আকাশ জাতীয় ডেস্ক:
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে আব্দুস সালাম নামে এক পুলিশ সদস্য প্রেমিকের বাড়িতে বিয়ের দাবিতে অনশন করছেন এক নারী। অনশনে বসা ওই নারী আব্দুস সালামের চাচাতো ভাই শাহ আলমের সাবেক স্ত্রী।
সালাম উপজেলার আলীনগর ইউনিয়নের জাঙ্গালীয়া গ্রামের তেরাব আলীর ছেলে। তিনি পুলিশ কনস্টেবল পদে চাকরি করেন এবং শুক্রবার গোপনে বিয়ে করতে যাচ্ছিলেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় ও অনশনরত নারীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা থেকে পুলিশ সদস্য আব্দুস সালামের বাড়িতে অনশন শুরু করেন ওই নারী। তার চাচাতো ভাইয়ের সঙ্গে ওই নারীর বিয়ের পর থেকেই সালাম তাকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে। একপর্যায়ে বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি নিষ্পত্তি হলেও সালাম ওই নারীকে বিয়ে করতে চায়নি।
পরে ওই নারী আব্দুস সালামের বিষয়ে তার তৎকালীন কর্মস্থল হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ থানা পুলিশকে অবগত করে হবিগঞ্জের পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন। বর্তমানে অভিযোগটি তদন্তাধীন অবস্থায় রয়েছে। এরই মধ্যে গোপনে বৃহস্পতিবার উপজেলার ইসলামপুর এলাকায় সালামের বিয়ে ঠিক করে তার পরিবার। বিয়ের খবর পেয়ে নিজের অধিকার আদায়ে বিয়ের দাবিতে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে পুলিশ সদস্য আব্দুস সালামের বাড়িতে অনশন শুরু করেন তার প্রেমিকা।
বৃহস্পতিবার সরেজমিন গেলে অনশনে থাকা নারী জানান, আব্দুস সালামের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের সম্পর্ক। সে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে তাকে নিয়ে বিভিন্ন হোটেলে গিয়ে রাতযাপনও করেছে।
তিনি বলেন, আমার পূর্বের স্বামীকেও তার কথায় ডিভোর্স দিয়েছি। এখন গোপনে বিয়ে করতে দিন-তারিখও ঠিক করেছে। আমি তাকে বিয়ে করার জন্যই এ বাড়িতে এসেছি।
তিনি অভিযোগ করে জানান, বাড়িতে প্রবেশের পর তাকে সালামসহ তার ভাবিরা মিলে মারধর করেছেন।
তবে মারধরের বিষয়টি অস্বীকার করে সালামের বাবা ও দুই ভাবি জানান, সালাম এই মেয়েকে বিয়ে করতে রাজি না। তাই তারা অন্যত্র বিয়ে ঠিক করেছেন। কিন্তু বৃহস্পতিবার সকালে মেয়েটি হঠাৎ করে এসে গালমন্দ শুরু করে বাড়ির সামনে বসে আছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য তাজউদ্দিন বলেন, বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে সালিশ বৈঠক হয়। কিন্তু সালাম এ বৈঠকের রায় মানেনি। এখন আর আমাদের কিছু করার নেই।
কমলগঞ্জ থানার ওসি ইয়ারদৌস হাসান বলেন, বিষয়টি শুনে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 
























