ঢাকা ০৭:৩০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
যারা ১৭ বছর দেশের বাইরে ছিল তারাই গুপ্ত: গোলাম পরওয়ার ক্যাম্পাসগুলোকে অস্থিতিশীল করার প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী রাজপথে নামলে সরকারের পতন ঘটাতে বেশি সময় লাগবে না: ইসহাক সরকার নাটোরে যুবদলের দু’পক্ষে সংঘর্ষ, মোটরসাইকেলে আগুন দোকান ভাঙচুর ধামরাইয়ে ঘরে ঢুকে এসএসসি পরীক্ষার্থীকে কুপিয়ে হত্যা এনসিপিতে যোগ দিলেন ইসহাক সরকার, রনি ও কাফি শিবির কি রগকাটা, শিবির কি গুপ্ত: গোলাম পরওয়ার দেশের অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করতে চাইলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না: অর্থমন্ত্রী ‘শিক্ষকরা কোনো দলের নেতা নন, রাজনীতি করলে শিক্ষকতা ছেড়ে দিন’:কায়সার কামাল দেশে তেলের সংকট নেই, কিছু মানুষ অনৈতিক ব্যবসা করছে: মির্জা ফখরুল

ডিএসইর সূচক ও বাজার মূলধনে রেকর্ড

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:   

করোনা মহামারির মধ্যেও নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) শক্তিশালী অবস্থানে ঘুরে দাঁড়িয়েছে দেশের পুঁজিবাজার। বিএসইসির নানা উদ্যোগে আগস্ট মাসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সূচক ও বাজার মূলধনে রেকর্ড গড়েছে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

এদিকে পুঁজিবাজার ইতিবাচক হওয়ায় এক দশকে মধ্যে সবচেয়ে স্বস্তিতে রয়েছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। তাদের মতে বিএসইসি নানা পদক্ষেপে আস্থা ফিরেছে বিনিয়োগকারীদের। শুধু তাই নয় সরকারের লকডাউনের মধ্যেও বিনিয়োগকারীরা ভালো মুনাফা অর্জনে সক্ষম হয়েছে।

এ ব্যপারে বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, দেশের প্রধান পুঁজিবাজারের ইতিহাসে আগে কখনই বাজার মূলধন ৫ লাখ ৫৭ হাজার কোটি টাকার ঘর স্পর্শ করেনি। বিএসইসি যোগ্য নেতৃত্বে বাজার ভালো অবস্থানে রয়েছে। অতীতের সব রেকর্ড ভেঙ্গেছে। আমরা আশা করছি অচিরেই ডিএসইর প্রতিদিনের লেনদেন ৩ থেকে ৪ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত হবে।

অপরদিকে বাজার বিশ্লেষকরা মনে করেন পুঁজিবাজারের উন্নয়নের লক্ষ্যে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বেশকিছু পদক্ষেপ নেয়ার কারণে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বেড়েছে। বিশেষ করে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কোম্পানি প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তি হয়েছে। এতে করে বাজার চাঙ্গা রয়েছে। সামনের দিনগুলোয় দেশের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে পুঁজিবাজার আরও গতিশীল হবে বলেও মনে করেন তারা।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, আগস্ট মাসে ডিএসইর সব সূচক বেড়েছে। ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগস্টে ৪৪৩.৯৯ পয়েন্ট বা ৬.৯১ শতাংশ বেড়ে ছয় হাজার ৮৬৯.২৪ পয়েন্ট দাঁড়ায়। জুলাই মাসের শেষ কার্যদিবস এই সূচকটি ছয় হাজার ৪২৫.২৫ পয়েন্টে ছিল।

জুলাই মাসের শেষ কার্যদিবস শরিয়াহ সূচক ছিল এক হাজার ৪০১.০৪ পয়েন্টে। যা আগস্ট মাসে ৮৯.২৫ পয়েন্ট বা ৬.৩৭ শতাংশ বেড়ে এক হাজার ৪৯০.২৯ পয়েন্টে দাঁড়ায়। অন্য দুই সূচকের মধ্যে ডিএসই-৩০ সূচক আগস্ট মাসে ১২৬.০৮ পয়েন্ট বা ৫.৪১ শতাংশ বেড়ে শেষ কার্যদিবসে দাঁড়ায় দুই হাজার ৪৫৩.৯৫ পয়েন্টে। জুলাই মাসের শেষ কার্যদিবস এ সূচকটি ছিল দুই হাজার ৩২৭.৮৭ পয়েন্টে।

আগস্টে ডিএসইর বাজার মূলধন বেড়েছে সাড়ে ২৩ হাজার কোটি টাকা। জুলাই মাসের শেষ কার্যদিবস ডিএসইর বাজার মূলধন ছিল ৫ লাখ ৩৪ হাজার ৪০৪ কোটি ৮০ লাখ ২৮ হাজার টাকায়। আর আগস্ট মাসের শেষ কার্যদিবস বাজার মূলধন দাঁড়ায় ৫ লাখ ৫৭ হাজার ৯৭২ কোটি ৩৩ লাখ ১৭ হাজার টাকায়। যা দেশের প্রধান পুঁজিবাজারটির ইতিহাসে এর আগে কখনই বাজার মূলধন ৫ লাখ ৫৭ হাজার কোটি টাকার ঘর স্পর্শ করেনি। অর্থাৎ মাসের ব্যবধানে ডিএসইতে বাজার মূলধন ২৩ হাজার ৫৬৭ কোটি ৫২ লাখ ৮৯ হাজার টাকা বা ৪.৪১ শতাংশ বেড়েছে।

অন্যদিকে শনিবার এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম বলেছেন, বিনিয়োগকারীদের সম্মান আমাদের রক্ষা করতে হবে। বিনিয়োগকারীদের যদি ভালো রিটার্ন এনশিউর করতে পারি তাহলে সকল টাকা পুঁজিবাজারে আসবে। তাই বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করছে বিএসইসি।

তিনি আরও বলেন, আমরা শেয়ারবাজারকে একটি উচ্চতায় নিয়ে যেতে চাই। যেটা বাংলাদেশের শেয়ারবাজার ডিজার্ভ করে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

ডিএসইর সূচক ও বাজার মূলধনে রেকর্ড

আপডেট সময় ০৬:৫৯:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:   

করোনা মহামারির মধ্যেও নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) শক্তিশালী অবস্থানে ঘুরে দাঁড়িয়েছে দেশের পুঁজিবাজার। বিএসইসির নানা উদ্যোগে আগস্ট মাসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সূচক ও বাজার মূলধনে রেকর্ড গড়েছে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

এদিকে পুঁজিবাজার ইতিবাচক হওয়ায় এক দশকে মধ্যে সবচেয়ে স্বস্তিতে রয়েছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। তাদের মতে বিএসইসি নানা পদক্ষেপে আস্থা ফিরেছে বিনিয়োগকারীদের। শুধু তাই নয় সরকারের লকডাউনের মধ্যেও বিনিয়োগকারীরা ভালো মুনাফা অর্জনে সক্ষম হয়েছে।

এ ব্যপারে বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, দেশের প্রধান পুঁজিবাজারের ইতিহাসে আগে কখনই বাজার মূলধন ৫ লাখ ৫৭ হাজার কোটি টাকার ঘর স্পর্শ করেনি। বিএসইসি যোগ্য নেতৃত্বে বাজার ভালো অবস্থানে রয়েছে। অতীতের সব রেকর্ড ভেঙ্গেছে। আমরা আশা করছি অচিরেই ডিএসইর প্রতিদিনের লেনদেন ৩ থেকে ৪ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত হবে।

অপরদিকে বাজার বিশ্লেষকরা মনে করেন পুঁজিবাজারের উন্নয়নের লক্ষ্যে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বেশকিছু পদক্ষেপ নেয়ার কারণে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বেড়েছে। বিশেষ করে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কোম্পানি প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তি হয়েছে। এতে করে বাজার চাঙ্গা রয়েছে। সামনের দিনগুলোয় দেশের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে পুঁজিবাজার আরও গতিশীল হবে বলেও মনে করেন তারা।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, আগস্ট মাসে ডিএসইর সব সূচক বেড়েছে। ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগস্টে ৪৪৩.৯৯ পয়েন্ট বা ৬.৯১ শতাংশ বেড়ে ছয় হাজার ৮৬৯.২৪ পয়েন্ট দাঁড়ায়। জুলাই মাসের শেষ কার্যদিবস এই সূচকটি ছয় হাজার ৪২৫.২৫ পয়েন্টে ছিল।

জুলাই মাসের শেষ কার্যদিবস শরিয়াহ সূচক ছিল এক হাজার ৪০১.০৪ পয়েন্টে। যা আগস্ট মাসে ৮৯.২৫ পয়েন্ট বা ৬.৩৭ শতাংশ বেড়ে এক হাজার ৪৯০.২৯ পয়েন্টে দাঁড়ায়। অন্য দুই সূচকের মধ্যে ডিএসই-৩০ সূচক আগস্ট মাসে ১২৬.০৮ পয়েন্ট বা ৫.৪১ শতাংশ বেড়ে শেষ কার্যদিবসে দাঁড়ায় দুই হাজার ৪৫৩.৯৫ পয়েন্টে। জুলাই মাসের শেষ কার্যদিবস এ সূচকটি ছিল দুই হাজার ৩২৭.৮৭ পয়েন্টে।

আগস্টে ডিএসইর বাজার মূলধন বেড়েছে সাড়ে ২৩ হাজার কোটি টাকা। জুলাই মাসের শেষ কার্যদিবস ডিএসইর বাজার মূলধন ছিল ৫ লাখ ৩৪ হাজার ৪০৪ কোটি ৮০ লাখ ২৮ হাজার টাকায়। আর আগস্ট মাসের শেষ কার্যদিবস বাজার মূলধন দাঁড়ায় ৫ লাখ ৫৭ হাজার ৯৭২ কোটি ৩৩ লাখ ১৭ হাজার টাকায়। যা দেশের প্রধান পুঁজিবাজারটির ইতিহাসে এর আগে কখনই বাজার মূলধন ৫ লাখ ৫৭ হাজার কোটি টাকার ঘর স্পর্শ করেনি। অর্থাৎ মাসের ব্যবধানে ডিএসইতে বাজার মূলধন ২৩ হাজার ৫৬৭ কোটি ৫২ লাখ ৮৯ হাজার টাকা বা ৪.৪১ শতাংশ বেড়েছে।

অন্যদিকে শনিবার এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম বলেছেন, বিনিয়োগকারীদের সম্মান আমাদের রক্ষা করতে হবে। বিনিয়োগকারীদের যদি ভালো রিটার্ন এনশিউর করতে পারি তাহলে সকল টাকা পুঁজিবাজারে আসবে। তাই বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করছে বিএসইসি।

তিনি আরও বলেন, আমরা শেয়ারবাজারকে একটি উচ্চতায় নিয়ে যেতে চাই। যেটা বাংলাদেশের শেয়ারবাজার ডিজার্ভ করে।