ঢাকা ০৮:১৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চলতি অক্টোবরের শেষ দিকে জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করলেন চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উদ্বোধনের আগেই কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনালে যাত্রীসেবা শুরু সাইবার সুরক্ষা আইন যেন নিপীড়নমূলক না হয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অক্টোবর-নভেম্বরে তিন দেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের সন্ত্রাস দমন তহবিলে কাতারের ১৪১ মিলিয়ন ডলার অনুদান নিউইয়র্কে চার দিনে ৩০টি কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত সফর জাতিসংঘে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি রোধে চার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর অক্টোবরেই চালু হচ্ছে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেশে ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ১৭৮২

১৩ বছরে ১৯ বার কোচ বদল

আকাশ স্পোর্টস ডেস্ক:

বলা হয়, ফুটবল কোচের ভাগ্য সুতোয় ঝুলে থাকে। ফল অনুকূলে না এলে গোটা দল বদলে ফেলার চেয়ে একজনকে সরিয়ে দেওয়াটাই সহজ সমাধান।

কোপটা তাই কোচের ওপর পড়ে। সবশেষ জেমি ডে’কে যেভাবে অব্যাহতি দিয়ে অস্কার ব্র“জোনের হাতে জাতীয় ফুটবল দলের দায়িত্ব তুলে দিয়েছে বাফুফে, তাতে নাটক আছে বিস্তর, বাস্তবতা যৎকিঞ্চিৎ।

কোচ বদলের সংস্কৃতির অবাধ চর্চা হয় গোটা ফুটবলবিশ্বে। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ থেকে শুরু করে স্প্যানিশ লা লিগায় হরহামেশা তার প্রকাশ ঘটতে দেখা যায়। একাধিকবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগজয়ী হোসে মরিনহো রিয়াল মাদ্রিদ, চেলসি ও ম্যানইউর কোচের পদ থেকে বরখাস্ত হয়েছেন।

বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনও (বাফুফে) কম যায় না। কাজী সালাউদ্দিনের ১৩ বছরের মেয়াদে বাংলাদেশের ডাগআউটে পরিবর্তন এসেছে ১৯ বার। সালাউদ্দিনের আমলে জাতীয় দলের ২০তম কোচ অস্কার ব্র“জোন। তবে বাংলাদেশের সাইফুল বারী টিটু ও নেদারল্যান্ডসের লোডভিক ডি ক্রুইফ তিন মেয়াদে দায়িত্ব পালন করায় এ সময় বাংলাদেশ জাতীয় দলকে কোচিং করিয়েছেন মূলত ১৬ জন। সম্প্রতি জেমিকে অব্যাহতি দিয়ে অস্কার ব্র“জোনের হাতে শুধু সাফের জন্য জাতীয় দল তুলে দেওয়া বাফুফের নতুন ‘সার্কাস’। আধুনিক ফুটবলে ফল মুখ্য আর সব গৌণ।

ভাগ্যক্রমে তিন বছর (মে ২০১৮ থেকে সেপ্টেম্বর ২০২১) টিকে যাওয়া জেমিকে ভালো কোচের ‘সনদ’ দিয়েছিলেন খোদ সালাউদ্দিন। সেই তিনিই শেষমেশ তার কাজে ‘অসন্তুষ্ট’ হয়ে অস্কারের শরণ নিলেন। প্রথমে বলা হয়েছিল, দুই মাসের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন কোচের ভূমিকায় থাকবেন এই স্প্যানিশ। পরে সেটি সীমিত করা হলো শুধু সাফের জন্য। তার মানে, বাফুফের প্রযোজনায় মেগা সিরিয়ালের আরেকটি পর্ব দেখার অপেক্ষায় থাকতে হবে। ২০০৮ থেকে ২০২১-১৩ বছরে সার্কভুক্ত সাত দেশের মধ্যে বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি ১৯ বার কোচ বদল করেছে। একই সময় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৫ বার নেপাল এবং ১৩ বার মালদ্বীপ কোচ বদল করেছে। সমান নয়বার করে ভুটান ও শ্রীলংকা এবং পাকিস্তান ও ভারত যথাক্রমে আট ও পাঁচবার কোচ বদলের পথে হেঁটেছে।

এ প্রসঙ্গে তিন মেয়াদে জাতীয় দলের দায়িত্ব পালন করা কোচ সাইফুল বারী টিটু বলেন, ‘কোচ অদলবদল হওয়া অবাক করার মতো কোনো ঘটনা নয়।’ আমি মনে করি, জাতীয় দলে স্থায়ী কোচ হওয়া উচিত নয়। ‘সদ্যসমাপ্ত প্রিমিয়ার লিগে শেখ রাসেলের দায়িত্বে থাকা এই কোচ যোগ করেন, ‘হয়তো টাইমিং ভালো হয়নি। আরও আগে জাতীয় দলের কোচ বদল হলে ভালো হতো।’

ফুটবলের উন্নয়নে বাস্তবতাবিবর্জিত চিন্তাভাবনা পরিহার না করে দীর্ঘমেয়াদে কোচ নিয়োগের পরিকল্পনায় বাফুফের ব্যর্থতা প্রসঙ্গে সদ্যপ্রয়াত বাফুফের সাবেক মিডিয়া ম্যানেজার আহমেদ সাঈদ আল ফাত্তাহ মৃত্যুর কয়েকদিন আগে যুগান্তরকে বলেছিলেন, ‘২০১৭ সালের আগে দীর্ঘমেয়াদে ভালো কোচ আনার জন্য অত টাকা বাফুফের ছিল না। এখন যেটা আছে। পাঁচ বছর আগে ফিফা তহবিল চালু হওয়ার পরও বাফুফে যথাযথ পরিকল্পনা নিতে পারেনি।’

তিনি বলেছিলেন, ‘তৃণমূল পর্যায়ে কোচিং ও রেফারিদের কোর্সসহ সারা দেশে ১৬-১৭টি প্রকল্প চালু করার কথা থাকলেও তার মাত্র ২০ শতাংশ বাস্তবায়ন হয়েছে। শুধু আর্থিক পরিকল্পনার ঘাটতির দরুন এমনটি হচ্ছে।’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দিরাইয়ে মেয়েদের ফুটবল ম্যাচ বন্ধের প্রতিবাদে সোচ্চার মহিলা ক্রীড়া

১৩ বছরে ১৯ বার কোচ বদল

আপডেট সময় ০৭:০৬:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১

আকাশ স্পোর্টস ডেস্ক:

বলা হয়, ফুটবল কোচের ভাগ্য সুতোয় ঝুলে থাকে। ফল অনুকূলে না এলে গোটা দল বদলে ফেলার চেয়ে একজনকে সরিয়ে দেওয়াটাই সহজ সমাধান।

কোপটা তাই কোচের ওপর পড়ে। সবশেষ জেমি ডে’কে যেভাবে অব্যাহতি দিয়ে অস্কার ব্র“জোনের হাতে জাতীয় ফুটবল দলের দায়িত্ব তুলে দিয়েছে বাফুফে, তাতে নাটক আছে বিস্তর, বাস্তবতা যৎকিঞ্চিৎ।

কোচ বদলের সংস্কৃতির অবাধ চর্চা হয় গোটা ফুটবলবিশ্বে। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ থেকে শুরু করে স্প্যানিশ লা লিগায় হরহামেশা তার প্রকাশ ঘটতে দেখা যায়। একাধিকবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগজয়ী হোসে মরিনহো রিয়াল মাদ্রিদ, চেলসি ও ম্যানইউর কোচের পদ থেকে বরখাস্ত হয়েছেন।

বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনও (বাফুফে) কম যায় না। কাজী সালাউদ্দিনের ১৩ বছরের মেয়াদে বাংলাদেশের ডাগআউটে পরিবর্তন এসেছে ১৯ বার। সালাউদ্দিনের আমলে জাতীয় দলের ২০তম কোচ অস্কার ব্র“জোন। তবে বাংলাদেশের সাইফুল বারী টিটু ও নেদারল্যান্ডসের লোডভিক ডি ক্রুইফ তিন মেয়াদে দায়িত্ব পালন করায় এ সময় বাংলাদেশ জাতীয় দলকে কোচিং করিয়েছেন মূলত ১৬ জন। সম্প্রতি জেমিকে অব্যাহতি দিয়ে অস্কার ব্র“জোনের হাতে শুধু সাফের জন্য জাতীয় দল তুলে দেওয়া বাফুফের নতুন ‘সার্কাস’। আধুনিক ফুটবলে ফল মুখ্য আর সব গৌণ।

ভাগ্যক্রমে তিন বছর (মে ২০১৮ থেকে সেপ্টেম্বর ২০২১) টিকে যাওয়া জেমিকে ভালো কোচের ‘সনদ’ দিয়েছিলেন খোদ সালাউদ্দিন। সেই তিনিই শেষমেশ তার কাজে ‘অসন্তুষ্ট’ হয়ে অস্কারের শরণ নিলেন। প্রথমে বলা হয়েছিল, দুই মাসের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন কোচের ভূমিকায় থাকবেন এই স্প্যানিশ। পরে সেটি সীমিত করা হলো শুধু সাফের জন্য। তার মানে, বাফুফের প্রযোজনায় মেগা সিরিয়ালের আরেকটি পর্ব দেখার অপেক্ষায় থাকতে হবে। ২০০৮ থেকে ২০২১-১৩ বছরে সার্কভুক্ত সাত দেশের মধ্যে বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি ১৯ বার কোচ বদল করেছে। একই সময় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৫ বার নেপাল এবং ১৩ বার মালদ্বীপ কোচ বদল করেছে। সমান নয়বার করে ভুটান ও শ্রীলংকা এবং পাকিস্তান ও ভারত যথাক্রমে আট ও পাঁচবার কোচ বদলের পথে হেঁটেছে।

এ প্রসঙ্গে তিন মেয়াদে জাতীয় দলের দায়িত্ব পালন করা কোচ সাইফুল বারী টিটু বলেন, ‘কোচ অদলবদল হওয়া অবাক করার মতো কোনো ঘটনা নয়।’ আমি মনে করি, জাতীয় দলে স্থায়ী কোচ হওয়া উচিত নয়। ‘সদ্যসমাপ্ত প্রিমিয়ার লিগে শেখ রাসেলের দায়িত্বে থাকা এই কোচ যোগ করেন, ‘হয়তো টাইমিং ভালো হয়নি। আরও আগে জাতীয় দলের কোচ বদল হলে ভালো হতো।’

ফুটবলের উন্নয়নে বাস্তবতাবিবর্জিত চিন্তাভাবনা পরিহার না করে দীর্ঘমেয়াদে কোচ নিয়োগের পরিকল্পনায় বাফুফের ব্যর্থতা প্রসঙ্গে সদ্যপ্রয়াত বাফুফের সাবেক মিডিয়া ম্যানেজার আহমেদ সাঈদ আল ফাত্তাহ মৃত্যুর কয়েকদিন আগে যুগান্তরকে বলেছিলেন, ‘২০১৭ সালের আগে দীর্ঘমেয়াদে ভালো কোচ আনার জন্য অত টাকা বাফুফের ছিল না। এখন যেটা আছে। পাঁচ বছর আগে ফিফা তহবিল চালু হওয়ার পরও বাফুফে যথাযথ পরিকল্পনা নিতে পারেনি।’

তিনি বলেছিলেন, ‘তৃণমূল পর্যায়ে কোচিং ও রেফারিদের কোর্সসহ সারা দেশে ১৬-১৭টি প্রকল্প চালু করার কথা থাকলেও তার মাত্র ২০ শতাংশ বাস্তবায়ন হয়েছে। শুধু আর্থিক পরিকল্পনার ঘাটতির দরুন এমনটি হচ্ছে।’