অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
প্রধান বিচারপতির দায়িত্বপ্রাপ্ত মো. আবদুল ওয়াহহাব মিঞা বলেছেন, প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা তার বাসায় আছেন এবং এ বিষয়ে তিনি নিশ্চিত। সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি জয়নুল আবেদীনসহ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী বৃহস্পতিবার বিচারপতি সিনহার অবস্থা জানতে চেয়ে মৌখিক আবেদন করতে গেলে বিচারপতি ওয়াহহাব মিঞা তাদের এ কথা বলেন।
ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় নিয়ে ক্ষমতাসীনদের তোপের মুখে থাকা প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা গত মঙ্গলবার থেকে এক মাসের ছুটিতে যাওয়ায় গত কয়েক দিন ধরে চলছে নানামুখী আলোচনা। সরকার প্রধান বিচারপতিকে চাপ দিয়ে ছুটিয়ে পাঠিয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে বিএনপি।
অন্যদিকে রাষ্ট্রপতির কাছে লেখা প্রধান বিচারপতির ছুটির আবেদনে অসুস্থতার কথা লেখা থাকার বিষয়টি দেখিয়ে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, এই ছুটির সঙ্গে রায়ের কোনো সম্পর্ক নেই, চাপেরও কোনো বিষয় নেই। ২০১৫ সালের ১৭ জানুয়ারি প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পাওয়া বিচারপতি সিনহার চাকরির মেয়াদ রয়েছে আগামী ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত। তিনি ছুটিতে যাওয়ায় রাষ্ট্রপতি সংবিধান অনুযায়ী প্রধান বিচারপতির কার্যভার দিয়েছেন আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি আবদুল ওয়াহহাব মিঞাকে।
বুধবার বিকালে ৩৮ জন জ্যেষ্ঠ আইনজীবীর সঙ্গে বৈঠক করে বিএনপি সমর্থকদের নিয়ন্ত্রণে থাকা সুপ্রিম কোর্ট আইনবীজী সমিতি সিদ্ধান্ত নেয়, বিচারপতি সিনহার অবস্থা জানতে সহযোগিতা ও দিক-নির্দেশনা চেয়ে তারা আপিল বিভাগের শরণাপন্ন হবেন। এছাড়া সাবেক বিচারপতি খাদেমুল ইসলাম চৌধুরীর নেতত্বে একটি প্রতিনিধি দল প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করারও জন্য চেষ্টা করবেন।
সে অনুযায়ী বৃহস্পতিবার সকালে আদালত বসার পর বারের সভাপতি জয়নুল আবেদীন, সাবেক সভাপতি খন্দকার মাহবুব হোসেন, ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন, সাবেক আইনমন্ত্রী মওদুদ আহমদসহ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আপিল বিভাগের এক নম্বর আদালতে যান। জয়নুল আবেদীন তাদের লিখিত আবেদন পড়তে শুরু করলে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহহাব মিঞা তাকে থামিয়ে দিয়ে বলেন, “আমি নিশ্চিত, প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা তার বাসভবনে আছেন।”
বারের সভাপতি এ সময় তার পুরো আবেদনটি পড়ার অনুমতি চাইলে বিচারপতি ওয়াহহাব মিঞা জানতে চান, এই প্রক্রিয়া ১০৩ অনুচ্ছেদের মধ্যে পড়ে কি না। জয়নুল আবেদীন এ সময় বলেন, “সেটা পরে। আমরা একটা আবেদন নিয়ে আসছি, সেটা আগে পড়ি।”
বিচারপতি ওয়াহহাব মিঞা এ সময় বলেন, “আমি কিন্তু প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালন করছি। আমি নিশ্চিত, তিনি তার বাসভবনে আছেন। তিনি কার সঙ্গে দেখা করবেন কি করবেন না, এটা তার নিজস্ব ব্যাপার।” এরপর জয়রুল আবেদীন তার এক পৃষ্ঠার লিখিত আবেদন পড়ে শোনান।
পরে বেরিয়ে এসে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, বিকাল ৪টায় সমিতির কার্যালয়ে জ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের সঙ্গে আবারও বসবেন তারা।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 



















