ঢাকা ০৭:৩২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
টাকা খেয়ে ভোট দিলে নেতা এসে রাস্তা খেয়ে ফেলবে: আখতার হোসেন সুষ্ঠু নির্বাচনে জার্মানির সহায়তা চাইলেন জামায়াত আমির জাতীয় পতাকা হাতে প্যারাস্যুট জাম্প, গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে বাংলাদেশ বরেণ্য লোকসংগীতশিল্পী ও মুক্তিযুদ্ধের কণ্ঠযোদ্ধা মলয় কুমার মারা গেছেন ভবিষ্যৎ অর্থনীতির শক্ত ভিত্তি গড়ার দায়িত্ব সরকারের : আশিক মাহমুদ গণভোটে ‘হ্যাঁ’র পক্ষে বিএনপি : নজরুল ইসলাম খান অবিলম্বে মার্কিন নাগরিকদের ইরান ত্যাগের নির্দেশ প্রতারণা করে অর্থ আদায়, ৫১ হাজার সিমসহ ৫ চীনা নাগরিক গ্রেপ্তার সংসদে আর নৃত্যগীত হবে না, মানুষের উন্নয়নের কথা বলা হবে: সালাহউদ্দিন আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খুঁজতে বাংলাদেশকে অনুরোধ আইসিসির, অনড় বিসিবি

ভয়ানক খবর! কক্সবাজারে কটেজে টর্চার সেল, উদ্ধার ৪, আটক ১১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

কক্সবাজারে সমুদ্র সৈকতের কাছে কলাতলী কটেজ জোনে একটি টর্চার সেলে আটকে রাখা চারজনকে উদ্ধার করেছে ট্যুরিস্ট পুলিশ। পাশাপাশি অভিযান চালিয়ে সংঘবদ্ধ চক্রের দালাল সদস্য ১১ জনকে আটক করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হয়েছে দেশীয় অস্ত্রসহ অপকর্মে ব্যবহৃত নানা উপকরণ।

উদ্ধার হওয়া ৪ জনের মধ্যে কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নের দক্ষিণ ডিককূল এলাকার ইফাজ উদ্দিন ইমন (১৭), একই এলাকার আব্দুল্লাহ আল মামুন (১৫) এবং টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীরদ্বীপ এলাকার দীল মোহাম্মদ (১৭) ও চট্টগ্রাম জেলার সাতকানিয়া উপজেলার মো. ইমরান (১৯) রয়েছে।

সংঘবদ্ধ চক্রের আটক সদস্যরা হলেন—মো. আলমগীর (৪৫), মো. সেলিম (২০), আকাশ দাস (২৩), মো. জোবায়ের (২৮), মো. মামুন (২২), নাজির হোসেন (২৮), সেকান্দর আলী (২৮), মো. সোহেল (৩০), মো. জাহাঙ্গীর আলম (৩৩), মো. জসিম (২৭) ও মো. পারভেজ (২৫)।

ট্যুরিষ্ট পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া দীল মোহাম্মদ ও ইমরান উখিয়া উপজেলার পালংখালী স্টেশনের একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী। তারা রবিবার সকালে কক্সবাজার বেড়াতে এসে রাত্রিযাপনের জন্য শিউলি নামের একটি আবাসিক কটেজে অবস্থান করছিলেন। এছাড়া উদ্ধার হওয়া অপর দুইজন কক্সবাজার শহরে মায়ের চিকিৎসা করতে এসে রাত্রিযাপনের জন্য ওই কটেজে উঠে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, পর্যটনের আড়ালে কলাতলীর কটেজ জোন অপরাধের নিরাপদ আস্তানায় পরিণত হয়েছে। সেখানে বেশ কয়েকটি টর্চার সেলে অপহরণ, জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায় করা হয়।

ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার অঞ্চলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রেজাউল করিম জানান, রবিবার মধ্যরাত থেকে সোমবার ভোর পর্যন্ত কক্সবাজার শহরের লাইটহাউজ এলাকা সংলগ্ন আবাসিক কটেজ জোন এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, ‘কথিত টর্চার সেলে কয়েকজন পর্যটককে দূর্বৃত্তরা জিম্মি রেখেছে খবরে ট্যুরিস্ট পুলিশের একটি দল অভিযান চালায়। এতে সাইনবোর্ডবিহীন সন্দেহজনক শিউলি নামের কটেজ হিসেবে পরিচিত একটি প্রতিষ্ঠানে গেলে তালাবদ্ধ অবস্থায় দেখতে পাওয়া যায়।’

‘ভেতরে প্রবেশ করে দেখা যায়, সংঘবদ্ধ অপরাধীরা বিকল্প একটি পথে পালিয়ে গেছে। এসময় একটি কক্ষে জিন্মিদশা থেকে উদ্ধার করা হয় চার জনকে। একই সঙ্গে ওই কক্ষ থেকে নির্যাতন করার নানা উপকরণও জব্দ করা হয়।’

উদ্ধারকৃতদের তথ্য মতে, সেখানে ৫/৬ জন ছেলে ও ৩ জন নারী ছিল। দালালের মাধমে প্রলোভন দেখিয়ে পৃথকভাবে তাদের ওই কটেজে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রবেশ করার পর সাথে থাকা নারীদের সাথে নানা আপত্তিকর ছবি তুলে মোটা অংকের টাকা দাবি করা হয়। হাতিয়ে নেয়া হয় সব টাকা পয়সা। আরও টাকার জন্য পরিবারকে জানাতে তাদের উপর নির্যাতন চালানো হয়।

ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার অঞ্চলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রেজাউল করিম বলেন, ‘এরকম আরও কয়েকটি কটেজে জিন্মি করে নির্যাতনের তথ্য রয়েছে। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে। পরে কটেজ জোনে অভিযান চালিয়ে সংঘবদ্ধ চক্রের দালাল সদস্য ১১ জনকে আটক করা হয়ে। এ ব্যাপারে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান।

পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, আবদুর রহিম নামের উখিয়ার এক ব্যক্তি এবং লোকমান নামের মহেশখালীর এক ব্যক্তির নেতৃত্বে গড়ে উঠেছে শিউলী কটেজের এই টর্চার সেল। যাদের ধরতে পুলিশ অভিযান শুরু করেছে। আটক ১১ দালাল ছাড়াও এ চক্রের কিশোর গ্যাং এর শতাধিক সদস্য রয়েছে। যারা মাদক সরবরাহসহ নানা অপকর্মে জড়িত থাকার তথ্য পুলিশের কাছে রয়েছে। একটি নিরাপদ পর্যটন জোন করতে এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ভয়ানক খবর! কক্সবাজারে কটেজে টর্চার সেল, উদ্ধার ৪, আটক ১১

আপডেট সময় ০৯:৪৩:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ অগাস্ট ২০২২

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

কক্সবাজারে সমুদ্র সৈকতের কাছে কলাতলী কটেজ জোনে একটি টর্চার সেলে আটকে রাখা চারজনকে উদ্ধার করেছে ট্যুরিস্ট পুলিশ। পাশাপাশি অভিযান চালিয়ে সংঘবদ্ধ চক্রের দালাল সদস্য ১১ জনকে আটক করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হয়েছে দেশীয় অস্ত্রসহ অপকর্মে ব্যবহৃত নানা উপকরণ।

উদ্ধার হওয়া ৪ জনের মধ্যে কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নের দক্ষিণ ডিককূল এলাকার ইফাজ উদ্দিন ইমন (১৭), একই এলাকার আব্দুল্লাহ আল মামুন (১৫) এবং টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীরদ্বীপ এলাকার দীল মোহাম্মদ (১৭) ও চট্টগ্রাম জেলার সাতকানিয়া উপজেলার মো. ইমরান (১৯) রয়েছে।

সংঘবদ্ধ চক্রের আটক সদস্যরা হলেন—মো. আলমগীর (৪৫), মো. সেলিম (২০), আকাশ দাস (২৩), মো. জোবায়ের (২৮), মো. মামুন (২২), নাজির হোসেন (২৮), সেকান্দর আলী (২৮), মো. সোহেল (৩০), মো. জাহাঙ্গীর আলম (৩৩), মো. জসিম (২৭) ও মো. পারভেজ (২৫)।

ট্যুরিষ্ট পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া দীল মোহাম্মদ ও ইমরান উখিয়া উপজেলার পালংখালী স্টেশনের একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী। তারা রবিবার সকালে কক্সবাজার বেড়াতে এসে রাত্রিযাপনের জন্য শিউলি নামের একটি আবাসিক কটেজে অবস্থান করছিলেন। এছাড়া উদ্ধার হওয়া অপর দুইজন কক্সবাজার শহরে মায়ের চিকিৎসা করতে এসে রাত্রিযাপনের জন্য ওই কটেজে উঠে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, পর্যটনের আড়ালে কলাতলীর কটেজ জোন অপরাধের নিরাপদ আস্তানায় পরিণত হয়েছে। সেখানে বেশ কয়েকটি টর্চার সেলে অপহরণ, জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায় করা হয়।

ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার অঞ্চলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রেজাউল করিম জানান, রবিবার মধ্যরাত থেকে সোমবার ভোর পর্যন্ত কক্সবাজার শহরের লাইটহাউজ এলাকা সংলগ্ন আবাসিক কটেজ জোন এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, ‘কথিত টর্চার সেলে কয়েকজন পর্যটককে দূর্বৃত্তরা জিম্মি রেখেছে খবরে ট্যুরিস্ট পুলিশের একটি দল অভিযান চালায়। এতে সাইনবোর্ডবিহীন সন্দেহজনক শিউলি নামের কটেজ হিসেবে পরিচিত একটি প্রতিষ্ঠানে গেলে তালাবদ্ধ অবস্থায় দেখতে পাওয়া যায়।’

‘ভেতরে প্রবেশ করে দেখা যায়, সংঘবদ্ধ অপরাধীরা বিকল্প একটি পথে পালিয়ে গেছে। এসময় একটি কক্ষে জিন্মিদশা থেকে উদ্ধার করা হয় চার জনকে। একই সঙ্গে ওই কক্ষ থেকে নির্যাতন করার নানা উপকরণও জব্দ করা হয়।’

উদ্ধারকৃতদের তথ্য মতে, সেখানে ৫/৬ জন ছেলে ও ৩ জন নারী ছিল। দালালের মাধমে প্রলোভন দেখিয়ে পৃথকভাবে তাদের ওই কটেজে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রবেশ করার পর সাথে থাকা নারীদের সাথে নানা আপত্তিকর ছবি তুলে মোটা অংকের টাকা দাবি করা হয়। হাতিয়ে নেয়া হয় সব টাকা পয়সা। আরও টাকার জন্য পরিবারকে জানাতে তাদের উপর নির্যাতন চালানো হয়।

ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার অঞ্চলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রেজাউল করিম বলেন, ‘এরকম আরও কয়েকটি কটেজে জিন্মি করে নির্যাতনের তথ্য রয়েছে। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে। পরে কটেজ জোনে অভিযান চালিয়ে সংঘবদ্ধ চক্রের দালাল সদস্য ১১ জনকে আটক করা হয়ে। এ ব্যাপারে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান।

পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, আবদুর রহিম নামের উখিয়ার এক ব্যক্তি এবং লোকমান নামের মহেশখালীর এক ব্যক্তির নেতৃত্বে গড়ে উঠেছে শিউলী কটেজের এই টর্চার সেল। যাদের ধরতে পুলিশ অভিযান শুরু করেছে। আটক ১১ দালাল ছাড়াও এ চক্রের কিশোর গ্যাং এর শতাধিক সদস্য রয়েছে। যারা মাদক সরবরাহসহ নানা অপকর্মে জড়িত থাকার তথ্য পুলিশের কাছে রয়েছে। একটি নিরাপদ পর্যটন জোন করতে এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।