ঢাকা ১০:৪৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
অক্টোবর-নভেম্বরে তিন দেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের সন্ত্রাস দমন তহবিলে কাতারের ১৪১ মিলিয়ন ডলার অনুদান নিউইয়র্কে চার দিনে ৩০টি কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত সফর জাতিসংঘে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি রোধে চার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর অক্টোবরেই চালু হচ্ছে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেশে ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ১৭৮২ সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি

রক্তক্ষরণ চলতে থাকলে বাঁচবেন না খালেদা জিয়া: ফখরুল

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে বিদেশে না পাঠিয়ে তাকে ‘তিলে তিলে হত্যার ষড়যন্ত্র চলছে’ বলে অভিযোগ করে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, তার রক্তক্ষরণ হচ্ছে এবং এই রক্তক্ষরণ যদি বেশিদিন চলে তাহলে তিনি আর বাঁচবেন না।

শুক্রবার (৩ ডিসেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বিদেশে চিকিৎসার দাবিতে জাতীয়তাবাদী কৃষক দল আয়োজিত সমাবেশ তিনি এ কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘একটা মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে আজকে দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে তিলে তিলে অত্যন্ত সচেতনভাবে হত্যা করা হচ্ছে- এই কথা আমরা বার বার বলছি। পৃথিবীর সব দেশ এটা জানে। আমাদের দেশের অন্যান্য রাজনৈতিক দল, বিভিন্ন সংগঠন, বুদ্ধিজীবী সবাই বলেছেন যে, দেশনেত্রীকে বাইরে চিকিৎসার সুযোগ দেন। আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, আজকে এসব করে কোনো লাভ হবে না। জনগণ জেগে উঠতে শুরু করেছে এবং জেগে উঠবে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত। পদ্মা-মেঘনা-যমুনার অববাহিকায় উত্তাল তরঙ্গ সৃষ্টি হবে এবং তোমাদের তখতে তাউস ভেঙে ছারখার হয়ে যাবে।

তিনি বলেন, আমাদেরকে আজকে জেগে উঠতে হবে। এই দুরাত্মা, দুঃশাসনকে পরাজিত করে সত্যিকার অর্থে আমাদেরকে ন্যায়-সত্য-মুক্ত-সুন্দর গণতান্ত্রিক সরকার ও মুক্ত রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা এবং দেশনেত্রীকে মুক্ত করতে হবে। আমাদের নেতা তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনতে হবে।

বসুন্ধরার এভারকেয়ার হাসপাতালের সিসিইউতে চিকিৎসাধীন দলের চেয়ারপারসনের সর্বশেষ অবস্থা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘তার (খালেদা জিয়া) রক্তক্ষরণ হচ্ছে এবং এই রক্তক্ষরণ যদি বেশিদিন চলে তাহলে তিনি বাঁচবেন না। তার (খালেদা জিয়া) যে রোগ হয়েছে আপনারা শুনেছেন- লিভার সিরোসিস। এটা মারাত্মক রোগ। এ রোগের চিকিৎসা আমাদের দেশে সেভাবে নেই। একমাত্র যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন এবং জার্মানিতে এ রোগের চিকিৎসা ভালো হয়।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আসুন, আজকে জুম্মাবার, পবিত্র দিন। আমাদের নেত্রীর সুস্থতার জন্য দোয়া করি। আমরা এর আগের জুম্মার দিন দোয়া করেছি, বায়তুল মোকাররমে লাখো মানুষ দোয়া করেছেন। প্রতিদিন প্রতি ওয়াক্তে নামাজের সময়ে আমাদের মা-বোনেরা দোয়া করছেন- আল্লাহ দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে সুস্থ করে আমাদের মধ্যে ফিরিয়ে নিয়ে আসুন।

কৃষক দলের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘আপনারা ছড়িয়ে পড়েন গোটা বাংলাদেশে। বাংলাদেশের সব কৃষককে বের করে আনুন ঘর থেকে, তারা তাদের নেত্রীর জন্য, বাংলাদেশের অস্তিত্বের জন্য, বাংলাদেশের আত্মার জন্য তারা সবাই আসুক, রাজপথে দাঁড়াক। আমরা সবাই একসঙ্গে দেশনেত্রীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠাই, গণতন্ত্রকে মুক্ত করি।

কৃষক দলের সভাপতি কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম বাবুলের পরিচালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও কৃষক দলের সাবেক সভাপতি শামসুজ্জামান দুদু, যুবদল সভাপতি সাইফুল আলম নীরব, সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দীন টুকু, বিএনপির স্বনির্ভর বিষয়ক সম্পাদক ও কৃষক দলের সহ-সভাপতি গৌতম চক্রবর্তী, কৃষক দলের যুগ্ম সম্পাদক টি এস আইয়ুব, মোশারফ হোসেন এমপি, ঢাকা মহানগর কৃষক দলের সভাপতি নাছির হায়দার, বিএনপির সহ-তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক আমিরুজ্জামান শিমুল, সাবেক ছাত্র নেতা হায়দার আলী লেলিন, দপ্তর সম্পাদক মো. শফিকুল ইসলাম প্রমুখ।

খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে গত ২৫ নভেম্বর থেকে বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠনগুলো সমাবেশ, মানববন্ধনের ধারাবাহিক কর্মসূচি করে যাচ্ছে। শনিবার (৪ ডিসেম্বর) ছাত্র দলের সমাবেশের মধ্য দিয়ে ৮ দিনের এই কর্মসূচি শেষ হবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিমান কার্গো নিরাপত্তা জোরদারে কঠোর ব্যবস্থার আহ্বান আইএটিএর

রক্তক্ষরণ চলতে থাকলে বাঁচবেন না খালেদা জিয়া: ফখরুল

আপডেট সময় ০৪:১৭:২৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে বিদেশে না পাঠিয়ে তাকে ‘তিলে তিলে হত্যার ষড়যন্ত্র চলছে’ বলে অভিযোগ করে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, তার রক্তক্ষরণ হচ্ছে এবং এই রক্তক্ষরণ যদি বেশিদিন চলে তাহলে তিনি আর বাঁচবেন না।

শুক্রবার (৩ ডিসেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বিদেশে চিকিৎসার দাবিতে জাতীয়তাবাদী কৃষক দল আয়োজিত সমাবেশ তিনি এ কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘একটা মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে আজকে দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে তিলে তিলে অত্যন্ত সচেতনভাবে হত্যা করা হচ্ছে- এই কথা আমরা বার বার বলছি। পৃথিবীর সব দেশ এটা জানে। আমাদের দেশের অন্যান্য রাজনৈতিক দল, বিভিন্ন সংগঠন, বুদ্ধিজীবী সবাই বলেছেন যে, দেশনেত্রীকে বাইরে চিকিৎসার সুযোগ দেন। আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, আজকে এসব করে কোনো লাভ হবে না। জনগণ জেগে উঠতে শুরু করেছে এবং জেগে উঠবে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত। পদ্মা-মেঘনা-যমুনার অববাহিকায় উত্তাল তরঙ্গ সৃষ্টি হবে এবং তোমাদের তখতে তাউস ভেঙে ছারখার হয়ে যাবে।

তিনি বলেন, আমাদেরকে আজকে জেগে উঠতে হবে। এই দুরাত্মা, দুঃশাসনকে পরাজিত করে সত্যিকার অর্থে আমাদেরকে ন্যায়-সত্য-মুক্ত-সুন্দর গণতান্ত্রিক সরকার ও মুক্ত রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা এবং দেশনেত্রীকে মুক্ত করতে হবে। আমাদের নেতা তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনতে হবে।

বসুন্ধরার এভারকেয়ার হাসপাতালের সিসিইউতে চিকিৎসাধীন দলের চেয়ারপারসনের সর্বশেষ অবস্থা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘তার (খালেদা জিয়া) রক্তক্ষরণ হচ্ছে এবং এই রক্তক্ষরণ যদি বেশিদিন চলে তাহলে তিনি বাঁচবেন না। তার (খালেদা জিয়া) যে রোগ হয়েছে আপনারা শুনেছেন- লিভার সিরোসিস। এটা মারাত্মক রোগ। এ রোগের চিকিৎসা আমাদের দেশে সেভাবে নেই। একমাত্র যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন এবং জার্মানিতে এ রোগের চিকিৎসা ভালো হয়।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আসুন, আজকে জুম্মাবার, পবিত্র দিন। আমাদের নেত্রীর সুস্থতার জন্য দোয়া করি। আমরা এর আগের জুম্মার দিন দোয়া করেছি, বায়তুল মোকাররমে লাখো মানুষ দোয়া করেছেন। প্রতিদিন প্রতি ওয়াক্তে নামাজের সময়ে আমাদের মা-বোনেরা দোয়া করছেন- আল্লাহ দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে সুস্থ করে আমাদের মধ্যে ফিরিয়ে নিয়ে আসুন।

কৃষক দলের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘আপনারা ছড়িয়ে পড়েন গোটা বাংলাদেশে। বাংলাদেশের সব কৃষককে বের করে আনুন ঘর থেকে, তারা তাদের নেত্রীর জন্য, বাংলাদেশের অস্তিত্বের জন্য, বাংলাদেশের আত্মার জন্য তারা সবাই আসুক, রাজপথে দাঁড়াক। আমরা সবাই একসঙ্গে দেশনেত্রীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠাই, গণতন্ত্রকে মুক্ত করি।

কৃষক দলের সভাপতি কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম বাবুলের পরিচালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও কৃষক দলের সাবেক সভাপতি শামসুজ্জামান দুদু, যুবদল সভাপতি সাইফুল আলম নীরব, সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দীন টুকু, বিএনপির স্বনির্ভর বিষয়ক সম্পাদক ও কৃষক দলের সহ-সভাপতি গৌতম চক্রবর্তী, কৃষক দলের যুগ্ম সম্পাদক টি এস আইয়ুব, মোশারফ হোসেন এমপি, ঢাকা মহানগর কৃষক দলের সভাপতি নাছির হায়দার, বিএনপির সহ-তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক আমিরুজ্জামান শিমুল, সাবেক ছাত্র নেতা হায়দার আলী লেলিন, দপ্তর সম্পাদক মো. শফিকুল ইসলাম প্রমুখ।

খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে গত ২৫ নভেম্বর থেকে বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠনগুলো সমাবেশ, মানববন্ধনের ধারাবাহিক কর্মসূচি করে যাচ্ছে। শনিবার (৪ ডিসেম্বর) ছাত্র দলের সমাবেশের মধ্য দিয়ে ৮ দিনের এই কর্মসূচি শেষ হবে।