ঢাকা ০৪:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

অনিশ্চয়তার মুখে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দফতরিদের জাতীয়করণ

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

অনিশ্চয়তার মুখে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দফতরিদের জাতীয়করণ। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দফতরিরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে আকুতি জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেন এ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করেন। গত রবিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) তারা রাজধানীতে ছুটে আসেন। জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনের সড়কে মানববন্ধন করেন।

‘অনেকের অকাল মৃত্যু হয়েছে। তাদের পরিবারের সদস্যরা দুর্বিসহ দিন কাটাচ্ছেন। তাই মমতাময়ী মায়ের কাছে ছেলে হিসেবে আমাদের আকুতি— আমরা যেন দু’বেলা দু’মুঠো ডাল-ভাত খেতে পারি; বাবা-মা, ভাই-বোন নিয়ে বাঁচতে পারি।’ কথাগুলো বলছিলেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দফতরি কাম প্রহরীরা।

ওই সময় নিজেদের দুঃখ-দুর্দশার কথা বলতে গিয়ে এসব কথা বলেন তারা। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর কাছে জানানো তাদের দাবি সহজে পূরণ হওয়ার নয় বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়। প্রাথমিকভাবে তাদের জন্য নতুন করে বেতন নির্ধারণ করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানা গেছে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে সূত্রে, দেশের ৩৬ হাজার ৯৮৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্থানীয় কমিটির মাধ্যমে বেসরকারিভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে দফতরি কাম প্রহরীরদের। সরকারি স্কুলেও তারা বেসরকারি কর্মচারী। তাই নিজেদের চাকরি সরকারি করার দাবিতে আন্দোলন করছেন এসব দফতরি কাম প্রহরীরা।

বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কর্মচারী কল্যাণ সমিতির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন মোল্লা বলেন, ‘গত বছর মারা গেছেন শরিয়তপুরের দফতরি কাম প্রহরী আক্কাস আলী ছৈয়াল। মৃত্যুর পর তার স্ত্রী আর দুই ছেলের সংসার চালাতে আমরা (উপজেলার দফতরিরা) সহায়তা করি। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রহরীর দায়িত্ব পালনকালে রাতে খুন হন যশোরের সাগর দত্ত। এ পর্যন্ত দফতরি মারা গেছেন ৩০ জন, চাকরি হারিয়েছেন ৫০ জন।

কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সাধন বাড়ই, ঢাকা বিভাগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলামসহ অন্যরাও একইভাবে তাদের অনিশ্চয়তার কথা তুলে ধরেন। তারা জানান, তাদের কোনও ছুটি নেই। কাজ করতে হয় ২৪ ঘণ্টা। তারা চাকরির সময়কাল আট ঘণ্টা ও সাপ্তাহিক ছুটির দাবি জানান।

দফতরিরা জানান, স্থানীয়ভাবে তাদের মাসিক বেতন দেওয়া হয় ১৪ হাজার ৪৫০ টাকা। তবে এই বেতনও নিয়মত নয়। আর সরকারিভাবে শুধু উৎসব ভাতা দেওয়া হয়।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে বলছে, পিয়নের বেতনের সমান বেতন নির্ধারণ করে তাদের বেতন দেওয়ার চিন্তা-ভাবনা করছে সরকার। পরে পদ তৈরি করে পর্যাক্রমে সরকারিও করা হবে— এমন ভাবনা রয়েছে সরকারের। যদিও কবে নাগাদ তা হবে তার কোনও কিছুই ঠিক হয়নি।

দফতরি কাম প্রহরীদের আন্দোলন ও দাবির বিষয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. আকরাম-আল-হোসেন বলেন, ‘স্থানীয়ভাবে দফতরি কাম প্রহরীদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয়ভাবেই তাদের বেতন দেওয়া হয়। এখনও তাদের জন্য কোনও পদ তৈরি হয়নি। তবে পিয়নের সমান বেতন ধরে তাদের বেতন দেওয়ার কথা ভাবছে সরকার।’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অনিশ্চয়তার মুখে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দফতরিদের জাতীয়করণ

আপডেট সময় ০১:১০:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ অক্টোবর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

অনিশ্চয়তার মুখে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দফতরিদের জাতীয়করণ। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দফতরিরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে আকুতি জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেন এ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করেন। গত রবিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) তারা রাজধানীতে ছুটে আসেন। জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনের সড়কে মানববন্ধন করেন।

‘অনেকের অকাল মৃত্যু হয়েছে। তাদের পরিবারের সদস্যরা দুর্বিসহ দিন কাটাচ্ছেন। তাই মমতাময়ী মায়ের কাছে ছেলে হিসেবে আমাদের আকুতি— আমরা যেন দু’বেলা দু’মুঠো ডাল-ভাত খেতে পারি; বাবা-মা, ভাই-বোন নিয়ে বাঁচতে পারি।’ কথাগুলো বলছিলেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দফতরি কাম প্রহরীরা।

ওই সময় নিজেদের দুঃখ-দুর্দশার কথা বলতে গিয়ে এসব কথা বলেন তারা। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর কাছে জানানো তাদের দাবি সহজে পূরণ হওয়ার নয় বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়। প্রাথমিকভাবে তাদের জন্য নতুন করে বেতন নির্ধারণ করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানা গেছে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে সূত্রে, দেশের ৩৬ হাজার ৯৮৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্থানীয় কমিটির মাধ্যমে বেসরকারিভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে দফতরি কাম প্রহরীরদের। সরকারি স্কুলেও তারা বেসরকারি কর্মচারী। তাই নিজেদের চাকরি সরকারি করার দাবিতে আন্দোলন করছেন এসব দফতরি কাম প্রহরীরা।

বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কর্মচারী কল্যাণ সমিতির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন মোল্লা বলেন, ‘গত বছর মারা গেছেন শরিয়তপুরের দফতরি কাম প্রহরী আক্কাস আলী ছৈয়াল। মৃত্যুর পর তার স্ত্রী আর দুই ছেলের সংসার চালাতে আমরা (উপজেলার দফতরিরা) সহায়তা করি। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রহরীর দায়িত্ব পালনকালে রাতে খুন হন যশোরের সাগর দত্ত। এ পর্যন্ত দফতরি মারা গেছেন ৩০ জন, চাকরি হারিয়েছেন ৫০ জন।

কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সাধন বাড়ই, ঢাকা বিভাগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলামসহ অন্যরাও একইভাবে তাদের অনিশ্চয়তার কথা তুলে ধরেন। তারা জানান, তাদের কোনও ছুটি নেই। কাজ করতে হয় ২৪ ঘণ্টা। তারা চাকরির সময়কাল আট ঘণ্টা ও সাপ্তাহিক ছুটির দাবি জানান।

দফতরিরা জানান, স্থানীয়ভাবে তাদের মাসিক বেতন দেওয়া হয় ১৪ হাজার ৪৫০ টাকা। তবে এই বেতনও নিয়মত নয়। আর সরকারিভাবে শুধু উৎসব ভাতা দেওয়া হয়।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে বলছে, পিয়নের বেতনের সমান বেতন নির্ধারণ করে তাদের বেতন দেওয়ার চিন্তা-ভাবনা করছে সরকার। পরে পদ তৈরি করে পর্যাক্রমে সরকারিও করা হবে— এমন ভাবনা রয়েছে সরকারের। যদিও কবে নাগাদ তা হবে তার কোনও কিছুই ঠিক হয়নি।

দফতরি কাম প্রহরীদের আন্দোলন ও দাবির বিষয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. আকরাম-আল-হোসেন বলেন, ‘স্থানীয়ভাবে দফতরি কাম প্রহরীদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয়ভাবেই তাদের বেতন দেওয়া হয়। এখনও তাদের জন্য কোনও পদ তৈরি হয়নি। তবে পিয়নের সমান বেতন ধরে তাদের বেতন দেওয়ার কথা ভাবছে সরকার।’