ঢাকা ০৪:২০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
‘যারা কেন্দ্র দখলের চিন্তা করছেন, তারা বাসা থেকে মা-বাবার দোয়া নিয়ে বের হইয়েন’:হাসনাত চট্টগ্রামের স্বপ্ন ভেঙে ফের চ্যাম্পিয়ন রাজশাহী ওয়ারিয়র্স অভিবাসন নীতি মেনে চলতে যুক্তরাষ্ট্রকে আহ্বান জাতিসংঘের দেশকে পুনর্নির্মাণ করতে হলে গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে : তারেক রহমান ‘একটি স্বার্থান্বেষী দল ইসলামী আন্দোলনকে ধোঁকা দিয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে’:রেজাউল করিম ছেলে এনসিপির প্রার্থী, বাবা ভোট চাইলেন ধানের শীষে পর্যাপ্ত খেলার মাঠের অভাবে তরুণ সমাজ বিপদগামী হচ্ছে : মির্জা আব্বাস বাংলাদেশি সন্দেহে ভারতে যুবককে পিটিয়ে হত্যা নতুন বিশ্ব ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হয়ে উঠছে তুরস্ক: এরদোগান জনগণ জেনে গেছে ‘হ্যা’ ভোট দেওয়া হলে দেশে স্বৈরাচার আর ফিরে আসবে না: প্রেস সচিব

আন্তর্জাতিক চাপেও অনড় মিয়ানমার

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর নির্যাতন অব্যাহত রয়েছে। গত ২৫ আগস্ট থেকে সেখানে সেনাবাহিনীর নতুন করে জাতিগত নিধন অভিযান শুরুর পর থেকে সাড়ে পাঁচ লাখের বেশি রোহিঙ্গা মুসলিম মিয়ানমার ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। হত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের মুখে বাস্তুচ্যুত এসব মানুষের বেশির ভাগই আশ্রয় নিয়েছে বাংলাদেশে। বিশ্বের সবচেয়ে নির্যাতিত ‘দেশহীন’ এই জনগোষ্ঠী এখন চরম মানবিক ও অস্তিত্ব সংকটের মুখে পড়েছে।

বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন বলেছে, মিয়ানমার সেনাবাহিনী নির্যাতন ও নৃশংসতা অতীতের যেকোন মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। বেছে বেছে রোহিঙ্গা পুরুষ ও কিশোরদের হত্যা করছে মিয়ানমারের সেনারা। জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে চারশোর বেশি রোহিঙ্গা মুসলিম অধ্যুষিত গ্রাম। জাতিসংঘ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত কয়েক হাজার রোহিঙ্গা সেনাবাহিনীর অভিযানে প্রাণ হারিয়েছে। দেশ ছেড়ে পালাতে গিয়েও নিহত ও আহত হয়েছে শত শত রোহিঙ্গা শিশু, নারী ও পুরুষ। রাখাইনে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর যে নিপীড়ন চলছে, তাকে ‘যেন এক জাতিগত নিধনের আদর্শ উদাহরণ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে জাতিসংঘ।

মিয়ানমারের সরকার রাখাইনে বন্দিদশায় থাকা রোহিঙ্গা মুসলিমদের কাছে কাউকে যেতে দিচ্ছে না। গণমাধ্যম, বিদেশি পর্যবেক্ষক, ত্রাণ সহায়তাকারী প্রতিষ্ঠান ও কর্মীদের প্রবেশাধিকার নেই রাখাইনে। জাতিসংঘের মানবিক ত্রাণ দপ্তরের প্রধান মার্ক লোকক বলেছেন, মিয়ানমারের এই নীতি অগ্রহণযোগ্য।

বর্তমান পরিস্থিতিতে জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা-সহ বিশ্বের শক্তিধর দেশ ও সংস্থা মিয়ানমারকে সেনা অভিযান বন্ধের আহবান জানিয়েছে। রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে ইতোমধ্যে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে তিন দফা বিতর্ক হয়েছে। তবে মিয়ানমারের প্রতি চীন ও রাশিয়ার পক্ষপাতমূলক অবস্থানের কারণে জাতিসংঘের সবচেয়ে শক্তিশালী এই পরিষদ বড় কোনো পদক্ষেপ বা অবরোধ আরোপ করতে পারেনি। নিন্দা ও আহবানের মধ্যেই তাদের পদক্ষেপ সীমাবদ্ধ রয়েছে। চলতি মাসে আবারো নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

তবে যুক্তরাষ্ট্র রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন ও দ্রুত বর্ধনশীল শরণার্থী সংকটের জন্য মিয়ানমার সেনাবাহিনীকে দায়ী করেছে। তারা মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য দায়ী মিয়ানমার সেনাবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে বিচারের মুখোমুখি করতে দেশটির প্রতি আহবান জানিয়েছে। একইসঙ্গে সেনাবাহিনীর কাছে অস্ত্র বিক্রি বন্ধের জন্য সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর প্রতি আহবান জানিয়েছে।

ইতোমধ্যে ব্রিটেন মিয়ানমারের সেনাবাহিনীকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার কর্মসূচি স্থগিত করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন তাদের একটি বিনিয়োগ ও বাণিজ্য বিষয়ক প্রতিনিধি দলের মিয়ানমার সফর স্থগিত করেছে। ব্রিটিশ যুবরাজ চার্লস মিয়ানমার সফর বাতিলের ঘোষণা দিয়েছেন। বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে দাবি করা হয়েছে, রাখাইনে সংকট শুরুর পর বিদেশি বাণিজ্য ও বিনিয়োগ নিয়ে ক্ষতির মুখে পড়েছে মিয়ানমার।

সর্বশেষ যুক্তরাষ্ট্রের হাউস কমিটি অন ফরেন অ্যাফেয়ার্স-এ এক শুনানিতে বলা হয়েছে, মিয়ানমারকে রোহিঙ্গামুক্ত করার সুস্পষ্ট মিশনে নেমেছে দেশটির সেনাবাহিনী। এজন্য সেখানে নতুন করে টার্গেটেড বা সুনির্দিষ্ট অবরোধ আরোপ করা উচিত।
শুনানিতে বলা হয়, মিয়ানমার সেনাবাহিনীকে দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু মিয়ানমারের সেনাবাহিনী নিরপরাধ মানুষের বিরুদ্ধে সহিংসতা চালিয়ে যাচ্ছে। তাই যুক্তরাষ্ট্রের উচিত টার্গেটেড অবরোধের নীতি পুনর্বিবেচনা করা।

বিশ্বের প্রভাবশালী মানবাধিকার সংগঠন, দেশ, সংস্থার আহবান কোনো কাজে আসছে না। অব্যাহত আন্তর্জাতিক আহবান ও চাপ স্বত্ত্বেও মিয়ানমার সরকারের পক্ষ থেকে কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। বরং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংগঠন ও বিশ্ব সম্প্রদায়ের সতর্কতা উপেক্ষা করে মিয়ানমার সরকার ও সেনাবাহিনী তাদের ‘জাতিগত শুদ্ধি’ এর নীতিতে অনড় রয়েছে।

রাখাইনে অব্যাহত সহিংসতা ও নিপীড়ন বন্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় সু চিকে পদক্ষেপ নেওয়ার আহবান জানিয়ে আসছে। কিন্তু বিশ্ব সম্প্রদায়ের আহবান স্বত্ত্বেও নিরব ভূমিকা পালন করছেন সু চি। ইতোমধ্যে তিনি রাষ্ট্রীয় ভাষণে যেসব দাবি করেছেন তা বিভ্রান্তিকর ও মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। তিনি যেসব অঙ্গীকার করেছেন তার কোনো প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

লিবিয়াস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে ই-পাসপোর্ট সেবা উদ্বোধন

আন্তর্জাতিক চাপেও অনড় মিয়ানমার

আপডেট সময় ০১:১২:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ অক্টোবর ২০১৭

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর নির্যাতন অব্যাহত রয়েছে। গত ২৫ আগস্ট থেকে সেখানে সেনাবাহিনীর নতুন করে জাতিগত নিধন অভিযান শুরুর পর থেকে সাড়ে পাঁচ লাখের বেশি রোহিঙ্গা মুসলিম মিয়ানমার ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। হত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের মুখে বাস্তুচ্যুত এসব মানুষের বেশির ভাগই আশ্রয় নিয়েছে বাংলাদেশে। বিশ্বের সবচেয়ে নির্যাতিত ‘দেশহীন’ এই জনগোষ্ঠী এখন চরম মানবিক ও অস্তিত্ব সংকটের মুখে পড়েছে।

বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন বলেছে, মিয়ানমার সেনাবাহিনী নির্যাতন ও নৃশংসতা অতীতের যেকোন মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। বেছে বেছে রোহিঙ্গা পুরুষ ও কিশোরদের হত্যা করছে মিয়ানমারের সেনারা। জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে চারশোর বেশি রোহিঙ্গা মুসলিম অধ্যুষিত গ্রাম। জাতিসংঘ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত কয়েক হাজার রোহিঙ্গা সেনাবাহিনীর অভিযানে প্রাণ হারিয়েছে। দেশ ছেড়ে পালাতে গিয়েও নিহত ও আহত হয়েছে শত শত রোহিঙ্গা শিশু, নারী ও পুরুষ। রাখাইনে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর যে নিপীড়ন চলছে, তাকে ‘যেন এক জাতিগত নিধনের আদর্শ উদাহরণ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে জাতিসংঘ।

মিয়ানমারের সরকার রাখাইনে বন্দিদশায় থাকা রোহিঙ্গা মুসলিমদের কাছে কাউকে যেতে দিচ্ছে না। গণমাধ্যম, বিদেশি পর্যবেক্ষক, ত্রাণ সহায়তাকারী প্রতিষ্ঠান ও কর্মীদের প্রবেশাধিকার নেই রাখাইনে। জাতিসংঘের মানবিক ত্রাণ দপ্তরের প্রধান মার্ক লোকক বলেছেন, মিয়ানমারের এই নীতি অগ্রহণযোগ্য।

বর্তমান পরিস্থিতিতে জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা-সহ বিশ্বের শক্তিধর দেশ ও সংস্থা মিয়ানমারকে সেনা অভিযান বন্ধের আহবান জানিয়েছে। রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে ইতোমধ্যে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে তিন দফা বিতর্ক হয়েছে। তবে মিয়ানমারের প্রতি চীন ও রাশিয়ার পক্ষপাতমূলক অবস্থানের কারণে জাতিসংঘের সবচেয়ে শক্তিশালী এই পরিষদ বড় কোনো পদক্ষেপ বা অবরোধ আরোপ করতে পারেনি। নিন্দা ও আহবানের মধ্যেই তাদের পদক্ষেপ সীমাবদ্ধ রয়েছে। চলতি মাসে আবারো নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

তবে যুক্তরাষ্ট্র রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন ও দ্রুত বর্ধনশীল শরণার্থী সংকটের জন্য মিয়ানমার সেনাবাহিনীকে দায়ী করেছে। তারা মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য দায়ী মিয়ানমার সেনাবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে বিচারের মুখোমুখি করতে দেশটির প্রতি আহবান জানিয়েছে। একইসঙ্গে সেনাবাহিনীর কাছে অস্ত্র বিক্রি বন্ধের জন্য সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর প্রতি আহবান জানিয়েছে।

ইতোমধ্যে ব্রিটেন মিয়ানমারের সেনাবাহিনীকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার কর্মসূচি স্থগিত করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন তাদের একটি বিনিয়োগ ও বাণিজ্য বিষয়ক প্রতিনিধি দলের মিয়ানমার সফর স্থগিত করেছে। ব্রিটিশ যুবরাজ চার্লস মিয়ানমার সফর বাতিলের ঘোষণা দিয়েছেন। বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে দাবি করা হয়েছে, রাখাইনে সংকট শুরুর পর বিদেশি বাণিজ্য ও বিনিয়োগ নিয়ে ক্ষতির মুখে পড়েছে মিয়ানমার।

সর্বশেষ যুক্তরাষ্ট্রের হাউস কমিটি অন ফরেন অ্যাফেয়ার্স-এ এক শুনানিতে বলা হয়েছে, মিয়ানমারকে রোহিঙ্গামুক্ত করার সুস্পষ্ট মিশনে নেমেছে দেশটির সেনাবাহিনী। এজন্য সেখানে নতুন করে টার্গেটেড বা সুনির্দিষ্ট অবরোধ আরোপ করা উচিত।
শুনানিতে বলা হয়, মিয়ানমার সেনাবাহিনীকে দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু মিয়ানমারের সেনাবাহিনী নিরপরাধ মানুষের বিরুদ্ধে সহিংসতা চালিয়ে যাচ্ছে। তাই যুক্তরাষ্ট্রের উচিত টার্গেটেড অবরোধের নীতি পুনর্বিবেচনা করা।

বিশ্বের প্রভাবশালী মানবাধিকার সংগঠন, দেশ, সংস্থার আহবান কোনো কাজে আসছে না। অব্যাহত আন্তর্জাতিক আহবান ও চাপ স্বত্ত্বেও মিয়ানমার সরকারের পক্ষ থেকে কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। বরং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংগঠন ও বিশ্ব সম্প্রদায়ের সতর্কতা উপেক্ষা করে মিয়ানমার সরকার ও সেনাবাহিনী তাদের ‘জাতিগত শুদ্ধি’ এর নীতিতে অনড় রয়েছে।

রাখাইনে অব্যাহত সহিংসতা ও নিপীড়ন বন্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় সু চিকে পদক্ষেপ নেওয়ার আহবান জানিয়ে আসছে। কিন্তু বিশ্ব সম্প্রদায়ের আহবান স্বত্ত্বেও নিরব ভূমিকা পালন করছেন সু চি। ইতোমধ্যে তিনি রাষ্ট্রীয় ভাষণে যেসব দাবি করেছেন তা বিভ্রান্তিকর ও মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। তিনি যেসব অঙ্গীকার করেছেন তার কোনো প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না।