অাকাশ নিউজ ডেস্ক:
চীনের জিনজিয়াং প্রদেশের প্রশাসন উইঘুর মুসলিমদের নির্দেশ দিয়েছে তারা যেন তাদের কাছে থাকা পবিত্র কুরআনের সব কপি, জায়নামাজ, তসবিহসহ সব ইসলামিক সরঞ্জাম পুলিশের কাছে জমা দেয়। অন্যথায় কঠোর শাস্তি পেতে হবে উইঘুর মুসলিমদেরকে। শুধু আদেশ জারি করাই নয়, জিনজিয়াং প্রদেশের পুলিশ ও কর্মকর্তারা গ্রামে-গঞ্জ এবং শহরে- সব জায়গায় তল্লাশি চালাচ্ছে। পুরো সম্প্র্রদায়ের কাছ থেকে পবিত্র কুরআন ও জায়নামাজ বাজেয়াপ্ত করা হচ্ছে বলে বিভিন্ন খবরে জানা যাচ্ছে।
চীনা কর্তৃপক্ষের এই নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে চেলসির সাবেক ও সেনেগালের জাতীয় দলের তারকা ফুটবলার ডেম্বা বা টুইটারে দারুণ এক জবাব দিয়েছেন। যে জবাব রিটুইট হয়েছে প্রায় ৩৭ হাজার। লাইক করেছেন ৩০ হাজারের বেশি। বেশির ভাগই সাহসী মন্তব্যের জন্য ডেম্বা বাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। সেনেগালের এই ফুটবলার এখন আবার খেলছেন- চীনের ফুটবল লিগের ক্লাব সাংহাই সেনহুয়ায়। যদিও এখন লোনে খেলছেন তুর্কি ক্লাব বেসিকতাসে।
ডেম্বা বা টুইটারেই লিখেছেন, ‘যদি তারা জানত যে, মুসলিমরা মেঝেতেই নামাজ পড়তে পারে এবং লাখ লাখ মুসলিম কুরআন না খুলেই মুখস্ত পড়তে পারে তাহলে সম্ভবত তারা (চাইনিজরা) তাদেরকে (মুসলিম) হৃৎপিণ্ড খুলে তাদের কাছে হস্তান্তর করার আদেশ দিতো। ’
রোহিঙ্গা মুসলিমদের সহায়তায় মিয়ানমারের বিরুদ্ধে মুসলমানদের অ্যাকশন নেয়ারও আহ্বান জানিয়েছিলেন সেনেগালিজ এই ফুটবলার। পবিত্র হজ পালন শেষে আনাদোলু নিউজ এজেন্সির সাথে কথার বলার সময় ডেম্বা বলেন, শুধু মুসলমানই নয়, সারা বিশ্বেরই এখন দায়িত্ব মিয়ানমারের বিরুদ্ধে অ্যাকশনে যাওয়ার। কারণ, মিয়ানমার মানবতার বিরুদ্ধে জঘন্য অপরাধ করে যাচ্ছে। নায়রাল্যান্ড ডট কম।
চীনে ঘরে কুরআন রাখতে নিষেধাজ্ঞা
চীনের জিনজিয়াং প্রদেশে মুসলিমদের ঘরে থাকা কুরআন ও জায়নামাজসহ সব ধর্মীয় সামগ্রী সরকারের কাছে জমা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। যথাসময়ে নির্দেশ পালন না করলে শাস্তি দেয়ারও ঘোষণা করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
জিনজিয়াংয়ের এক নির্বাসিত মুসলিম জানিয়েছেন, প্রদেশটির উইঘুর মুসলিমদের জন্য ধর্মীয় সামগ্রী সরকারের কাছে হস্তান্তর করার বাধ্যবাধকতা আরোপ করেছে কর্তৃপক্ষ। এর ব্যত্যয় হলে দেয়া হবে ‘কঠোর শাস্তি’।
দিলজাত রাজিত নামে নির্বাসিত উইঘুর মুসলিমদের সংগঠন ওয়ার্ল্ড উইঘুর কংগ্রেসের ওই নেতা রেডিও ফ্রি এশিয়াকে বলেন, ‘আমরা এমন একটি নোটিশ পেয়েছি যাতে বলা হয়েছে, প্রত্যেক মুসলিমের ঘরে থাকা ধর্মীয় সামগ্রী অবশ্যই কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিতে হবে।’ ওই অঞ্চলের জাতিগত কাজাখ ও কিরগিজ মুসলিমদেরও একই নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে রেডিও চ্যানেলটি। চীনের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম উইচ্যাটের মাধ্যমে সরকারের এই নির্দেশনা প্রচার করা হয়েছে।
চীনে সংখ্যালঘু মুসলিমদের ওপর সরকার ও কমিউনিস্ট পার্টির নিপীড়ন নতুন কিছু নয়। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল তাদের চীনবিষয়ক ২০১৬ ও ২০১৭ সালের হালনাগাদকৃত তথ্যে বলেছে, দেশটিতে ধর্মীয় স্বাধীনতা হরণ অব্যাহত রয়েছে এবং অনুমতিবিহীন সব ধরনের ধর্মীয় আয়োজনের ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। অনেক উইঘুর লেখককেও আটক করা হয়েছে দেশটিতে।
চীনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় জিনজিয়াং প্রদেশে ২০০৯ সালে উইঘুর মুসলিমদের ওপর ব্যাপক সহিংসতা চালায় চীনা হান সম্প্রদায়। ওই ঘটনায় কয়েক শ’ মুসলিম নিহত হন। অনেকেই দেশ ছাড়েন নির্যাতনের ভয়ে। এ ছাড়া বিদ্রোহী সংগঠন রয়েছে এমন অজুহাতে অঞ্চলটিতে চীনা সেনাবাহিনীর অভিযানে গত কয়েক বছরে নিহত হয়েছেন অনেক উইঘুর মুসলিম।
চীনের অস্বীকার
এ দিকে মুসলিমদের ধর্মীয় সামগ্রী সরকারের কাছে জমা দেয়ার নির্দেশকে গুজব আখ্যা দিয়ে তা অস্বীকার করেছে চীনা কর্তৃপক্ষ। প্রদেশটির বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ প্রসঙ্গে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লু কাং সাংবাদিকদের বলেন, জিনজিয়াংয়ের পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। আমরা আশা করব সবাই এই ভিত্তিহীন অভিযোগকে প্রত্যাখ্যান করবে।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 

























