ঢাকা ১২:১৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বিএনপির আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে: সাইফুল হক হুইলচেয়ারে বসে দীপু মনিকে দেখতে ট্রাইব্যুনালে এলেন স্বামী বৈষম্যবিরোধী ছাত্রনেতার মাদক সেবনের ছবি ভাইরাল এটা আমি-ডামির সরকার না, কাদেরকে নিশ্চিহ্ন করতে চান: সংসদে টুকু হিজবুল্লাহর কর্মকাণ্ডে ‘অর্থহীন’ হয়ে পড়ছে যুদ্ধবিরতি, দাবি নেতানিয়াহুর শান্তি চাইলে সরাসরি যোগাযোগ করুক তেহরান: ট্রাম্প আমার বাবাকে মিথ্যা মামলায় হত্যা করা হয়, সে কারণেই আমি আজ সংসদে ১৮ মাস যে আরামে ছিলেন, সে আরাম এখন হচ্ছে না: বিরোধী দলকে প্রতিমন্ত্রী আইভীকে নতুন মামলায় গ্রেফতার-হয়রানি না করার নির্দেশ জামায়াতের এমপিকে মসজিদে হত্যাচেষ্টা, সংসদে চাইলেন নিরাপত্তা

খুব মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন মালয়েশিয়ায় বন্দী বাংলাদেশিরা

অাকাশ নিউজ ডেস্ক:

মালয়েশিয়ার বিভিন্ন বন্দী শিবির ও কারাগারে ৪ হাজারের বেশি বাংলাদেশি মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন বলে হাই কমিশন সূত্রে জানা গেছে। দেশটির ১২টি বন্দী শিবিরেই ১ হাজার ৭২৩ জন আর বিভিন্ন কারাগারে সাজা ভোগ করছেন ১ হাজার ৯২৭ জন বাংলাদেশি।

সূত্র জানায়, সিমুনিয়া ক্যাম্পে ১৩২, লেঙ্গিং ক্যাম্পে ২৩৬, লাঙ্গ ক্যাম্পে ২৫০, জুরুত ক্যাম্পে ৫৬, তানাহ মেরায় ক্যাম্পে ৪৮, মাচাপ উম্বু ক্যাম্পে ১৭৯, পেকা নানাস ক্যাম্পে ১২০, আজিল ক্যাম্পে ১২৬, কেএলআইএ সেপাং ডিপো ক্যাম্পে ৮১, ব্লান্তিক ক্যাম্পে ১১৩, বুকিত জলিল ক্যাম্পে ২৩৪ ও পুত্রজায়া ক্যাম্পে ১৮০ জন বাংলাদেশি আটক আছেন।

মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন পুলিশের উপ-সহকারী পরিচালক জোসামি মাস্তান বলেন, বিভিন্ন কারাগার ও ক্যাম্পে যারা আটক আছেন, তাদের বেশির ভাগই অবৈধভাবে মালয়েশিয়ায় প্রবেশ কিংবা অবৈধভাবে থাকার কারণে গ্রেফতার হয়েছেন। আটকদের বিরুদ্ধে মালয়েশিয়ার অভিবাসন আইন, ১৯৫৯-এর ধারা ৬(১) সি/১৫ (১) সি এবং পাসপোর্ট আইন, ১৯৬৬-এর ১২(১) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

সাজা খেটে দেশে ফেরা বাংলাদেশিদের অনেকে অভিযোগ করেছেন, ক্যাম্পগুলোতে প্রায়ই বাংলাদেশিদের ওপর নির্যাতন করা হয়। এমনকি কেউ কেউ ক্যাম্পেও মারা যান। অনেক সময় ঠিকমতো খাবার দেয়া হয় না।

দীর্ঘদিন জেলে বা ক্যাম্পে থাকলেও হাই কমিশনের পক্ষ থেকে তাদের দেশে ফেরত নেয়ার কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি বলেও জানান তারা।

এদিকে হাই কমিশনের কাউন্সিলার (শ্রম) সায়েদুল ইসলাম জানান, বন্দী শিবিরে যারা আটক রয়েছেন তাদেরকে দ্রুত দেশে পাঠানোর সবরকম ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এর মধ্যে দূতাবাসের শ্রম শাখার সচিবরা প্রত্যেকটি বন্দী শিবির পরিদর্শন করে বাংলাদেশিদের শনাক্ত করে পর্যায়ক্রমে তাদের দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করেছেন।

জহুর প্রদেশ বাংলাদেশি কমিউনিটির সভাপতি তরিকুল ইসলাম রবিন, সহ-সভাপতি ফাহিম, সাংগঠনিক সম্পাদক তরিকুল ইসলাম আমিন সোমবার এ প্রতিবেদককে বলেন, জহুর কমিউনিটি প্রবাসীদের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে। জহুর বারু পেকানানাস বন্দী শিবিরে যেসব বাংলাদেশি বন্দী টাকার অভাবে দেশে যেতে পারছেন না তাদের মধ্যে ৭০ জনকে হাই কমিশনের মাধ্যমে দেশে পাঠানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। কিছুদিনের মধ্যেই তাদের দেশে পাঠানো হবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

বিএনপির আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে: সাইফুল হক

খুব মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন মালয়েশিয়ায় বন্দী বাংলাদেশিরা

আপডেট সময় ১১:০৫:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ অক্টোবর ২০১৭

অাকাশ নিউজ ডেস্ক:

মালয়েশিয়ার বিভিন্ন বন্দী শিবির ও কারাগারে ৪ হাজারের বেশি বাংলাদেশি মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন বলে হাই কমিশন সূত্রে জানা গেছে। দেশটির ১২টি বন্দী শিবিরেই ১ হাজার ৭২৩ জন আর বিভিন্ন কারাগারে সাজা ভোগ করছেন ১ হাজার ৯২৭ জন বাংলাদেশি।

সূত্র জানায়, সিমুনিয়া ক্যাম্পে ১৩২, লেঙ্গিং ক্যাম্পে ২৩৬, লাঙ্গ ক্যাম্পে ২৫০, জুরুত ক্যাম্পে ৫৬, তানাহ মেরায় ক্যাম্পে ৪৮, মাচাপ উম্বু ক্যাম্পে ১৭৯, পেকা নানাস ক্যাম্পে ১২০, আজিল ক্যাম্পে ১২৬, কেএলআইএ সেপাং ডিপো ক্যাম্পে ৮১, ব্লান্তিক ক্যাম্পে ১১৩, বুকিত জলিল ক্যাম্পে ২৩৪ ও পুত্রজায়া ক্যাম্পে ১৮০ জন বাংলাদেশি আটক আছেন।

মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন পুলিশের উপ-সহকারী পরিচালক জোসামি মাস্তান বলেন, বিভিন্ন কারাগার ও ক্যাম্পে যারা আটক আছেন, তাদের বেশির ভাগই অবৈধভাবে মালয়েশিয়ায় প্রবেশ কিংবা অবৈধভাবে থাকার কারণে গ্রেফতার হয়েছেন। আটকদের বিরুদ্ধে মালয়েশিয়ার অভিবাসন আইন, ১৯৫৯-এর ধারা ৬(১) সি/১৫ (১) সি এবং পাসপোর্ট আইন, ১৯৬৬-এর ১২(১) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

সাজা খেটে দেশে ফেরা বাংলাদেশিদের অনেকে অভিযোগ করেছেন, ক্যাম্পগুলোতে প্রায়ই বাংলাদেশিদের ওপর নির্যাতন করা হয়। এমনকি কেউ কেউ ক্যাম্পেও মারা যান। অনেক সময় ঠিকমতো খাবার দেয়া হয় না।

দীর্ঘদিন জেলে বা ক্যাম্পে থাকলেও হাই কমিশনের পক্ষ থেকে তাদের দেশে ফেরত নেয়ার কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি বলেও জানান তারা।

এদিকে হাই কমিশনের কাউন্সিলার (শ্রম) সায়েদুল ইসলাম জানান, বন্দী শিবিরে যারা আটক রয়েছেন তাদেরকে দ্রুত দেশে পাঠানোর সবরকম ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এর মধ্যে দূতাবাসের শ্রম শাখার সচিবরা প্রত্যেকটি বন্দী শিবির পরিদর্শন করে বাংলাদেশিদের শনাক্ত করে পর্যায়ক্রমে তাদের দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করেছেন।

জহুর প্রদেশ বাংলাদেশি কমিউনিটির সভাপতি তরিকুল ইসলাম রবিন, সহ-সভাপতি ফাহিম, সাংগঠনিক সম্পাদক তরিকুল ইসলাম আমিন সোমবার এ প্রতিবেদককে বলেন, জহুর কমিউনিটি প্রবাসীদের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে। জহুর বারু পেকানানাস বন্দী শিবিরে যেসব বাংলাদেশি বন্দী টাকার অভাবে দেশে যেতে পারছেন না তাদের মধ্যে ৭০ জনকে হাই কমিশনের মাধ্যমে দেশে পাঠানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। কিছুদিনের মধ্যেই তাদের দেশে পাঠানো হবে।