অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
সরকারের সফল কূটনৈতিক তৎপরতায় মিয়ানমারের ওপর বৈশ্বিক চাপ বেড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, মিয়ানমার সেনাপ্রধান ঘোষণা দিয়েছিলেন রোহিঙ্গারা সে দেশের নাগরিক নয়, তাদের সেখানে ফেরত নেয়া হবে না। কিন্তু বৈশ্বিক চাপের মুখে এখন মিয়ানমার রোহিঙ্গা ইস্যুতে কঠিন অবস্থান থেকে নরম অবস্থানে সরে এসেছে। মঙ্গলবার কক্সবাজার শহরের কলাতলী সাগরপাড়ের একটি তারকা হোটেলে বিফ্রিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।
ওবায়দুল কাদের বলেন, বৈশ্বিক চাপের মুখে এখন মিয়ানমার রোহিঙ্গা ইস্যুতে কঠিন অবস্থান থেকে নরম অবস্থানে সরে এসেছে। বাধ্য হয়ে বাংলাদেশে মিয়ানমারের মন্ত্রী এলেন, সমাধানের জন্য যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপে কাজ করতে রাজি হয়েছেন। এটা কি আর এমনি এমনি হয়েছে। সরকারের সফল কূটনৈতিক তত্পরতায় এটা সম্ভব হয়েছে বলে দাবি তার।
সেতুমন্ত্রী বলেন, বিএনপি লোক দেখানো ফটোসেশন করে, ত্রাণ বিতরণের নামে তারা নাটক করে গেছে। প্রকৃতপক্ষে রোহিঙ্গা ইস্যুতে বিএনপির কোনো বাস্তব উদ্যোগ নেই। কিন্তু কোন ধরনের চাপ, অনুরোধ বা সিদ্ধান্ত ছাড়াই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মানবিক কারণে রোহিঙ্গাদের জন্য সীমান্ত খুলে দেন। এখন তাদের স্বদেশে নিরাপদে ফেরত দেয়ার জন্য তত্পরতা চালাচ্ছেন। রোহিঙ্গা ইস্যু সমাধানের জন্য জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া পাঁচ দফা প্রস্তাব সারাবিশ্বে প্রশংসিত হয়েছে। তিনি ও তার দল আশা করেন এই প্রস্তাবের ভিত্তিতেই রোহিঙ্গা ইস্যু সমাধান হবে।
জাতিসংঘকে বাদ দিয়ে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা কতটুকু সফলতার মুখ দেখবে এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে জাতিসংঘকে সঙ্গে নিয়ে আলোচনার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। এখানে বিএনপি কি বলল, না বলল সেটা দেখার বিষয় নয়। তাদের কাজ শুধু অভিযোগ আর সন্দেহ করে যাওয়া। কিন্তু আসলে কিছু করার শক্তি ও সামর্থ্য তাদের নেই। তাই বড় বড় কথা বলে যাচ্ছে।
বাংলাদেশকে নিরাপদ জোন ঘোষণার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে। আশা ছেড়ে দেয়ার কোনো কারণ নেই। এখন যেভাবে মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের বিষয়ে নমনীয় হয়েছে, আশা করি কূটনৈতিক তত্পরতায় এটাও সম্ভব হবে।
রোহিঙ্গা শিবিরে দেশি-বিদেশি অনেক এনজিও কাজ করছে। এসব এনজিওতে স্থানীয়দের চাকরির কোটার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, বুধবার কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ে এনজিওদের একটি সমন্বয় সভা রয়েছে। সেখানে স্থানীয়দের কোটা ভিত্তিতে চাকরি দেয়ার নীতিমালা করার বিষয়ে আলোচনা হবে এবং এটা করা দরকার।
সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে দুই ব্যক্তির দেয়া ত্রাণের ২০ লাখ টাকা জেলা প্রশাসনের রোহিঙ্গা ত্রাণ তহবিলে হস্তান্তর করেন মন্ত্রী। জেলা প্রশাসনের পক্ষে টাকা গ্রহণ করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আনোয়ারুল নাসের। এর মধ্যে নোয়াখালী বীরবিক্রম শহীদ তরিক উল্লাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান লায়ন জাহাঙ্গীর আলম (মানিক) ১০ লাখ ও গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম ১০ লাখ টাকা দেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক শামীম, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী সাইফুজ্জামান শিখর, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সিরাজুল মোস্তফা ও সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 



















