সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচার প্রতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক ভারতে পালানোর সময় সিলেটের কানাইঘাট সীমান্ত থেকে বিজিবির হাতে আটক হয়েছে। শুক্রবার ২৩ শে আগস্ট রাত ১১ঃ২০ মিনিটে তাকে আটক করা হয়।
বিজিবি গণসংযোগ কর্মকর্তা তার আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তিনি জানান শুক্রবার রাতে ভারতের পথে যাওয়ার সময় বিজিবির হাতে আটক হন বিচারপতি মানিক।
গত পাঁচ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে অনেক সিনিয়র নেতাকর্মীদের মতন আত্মগোপনে চলে যায় বিচারপতি মানিক। গত বৃহস্পতিবার বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয়।
গত বৃহস্পতিবার মোঃ জিয়াউল হক নামে এক আইনজীবী মহানগর হাকিম সাইফুল ইসলামের আদালতে এই মামলাটি দায়ের করেন। এই মামলায় বিচারপতি মানিকের সাথে আরো আসামি করা হয়েছে ওয়ার্কারস পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন ও জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনুকেও। এই মামলায় মোঃ জিয়াউল হক বিবাদীদের কাছে ৩০০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন। আদালত পিপিআইকে তদন্ত শেষ করে এর একটি প্রতিবেদন দিতে বলেছে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়ে, শামসুদ্দিন মানিক ২০২২ সালের ৩ অক্টোবর চ্যানেল আইয়ের একটি আলোচনা অনুষ্ঠানে মেজর জিয়াউর রহমানকে রাজাকার ও যুদ্ধাপরাধী হিসেবে আখ্যা দেন। এছাড়াও গত ১৫ই ফেব্রুয়ারি একটি সেমিনারে তিনি জিয়াউর রহমানকে মুক্তিযুদ্ধে অনুপ্রবেশকারী বলে দাবি করেন। এছাড়া জাতীয়তাবাদী কৃষকদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক রবিউল ইসলাম পলাশ গত ১৯শে আগস্ট নোয়াখালীতে তার বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা দায়ের করেছেন। সেই মামলাতেও জিয়াউর রহমান সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগ করা হয় তার বিরুদ্ধে।
তাছাড়া আওয়ামী লীগ সরকার পতনের আগে কোটাবিরোধী আন্দোলনে একটি টেলিভিশন চ্যানেল টকশোতে তিনি মেজাজ হারিয়ে উপস্থাপিকার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন। তারি আচরণের ভিডিওটি পড়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে ওঠে।
এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক আপিল বিভাগের বিচারপতি ছিলেন। ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে তিনি অবসরে যান। এরপর বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও টেলিভিশন টক শোতে কথা বলতেন তিনি।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 





















