ঢাকা ০২:১৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
‘যারা কেন্দ্র দখলের চিন্তা করছেন, তারা বাসা থেকে মা-বাবার দোয়া নিয়ে বের হইয়েন’:হাসনাত চট্টগ্রামের স্বপ্ন ভেঙে ফের চ্যাম্পিয়ন রাজশাহী ওয়ারিয়র্স অভিবাসন নীতি মেনে চলতে যুক্তরাষ্ট্রকে আহ্বান জাতিসংঘের দেশকে পুনর্নির্মাণ করতে হলে গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে : তারেক রহমান ‘একটি স্বার্থান্বেষী দল ইসলামী আন্দোলনকে ধোঁকা দিয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে’:রেজাউল করিম ছেলে এনসিপির প্রার্থী, বাবা ভোট চাইলেন ধানের শীষে পর্যাপ্ত খেলার মাঠের অভাবে তরুণ সমাজ বিপদগামী হচ্ছে : মির্জা আব্বাস বাংলাদেশি সন্দেহে ভারতে যুবককে পিটিয়ে হত্যা নতুন বিশ্ব ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হয়ে উঠছে তুরস্ক: এরদোগান জনগণ জেনে গেছে ‘হ্যা’ ভোট দেওয়া হলে দেশে স্বৈরাচার আর ফিরে আসবে না: প্রেস সচিব

মিয়ানমারকে মুসলমানশূন্য করতে চায় সেনাবাহিনী

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

গ্রামের প্রবেশমুখেই একটা সাইনবোর্ড লাগানো। এতে লেখা, ‘এই গ্রাম মুসলমানশূন্য এলাকা’। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের বাইরের একটি গ্রাম এটি। মূলত রোহিঙ্গা মুসলমানদের দূরে রাখতেই এই সাইনবোর্ডটি লাগানো, যাদের ‘বিশ্বের সবচেয়ে নিগৃহীত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়’ বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে।

কারণটা কঠিন কিছু নয়। সেই ১৯৯২ সাল থেকেই রোহিঙ্গাদের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে রেখেছে মিয়ানমার সরকার। নিজের দেশের ভেতরেই এক শহর থেকে আরেক শহরে যেতে তাদের কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে হয়। অতিক্রম করতে হয় অভিবাসন চেক পয়েন্ট। শুধু তা-ই নয়, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবার মতো মৌলিক অধিকারগুলোর বিষয়েও বৈষম্যের শিকার রোহিঙ্গারা।

নে সান লুইন নামের একজন ব্লগার ও অনলাইন অ্যাকটিভিস্ট বলেন, ‘তারা (মিয়ানমার সরকার) গত ২৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে আমাদের উন্মুক্ত কারাগারে বন্দী করে রেখেছে। ১৯৭৮ সাল থেকে তারা অপপ্রচার চালাচ্ছে। রোহিঙ্গারা বাংলাদেশ থেকে আসা অবৈধ অভিবাসী, তারা দেশে হানা দিতে এসেছে—এসব বলে তারা সাধারণ মানুষের মগজধোলাই দিচ্ছে।’

নে সান লুইন বলেন, ‘আমরা রাখাইনের ভূমিতে এসেছি সপ্তম শতকে। একাদশ শতকে রাখাইন বৌদ্ধরা আমাদের ওপর হামলা চালায়। সে সময় দক্ষিণাঞ্চলে যারা বাস করছিল, তাদের উত্তরাঞ্চলের দিকে সরে যেতে বাধ্য করা হয়। (তারপর তারা বলতে শুরু করল) উত্তর দিক থেকে দেশে হামলা হচ্ছে। এটা আসলে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের ইতিহাসের মতো, যেমনটা আমরা জানি, ফিলিস্তিনের লোকজন এখন অভিবাসীতে পরিণত হয়েছে।’ তাঁর মতে, মিয়ানমারের সেনাবাহিনীই আসলে চায় না রোহিঙ্গারা সেখানে টিকে থাকুক।

অং সান সু চির দল ক্ষমতায় আসার পর বহু রোহিঙ্গাই আশাবাদী হয়েছিল। কিন্তু তাঁর গণতান্ত্রিক সরকারের সময়ও রোহিঙ্গাদের ওপর নিপীড়ন চলছে। গত ২৫ আগস্ট শুরু হয় সাম্প্রতিকতম অভিযানটি। এবারের অভিযানেই দেশছাড়া হয়েছে প্রায় পাঁচ লাখ রোহিঙ্গা।

ইউরোপ-প্রবাসী ব্লগার নে সান লুইন বলেন, ‘তিনি আমার নায়ক ছিলেন। আমরা তাঁকে সমর্থন করেছিলাম। সব রোহিঙ্গাই তাঁকে সমর্থন করেছিল। তিনি ক্ষমতায় গেলে রোহিঙ্গাদের ভাগ্য বদলাবে বলে মনে করেছিলাম আমরা। কিন্তু দুঃখজনকভাবে বিপরীতটাই ঘটেছে।’ তাঁর মতে, চীনের সঙ্গে চুক্তির অংশ হিসেবে রাখাইন রাজ্য খালি করছে মিয়ানমার। এই এলাকায় কিয়াউক পিউ স্পেশাল ইকোনমিক জোন প্রকল্প বাস্তবায়নে চীনের সঙ্গে এক হাজার কোটি মার্কিন ডলারের চুক্তি হয়েছে সরকারের। তবে এ প্রকল্পই যে রাখাইনে রোহিঙ্গাদের বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ, হত্যা, ধর্ষণের একমাত্র কারণ, তা নয়। রোহিঙ্গাদের উপস্থিতি বা ভাষাও কোনো সমস্যা নয় এখানে। নে সান লুইনের মতে, রোহিঙ্গাদের ধর্মই মূল সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি বলেন, ‘দেশ থেকে সব মুসলিম মুছে ফেলতে (সেনাবাহিনীর) পরিকল্পনা রয়েছে। এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। ২০ বছরের মধ্যে মিয়ানমারকে রোহিঙ্গামুক্ত করার পর তারা অন্য কোনো সংখ্যালঘু মুসলমান সম্প্রদায়ের পেছনে লাগবে।’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

লিবিয়াস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে ই-পাসপোর্ট সেবা উদ্বোধন

মিয়ানমারকে মুসলমানশূন্য করতে চায় সেনাবাহিনী

আপডেট সময় ১১:৪৪:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ অক্টোবর ২০১৭

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

গ্রামের প্রবেশমুখেই একটা সাইনবোর্ড লাগানো। এতে লেখা, ‘এই গ্রাম মুসলমানশূন্য এলাকা’। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের বাইরের একটি গ্রাম এটি। মূলত রোহিঙ্গা মুসলমানদের দূরে রাখতেই এই সাইনবোর্ডটি লাগানো, যাদের ‘বিশ্বের সবচেয়ে নিগৃহীত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়’ বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে।

কারণটা কঠিন কিছু নয়। সেই ১৯৯২ সাল থেকেই রোহিঙ্গাদের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে রেখেছে মিয়ানমার সরকার। নিজের দেশের ভেতরেই এক শহর থেকে আরেক শহরে যেতে তাদের কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে হয়। অতিক্রম করতে হয় অভিবাসন চেক পয়েন্ট। শুধু তা-ই নয়, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবার মতো মৌলিক অধিকারগুলোর বিষয়েও বৈষম্যের শিকার রোহিঙ্গারা।

নে সান লুইন নামের একজন ব্লগার ও অনলাইন অ্যাকটিভিস্ট বলেন, ‘তারা (মিয়ানমার সরকার) গত ২৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে আমাদের উন্মুক্ত কারাগারে বন্দী করে রেখেছে। ১৯৭৮ সাল থেকে তারা অপপ্রচার চালাচ্ছে। রোহিঙ্গারা বাংলাদেশ থেকে আসা অবৈধ অভিবাসী, তারা দেশে হানা দিতে এসেছে—এসব বলে তারা সাধারণ মানুষের মগজধোলাই দিচ্ছে।’

নে সান লুইন বলেন, ‘আমরা রাখাইনের ভূমিতে এসেছি সপ্তম শতকে। একাদশ শতকে রাখাইন বৌদ্ধরা আমাদের ওপর হামলা চালায়। সে সময় দক্ষিণাঞ্চলে যারা বাস করছিল, তাদের উত্তরাঞ্চলের দিকে সরে যেতে বাধ্য করা হয়। (তারপর তারা বলতে শুরু করল) উত্তর দিক থেকে দেশে হামলা হচ্ছে। এটা আসলে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের ইতিহাসের মতো, যেমনটা আমরা জানি, ফিলিস্তিনের লোকজন এখন অভিবাসীতে পরিণত হয়েছে।’ তাঁর মতে, মিয়ানমারের সেনাবাহিনীই আসলে চায় না রোহিঙ্গারা সেখানে টিকে থাকুক।

অং সান সু চির দল ক্ষমতায় আসার পর বহু রোহিঙ্গাই আশাবাদী হয়েছিল। কিন্তু তাঁর গণতান্ত্রিক সরকারের সময়ও রোহিঙ্গাদের ওপর নিপীড়ন চলছে। গত ২৫ আগস্ট শুরু হয় সাম্প্রতিকতম অভিযানটি। এবারের অভিযানেই দেশছাড়া হয়েছে প্রায় পাঁচ লাখ রোহিঙ্গা।

ইউরোপ-প্রবাসী ব্লগার নে সান লুইন বলেন, ‘তিনি আমার নায়ক ছিলেন। আমরা তাঁকে সমর্থন করেছিলাম। সব রোহিঙ্গাই তাঁকে সমর্থন করেছিল। তিনি ক্ষমতায় গেলে রোহিঙ্গাদের ভাগ্য বদলাবে বলে মনে করেছিলাম আমরা। কিন্তু দুঃখজনকভাবে বিপরীতটাই ঘটেছে।’ তাঁর মতে, চীনের সঙ্গে চুক্তির অংশ হিসেবে রাখাইন রাজ্য খালি করছে মিয়ানমার। এই এলাকায় কিয়াউক পিউ স্পেশাল ইকোনমিক জোন প্রকল্প বাস্তবায়নে চীনের সঙ্গে এক হাজার কোটি মার্কিন ডলারের চুক্তি হয়েছে সরকারের। তবে এ প্রকল্পই যে রাখাইনে রোহিঙ্গাদের বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ, হত্যা, ধর্ষণের একমাত্র কারণ, তা নয়। রোহিঙ্গাদের উপস্থিতি বা ভাষাও কোনো সমস্যা নয় এখানে। নে সান লুইনের মতে, রোহিঙ্গাদের ধর্মই মূল সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি বলেন, ‘দেশ থেকে সব মুসলিম মুছে ফেলতে (সেনাবাহিনীর) পরিকল্পনা রয়েছে। এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। ২০ বছরের মধ্যে মিয়ানমারকে রোহিঙ্গামুক্ত করার পর তারা অন্য কোনো সংখ্যালঘু মুসলমান সম্প্রদায়ের পেছনে লাগবে।’