ঢাকা ০৮:৪৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
‘যারা কেন্দ্র দখলের চিন্তা করছেন, তারা বাসা থেকে মা-বাবার দোয়া নিয়ে বের হইয়েন’:হাসনাত চট্টগ্রামের স্বপ্ন ভেঙে ফের চ্যাম্পিয়ন রাজশাহী ওয়ারিয়র্স অভিবাসন নীতি মেনে চলতে যুক্তরাষ্ট্রকে আহ্বান জাতিসংঘের দেশকে পুনর্নির্মাণ করতে হলে গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে : তারেক রহমান ‘একটি স্বার্থান্বেষী দল ইসলামী আন্দোলনকে ধোঁকা দিয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে’:রেজাউল করিম ছেলে এনসিপির প্রার্থী, বাবা ভোট চাইলেন ধানের শীষে পর্যাপ্ত খেলার মাঠের অভাবে তরুণ সমাজ বিপদগামী হচ্ছে : মির্জা আব্বাস বাংলাদেশি সন্দেহে ভারতে যুবককে পিটিয়ে হত্যা নতুন বিশ্ব ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হয়ে উঠছে তুরস্ক: এরদোগান জনগণ জেনে গেছে ‘হ্যা’ ভোট দেওয়া হলে দেশে স্বৈরাচার আর ফিরে আসবে না: প্রেস সচিব

এবার রাশিয়ার সঙ্গে ২০ বছরের চুক্তির দ্বারপ্রান্তে ইরান

আকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

এবার রাশিয়ার সঙ্গে ২০ বছরের অর্থনৈতিক ও সামরিক চুক্তির রোডম্যাপ প্রস্তুত করছে ইরান। শিগগিরই এ চুক্তি স্বাক্ষর হবে। এর আগে চলতি বছরের মার্চে চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক সহযোগিতার ২৫ বছরের একটি চুক্তি করে ইরান। এর ফলে চীন ইরানে তাদের সেনা মোতায়েন করতে পারবে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, রাশিয়ার সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতার জন্য একটি চুক্তির রোডম্যাপ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। অবৈধ নিষেধাজ্ঞা বানচাল করার লক্ষ্য নিয়ে প্রতিবেশী, আঞ্চলিক ও বন্ধুসুলভ দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করার অংশ হিসেবে তেহরান এই সহযোগিতা চুক্তি করার উদ্যোগ নিয়েছে।

গতকাল (শনিবার) রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেলে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সাঈদ খাতিবজাদে একথা বলেছেন। তিনি প্রতিবেশী আরও কয়েকটি দেশের সঙ্গে এ ধরনের চুক্তির ইঙ্গিত দিয়েছেন।

গত মাসে ইরানের প্রেসিডেন্ট সাইয়্যেদ ইবরাহিম রায়িসি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে বলেছিলেন যে, দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতার জন্য পূর্ণাঙ্গ চুক্তি চূড়ান্ত করতে তেহরান প্রস্তুত রয়েছে। জবাবে পরমাণু শক্তিধর ও জাতিসংঘে ভেটো ক্ষমতাসম্পন্ন দেশ রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন তেহরানের সহযোগিতা প্রস্তাবের রোডম্যাপকে স্বাগত জানিয়ে বলেছিলেন, “যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আমরা এ চুক্তি চূড়ান্ত ও বাস্তবায়ন করতে আমরা প্রস্তুত।”

সম্ভাব্য চুক্তি সম্পর্কে খাতিবজাদে বলেন, “চীনের সঙ্গে যেমন ২৫ বছর মেয়াদি চুক্তি করা হয়েছে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গেও তেমনই চুক্তি করার জন্য মন্ত্রিসভার অনুমতি নিয়ে আমরা আলোচনা শুরু করব।”

২০১৮ সালে মার্কিন সরকার পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর ইরানের অর্থনীতি ধ্বংস করার জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালায় এবং কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। ওই নিষেধাজ্ঞা অকার্যকর করার জন্য ইরানের সর্বোচ্চ নেতা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলেছেন। এর আওতায় ইরান পূর্ব-মুখী অর্থনৈতিক নীতি গ্রহণ করেছে এবং প্রতিবেশী ও এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে গত মার্চে চীনের সঙ্গে ২৫ বছর মেয়াদি সহযোগিতা চুক্তিতে স্বাক্ষর করে ইরান।

চুক্তির রোডম্যাপ অনুযায়ী ইরানে চীনের বিনিয়োগের পরিমাণ আগামী ২৫ বছরে কমপক্ষে চার হাজার ৪০০ কোটি ডলারের সমপরিমাণ হতে পারে। সেই সঙ্গে প্রস্তাবিত চুক্তিতে সামরিক ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ‘যৌথ প্রশিক্ষণ, মহড়া, গবেষণা, যুদ্ধাস্ত্র তৈরি এবং গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদানের’ কথা রয়েছে। এছাড়াও, চুক্তিতে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য আগামী এক দশকের মধ্যে দশগুণ বাড়িয়ে ৬০ হাজার কোটি ডলারে উন্নীত করতে সম্মত হয়েছে দুই দেশ।

পাঁচ বছর আগে ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে তেহরান সফরকালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং প্রথম এ চুক্তির প্রস্তাব দেন। ১৯৭১ সালে বেইজিংয়ের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন রয়েছে তেহরানের।

গত কয়েক বছর ধরে মধ্যপ্রাচ্য এবং যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যমে বিশ্লেষকরা বলে আসছেন, পূর্ব এশিয়া, চীন ও ইরানের এ চুক্তি মধ্যপ্রাচ্য তথা এশিয়ার বিরাট একটি অংশের ভূ-রাজনৈতিক চালচিত্র বদলে দেবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

লিবিয়াস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে ই-পাসপোর্ট সেবা উদ্বোধন

এবার রাশিয়ার সঙ্গে ২০ বছরের চুক্তির দ্বারপ্রান্তে ইরান

আপডেট সময় ০৬:৩৫:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ ডিসেম্বর ২০২১

আকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

এবার রাশিয়ার সঙ্গে ২০ বছরের অর্থনৈতিক ও সামরিক চুক্তির রোডম্যাপ প্রস্তুত করছে ইরান। শিগগিরই এ চুক্তি স্বাক্ষর হবে। এর আগে চলতি বছরের মার্চে চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক সহযোগিতার ২৫ বছরের একটি চুক্তি করে ইরান। এর ফলে চীন ইরানে তাদের সেনা মোতায়েন করতে পারবে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, রাশিয়ার সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতার জন্য একটি চুক্তির রোডম্যাপ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। অবৈধ নিষেধাজ্ঞা বানচাল করার লক্ষ্য নিয়ে প্রতিবেশী, আঞ্চলিক ও বন্ধুসুলভ দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করার অংশ হিসেবে তেহরান এই সহযোগিতা চুক্তি করার উদ্যোগ নিয়েছে।

গতকাল (শনিবার) রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেলে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সাঈদ খাতিবজাদে একথা বলেছেন। তিনি প্রতিবেশী আরও কয়েকটি দেশের সঙ্গে এ ধরনের চুক্তির ইঙ্গিত দিয়েছেন।

গত মাসে ইরানের প্রেসিডেন্ট সাইয়্যেদ ইবরাহিম রায়িসি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে বলেছিলেন যে, দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতার জন্য পূর্ণাঙ্গ চুক্তি চূড়ান্ত করতে তেহরান প্রস্তুত রয়েছে। জবাবে পরমাণু শক্তিধর ও জাতিসংঘে ভেটো ক্ষমতাসম্পন্ন দেশ রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন তেহরানের সহযোগিতা প্রস্তাবের রোডম্যাপকে স্বাগত জানিয়ে বলেছিলেন, “যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আমরা এ চুক্তি চূড়ান্ত ও বাস্তবায়ন করতে আমরা প্রস্তুত।”

সম্ভাব্য চুক্তি সম্পর্কে খাতিবজাদে বলেন, “চীনের সঙ্গে যেমন ২৫ বছর মেয়াদি চুক্তি করা হয়েছে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গেও তেমনই চুক্তি করার জন্য মন্ত্রিসভার অনুমতি নিয়ে আমরা আলোচনা শুরু করব।”

২০১৮ সালে মার্কিন সরকার পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর ইরানের অর্থনীতি ধ্বংস করার জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালায় এবং কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। ওই নিষেধাজ্ঞা অকার্যকর করার জন্য ইরানের সর্বোচ্চ নেতা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলেছেন। এর আওতায় ইরান পূর্ব-মুখী অর্থনৈতিক নীতি গ্রহণ করেছে এবং প্রতিবেশী ও এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে গত মার্চে চীনের সঙ্গে ২৫ বছর মেয়াদি সহযোগিতা চুক্তিতে স্বাক্ষর করে ইরান।

চুক্তির রোডম্যাপ অনুযায়ী ইরানে চীনের বিনিয়োগের পরিমাণ আগামী ২৫ বছরে কমপক্ষে চার হাজার ৪০০ কোটি ডলারের সমপরিমাণ হতে পারে। সেই সঙ্গে প্রস্তাবিত চুক্তিতে সামরিক ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ‘যৌথ প্রশিক্ষণ, মহড়া, গবেষণা, যুদ্ধাস্ত্র তৈরি এবং গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদানের’ কথা রয়েছে। এছাড়াও, চুক্তিতে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য আগামী এক দশকের মধ্যে দশগুণ বাড়িয়ে ৬০ হাজার কোটি ডলারে উন্নীত করতে সম্মত হয়েছে দুই দেশ।

পাঁচ বছর আগে ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে তেহরান সফরকালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং প্রথম এ চুক্তির প্রস্তাব দেন। ১৯৭১ সালে বেইজিংয়ের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন রয়েছে তেহরানের।

গত কয়েক বছর ধরে মধ্যপ্রাচ্য এবং যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যমে বিশ্লেষকরা বলে আসছেন, পূর্ব এশিয়া, চীন ও ইরানের এ চুক্তি মধ্যপ্রাচ্য তথা এশিয়ার বিরাট একটি অংশের ভূ-রাজনৈতিক চালচিত্র বদলে দেবে।