ঢাকা ০৪:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬, ২৮ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ইন্দোনেশিয়ার তালাউড দ্বীপপুঞ্জে ৬.৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত ক্যাশলেস সোসাইটি হলে দেড় থেকে দুই লাখ কোটি টাকা রাজস্ব আয় বাড়বে: আহসান এইচ মনসুর দেড় যুগ আগের মামলায় খালাস পেলেন সাবেক উপমন্ত্রী দুলু বাংলাদেশের অভ্যন্তরে আরাকান আর্মির গুলি, কিশোরী নিহত সোমালিল্যান্ডকে ইসরায়েলের স্বীকৃতি, বাংলাদেশের প্রত্যাখ্যান-নিন্দা সশস্ত্র বাহিনীসহ ১৬ সংস্থার সঙ্গে ইসির বৈঠক নতুন করে শুরুর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করতে চাই: মাহফুজ আলম জয়-পলকের অভিযোগ গঠন নিয়ে প্রসিকিউশনের শুনানি আজ বিক্ষোভকারীদের ‘আল্লাহর শত্রু’ ঘোষণা ইরানের, মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করার হুঁশিয়ারি ইরানে ‘রেড লাইন’ ঘোষণা

ডলারের দাম বাড়ার রেকর্ড

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধির পাশাপাশি আমদানি কমে যাওয়ার কারণে দেশে ডলারের সরবরাহ বেড়ে গিয়েছিল। সরবরাহ বৃদ্ধির ফলে দাম কমে যাওয়ার আশঙ্কায় বাজার থেকে রেকর্ড পরিমাণ ডলার কেনে বাংলাদেশ ব্যাংক।

তবে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শিথিল হয়ে আসতে থাকায় এই চিত্র পাল্টে গেছে। আমদানি আবার বাড়তে শুরু করায় ব্যাংকগুলোর ডলারের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় দাম সর্বোচ্চ অবস্থানে উঠে এসেছে। দর নিয়ন্ত্রণে ব্যাংকগুলোর কাছে ডলার বিক্রি করতে শুরু করলেও দাম বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি।

১৯ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) বিদেশি মুদ্রায় লেনদেনে নিয়োজিত অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ ৮৫ টাকায় ১ ডলার বিক্রি হয়। এর আগে কখনোই এত দামে ডলার বিক্রি হয়নি। এর আগে ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে করোনাভাইরাসের প্রকোপের আগে ডলারের সর্বোচ্চ দর উঠেছিল ৮৪ দশমিক ৯৫ টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘গত বৃহস্পতিবার ব্যাংকগুলোর চাহিদা মেটাতে ৫ কোটি ডলার বিক্রি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এছাড়া শ্রীলংকার সঙ্গে ডলার সোয়াপের মাধ্যমে ৫ কোটি ডলার ছাড় করা হয়। এর পরও বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ৪ হাজার ৬৫৮ কোটি ডলার। যা এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ রিজার্ভ। ’

ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, করোনার দ্বিতীয় ঢেউ সামলে নিয়ে অর্থনীতির চাকা আবার গতিশীল হচ্ছে। সামনে ডলারের দর বাড়তে পারে এমন সম্ভবনা থেকে অনেক ব্যাংক ডলার কেনা বাড়িয়েছে। তাদের আশঙ্কা সামনে রেমিট্যান্স কমে যাবে। ফলে ডলারের যোগান আগের মতো থাকবে না। তাছাড়া আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যেও আবার স্বাভাবিক ধারায় ফিরবে। যে কারণে ডলারের চাহিদাও বাড়বে বলে মনে করছেন তারা। বাড়তি ডলারের যোগান দেওয়ার জন্য ব্যাংকগুলো তাদের নিজেদের কাছে ডলার ধরে রাখার পরিমাণ বাড়াচ্ছে।

তাছাড়া চলতি অর্থবছরের মুদ্রানীতিতেও ডলারের দর বাড়ার ঈঙ্গিত দেওয়া হয়। ফলে সর্বাধিক ব্যবহৃত এই বিদেশি মুদ্রাটির দেশের বাজারে দাম বাড়তে শুরু করে। আর গত ২৯ জুলাই মুদ্রানীতি ঘোষণার পর থেকেই ডলারের দর ধারাবাহিকভাবে বাড়তে দেখা যায়।

চলতি আগস্ট মাসের প্রথম কর্মদিবস (২ আগস্ট) আন্তব্যাংক মুদ্রা বিনিময় হার অনুযায়ী ডলারের ক্রয়মূল্য ছিল ৮৪ দশমিক ৮০ টাকা। বিক্রয় মূল্য ছিল ৮৪ দশমিক ৮১ টাকা। ১৯ আগস্ট আন্তব্যাংক মুদ্রা বিনিময় হার অনুযায়ী ডলারের ক্রয়মূল্য ছিল ৮৪ দশমিক ৯০ টাকা এবং বিক্রিয় মূল্য ছিল ৮৫ টাকা। অর্থাৎ চলতি মাসের প্রথম ১৯ দিনে বিদেশি মুদ্রায় লেনদেনে নিয়োজিত অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকগুলোর মধ্যকার লেনদেনে ১০ পয়সা বেশি দিয়ে কেনা এবং ১৯ পয়সা বেশি দিয়ে বিক্রি হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত পরিসংখ্যান ঘেটে এ চিত্র পাওয়া যায়।

প্রাপ্ত তথ্যে আরও দেখা যায়, গত জুলাই মাসের শেষ কর্মদিবসে (২৯ জুলাই) আন্তব্যাংক মুদ্রা বিনিময় হার অনুযায়ী, ডলারের ক্রয়মূল্য ছিল ৮৪ দশমিক ৮০ টাকা। বিক্রয়মূল্য ছিল ৮৪ দশমিক ৮০ টাকা। বিগত কয়েক মাস ধরেই এই দর একরকম স্থির ছিল।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যাণ অনুযায়ী, গত ২০১৪ সালের আগস্টে ডলারের আন্তব্যাংক মুদ্রা বিনিময় হার ছিল ৭৭ দশমিক ৪০ টাকা। ২০১৫ সালের আগস্টে এই দর বেড়ে হয় ৭৭ দশমিক ৮০ টাকা। ২০১৬ সালে আগস্টে ডলারের দর ছিল ৭৮ দশমিক ৪০ টাকা। ২০১৭ সালের আগস্টে ডলারের দর বেড়ে হয় ৮০ দশমিক ৭০ টাকা। ২০১৮ সালের আগস্টে ডলারের দর ৮৩ দশমিক ৭৫ টাকা হয়। ২০১৯ সালের ১২ জানুয়ারি ডলারের দর এক দিনে ৮৩ দশমিক ৯৫ টাকা থেকে এক লাফে ৮৪ দশমিক ৯০ টাকায় উঠে আসে। তবে এর পরপরই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হস্তক্ষেপে ডলারের দর আবার আগের অবস্থানে ফিরে আসে।

তবে ওই বছরের ডিসেম্বর নাগাদ ডলারের দর একটু একটু করে বেড়ে আবার ৮৪ দশমিক ৯০ টাকায় উঠে আসে। সে সময় অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এক অনুষ্ঠানে জানান সরকার টাকার অবমূল্যয়ন চায় না। এর ফলে ডলার বেশ কিছুকাল এই দরে স্থির ছিল। তবে ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত ডলারের দর ছিল ৮৪ দশমিক ৯৫ টাকা। জুন মাসে ওই দর কমে ৮৪ দশমিক ৮৫ টাকায় নেমে আসে। এর পর থেকে ডলারের দর চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত ৮৪ দশমিক ৮০ টাকার মধ্যেই ছিল।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইন্দোনেশিয়ার তালাউড দ্বীপপুঞ্জে ৬.৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত

ডলারের দাম বাড়ার রেকর্ড

আপডেট সময় ১২:০৪:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ অগাস্ট ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধির পাশাপাশি আমদানি কমে যাওয়ার কারণে দেশে ডলারের সরবরাহ বেড়ে গিয়েছিল। সরবরাহ বৃদ্ধির ফলে দাম কমে যাওয়ার আশঙ্কায় বাজার থেকে রেকর্ড পরিমাণ ডলার কেনে বাংলাদেশ ব্যাংক।

তবে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শিথিল হয়ে আসতে থাকায় এই চিত্র পাল্টে গেছে। আমদানি আবার বাড়তে শুরু করায় ব্যাংকগুলোর ডলারের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় দাম সর্বোচ্চ অবস্থানে উঠে এসেছে। দর নিয়ন্ত্রণে ব্যাংকগুলোর কাছে ডলার বিক্রি করতে শুরু করলেও দাম বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি।

১৯ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) বিদেশি মুদ্রায় লেনদেনে নিয়োজিত অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ ৮৫ টাকায় ১ ডলার বিক্রি হয়। এর আগে কখনোই এত দামে ডলার বিক্রি হয়নি। এর আগে ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে করোনাভাইরাসের প্রকোপের আগে ডলারের সর্বোচ্চ দর উঠেছিল ৮৪ দশমিক ৯৫ টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘গত বৃহস্পতিবার ব্যাংকগুলোর চাহিদা মেটাতে ৫ কোটি ডলার বিক্রি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এছাড়া শ্রীলংকার সঙ্গে ডলার সোয়াপের মাধ্যমে ৫ কোটি ডলার ছাড় করা হয়। এর পরও বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ৪ হাজার ৬৫৮ কোটি ডলার। যা এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ রিজার্ভ। ’

ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, করোনার দ্বিতীয় ঢেউ সামলে নিয়ে অর্থনীতির চাকা আবার গতিশীল হচ্ছে। সামনে ডলারের দর বাড়তে পারে এমন সম্ভবনা থেকে অনেক ব্যাংক ডলার কেনা বাড়িয়েছে। তাদের আশঙ্কা সামনে রেমিট্যান্স কমে যাবে। ফলে ডলারের যোগান আগের মতো থাকবে না। তাছাড়া আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যেও আবার স্বাভাবিক ধারায় ফিরবে। যে কারণে ডলারের চাহিদাও বাড়বে বলে মনে করছেন তারা। বাড়তি ডলারের যোগান দেওয়ার জন্য ব্যাংকগুলো তাদের নিজেদের কাছে ডলার ধরে রাখার পরিমাণ বাড়াচ্ছে।

তাছাড়া চলতি অর্থবছরের মুদ্রানীতিতেও ডলারের দর বাড়ার ঈঙ্গিত দেওয়া হয়। ফলে সর্বাধিক ব্যবহৃত এই বিদেশি মুদ্রাটির দেশের বাজারে দাম বাড়তে শুরু করে। আর গত ২৯ জুলাই মুদ্রানীতি ঘোষণার পর থেকেই ডলারের দর ধারাবাহিকভাবে বাড়তে দেখা যায়।

চলতি আগস্ট মাসের প্রথম কর্মদিবস (২ আগস্ট) আন্তব্যাংক মুদ্রা বিনিময় হার অনুযায়ী ডলারের ক্রয়মূল্য ছিল ৮৪ দশমিক ৮০ টাকা। বিক্রয় মূল্য ছিল ৮৪ দশমিক ৮১ টাকা। ১৯ আগস্ট আন্তব্যাংক মুদ্রা বিনিময় হার অনুযায়ী ডলারের ক্রয়মূল্য ছিল ৮৪ দশমিক ৯০ টাকা এবং বিক্রিয় মূল্য ছিল ৮৫ টাকা। অর্থাৎ চলতি মাসের প্রথম ১৯ দিনে বিদেশি মুদ্রায় লেনদেনে নিয়োজিত অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকগুলোর মধ্যকার লেনদেনে ১০ পয়সা বেশি দিয়ে কেনা এবং ১৯ পয়সা বেশি দিয়ে বিক্রি হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত পরিসংখ্যান ঘেটে এ চিত্র পাওয়া যায়।

প্রাপ্ত তথ্যে আরও দেখা যায়, গত জুলাই মাসের শেষ কর্মদিবসে (২৯ জুলাই) আন্তব্যাংক মুদ্রা বিনিময় হার অনুযায়ী, ডলারের ক্রয়মূল্য ছিল ৮৪ দশমিক ৮০ টাকা। বিক্রয়মূল্য ছিল ৮৪ দশমিক ৮০ টাকা। বিগত কয়েক মাস ধরেই এই দর একরকম স্থির ছিল।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যাণ অনুযায়ী, গত ২০১৪ সালের আগস্টে ডলারের আন্তব্যাংক মুদ্রা বিনিময় হার ছিল ৭৭ দশমিক ৪০ টাকা। ২০১৫ সালের আগস্টে এই দর বেড়ে হয় ৭৭ দশমিক ৮০ টাকা। ২০১৬ সালে আগস্টে ডলারের দর ছিল ৭৮ দশমিক ৪০ টাকা। ২০১৭ সালের আগস্টে ডলারের দর বেড়ে হয় ৮০ দশমিক ৭০ টাকা। ২০১৮ সালের আগস্টে ডলারের দর ৮৩ দশমিক ৭৫ টাকা হয়। ২০১৯ সালের ১২ জানুয়ারি ডলারের দর এক দিনে ৮৩ দশমিক ৯৫ টাকা থেকে এক লাফে ৮৪ দশমিক ৯০ টাকায় উঠে আসে। তবে এর পরপরই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হস্তক্ষেপে ডলারের দর আবার আগের অবস্থানে ফিরে আসে।

তবে ওই বছরের ডিসেম্বর নাগাদ ডলারের দর একটু একটু করে বেড়ে আবার ৮৪ দশমিক ৯০ টাকায় উঠে আসে। সে সময় অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এক অনুষ্ঠানে জানান সরকার টাকার অবমূল্যয়ন চায় না। এর ফলে ডলার বেশ কিছুকাল এই দরে স্থির ছিল। তবে ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত ডলারের দর ছিল ৮৪ দশমিক ৯৫ টাকা। জুন মাসে ওই দর কমে ৮৪ দশমিক ৮৫ টাকায় নেমে আসে। এর পর থেকে ডলারের দর চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত ৮৪ দশমিক ৮০ টাকার মধ্যেই ছিল।