ঢাকা ০২:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সরকার এখন হত্যার রাজনীতি শুরু করেছে, অভিযোগ রিজভীর

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

বিদ্যুৎসহ নানান সংকট থেকে জনগণের দৃষ্টি অন্যদিকে সরাতে ও বিরোধীমত দমনে সরকার এখন হত্যার রাজনীতি শুরু করেছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

তিনি বলেছেন, অবৈধ সরকার ও আওয়ামী লীগের কারণে দেশে ভয়ঙ্কর দুর্ভিক্ষ ধেয়ে আসছে। আর জনগণের চোখ যাতে বিদ্যুতের দিকে, দুর্ভিক্ষের দিকে না যায় সেজন্য সরকার এখন হত্যার রাজনীতি শুরু করেছে।

বুধবার কুড়িগ্রামে বন্যার্তদের বিনামূল্যে ওষুধ এবং ত্রাণ বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন (জেডআরএফ) ও ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) যৌথ উদ্যোগে এবং স্থানীয় বিএনপির সহযোগিতায় সকাল ১০টা থেকে দুপুর ৩টা পর্যন্ত এ কর্মসূচি চলে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে রিজভী বলেন, ভোলাতে বিএনপির শান্তিপূর্ণ সমাবেশে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা আব্দুর রহিমকে পুলিশ গুলি করে হত্যা করেছে। কারণ বিএনপি ওই হত্যা নিয়ে ব্যস্ত থাক। তারা বিদ্যুৎ নিয়ে কৃষি নিয়ে কথা বলবে না। সেজন্যই সরকার দেশে রক্তগঙ্গা বইয়ে দিতে এবং ভয়ঙ্কর দুর্বৃত্তপরায়নতার দিকে দেশকে ঠেলে দিতে মারণঘাতী কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। আমাদেরকে এই সরকারের পতন ঘটাতে হবে।

তিনি অঅরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বিএনপির নেতাদের হাতে হারিকেন ধরিয়ে দেয়ার কথা। আরে হারিকেনটা ধরাবেন কী করে? আপনার দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, শেখ হাসিনার মতো সৎ লোক নেই। তিনি নাকি সততার প্রতীক! ওই যে বলে না ঠাকুর ঘরে কে রে? আমি কলা খাই না। কিন্তু কে কলা খেয়েছেন সেটা বলা হয়নি। আর ওবায়দুল কাদের বললেন তিনি সৎ! ঢোল বাজিয়ে আপনি বলছেন কারণ দেশবাসী জেনে গেছে ওই কুইক রেন্টালের টাকা কার পকেটে গেছে? গ্যাস ফিল্ডের টাকা, সোনালী ব্যাংকের টাকা কার কাছে গেছে? বেসিক ব্যাংক থেকে টাকা কার কাছে গেছে? সবাই শেখ হাসিনার আশেপাশের লোক। তাদের কাছেই গেছে। এজন্যই আজ বিদ্যুৎ নাই, গ্যাস নাই, সার নাই। কৃষি উৎপাদন অর্ধেক কমে যাবে।

তিনি বলেন, আমাদের গ্রামের গরিব মেয়েরা ঢাকায় গিয়ে গার্মেন্টেসে কাজ করে। সেই গার্মেন্টেসে বিদ্যুৎ না থাকার কারণে উৎপাদন কমেছে। বিদেশি ক্রেতারা বলছে আপনাদের সাথে আমরা আর বেশি কিনতে পারব না। কারণ তারা শিডিউল মতো সরবরাহ করতে পারে না। অর্থাৎ এই কারণে গ্রাম বাংলার অসংখ্য নারী-পুরুষ যারা গার্মেন্টেসে কাজ করেন তারা চাকরি হারাবে। না পারবে শহরে থাকতে না পারবে গ্রামে আসতে। না কৃষি উৎপাদনের সাথে থাকতে পারবে? আওয়ামী লীগের কারণে দেশে ভয়ঙ্কর দুর্ভিক্ষ ধেয়ে আসছে। এর থেকে মুক্তি পেতে হলে এখনই আমাদেরকে দাঁড়াতে হবে।

অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্ত্বাধানে ছিলেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার।

ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল খালেক, ড্যাবের মহাসচিব ডা. মো: আব্দুস সালাম, সহ-সভাপতি ও সংশ্লিষ্ট উপকমিটির আহ্বায়ক ডা. মো. সিরাজুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ ডা. জহিরুল ইসলাম শাকিল, জেডআরএফের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য প্রকৌশলী মাহবুব আলম, ড্যাবের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ডা. মো. মেহেদী হাসান, যুগ্ম মহাসচিব, ডা. মো. পারভেজ রেজা কাকন, ডা. মো. আবুল কেনান, উপকমিটির সদস্য সচিব ডা. সরকার মাহবুব আহমেদ শামীম, বেসরকারি মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি ডা. রাকিবুল ইসলাম আকাশ, কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. সাইফুর রহমান রানা, বিএনপি নেতা মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা, আবু বকর সিদ্দিক, ঘোগাদহ ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক প্রমুখ। এসময় ড্যাব ও জেডআরএফের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পে বিভিন্ন বিষয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকসহ প্রায় একশত চিকিৎসক রোগীদের চিকিৎসা সেবা দেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সরকার এখন হত্যার রাজনীতি শুরু করেছে, অভিযোগ রিজভীর

আপডেট সময় ০৮:১৪:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ অগাস্ট ২০২২

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

বিদ্যুৎসহ নানান সংকট থেকে জনগণের দৃষ্টি অন্যদিকে সরাতে ও বিরোধীমত দমনে সরকার এখন হত্যার রাজনীতি শুরু করেছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

তিনি বলেছেন, অবৈধ সরকার ও আওয়ামী লীগের কারণে দেশে ভয়ঙ্কর দুর্ভিক্ষ ধেয়ে আসছে। আর জনগণের চোখ যাতে বিদ্যুতের দিকে, দুর্ভিক্ষের দিকে না যায় সেজন্য সরকার এখন হত্যার রাজনীতি শুরু করেছে।

বুধবার কুড়িগ্রামে বন্যার্তদের বিনামূল্যে ওষুধ এবং ত্রাণ বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন (জেডআরএফ) ও ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) যৌথ উদ্যোগে এবং স্থানীয় বিএনপির সহযোগিতায় সকাল ১০টা থেকে দুপুর ৩টা পর্যন্ত এ কর্মসূচি চলে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে রিজভী বলেন, ভোলাতে বিএনপির শান্তিপূর্ণ সমাবেশে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা আব্দুর রহিমকে পুলিশ গুলি করে হত্যা করেছে। কারণ বিএনপি ওই হত্যা নিয়ে ব্যস্ত থাক। তারা বিদ্যুৎ নিয়ে কৃষি নিয়ে কথা বলবে না। সেজন্যই সরকার দেশে রক্তগঙ্গা বইয়ে দিতে এবং ভয়ঙ্কর দুর্বৃত্তপরায়নতার দিকে দেশকে ঠেলে দিতে মারণঘাতী কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। আমাদেরকে এই সরকারের পতন ঘটাতে হবে।

তিনি অঅরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বিএনপির নেতাদের হাতে হারিকেন ধরিয়ে দেয়ার কথা। আরে হারিকেনটা ধরাবেন কী করে? আপনার দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, শেখ হাসিনার মতো সৎ লোক নেই। তিনি নাকি সততার প্রতীক! ওই যে বলে না ঠাকুর ঘরে কে রে? আমি কলা খাই না। কিন্তু কে কলা খেয়েছেন সেটা বলা হয়নি। আর ওবায়দুল কাদের বললেন তিনি সৎ! ঢোল বাজিয়ে আপনি বলছেন কারণ দেশবাসী জেনে গেছে ওই কুইক রেন্টালের টাকা কার পকেটে গেছে? গ্যাস ফিল্ডের টাকা, সোনালী ব্যাংকের টাকা কার কাছে গেছে? বেসিক ব্যাংক থেকে টাকা কার কাছে গেছে? সবাই শেখ হাসিনার আশেপাশের লোক। তাদের কাছেই গেছে। এজন্যই আজ বিদ্যুৎ নাই, গ্যাস নাই, সার নাই। কৃষি উৎপাদন অর্ধেক কমে যাবে।

তিনি বলেন, আমাদের গ্রামের গরিব মেয়েরা ঢাকায় গিয়ে গার্মেন্টেসে কাজ করে। সেই গার্মেন্টেসে বিদ্যুৎ না থাকার কারণে উৎপাদন কমেছে। বিদেশি ক্রেতারা বলছে আপনাদের সাথে আমরা আর বেশি কিনতে পারব না। কারণ তারা শিডিউল মতো সরবরাহ করতে পারে না। অর্থাৎ এই কারণে গ্রাম বাংলার অসংখ্য নারী-পুরুষ যারা গার্মেন্টেসে কাজ করেন তারা চাকরি হারাবে। না পারবে শহরে থাকতে না পারবে গ্রামে আসতে। না কৃষি উৎপাদনের সাথে থাকতে পারবে? আওয়ামী লীগের কারণে দেশে ভয়ঙ্কর দুর্ভিক্ষ ধেয়ে আসছে। এর থেকে মুক্তি পেতে হলে এখনই আমাদেরকে দাঁড়াতে হবে।

অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্ত্বাধানে ছিলেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার।

ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল খালেক, ড্যাবের মহাসচিব ডা. মো: আব্দুস সালাম, সহ-সভাপতি ও সংশ্লিষ্ট উপকমিটির আহ্বায়ক ডা. মো. সিরাজুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ ডা. জহিরুল ইসলাম শাকিল, জেডআরএফের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য প্রকৌশলী মাহবুব আলম, ড্যাবের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ডা. মো. মেহেদী হাসান, যুগ্ম মহাসচিব, ডা. মো. পারভেজ রেজা কাকন, ডা. মো. আবুল কেনান, উপকমিটির সদস্য সচিব ডা. সরকার মাহবুব আহমেদ শামীম, বেসরকারি মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি ডা. রাকিবুল ইসলাম আকাশ, কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. সাইফুর রহমান রানা, বিএনপি নেতা মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা, আবু বকর সিদ্দিক, ঘোগাদহ ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক প্রমুখ। এসময় ড্যাব ও জেডআরএফের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পে বিভিন্ন বিষয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকসহ প্রায় একশত চিকিৎসক রোগীদের চিকিৎসা সেবা দেন।