ঢাকা ০৫:৩৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মক্কা-মদিনায় হুমকি এলে বাংলাদেশ চুপ থাকবে না: শামা ওবায়েদ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে সফল পারমাণবিক বিক্রিয়া সম্পন্ন চলতি অক্টোবরের শেষ দিকে জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করলেন চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উদ্বোধনের আগেই কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনালে যাত্রীসেবা শুরু সাইবার সুরক্ষা আইন যেন নিপীড়নমূলক না হয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অক্টোবর-নভেম্বরে তিন দেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের সন্ত্রাস দমন তহবিলে কাতারের ১৪১ মিলিয়ন ডলার অনুদান নিউইয়র্কে চার দিনে ৩০টি কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত সফর জাতিসংঘে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি রোধে চার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর

স্ত্রীকে পুড়িয়ে মেরে পরিচয় বদলে ২১ বছর পলাতক ,’অবশেষে র‌্যাবের হাতে ধরা’

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

স্ত্রীকে পুড়িয়ে হত্যার পর পরিচয় বদলে দীর্ঘ ২১ বছর পলাতক থাকার পর ঘাতক স্বামী মো. আলম (৪০) র‌্যাবের হাতে ধরা পড়েছেন।

শনিবার দিনগত রাতে রাজধানীর বংশাল এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

মানিকগঞ্জের সিংগাইর এলাকায় গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুনে পুড়িয়ে আম্বিয়া হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মো. আলম।

র‌্যাব জানায়, ২০০১ সালে পারিবারিকভাবে বিয়ে হওয়ার তিন মাসের মাথায় যৌতুকের জেরে স্ত্রী আম্বিয়াকে পুড়িয়ে হত্যা করেন আলম। ঘটনার ৫ বছর পর ঢাকার বংশাল এলাকায় নিজের নাম-ঠিকানা গোপন রেখে করেন দ্বিতীয় বিয়ে। তখন থেকে ভিন্ন পরিচয়ে দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে বসবাস করে আসা আলম আর কখনোই মানিকগঞ্জের নিজ বাড়িতে যাননি।

রোববার (১৪ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর কারওয়ানবাজার র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান র‌্যাব-৪ এর অধিনায়ক (সিও) ডিআইজি মো. মোজাম্মেল হক।

গ্রেফতার আলমকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে তিনি বলেন, ২০০১ সালের জুন মাসে আম্বিয়া বেগমের (১৮) সঙ্গে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় আলমের। বিয়ের সময় আসবাবপত্র, ইলেক্ট্রনিকস সামগ্রী, নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার দিলেও কিছুদিন পরেই আরও ৫০ হাজার টাকা যৌতুক দাবি করেন আলম। টাকা দিতে না পারায় স্ত্রী আম্বিয়াকে প্রায়ই শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতে থাকেন তিনি। একপর্যায়ে টাকা ভিকটিমকে মারধর করে বাবার বাড়ি পাঠিয়ে দেয় এবং টাকা না আনলে নিজ বাড়িতে উঠতে দিবেন না বলে জানান আলম।

২০০১ সালের ৫ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ১১টার দিকে আলম ভিকটিমের বাবার বাড়িতে এসে ঘরের বাইরে ডেকে নিয়ে যান। বাড়ির পাশের রাস্তায় নিয়ে আম্বিয়াকে চর, থাপ্পর, কিল, ঘুষি মারতে থাকেন। আম্বিয়া মাটিতে পড়ে গেলে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী তার গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দিয়ে পালিয়ে যান।

পরদিন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আম্বিয়া মারা যান। মৃত্যুর আগে তিনি আলমের মারধর এবং আগুন ধরিয়ে দেওয়ার বিষয়টি বলে গেছেন। এ ঘটনায় ৭ সেপ্টেম্বর সিংগাইর থানায় দায়েরকৃত মামলায় ৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়। পরবর্তীতে আদালত আলমকে মৃত্যুদণ্ডের সাজা দেন। ডেথ রেফারেন্সের জন্য মামলা উচ্চ আদালতে গেলে সেখানেও তার মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকে।

র‌্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, স্ত্রী আম্বিয়াকে হত্যার ৫ বছর পর পরিচয় গোপন করে ঢাকার বংশালে দ্বিতীয় বিয়ে করে বসবাস করতে থাকেন আলম। হত্যাকাণ্ডের পর থেকে তিনি কখনোই আর নিজ বাড়িতে যাননি। এর মধ্যে বাবা-মায়ের নাম ও ঠিকানা পাল্টে জাতীয় পরিচয়পত্রও বানান তিনি। এরমধ্যে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসা আলম সর্বশেষ একটি জুতার কারখানায় কাজ করতেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরিত্রিয়া সীমান্তে ইথিওপীয় সেনার অগ্রগতি, বাড়ছে নতুন যুদ্ধের শঙ্কা

স্ত্রীকে পুড়িয়ে মেরে পরিচয় বদলে ২১ বছর পলাতক ,’অবশেষে র‌্যাবের হাতে ধরা’

আপডেট সময় ০৫:৪৩:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ অগাস্ট ২০২২

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

স্ত্রীকে পুড়িয়ে হত্যার পর পরিচয় বদলে দীর্ঘ ২১ বছর পলাতক থাকার পর ঘাতক স্বামী মো. আলম (৪০) র‌্যাবের হাতে ধরা পড়েছেন।

শনিবার দিনগত রাতে রাজধানীর বংশাল এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

মানিকগঞ্জের সিংগাইর এলাকায় গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুনে পুড়িয়ে আম্বিয়া হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মো. আলম।

র‌্যাব জানায়, ২০০১ সালে পারিবারিকভাবে বিয়ে হওয়ার তিন মাসের মাথায় যৌতুকের জেরে স্ত্রী আম্বিয়াকে পুড়িয়ে হত্যা করেন আলম। ঘটনার ৫ বছর পর ঢাকার বংশাল এলাকায় নিজের নাম-ঠিকানা গোপন রেখে করেন দ্বিতীয় বিয়ে। তখন থেকে ভিন্ন পরিচয়ে দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে বসবাস করে আসা আলম আর কখনোই মানিকগঞ্জের নিজ বাড়িতে যাননি।

রোববার (১৪ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর কারওয়ানবাজার র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান র‌্যাব-৪ এর অধিনায়ক (সিও) ডিআইজি মো. মোজাম্মেল হক।

গ্রেফতার আলমকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে তিনি বলেন, ২০০১ সালের জুন মাসে আম্বিয়া বেগমের (১৮) সঙ্গে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় আলমের। বিয়ের সময় আসবাবপত্র, ইলেক্ট্রনিকস সামগ্রী, নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার দিলেও কিছুদিন পরেই আরও ৫০ হাজার টাকা যৌতুক দাবি করেন আলম। টাকা দিতে না পারায় স্ত্রী আম্বিয়াকে প্রায়ই শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতে থাকেন তিনি। একপর্যায়ে টাকা ভিকটিমকে মারধর করে বাবার বাড়ি পাঠিয়ে দেয় এবং টাকা না আনলে নিজ বাড়িতে উঠতে দিবেন না বলে জানান আলম।

২০০১ সালের ৫ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ১১টার দিকে আলম ভিকটিমের বাবার বাড়িতে এসে ঘরের বাইরে ডেকে নিয়ে যান। বাড়ির পাশের রাস্তায় নিয়ে আম্বিয়াকে চর, থাপ্পর, কিল, ঘুষি মারতে থাকেন। আম্বিয়া মাটিতে পড়ে গেলে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী তার গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দিয়ে পালিয়ে যান।

পরদিন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আম্বিয়া মারা যান। মৃত্যুর আগে তিনি আলমের মারধর এবং আগুন ধরিয়ে দেওয়ার বিষয়টি বলে গেছেন। এ ঘটনায় ৭ সেপ্টেম্বর সিংগাইর থানায় দায়েরকৃত মামলায় ৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়। পরবর্তীতে আদালত আলমকে মৃত্যুদণ্ডের সাজা দেন। ডেথ রেফারেন্সের জন্য মামলা উচ্চ আদালতে গেলে সেখানেও তার মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকে।

র‌্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, স্ত্রী আম্বিয়াকে হত্যার ৫ বছর পর পরিচয় গোপন করে ঢাকার বংশালে দ্বিতীয় বিয়ে করে বসবাস করতে থাকেন আলম। হত্যাকাণ্ডের পর থেকে তিনি কখনোই আর নিজ বাড়িতে যাননি। এর মধ্যে বাবা-মায়ের নাম ও ঠিকানা পাল্টে জাতীয় পরিচয়পত্রও বানান তিনি। এরমধ্যে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসা আলম সর্বশেষ একটি জুতার কারখানায় কাজ করতেন।