ঢাকা ০৮:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬, ৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আ.লীগ দেশ বিক্রি করে অবৈধভাবে ক্ষমতা ভোগ করেছিল: আসিফ নজরুল প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে এনসিপির প্রতিনিধিদলের বৈঠক গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার ৬ মাত্রার ভয়াবহ ভূমিকম্পে কাঁপল পাকিস্তান, একজনের মৃত্যু ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে: জোনায়েদ সাকি অনিয়মের প্রমাণ থাকলে যেকোনো বিচার মেনে নিতে প্রস্তুত: আসিফ এক্সপ্রেসওয়েতে চলন্ত অ্যাম্বুলেন্সে আগুন, প্রাণে রক্ষা পেলেন রোগীসহ চারজন ক্ষমতা হস্তান্তর ও গণভোট নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর প্রচেষ্টা অভিযোগ প্রেস সচিবের ‘ক্ষমতায় গেলে গণঅভ্যুত্থানে হতাহতদের পরিবারকে পুনর্বাসন করবে বিএনপি’:রিজভী রাজনৈতিক দলের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে : ইসি আনোয়ারুল

প্রতীকী ক্লাসেই কি খুলবে বিশ্ববিদ্যালয়?

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

করোনা অতিমারিতে দীর্ঘ দেড় বছর ধরে বন্ধ রয়েছে সরাসরি শিক্ষা কার্যক্রম। সংগত কারণে শিক্ষার্থীরা পড়েছেন নানামুখী সংকটে।

কিন্তু সব কিছু সীমিত পরিসরে বা স্বাস্থ্যবিধি মেনে উন্মুক্ত করা হলেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার তারিখ পিছিয়েছে একের পর এক।

সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে খোলা আকাশের নিচে প্রতীকী ক্লাসের আয়োজন করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষকরা। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার দাবিতে এ ধরনের প্রতীকী ক্লাস ভারতের যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়েও হয়েছে। ঢাবিতেও রাজপথে প্রতীকী ক্লাসের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে প্রগতিশীল ছাত্রজোট।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার সিদ্ধান্ত পুরোটা সরকারের ওপর নির্ভর করবে। তবে প্রতীকী ক্লাস এক ধরনের প্রতিবাদ। এ ধরনের কর্মসূচি নিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেখা গেছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। স্বাস্থ্যবিধি মেনে আবাসিক হল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার দাবিতে আন্দোলনকারীরা এটিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। আবার একটি অংশ করোনা সংক্রমণের মধ্যে এ দাবিকে দেখছেন নেতিবাচকভাবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী তাওসিফ রহমান বলেন, প্রতীকী ক্লাস একটি বার্তা বহন করে। আবার সংক্রমণের মধ্যে দ্রুত হল খোলা হলে কোনো শিক্ষার্থী যদি আক্রান্ত হয়ে মারা যান, তখন আবার বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের জন্য আন্দোলন শুরু হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল-মামুন বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীরা মানসিক ও আর্থিকভাবে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। টিকা নিশ্চিত করে বিশ্ববিদ্যালয় দ্রুত খুলে দেওয়া উচিত। বর্তমান প্রেক্ষাপটে প্রতীকী ক্লাস একটি প্রতিবাদ হিসেবে দেখছি।

ঢাবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. রহমত উল্লাহবলেন, প্রতীকী ক্লাস একটি আলোচনায় আসার কর্মসূচি। আমাদের শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করতে হবে। এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের সব বিভাগে অনলাইনে ক্লাস-পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আমার বিভাগে সিলেবাস সংক্ষিপ্ত করে প্রতিটি সেমিস্টার দ্রুত শেষ করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। সেটি বাস্তবায়ন হলে শিক্ষার্থীরা ২০২৩ সালের মধ্যে অনার্স শেষ করতে পারবেন।

তিনি আরও বলেন, ঢাবিতে প্রতীকী ক্লাস তেমন কিছুই বয়ে আনবে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮০ ভাগ শিক্ষার্থী ঢাকার বাইরের। তাদের আবাসন নিয়ে আমাদের ভাবতে হবে। হলে শিক্ষার্থীরা চার জনের কক্ষে ২০ জন থাকেন। সবার টিকা নিশ্চিত করে তারপর হল খুলতে হবে। আমরা আশা করছি, টিকা বা প্রতিষেধক দ্রুত উৎপাদন হলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রতীকী ক্লাসেই কি খুলবে বিশ্ববিদ্যালয়?

আপডেট সময় ১০:১৪:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ অগাস্ট ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

করোনা অতিমারিতে দীর্ঘ দেড় বছর ধরে বন্ধ রয়েছে সরাসরি শিক্ষা কার্যক্রম। সংগত কারণে শিক্ষার্থীরা পড়েছেন নানামুখী সংকটে।

কিন্তু সব কিছু সীমিত পরিসরে বা স্বাস্থ্যবিধি মেনে উন্মুক্ত করা হলেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার তারিখ পিছিয়েছে একের পর এক।

সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে খোলা আকাশের নিচে প্রতীকী ক্লাসের আয়োজন করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষকরা। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার দাবিতে এ ধরনের প্রতীকী ক্লাস ভারতের যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়েও হয়েছে। ঢাবিতেও রাজপথে প্রতীকী ক্লাসের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে প্রগতিশীল ছাত্রজোট।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার সিদ্ধান্ত পুরোটা সরকারের ওপর নির্ভর করবে। তবে প্রতীকী ক্লাস এক ধরনের প্রতিবাদ। এ ধরনের কর্মসূচি নিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেখা গেছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। স্বাস্থ্যবিধি মেনে আবাসিক হল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার দাবিতে আন্দোলনকারীরা এটিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। আবার একটি অংশ করোনা সংক্রমণের মধ্যে এ দাবিকে দেখছেন নেতিবাচকভাবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী তাওসিফ রহমান বলেন, প্রতীকী ক্লাস একটি বার্তা বহন করে। আবার সংক্রমণের মধ্যে দ্রুত হল খোলা হলে কোনো শিক্ষার্থী যদি আক্রান্ত হয়ে মারা যান, তখন আবার বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের জন্য আন্দোলন শুরু হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল-মামুন বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীরা মানসিক ও আর্থিকভাবে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। টিকা নিশ্চিত করে বিশ্ববিদ্যালয় দ্রুত খুলে দেওয়া উচিত। বর্তমান প্রেক্ষাপটে প্রতীকী ক্লাস একটি প্রতিবাদ হিসেবে দেখছি।

ঢাবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. রহমত উল্লাহবলেন, প্রতীকী ক্লাস একটি আলোচনায় আসার কর্মসূচি। আমাদের শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করতে হবে। এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের সব বিভাগে অনলাইনে ক্লাস-পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আমার বিভাগে সিলেবাস সংক্ষিপ্ত করে প্রতিটি সেমিস্টার দ্রুত শেষ করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। সেটি বাস্তবায়ন হলে শিক্ষার্থীরা ২০২৩ সালের মধ্যে অনার্স শেষ করতে পারবেন।

তিনি আরও বলেন, ঢাবিতে প্রতীকী ক্লাস তেমন কিছুই বয়ে আনবে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮০ ভাগ শিক্ষার্থী ঢাকার বাইরের। তাদের আবাসন নিয়ে আমাদের ভাবতে হবে। হলে শিক্ষার্থীরা চার জনের কক্ষে ২০ জন থাকেন। সবার টিকা নিশ্চিত করে তারপর হল খুলতে হবে। আমরা আশা করছি, টিকা বা প্রতিষেধক দ্রুত উৎপাদন হলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।