ঢাকা ০৩:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬, ১৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গণতন্ত্রের উত্তরণের প্রক্রিয়াকে যারাই বাধাগ্রস্ত করবে জনগণ তাদেরকে প্রত্যাখ্যান করবে : সালাহউদ্দিন নির্বাচিত হলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে অপরাধ দমন করবেন মামুনুল হক ভুল তথ্য ছড়িয়ে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক নিয়ে গুজব ছড়াচ্ছে : আহসান মনসুর তারেক রহমানের সমাবেশস্থলে নেতাকর্মীদের ঢল যুক্তরাজ্যে লরিতে লুকিয়ে ২৩ বাংলাদেশিকে পাচারের চেষ্টা, আটক ৫ ইউক্রেনে রাশিয়ার নতুন হামলায় নিহত ৩ শুধু সৎ ও যোগ্য লোক দিয়ে সরকার চলে না: জামায়াত প্রার্থী পরীক্ষা বর্জন করে আন্দোলনে ঢাকা পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের শিক্ষার্থীরা দল দেখে না, মানুষ দেখে ভোট দেবেন: মেজর হাফিজ কোনও ধরনের চাঁদাবাজিকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না : ইলিয়াসপত্নী লুনা

সরকার যেটা মুখে বলে সেটাই সংবিধান: ফখরুল

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

দেশের বিচার বিভাগের কোনো স্বাধীনতা নেই বলে দাবি করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বলেছেন, অনেকে সংবিধানের কথা বলছেন, কিসের সংবিধান? সরকার যেটা মুখে বলে সেটাই এখন সংবিধান। বিচার বিভাগ সম্পূর্ণভাবে দলীয়করণ করা হয়েছে।

রবিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপিপন্থী সাংবাদিক রুহুল আমিন গাজীর কারামুক্তির দাবিতে এই আলোচনা সভার আয়োজন করে রুহুল আমিন গাজী মুক্তি পরিষদ।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘সাংবাদিক রুহুল আমিন গাজীকে অন্যায়ভাবে, সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে ১০ মাস আটকে রাখা হয়েছে। গাজী সাহেব শুধু একজন সাংবাদিক নন, তিনি স্বাধীনচেতা দেশপ্রেমিক মানুষ। সত্য কথা বলতেন এবং বড় গলায় কথা বলতেন, যেটা বর্তমান সরকার সহ্য করতে পারেনি। এই কারণে তাকে মিথ্যা মামলায় ১০ মাস আটকে রাখা হয়েছে।’

ফখরুল বলেন, ‘রুহুল আমিন গাজীকে যে আইনে আটক করেছে সেটা সম্পূর্ণ একটা গণবিরোধী আইন। মুক্ত সাংবাদিকতাবিরোধী একটি আইন। তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রদ্রোহিতা বলতে কী বোঝায়? একজন মুক্তিযোদ্ধা কখনো রাষ্ট্রদ্রোহী হতে পারে না। এই ডিজিটাল সিকিউরিটি মামলায় সংগ্রামের বয়োবৃদ্ধ সম্পাদককে দীর্ঘ সময় কারাগারে রাখা হয়েছে। আমার জানা মতে ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনে সাড়ে চার হাজার মামলা হয়েছে।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘সামগ্রিকভাবে আপনারা জানেন, এদেশে যারা স্বাধীনতার পক্ষে কথা বলছে, গণতন্ত্রের জন্য কথা বলছে, তাদেরকে মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে।’

ফখরুল দাবি করেন, ‘আমাদের বিএনপির ৩৫ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এমনকি ওয়ার্ড পর্যায়ের একজন কর্মীও বাদ যায়নি।’ বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘সরকারের পায়ের তলায় মাটি নেই। এই সরকার ভোট চোর, ভোটের আগের রাতে ভোট চুরি করে ক্ষমতায় এসেছে। গত ১৪ বছর ধরে দেখছি আমরা প্রেসক্লাবের বাইরে দাঁড়াবো সেটা করতে দিচ্ছে না। আমরা আমাদের পার্টি অফিসের সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলবো, সেটাও তারা দিচ্ছে না। অর্থাৎ যখন জনগণ থেকে একটা সরকার বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, তখন সে পাওয়ার দিয়ে টিকে থাকার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করে। সরকার সেটাই করছে।’

ফখরুল বলেন, ‘আমরা দাবি করবো পেশিশক্তি ব্যবহার না করে এই মুহূর্তে এই ফ্যাসিস্ট সরকারকে পদত্যাগ করে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন দিতে হবে। একটি নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পরিচালনায় একটি সুষ্ঠু নির্বাচন দিতে হবে।’

দলীয় চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলার প্রসঙ্গ তুলে ফখরুল বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়াকে নিম্ন আদালতে সাত বছর সাজা দেওয়া হয়েছে। আর সেটা হাইকোর্টের যাওয়ার পরে দশ বছর করা হয়েছে। যে মামলার কোনো ভিত্তি নেই। যে মামলায় দুই কোটি টাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে, সেটি এখন ওই ব্যাংকে আট কোটি টাকা হয়েছে। এই প্রশ্নগুলো এখন করে আর লাভ নেই।’

রুহুল আমিন গাজী মুক্তি পরিষদ আয়োজিত এক নাগরিক সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন দৈনিক নয়া দিগন্তের সম্পাদক মহিউদ্দিন আলমগীর, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, কবি আব্দুল হাই শিকদার, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক কামাল উদ্দিন সবুজ প্রমুখ।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ ঘিরে শ্রীলঙ্কায় এলিট নিরাপত্তা বাহিনী প্রস্তুত

সরকার যেটা মুখে বলে সেটাই সংবিধান: ফখরুল

আপডেট সময় ০৪:৩৬:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ অগাস্ট ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

দেশের বিচার বিভাগের কোনো স্বাধীনতা নেই বলে দাবি করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বলেছেন, অনেকে সংবিধানের কথা বলছেন, কিসের সংবিধান? সরকার যেটা মুখে বলে সেটাই এখন সংবিধান। বিচার বিভাগ সম্পূর্ণভাবে দলীয়করণ করা হয়েছে।

রবিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপিপন্থী সাংবাদিক রুহুল আমিন গাজীর কারামুক্তির দাবিতে এই আলোচনা সভার আয়োজন করে রুহুল আমিন গাজী মুক্তি পরিষদ।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘সাংবাদিক রুহুল আমিন গাজীকে অন্যায়ভাবে, সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে ১০ মাস আটকে রাখা হয়েছে। গাজী সাহেব শুধু একজন সাংবাদিক নন, তিনি স্বাধীনচেতা দেশপ্রেমিক মানুষ। সত্য কথা বলতেন এবং বড় গলায় কথা বলতেন, যেটা বর্তমান সরকার সহ্য করতে পারেনি। এই কারণে তাকে মিথ্যা মামলায় ১০ মাস আটকে রাখা হয়েছে।’

ফখরুল বলেন, ‘রুহুল আমিন গাজীকে যে আইনে আটক করেছে সেটা সম্পূর্ণ একটা গণবিরোধী আইন। মুক্ত সাংবাদিকতাবিরোধী একটি আইন। তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রদ্রোহিতা বলতে কী বোঝায়? একজন মুক্তিযোদ্ধা কখনো রাষ্ট্রদ্রোহী হতে পারে না। এই ডিজিটাল সিকিউরিটি মামলায় সংগ্রামের বয়োবৃদ্ধ সম্পাদককে দীর্ঘ সময় কারাগারে রাখা হয়েছে। আমার জানা মতে ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনে সাড়ে চার হাজার মামলা হয়েছে।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘সামগ্রিকভাবে আপনারা জানেন, এদেশে যারা স্বাধীনতার পক্ষে কথা বলছে, গণতন্ত্রের জন্য কথা বলছে, তাদেরকে মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে।’

ফখরুল দাবি করেন, ‘আমাদের বিএনপির ৩৫ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এমনকি ওয়ার্ড পর্যায়ের একজন কর্মীও বাদ যায়নি।’ বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘সরকারের পায়ের তলায় মাটি নেই। এই সরকার ভোট চোর, ভোটের আগের রাতে ভোট চুরি করে ক্ষমতায় এসেছে। গত ১৪ বছর ধরে দেখছি আমরা প্রেসক্লাবের বাইরে দাঁড়াবো সেটা করতে দিচ্ছে না। আমরা আমাদের পার্টি অফিসের সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলবো, সেটাও তারা দিচ্ছে না। অর্থাৎ যখন জনগণ থেকে একটা সরকার বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, তখন সে পাওয়ার দিয়ে টিকে থাকার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করে। সরকার সেটাই করছে।’

ফখরুল বলেন, ‘আমরা দাবি করবো পেশিশক্তি ব্যবহার না করে এই মুহূর্তে এই ফ্যাসিস্ট সরকারকে পদত্যাগ করে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন দিতে হবে। একটি নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পরিচালনায় একটি সুষ্ঠু নির্বাচন দিতে হবে।’

দলীয় চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলার প্রসঙ্গ তুলে ফখরুল বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়াকে নিম্ন আদালতে সাত বছর সাজা দেওয়া হয়েছে। আর সেটা হাইকোর্টের যাওয়ার পরে দশ বছর করা হয়েছে। যে মামলার কোনো ভিত্তি নেই। যে মামলায় দুই কোটি টাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে, সেটি এখন ওই ব্যাংকে আট কোটি টাকা হয়েছে। এই প্রশ্নগুলো এখন করে আর লাভ নেই।’

রুহুল আমিন গাজী মুক্তি পরিষদ আয়োজিত এক নাগরিক সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন দৈনিক নয়া দিগন্তের সম্পাদক মহিউদ্দিন আলমগীর, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, কবি আব্দুল হাই শিকদার, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক কামাল উদ্দিন সবুজ প্রমুখ।