ঢাকা ০২:৩৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
‘যারা কেন্দ্র দখলের চিন্তা করছেন, তারা বাসা থেকে মা-বাবার দোয়া নিয়ে বের হইয়েন’:হাসনাত চট্টগ্রামের স্বপ্ন ভেঙে ফের চ্যাম্পিয়ন রাজশাহী ওয়ারিয়র্স অভিবাসন নীতি মেনে চলতে যুক্তরাষ্ট্রকে আহ্বান জাতিসংঘের দেশকে পুনর্নির্মাণ করতে হলে গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে : তারেক রহমান ‘একটি স্বার্থান্বেষী দল ইসলামী আন্দোলনকে ধোঁকা দিয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে’:রেজাউল করিম ছেলে এনসিপির প্রার্থী, বাবা ভোট চাইলেন ধানের শীষে পর্যাপ্ত খেলার মাঠের অভাবে তরুণ সমাজ বিপদগামী হচ্ছে : মির্জা আব্বাস বাংলাদেশি সন্দেহে ভারতে যুবককে পিটিয়ে হত্যা নতুন বিশ্ব ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হয়ে উঠছে তুরস্ক: এরদোগান জনগণ জেনে গেছে ‘হ্যা’ ভোট দেওয়া হলে দেশে স্বৈরাচার আর ফিরে আসবে না: প্রেস সচিব

আমরা হেরে গেছি, আন্দোলন থামবে না; কেন বলছেন শ্রীলঙ্কার বিক্ষোভকারীরা?

আকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

চরম অর্থনৈতিক সংকটে ভুগছে দ্বীপ রাষ্ট্র শ্রীলঙ্কা। এর জেরে দেশটিতে ছড়িয়ে পড়ে বিক্ষোভ। অবশেষে জনরোষের মুখে পড়ে দেশ থেকে পালিয়ে যান দেশটির প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসে।

এমতাবস্থায় ভোটের মাধ্যমে নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করেন শ্রীলঙ্কার পার্লামেন্টের সদস্যরা। এই নির্বাচনে নতুন প্রেসিডেন্ট হন রনিল বিক্রমাসিংহে, যিনি এর আগে সংকটকালীন মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রী ও পরবর্তীতে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেন।

বুধবার শ্রীলঙ্কার পার্লামেন্টে ২২৫ ভোটের মধ্যে ২১৯ সদস্য ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। এর মধ্যে রনিল বিক্রমাসিংহে পান ১৩৪ ভোট। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ডুলাস আলাহাপেরুমা পেয়েছেন ৮২ ভোট। আর অনুর কুমার দিসানায়েক পেয়েছেন ৩ ভোট।
নির্বাচিত নতুন প্রেসিডেন্ট ২০২৪ সালের নভেম্বর পর্যন্ত গোতাবায়া রাজাপাকসের উত্তরসূরি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

এদিকে, রনিল বিক্রমাসিংহ প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ায় দেশটির বিক্ষোভকারীদের মধ্যে হতাশা দেখা গেছে। অথচ গত সপ্তাহে বিক্ষোভস্থলে তারা সাবেক প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসের দেশত্যাগ ও পদত্যাগের খবরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছিলেন।

বুধবার সকালে কলম্বোতে প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের বাইরে জড়ো হয়েছিলেন দুই শতাধিক বিক্ষোভকারী। এই মাসের শুরুতে বিক্ষোভকারীরা যেসব সরকারি ভবন দখল করেছিল, এই ভবন সেগুলোর একটি।

কিন্তু, দুপুরের কিছুক্ষণ পর পার্লামেন্টে রনিল বিক্রমাসিংহে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ে। তিনি এখন বিক্ষোভ দমনের প্রস্তুতি নিতে পারেন বলে তাদের আশঙ্কা। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির বরাতে এ খবর জানিয়েছে এনডিটিভি।

পেশায় একজন সিভিল ইঞ্জিনিয়ার ও অ্যাক্টিভিস্ট নুজলি হামিম বলেন, “আমরা হতাশ, কিন্তু অবাক নই। আমরা রাজনীতিকদের কাছ থেকে অনেক কিছু আশা করি। তাদের উচিত এখন নিজেদের কৌশল যাচাই করা। কারণ, অনেকেই হতাশ।”

শ্রীলঙ্কার একজন পরিচিত অভিনেত্রী দামিথা আবেয়ারত্নে বলেন, “আমরা হেরে গেছি। গোটা দেশ হেরে গেছে।”

গত সপ্তাহে গোতাবায়া দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার পর পদত্যাগ করলে বিক্রমাসিংহে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেন। ছয়বার প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা বিক্রমাসিংহকে বিক্ষোভকারীরা রাজপাকসের পরিবারের প্রতি অনুগত হিসেবে মনে করেন।

আবেয়ারত্নে বলেন, রাজনীতিকরা তাদের ক্ষমতার জন্য লড়াই করছে, তারা জনগণের জন্য লড়াই করছে না। দুর্ভোগে থাকা মানুষদের জন্য তাদের কোনও অনুভূতি নেই।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া একজন ক্যাথলিক যাজক ফাদার জীবন্ত পেইরিস বলেন, “আমরা একটি সংকটের ভুক্তভোগী, যা রাজাপাকসের শাসনে তৈরি হয়েছে। এই শাসন ব্যবস্থার অংশ বিক্রমাসিংহে।”

তিনি আরও বলেন, “জনগণের আন্দোলন হিসেবে আমরা রনিলের বিরুদ্ধে। আমরা প্রতিবাদ চালিয়ে যাব, আমরা থামব না।”

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

লিবিয়াস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে ই-পাসপোর্ট সেবা উদ্বোধন

আমরা হেরে গেছি, আন্দোলন থামবে না; কেন বলছেন শ্রীলঙ্কার বিক্ষোভকারীরা?

আপডেট সময় ০১:০১:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ জুলাই ২০২২

আকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

চরম অর্থনৈতিক সংকটে ভুগছে দ্বীপ রাষ্ট্র শ্রীলঙ্কা। এর জেরে দেশটিতে ছড়িয়ে পড়ে বিক্ষোভ। অবশেষে জনরোষের মুখে পড়ে দেশ থেকে পালিয়ে যান দেশটির প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসে।

এমতাবস্থায় ভোটের মাধ্যমে নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করেন শ্রীলঙ্কার পার্লামেন্টের সদস্যরা। এই নির্বাচনে নতুন প্রেসিডেন্ট হন রনিল বিক্রমাসিংহে, যিনি এর আগে সংকটকালীন মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রী ও পরবর্তীতে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেন।

বুধবার শ্রীলঙ্কার পার্লামেন্টে ২২৫ ভোটের মধ্যে ২১৯ সদস্য ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। এর মধ্যে রনিল বিক্রমাসিংহে পান ১৩৪ ভোট। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ডুলাস আলাহাপেরুমা পেয়েছেন ৮২ ভোট। আর অনুর কুমার দিসানায়েক পেয়েছেন ৩ ভোট।
নির্বাচিত নতুন প্রেসিডেন্ট ২০২৪ সালের নভেম্বর পর্যন্ত গোতাবায়া রাজাপাকসের উত্তরসূরি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

এদিকে, রনিল বিক্রমাসিংহ প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ায় দেশটির বিক্ষোভকারীদের মধ্যে হতাশা দেখা গেছে। অথচ গত সপ্তাহে বিক্ষোভস্থলে তারা সাবেক প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসের দেশত্যাগ ও পদত্যাগের খবরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছিলেন।

বুধবার সকালে কলম্বোতে প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের বাইরে জড়ো হয়েছিলেন দুই শতাধিক বিক্ষোভকারী। এই মাসের শুরুতে বিক্ষোভকারীরা যেসব সরকারি ভবন দখল করেছিল, এই ভবন সেগুলোর একটি।

কিন্তু, দুপুরের কিছুক্ষণ পর পার্লামেন্টে রনিল বিক্রমাসিংহে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ে। তিনি এখন বিক্ষোভ দমনের প্রস্তুতি নিতে পারেন বলে তাদের আশঙ্কা। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির বরাতে এ খবর জানিয়েছে এনডিটিভি।

পেশায় একজন সিভিল ইঞ্জিনিয়ার ও অ্যাক্টিভিস্ট নুজলি হামিম বলেন, “আমরা হতাশ, কিন্তু অবাক নই। আমরা রাজনীতিকদের কাছ থেকে অনেক কিছু আশা করি। তাদের উচিত এখন নিজেদের কৌশল যাচাই করা। কারণ, অনেকেই হতাশ।”

শ্রীলঙ্কার একজন পরিচিত অভিনেত্রী দামিথা আবেয়ারত্নে বলেন, “আমরা হেরে গেছি। গোটা দেশ হেরে গেছে।”

গত সপ্তাহে গোতাবায়া দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার পর পদত্যাগ করলে বিক্রমাসিংহে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেন। ছয়বার প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা বিক্রমাসিংহকে বিক্ষোভকারীরা রাজপাকসের পরিবারের প্রতি অনুগত হিসেবে মনে করেন।

আবেয়ারত্নে বলেন, রাজনীতিকরা তাদের ক্ষমতার জন্য লড়াই করছে, তারা জনগণের জন্য লড়াই করছে না। দুর্ভোগে থাকা মানুষদের জন্য তাদের কোনও অনুভূতি নেই।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া একজন ক্যাথলিক যাজক ফাদার জীবন্ত পেইরিস বলেন, “আমরা একটি সংকটের ভুক্তভোগী, যা রাজাপাকসের শাসনে তৈরি হয়েছে। এই শাসন ব্যবস্থার অংশ বিক্রমাসিংহে।”

তিনি আরও বলেন, “জনগণের আন্দোলন হিসেবে আমরা রনিলের বিরুদ্ধে। আমরা প্রতিবাদ চালিয়ে যাব, আমরা থামব না।”