ঢাকা ০৬:৪৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬, ৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ঢাকার দুই সিটির ৫৬ ওয়ার্ড ডেঙ্গু ঝুঁকিতে

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

করোনার পাশাপাশি দেশে বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জরিপে রাজধানী ঢাকার এডিস মশার ঘনত্ব কোন কোন এলাকায় বেশি তা উঠে এসেছে। জরিপের পরিসংখ্যান থেকে জানা গেছে, ঢাকা দক্ষিণের ৩০টি এবং উত্তরের ২৬টি ওয়ার্ডের ডেঙ্গু পরিস্থিতি ঝুঁকিপূর্ণ। আর সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে বাসাবো ও গোড়ান এলাকাকে।

কোনো এলাকায় এডিস মশার ঘনত্ব পরিমাপের একক ব্রুটো ইনডেক্স ২০ এর বেশি হলেই তাকে ঝুঁকিপূর্ণ উপস্থিতি বলা যায়। জরিপে দেখা গেছে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসাবো ও গোড়ান এলাকার ব্রুটো ইনডেক্স ৭৩ দশমিক ৩।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার জাতীয় ম্যালেরিয়া নির্মূল ও এইডিসবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির আওতায় গত ২৯ জুলাই থেকে ৭ আগস্ট পর্যন্ত ১০ দিন ধরে জরিপ চলে।

রবিবার সংবাদ সম্মেলন করে জরিপের ফলাফল উপস্থাপন করেন জাতীয় ম্যালেরিয়া নির্মূল ও এইডিসবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির উপব্যবস্থাপক ডা. আফসানা আলমগীর খান। তিনি জানান, রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশনের ৯৮টি ওয়ার্ডের ১০০টি স্থানে জরিপ চালানো হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা উত্তরের ৪১টি এবং দক্ষিণের ৫৯টি।

জরিপের সময় এসব এলাকার তিন হাজারটি বাড়ি ও স্থাপনা পরিদর্শন করা হয়। দুই হাজার ৪১২টি বাড়ি ও স্থাপনায় এইডিস মশা পাওয়া যায়নি। ৫৮৮টি স্থানে এইডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেছে। অর্থাৎ মোট পরিদর্শন করা বাড়ির ১৯ দশমিক ৬০ শতাংশে এইডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেছে।

জরিপের তথ্যমতে, যতগুলো বাড়ি পরিদর্শন করে মশার উপস্থিতি পাওয়া গেছে শতকরা ১৯ দশমিক ৬০ শতাংশ বাড়ির মধ্যে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যে দেখা গেছে, গত বছরের চেয়ে এ বছর মশার উপস্থিতি বেশি। এ বছর ডিএসসিসির ৩০টি এবং ডিএনসিসির ২৬টি এলাকার ব্রুটো ইনডেক্স ২০ এর বেশি পাওয়া গেছে।

২০২০ সালের জরিপে ডিএসসিসির ১৭টি এবং ডিএনসিসির নয়টি এলাকার ব্রুটো ইনডেক্স ২০ এর বেশি পাওয়া গিয়েছিল।

ডেঙ্গুর প্রকোপ বেশি ঢাকার ‘নিচু এলাকায়’

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের ১০টি ওয়ার্ডের ১৯টি এলাকার ব্রটো ইনডেক্স ৪০ এর বেশি পাওয়া গেছে। দুই সিটি করপোরেশনের ৫৬টি এলাকায় ব্রটো ইনডেক্স ছিল ২০ বা তার বেশি।

জরিপের তথ্যে দেখা গেছে, ব্রুটো ইনডেক্স ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের এলিফ্যান্ট রোড, সায়েন্স ল্যাবরেটরি এলাকায় ৬৬ দশমিক ৭, ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডের আরকে মিশন রোড ও টিকাটুলিতে ৫০, ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বনশ্রীতে ৪০ এবং ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের মিন্টো রোড ও বেইলি রোডে ৪০।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডে ব্রুটো ইনডেক্স ৫৬ দশমিক ৭ পাওয়া গেছে। এই ওয়ার্ডে রয়েছে মগবাজার, নিউ ইস্কাটন এলাকা।

এছাড়া বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা ও নিকুঞ্জ নিয়ে গড়া ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের ব্রুটো ইনডেক্স ৪৮ দশমিক ৪, ১১ নম্বর ওয়ার্ডের কল্যাণপুর ও দারুস সালাম এলাকায় ৪৬ দশমিক ৭, ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের মিরপুর-১০ ও কাজীপাড়ায় ৪৩ দশমিক ৩ এবং মহাখালী ও নিকেতন এলাকা নিয়ে ডিএনসিসির ২০ নম্বর ওয়ার্ডে ৪০।

উত্তর সিটি করপোরেশনের আফতাবনগর ও মেরুল বাড্ডা এবং দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বংশালের ব্রুটো ইনডেক্স শূন্য পাওয়া গেছে জরিপে, অর্থাৎ এসব এলাকায় মশার উপস্থিতি পাওয়া যায়নি।

শনিবার সকাল ৮টা থেকে রবিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ডেঙ্গু শনাক্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ২৯১ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় রাজধানীর হাসপাতালে নতুন রোগী ভর্তি হয়েছে ২৫৯ জন ও রাজধানীর বাইরে ৩২ জন।

এমন অবস্থায় কেবল ডেঙ্গু বিশেষায়িত হাসপাতালই নয় সব হাসপাতালেই চিকিৎসা নিশ্চিত করার কথা জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, ডেঙ্গু এখন পর্যন্ত ভালোই আছে, পদক্ষেপ নিচ্ছে যতটুকু নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। চেষ্টা করা হচ্ছে সব হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্তদের চিকিৎসাসেবা দেওয়ার।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাকার দুই সিটির ৫৬ ওয়ার্ড ডেঙ্গু ঝুঁকিতে

আপডেট সময় ০৯:০০:২৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ অগাস্ট ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

করোনার পাশাপাশি দেশে বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জরিপে রাজধানী ঢাকার এডিস মশার ঘনত্ব কোন কোন এলাকায় বেশি তা উঠে এসেছে। জরিপের পরিসংখ্যান থেকে জানা গেছে, ঢাকা দক্ষিণের ৩০টি এবং উত্তরের ২৬টি ওয়ার্ডের ডেঙ্গু পরিস্থিতি ঝুঁকিপূর্ণ। আর সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে বাসাবো ও গোড়ান এলাকাকে।

কোনো এলাকায় এডিস মশার ঘনত্ব পরিমাপের একক ব্রুটো ইনডেক্স ২০ এর বেশি হলেই তাকে ঝুঁকিপূর্ণ উপস্থিতি বলা যায়। জরিপে দেখা গেছে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসাবো ও গোড়ান এলাকার ব্রুটো ইনডেক্স ৭৩ দশমিক ৩।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার জাতীয় ম্যালেরিয়া নির্মূল ও এইডিসবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির আওতায় গত ২৯ জুলাই থেকে ৭ আগস্ট পর্যন্ত ১০ দিন ধরে জরিপ চলে।

রবিবার সংবাদ সম্মেলন করে জরিপের ফলাফল উপস্থাপন করেন জাতীয় ম্যালেরিয়া নির্মূল ও এইডিসবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির উপব্যবস্থাপক ডা. আফসানা আলমগীর খান। তিনি জানান, রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশনের ৯৮টি ওয়ার্ডের ১০০টি স্থানে জরিপ চালানো হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা উত্তরের ৪১টি এবং দক্ষিণের ৫৯টি।

জরিপের সময় এসব এলাকার তিন হাজারটি বাড়ি ও স্থাপনা পরিদর্শন করা হয়। দুই হাজার ৪১২টি বাড়ি ও স্থাপনায় এইডিস মশা পাওয়া যায়নি। ৫৮৮টি স্থানে এইডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেছে। অর্থাৎ মোট পরিদর্শন করা বাড়ির ১৯ দশমিক ৬০ শতাংশে এইডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেছে।

জরিপের তথ্যমতে, যতগুলো বাড়ি পরিদর্শন করে মশার উপস্থিতি পাওয়া গেছে শতকরা ১৯ দশমিক ৬০ শতাংশ বাড়ির মধ্যে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যে দেখা গেছে, গত বছরের চেয়ে এ বছর মশার উপস্থিতি বেশি। এ বছর ডিএসসিসির ৩০টি এবং ডিএনসিসির ২৬টি এলাকার ব্রুটো ইনডেক্স ২০ এর বেশি পাওয়া গেছে।

২০২০ সালের জরিপে ডিএসসিসির ১৭টি এবং ডিএনসিসির নয়টি এলাকার ব্রুটো ইনডেক্স ২০ এর বেশি পাওয়া গিয়েছিল।

ডেঙ্গুর প্রকোপ বেশি ঢাকার ‘নিচু এলাকায়’

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের ১০টি ওয়ার্ডের ১৯টি এলাকার ব্রটো ইনডেক্স ৪০ এর বেশি পাওয়া গেছে। দুই সিটি করপোরেশনের ৫৬টি এলাকায় ব্রটো ইনডেক্স ছিল ২০ বা তার বেশি।

জরিপের তথ্যে দেখা গেছে, ব্রুটো ইনডেক্স ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের এলিফ্যান্ট রোড, সায়েন্স ল্যাবরেটরি এলাকায় ৬৬ দশমিক ৭, ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডের আরকে মিশন রোড ও টিকাটুলিতে ৫০, ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বনশ্রীতে ৪০ এবং ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের মিন্টো রোড ও বেইলি রোডে ৪০।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডে ব্রুটো ইনডেক্স ৫৬ দশমিক ৭ পাওয়া গেছে। এই ওয়ার্ডে রয়েছে মগবাজার, নিউ ইস্কাটন এলাকা।

এছাড়া বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা ও নিকুঞ্জ নিয়ে গড়া ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের ব্রুটো ইনডেক্স ৪৮ দশমিক ৪, ১১ নম্বর ওয়ার্ডের কল্যাণপুর ও দারুস সালাম এলাকায় ৪৬ দশমিক ৭, ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের মিরপুর-১০ ও কাজীপাড়ায় ৪৩ দশমিক ৩ এবং মহাখালী ও নিকেতন এলাকা নিয়ে ডিএনসিসির ২০ নম্বর ওয়ার্ডে ৪০।

উত্তর সিটি করপোরেশনের আফতাবনগর ও মেরুল বাড্ডা এবং দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বংশালের ব্রুটো ইনডেক্স শূন্য পাওয়া গেছে জরিপে, অর্থাৎ এসব এলাকায় মশার উপস্থিতি পাওয়া যায়নি।

শনিবার সকাল ৮টা থেকে রবিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ডেঙ্গু শনাক্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ২৯১ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় রাজধানীর হাসপাতালে নতুন রোগী ভর্তি হয়েছে ২৫৯ জন ও রাজধানীর বাইরে ৩২ জন।

এমন অবস্থায় কেবল ডেঙ্গু বিশেষায়িত হাসপাতালই নয় সব হাসপাতালেই চিকিৎসা নিশ্চিত করার কথা জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, ডেঙ্গু এখন পর্যন্ত ভালোই আছে, পদক্ষেপ নিচ্ছে যতটুকু নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। চেষ্টা করা হচ্ছে সব হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্তদের চিকিৎসাসেবা দেওয়ার।