ঢাকা ১২:১৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নাজমুল পদত্যাগ না করলে খেলা বর্জনের হুমকি ক্রিকেটারদের চাঁদাবাজি-মাস্তানি করলে এখনই বিএনপি থেকে বের হয়ে যান: আমীর খসরু আগামী সপ্তাহ থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের জন্য মার্কিন ভিসা কার্যক্রম স্থগিত একটি দল বাড়ি বাড়ি গিয়ে এনআইডি ও বিকাশ নম্বর সংগ্রহ করছে: নজরুল ইসলাম খান স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় বিএনপি নেতা সাজুকে বহিষ্কার গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলে তরুণরা বৈষম্যহীন বাংলাদেশ পাবে: আলী রীয়াজ গণভোটে ‘হ্যাঁ’কে বিজয়ী করতে মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা ডাকসুর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন স্থগিত চেয়ে রিট অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতেই অন-অ্যারাইভাল ভিসা বন্ধ : পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মবোক্রেসি সব জায়গায় চলে না, আমি ঢাকায় ভেসে আসি নাই : মির্জা আব্বাস

প্রথম দিনে ১০ পরীক্ষার্থী ও ৫ শিক্ষক বহিষ্কার, অথচ বরিশাল বোর্ডে লেখা শূন্য

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

বৃহস্পতিবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সারাদেশে শুরু হয়েছে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। প্রথমদিনের পরীক্ষায় পটুয়াখালী জেলার গলাচিপা উপজেলার খারিজ্জমা ইসহাক মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে নয়জনসহ দুই কেন্দ্রে থেকে ১০ পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

সকালে পরীক্ষার শুরুতে খাতা বিতরণের পাঁচ/১০ মিনিটের মধ্যেই ঠুনকো অভিযোগে একটি কেন্দ্রে নয় পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করে সমালোচনার মুখে পড়েছেন পটুয়াখালী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইসমাইল রহমান।

বৃহস্পতিবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকালে গলাচিপা উপজেলার খারিজ্জমা ইসহাক মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।

এদিকে এসএসসি পরীক্ষার প্রথম দিনে বরিশাল বোর্ডের প্রকাশিত প্রতিবেদনে কোনো জেলায় পরীক্ষার্থী ও কক্ষ পরিদর্শক বহিষ্কার দেখানো হয়নি।

অথচ গলাচিপা উপজেলার দু’টি কেন্দ্রেই ১০ জন এবং কলাপাড়া উপজেলায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে পাঁচ শিক্ষককে (কক্ষ পরিদর্শক) বহিষ্কার করা হয়েছে। পটুয়াখালী জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে বোর্ডে পাঠানো তথ্য মোতাবেক পটুয়াখালী জেলায় শুধুমাত্র পরীক্ষার্থী বহিষ্কার দেখানো হয়েছে।

গুয়াবাড়িয়া এ বি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের লিয়া আক্তার ও সুমাইয়া আক্তার, কল্যাণ কলস বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিরিন নাহার ও ইমা আক্তার, মধ্য হরিদেবপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে মোকসেদুল, খারিজ্জমা ইসহাক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শোয়েব সরদার, লামনা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নয়ন হোসেন, মধ্য ধরান্দী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নাদিয়াসহ দুই কেন্দ্রের ১০ পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

এদিকে বহিষ্কৃত নয় শিক্ষার্থীর মধ্যে সাতজন খাতায় রোল এবং রেজিস্ট্রেশন নম্বর ছাড়া কিছুই লেখেনি। বাকি দু’জনের একজন দুটি এবং অপরজন তিনটি প্রশ্নের উত্তরের বৃত্ত ভরাট করেছে।

অভিভাবক, শিক্ষক ও পরীক্ষার্থীরা এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়েছেন। তারা জানান, পরীক্ষা শুরুর কিছুক্ষণ আগে কেন্দ্রে উপস্থিত হন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইসমাইল রহমান।

তারপর কক্ষ পরিদর্শন শুরু করে ঠুনকো অভিযোগে একের পর এক শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করেন তিনি।

বহিষ্কৃত পরীক্ষার্থী ও মধ্য হরিদেবপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মোকসেদুল বলে, আমি সকালে বৃষ্টির মধ্যে ভিজে তাড়াহুড়ো করে শেষ সময়ে হলে ডুকেছি। খাতা পাওয়ার পর দাঁড়িয়ে স্বাভাবিক হয়ে সব কিছু ঠিক করে বসতে যাব, তখনই এসে আমাকে এক্সপেল্ড করেছে।

বহিষ্কৃত পরীক্ষার্থী ইমা আক্তার বলে, ম্যাজিস্ট্রেট স্যারকে দেখে ভয়ে আমার হাত কাঁপতে কাঁপতে কলমটা পড়ে যায়। কলম তুলতে নিচু হতেই, সে আমার খাতা নিয়ে যায় এবং হেড স্যারের রুমে বসিয়ে রাখে।

আরেক পরীক্ষার্থী মো. শোয়েব সরদার বলে, আমাদের অপরাধ আমরা জানি না। আমরা কোনো অসদুপায় অবলম্বন করিনি। খাতায় লেখাই শুরু করিনি। তার প্রমাণ আমাদের খাতা চেক করলে পাওয়া যাবে। তিনি কেন আমাদের সঙ্গে এমন করেছেন, জানি না। তার পা ধরেও আমরা কোনো সহায়তা পাইনি।

অভিভাবক সোহরাব সরদার ও চুন্ন মিয়া বলেন, আমরা এখন ছেলে-মেয়েদের পাহারা দিয়ে রাখি, তারা অনেক কান্নাকাটি করে। যখন তখন আত্মহত্যার মত দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

এ বিষয়ে খারিজ্জমা ইসহাক মাধ্যমিক বিদ্যালয় পরীক্ষা কেন্দ্রের হল সুপার ও খারিজ্জমা ইসহাক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুসরাত জাহান মনি বলেন, পরীক্ষা শুরুর পাঁচ থেকে ছয় মিনিটের মধ্যেই ১০ জনকে বহিষ্কার করা হয়। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আমাদের মৌখিকভাবে জানিয়েছেন যে শিক্ষার্থীরা দেখা দেখি করছিল বলে বহিষ্কার করা হয়েছে। তবে ১০ শিক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র একজন এমসিকিউ উত্তর পত্রের দুটি ও অপরজন তিনটি উত্তর ভরাট করেছে। বাকি সাতজন শুধুমাত্র রোল এবং রেজিস্ট্রেশন নম্বরের ঘর পূরণ করেছে। আমি স্যারকে অনুরোধ করেছিলাম যে দুইজনের উত্তর পত্রে উত্তরের ঘর পূরণ করেছে তাদের বহিষ্কার করেন, কিন্তু তিনি সবাইকেই বহিষ্কার করেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইসমাইল রহমান বলেন, বিভিন্ন কারণে তাদের বহিষ্কার করা হয়েছে। অনেকেই দেখাদেখি করছিল এবং প্রশ্ন এক্সচেঞ্জ করছিল। এ কারনে তাদের বহিষ্কার করা হয়েছে।

অনেকের খাতায় কিছু লেখা নেই এবং পরীক্ষা শুরুর পাঁচ মিনিটের মধ্যেই কেন বহিষ্কার এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, তারা খাতায় লিখেছে এবং সময় অরেকটু বেশি হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ খবর নিয়ে দেখছি।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কিশোরগঞ্জে মসজিদের বাক্সে ৯ লাখ টাকা

প্রথম দিনে ১০ পরীক্ষার্থী ও ৫ শিক্ষক বহিষ্কার, অথচ বরিশাল বোর্ডে লেখা শূন্য

আপডেট সময় ০৬:০৯:৪৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২২

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

বৃহস্পতিবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সারাদেশে শুরু হয়েছে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। প্রথমদিনের পরীক্ষায় পটুয়াখালী জেলার গলাচিপা উপজেলার খারিজ্জমা ইসহাক মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে নয়জনসহ দুই কেন্দ্রে থেকে ১০ পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

সকালে পরীক্ষার শুরুতে খাতা বিতরণের পাঁচ/১০ মিনিটের মধ্যেই ঠুনকো অভিযোগে একটি কেন্দ্রে নয় পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করে সমালোচনার মুখে পড়েছেন পটুয়াখালী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইসমাইল রহমান।

বৃহস্পতিবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকালে গলাচিপা উপজেলার খারিজ্জমা ইসহাক মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।

এদিকে এসএসসি পরীক্ষার প্রথম দিনে বরিশাল বোর্ডের প্রকাশিত প্রতিবেদনে কোনো জেলায় পরীক্ষার্থী ও কক্ষ পরিদর্শক বহিষ্কার দেখানো হয়নি।

অথচ গলাচিপা উপজেলার দু’টি কেন্দ্রেই ১০ জন এবং কলাপাড়া উপজেলায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে পাঁচ শিক্ষককে (কক্ষ পরিদর্শক) বহিষ্কার করা হয়েছে। পটুয়াখালী জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে বোর্ডে পাঠানো তথ্য মোতাবেক পটুয়াখালী জেলায় শুধুমাত্র পরীক্ষার্থী বহিষ্কার দেখানো হয়েছে।

গুয়াবাড়িয়া এ বি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের লিয়া আক্তার ও সুমাইয়া আক্তার, কল্যাণ কলস বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিরিন নাহার ও ইমা আক্তার, মধ্য হরিদেবপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে মোকসেদুল, খারিজ্জমা ইসহাক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শোয়েব সরদার, লামনা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নয়ন হোসেন, মধ্য ধরান্দী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নাদিয়াসহ দুই কেন্দ্রের ১০ পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

এদিকে বহিষ্কৃত নয় শিক্ষার্থীর মধ্যে সাতজন খাতায় রোল এবং রেজিস্ট্রেশন নম্বর ছাড়া কিছুই লেখেনি। বাকি দু’জনের একজন দুটি এবং অপরজন তিনটি প্রশ্নের উত্তরের বৃত্ত ভরাট করেছে।

অভিভাবক, শিক্ষক ও পরীক্ষার্থীরা এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়েছেন। তারা জানান, পরীক্ষা শুরুর কিছুক্ষণ আগে কেন্দ্রে উপস্থিত হন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইসমাইল রহমান।

তারপর কক্ষ পরিদর্শন শুরু করে ঠুনকো অভিযোগে একের পর এক শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করেন তিনি।

বহিষ্কৃত পরীক্ষার্থী ও মধ্য হরিদেবপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মোকসেদুল বলে, আমি সকালে বৃষ্টির মধ্যে ভিজে তাড়াহুড়ো করে শেষ সময়ে হলে ডুকেছি। খাতা পাওয়ার পর দাঁড়িয়ে স্বাভাবিক হয়ে সব কিছু ঠিক করে বসতে যাব, তখনই এসে আমাকে এক্সপেল্ড করেছে।

বহিষ্কৃত পরীক্ষার্থী ইমা আক্তার বলে, ম্যাজিস্ট্রেট স্যারকে দেখে ভয়ে আমার হাত কাঁপতে কাঁপতে কলমটা পড়ে যায়। কলম তুলতে নিচু হতেই, সে আমার খাতা নিয়ে যায় এবং হেড স্যারের রুমে বসিয়ে রাখে।

আরেক পরীক্ষার্থী মো. শোয়েব সরদার বলে, আমাদের অপরাধ আমরা জানি না। আমরা কোনো অসদুপায় অবলম্বন করিনি। খাতায় লেখাই শুরু করিনি। তার প্রমাণ আমাদের খাতা চেক করলে পাওয়া যাবে। তিনি কেন আমাদের সঙ্গে এমন করেছেন, জানি না। তার পা ধরেও আমরা কোনো সহায়তা পাইনি।

অভিভাবক সোহরাব সরদার ও চুন্ন মিয়া বলেন, আমরা এখন ছেলে-মেয়েদের পাহারা দিয়ে রাখি, তারা অনেক কান্নাকাটি করে। যখন তখন আত্মহত্যার মত দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

এ বিষয়ে খারিজ্জমা ইসহাক মাধ্যমিক বিদ্যালয় পরীক্ষা কেন্দ্রের হল সুপার ও খারিজ্জমা ইসহাক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুসরাত জাহান মনি বলেন, পরীক্ষা শুরুর পাঁচ থেকে ছয় মিনিটের মধ্যেই ১০ জনকে বহিষ্কার করা হয়। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আমাদের মৌখিকভাবে জানিয়েছেন যে শিক্ষার্থীরা দেখা দেখি করছিল বলে বহিষ্কার করা হয়েছে। তবে ১০ শিক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র একজন এমসিকিউ উত্তর পত্রের দুটি ও অপরজন তিনটি উত্তর ভরাট করেছে। বাকি সাতজন শুধুমাত্র রোল এবং রেজিস্ট্রেশন নম্বরের ঘর পূরণ করেছে। আমি স্যারকে অনুরোধ করেছিলাম যে দুইজনের উত্তর পত্রে উত্তরের ঘর পূরণ করেছে তাদের বহিষ্কার করেন, কিন্তু তিনি সবাইকেই বহিষ্কার করেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইসমাইল রহমান বলেন, বিভিন্ন কারণে তাদের বহিষ্কার করা হয়েছে। অনেকেই দেখাদেখি করছিল এবং প্রশ্ন এক্সচেঞ্জ করছিল। এ কারনে তাদের বহিষ্কার করা হয়েছে।

অনেকের খাতায় কিছু লেখা নেই এবং পরীক্ষা শুরুর পাঁচ মিনিটের মধ্যেই কেন বহিষ্কার এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, তারা খাতায় লিখেছে এবং সময় অরেকটু বেশি হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ খবর নিয়ে দেখছি।