রজন্মকে উদ্দেশ করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘একটি পক্ষ তরুণদের ব্যর্থ প্রমাণ করতে উঠেপড়ে লেগেছে। ভারত চায় না তরুণ প্রজন্ম জিতুক, চায় না মিডিয়া মাফিয়ারা, চায় না টেন্ডারবাজ ও চাঁদাবাজরা। পুরনো বস্তাপচা রাজনীতিবিদরাও তরুণদের উত্থান চায় না। এই লড়াইয়ে তরুণদেরই নেতৃত্ব দিতে হবে।’

নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিরপেক্ষ থাকার আহ্বান জানিয়ে এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক প্রশাসনের উদ্দেশে বলেন, ‘বিগত তিনটি নির্বাচনে জনগণের ভোটাধিকার হরণ করা হয়েছে। দিনের ভোট রাতে দেওয়া হয়েছে, মৃত মানুষকে কবর থেকে তুলে এনে ভোট দেওয়া হয়েছে। এসব কর্মকাণ্ডের ফলে প্রশাসনের প্রতি জনগণের অনাস্থা তৈরি হয়েছে। সেই অনাস্থা দূর করে জনগণের কাতারে দাঁড়িয়ে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করুন—জনগণ আপনাদের নিরাপত্তার দায়িত্ব নেবে।’

গণমাধ্যমের ভূমিকার সমালোচনা করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘অনেক সাংবাদিক আমাদের কাছে এসে তাঁদের অসহায়ত্বের কথা বলেন। দালাল মালিকানাধীন মিডিয়া সত্য সংবাদ প্রচার করতে দেয় না। ৫ আগস্টের পর আমরা যখন মন্দির–মসজিদ পাহারা দিয়েছি, সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছি, তখন একটি গোষ্ঠী টেলিভিশন ও সরকারি প্রতিষ্ঠান দখল করে মিডিয়া মাফিয়াগিরি শুরু করেছে। দালালি পরিহার করে জনগণের পক্ষে সত্য সংবাদ প্রচারের আহ্বান জানাই।’

জনসভায় সভাপতিত্ব করেন শাহজাদপুর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মো. মিজানুর রহমান। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, ‘আমরা চাঁদাবাজি ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে চাই। এই নির্বাচন নির্ধারণ করবে—চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিবাজরা দেশ চালাবে, নাকি সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব দেশ পরিচালনা করবে। সরকার পতনের পর ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে এ পর্যন্ত বিএনপির ২০০ জন নির্মমভাবে খুন হয়েছেন। নেপথ্যে রয়েছে চাঁদাবাজি, দখল বাজি ও টেন্ডারবাজি। যাদের হাতে নিজেদের দলের লোকই নিরাপদ না তাদের হাতে দেশ, সীমানা ও মা বোনরা কতটুক নিরাপদ হবে।’

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এনসিপি প্রার্থী এসএম সাইফ মোস্তাফিজ বলেন, ‘টেন্ডারবাজ, বালুখেকো ও দুর্নীতিবাজদের শাহজাদপুরের জনগণ ভোটের মাধ্যমেই প্রত্যাখ্যান করবে—ইনশাআল্লাহ।’

এদিন জনসভায় জামায়াতে ইসলামী, খেলাফত মজলিসসহ ১১ দলীয় জোটের নেতারা বক্তব্য দেন।