অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:
ইরানের সামরিক স্থাপনা পরিদর্শনের বিষয়ে মার্কিন চাপকে নাকচ করে দিয়েছে রাশিয়া। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ ও অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ বিভাগের পরিচালক মিখাইল উলিয়ানভ শুক্রবার বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের সামরিক স্থাপনা পরিদর্শনের সুযোগ দেয়ার কোনো কারণ নেই এবং এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা বা আইএইএর কোনো আহ্বান জানানোরও দরকার হবে না।
জাতিসঙ্ঘে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী প্রতিনিধি নিকি হ্যালি বৃহস্পতিবার ইরানের সামরিক স্থাপনা পরিদর্শনের বিষয়ে রাশিয়ার অবস্থানের সমালোচনা করেছেন। মিখাইল উলিয়ানভ সে সমালোচনাও নাকচ করেছেন। তিনি বলেছেন, ইরানের সামরিক স্থাপনা পরিদর্শনে মার্কিন সরকারের এ দাবি অগভীর চিন্তার দৃষ্টান্ত।
রাশিয়ার এ কর্মকর্তা আরো বলেছেন, মার্কিন দাবির মাধ্যমে পরিষ্কার হয় যে, আমেরিকা ২০১৫ সালে সই হওয়া পরমাণু সমঝোতার অন্য পক্ষের ওপর নিজেদের মতামত চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা করছে।
শত্রুর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সামরিক বাহিনীর সক্ষমতা বাড়াচ্ছে ইরান
ইরান সারা বিশ্বে আলোচিত তার সামরিক শক্তির জন্যই। ইরান এখন মধ্যপ্রাচ্যের একক বৃহৎ শক্তি।মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে একমাত্র ইরানই প্রতিরক্ষা শিল্পে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের পথে রয়েছে। দেশটির রয়েছে একটি সূ-শৃঙ্খল প্রতিরক্ষা বাহিনী। প্রতিপক্ষের বেশ কয়েকটি সামরিক ড্রোন ভূপাতিত কিংবা ইলেকট্রনিক্স জ্যাম সৃষ্টির মাধ্যমে ভূমিতে নামিয়ে আনা একমাত্র ইরানের পক্ষেই সম্ভব হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি শক্তিশালী করার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ইরান শুধুমাত্র ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি শক্তিশালী করবে না, পাশাপাশি বিমান, সমুদ্র ও সেনা বাহিনীকে শক্তিশালী হিসেবে গড়ে তোলা হবে। যখন দেশের প্রতিরক্ষার বিষয় নিয়ে ভাবনা-চিন্তার সময় আসবে, তখন আমরা অন্যদের অনুমতির অপেক্ষা করব না।
ইরানের রয়েছে ৫,২৩,০০০ জন সক্রিয় বা নিয়মিত সেনা সদস্য। এছাড়া আছে সাড়ে তিন লাখ রিজার্ভ সেনা। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত স্বেচ্ছাসেবী বাহিনী বাসিজ, আধা-সামরিক বাহিনীতে রয়েছে ১৫,১০,০০০ জন সদস্য। এতে পুরুষের পাশাপাশি নারী সদস্যও রয়েছে। সব মিলিয়ে ইরান যেকোনো সময় পনের লাখের বেশি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সেনা মোবিলাইজ করতে পারে। সেনাবাহিনী, স্থলবাহিনী, বিমানবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী এবং আইআপজিসি নিয়ে ইরানি সামরিক বাহিনী গঠিত।
ইরানের রয়েছে নিজস্ব সামরিক শিল্প-কারখানা যেখানে ট্যাংক, আর্মড পারসোনেল ক্যারিয়ার, গাইডেড মিসাইল, সাবমেরিন, সামরিক নৌযান, গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার, রাডার সিস্টেম, হেলিকপ্টার এবং জঙ্গিবিমান তৈরি করা হয়। ইরান নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি করেছে- ইমাদ ও ফজরের মতো উন্নত প্রযুক্তির ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। এছাড়া ইরানের কারখানায় তৈরি করা হচ্ছে- হুত, কাউসার, জেলাল, ফতেহ,-১১০, শাহাব-৩ ও সিজ্জিল ক্ষেপণাস্ত্র এবং নানা ধরনের ড্রোন।
ইরানের সংসদের গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান কাজেম জালালি এক সাক্ষাতকারে বলেছেন, ‘ ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা বাড়াতে ২৬ কোটি ডলার এবং সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলার জন্য আইআরজিসি’র কুদস বিগ্রেডকে আরো ২৬ কোটি ডলার বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।’ দেশটির সামরিক বাজেট বছর বছর বেড়েই চলছে।
ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসির ডেপুটি কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সালামি বলেছেন, শত্রুর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়াতে হবে। শত্রুর হুমকি এবং ভবিষ্যত গতিবিধির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ইরানের নৌবাহিনীর সক্ষমতা বাড়াতে হবে।
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি’র সাবেক প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহসেন রফিকদোস্ত বলেছেন, বেশকিছু ক্ষেত্রে ইরানের সামরিক সক্ষমতা আমেরিকা ও রাশিয়ার সঙ্গে তুলনীয়। শুধু ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থাই শক্তিশালী নয় বরং এ রকম বেশকিছু শক্তিশালী দিক রয়েছে যা উন্নত এ দুটি দেশের মতো। ইরানের ট্যাংক, কামান ও মর্টার, ড্রোন, সাবমেরিন এবং সামরিক শিল্পের সব অংশই খুব উন্নত। ইরানের সামরিক বিশেষজ্ঞ ও প্রকৌশলীরা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশে তৈরি সামরিক সরঞ্জামে ব্যাপক এগিয়ে গেছেন। এতে ইরানের সামরিক বাহিনী অস্ত্রের দিক দিয়ে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে।
ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সামিরক বাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাইয়্যেদ মাসুদ জাযায়েরি বলেছেন, “আমাদের সামরিক শক্তি সম্পর্কে খুবই সীমিত তথ্য রয়েছে আমেরিকার কাছে। সামরিক ক্ষেত্রে ইরানের মানসিক ও বৈষয়িক যে সক্ষমতা রয়েছে, সে সম্পর্কে সঠিক ধারণা তাদের নেই। আমেরিকার কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান ইরানের প্রতিরক্ষা শক্তি সম্পর্কে যেসব তথ্য মাঝে মধ্যে দিচ্ছে তা থেকে এ সিদ্ধান্তে পৌঁছা যায় যে, মার্কিন সামরিক ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো আমাদের শক্তির গভীরতা উপলব্ধি করতে সক্ষম নয়। আমরা যে কোনো আগ্রাসীর তৎপরতা পর্যবেক্ষণ ও আগ্রাসীকে ধ্বংস করার ক্ষমতা রাখি।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 

























