ঢাকা ০২:১৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬, ২৮ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পাল্টা জবাব দিলেন কিউবার প্রেসিডেন্ট বনশ্রীতে স্কুলছাত্রী খুন,পুলিশের সন্দেহের তালিকায় পলাতক রেস্তোরাঁ কর্মী স্বৈরাচারের লোকেরা নির্বাচন ভণ্ডুলের চেষ্টা করবে: ড. মুহাম্মদ ইউনূস গাজীপুরে নবজাতকের লাশ নিয়ে কুকুরের টানাহ্যাঁচড়া, উদ্ধার করল পুলিশ ধর্মকে পুঁজি করে মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে, ধোঁকা দেওয়া হচ্ছে : খায়রুল কবির খোকন দলে বড় নাম থাকলেও জেতার জন্য সবাইকে আরও দায়িত্ব নিতে হবে: সোহান ২৫ জন বাংলাদেশিকে ক্ষমা করল আমিরাত দেশের ভবিষ্যত গড়ার জন্য গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয় নিশ্চিত করতে হবে : চরমোনাই পীর ব্যালটবাক্স ভরে কোনো নির্দিষ্ট প্রতীকের জয়ের সুযোগ নেই: রুমিন ফারহানা এইচএসসি পাসে নিউরো মেডিসিন বিশেষজ্ঞ , রোগী দেখেন দুই জেলায়

গ্রাহকের কোটি টাকা নিয়ে উধাও ছাত্রলীগ নেতা

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

টাঙ্গাইলে গ্রাহকের কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে পালিয়ে গেছে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকিং বুথের এজেন্ট। প্রতারক এজেন্ট সারোয়ার হোসেন সবুজ বাসাইল উপজেলার ফুলকী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি। তিনি আইসড়া গ্রামের মারিফত মিয়ার ছেলে।

সরেজমিন জানা গেছে, তিন বছর আগে ডাচ্-বাংলা কেন্দ্রীয় ব্যাংক আইসড়া বাজারে এজেন্ট ব্যাংকিং বুথ চালু করে। বাসাইলের ফুলকী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি সবুজ এজেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেন।

বাজারে একটি দোকান ভাড়া নিয়ে এজেন্ট ব্যাংকিং শুরু করেন তিনি। আইসড়া গ্রাম তাঁত সমৃদ্ধ এবং অনেক মানুষ প্রবাসী হওয়ায় তাদের স্ত্রী এবং বাবা-মাদের টার্গেট করেন সবুজ। ব্যাংকিং নীতিমালা উপেক্ষা করে সাধারণ রেটের চেয়ে উচ্চ হারে লাভের প্রলোভন দেখিয়ে ব্যাংকে টাকা জমা রাখতে প্রলুব্ধ করেন।

অতিমুনাফার আশায় গ্রামের সরল অনেক মানুষ বিদেশ থেকে পাঠানো টাকা ও বাজারের ব্যবসায়ীরা ব্যাংকে টাকা জমা রাখেন। জমা করা টাকা উত্তোলন করতে গিয়ে দেখেন তাদের জমানো টাকা ব্যাংক হিসাবে নেই। এজেন্ট সবুজের কাছে টাকার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বিভিন্ন গ্রাহকের টাকা দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তালবাহানা করেন ও ঘুরাতে থাকেন।

টাকা না পেয়ে গ্রাহকরা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। তাদের জমানো টাকা পাওয়ার আশায় বাজারে সালিশিবৈঠক বসান। সেখানে সবুজ টাকা ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। হঠাৎ করে গত সাত দিন ধরে সবুজ ব্যাংক বন্ধ করে পালিয়ে যান। এ ঘটনায় গ্রাহকরা বিক্ষুব্ধ হয়ে মিছিল সমাবেশ করেন।

ক্ষতিগ্রস্তদের অভিযোগে জানা গেছে, গ্রাহক রুম্পা বেগমের ১৪ লাখ টাকা, আফজাল হোসেনের ৯ লাখ টাকা, রাজু বেগমের ৭ লাখ টাকা, জলি বেগমের পৌঁনে ৪ লাখ টাকা, বাজারের চা বিক্রেতা আবুল হোসেনের ১ লাখ টাকা, ইতি খানের ৪০ হাজার টাকাসহ অসংখ্য গ্রাহকের প্রায় কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে পালিয়ে গেছেন এজেন্ট সবুজ।

ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহক ও দোকান ব্যবসায়ী রাজু বলেন, আমিও পাঁচ লাখ জমা দিয়ে প্রতারিত হয়েছি। ডাচ্-বাংলা এজেন্ট ব্যাংক টাঙ্গাইল অফিসের কিছু অসাধু কর্মকর্তা এর পেছনে জড়িত রয়েছে। তা না হলে সবুজ এই কোটি টাকা নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সাহস পেতেন না। আত্মসাতের সঙ্গে জড়িতদের বিচার ও টাকা ফেরতের দাবি জানান তিনি।

গ্রাহক ইতি খান অভিযোগ করে বলেন, আমরা বিশ্বাস করে ব্যাংকে টাকা রেখেছি। সে এমন প্রতারণা করবে বুঝতে পারিনি। প্রথম যখন টাকা জমা রাখি তখন মোবাইলে এসএমএস আসত। পরে ব্যাংকে টাকা জমা দিলে এসএমএস আসত না। এ বিষয়ে তাদের জানালে তারা বলত সার্ভার নষ্ট হয়েছে।

গ্রাহক আফজাল হোসেন বলেন, বিদেশে থেকে পাঠানো ৯ লাখ টাকা আমার মা ও স্ত্রী জমা রেখেছে। উচ্চ হারের প্রলোভন দেখিয়ে তাদের টাকা জমা রাখতে বাধ্য করেছে। তারাও গ্রামের ছেলে হিসেবে বিশ্বাস করেছে। দেশে এসে টাকা উঠাতে গেলে জানতে পারি টাকা নিয়ে পালিয়েছে। সে এমন প্রতারক ভাবতেও পারিনি।

ফুলকী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম বাবুল বলেন, গ্রাহকের টাকা নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় তাদের অভিযোগের ভিত্তিতে তিন দিন আগে আইসড়া বাজারের সব গ্রাহক, ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ, বাজার কমিটির নেতৃবৃন্দ এবং পলাতক এজেন্ট সবুজের বাবাকে নিয়ে সালিশিবৈঠকে বসা হয়। সবুজের বাবা তার সম্পতি বিক্রি করে গ্রাহকের টাকা পরিশোধে রাজি হন। সবার উপস্থিতিতে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের হিসাবের ভিত্তিতে টাকা পরিশোধ করা হবে বলেও জানান তিনি।

বাসাইল উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক কামরান খান বিপুল বলেন, সবুজ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি। সে একটি ব্যাংকের এজেন্ট ছিল। বহু গ্রাহকের টাকা আত্মসাৎ করেছে বলে শুনেছি। এ ঘটনায় তাকে পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। প্রমাণ পেলে তাকে দল থেকে বহিষ্কার ও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

টাঙ্গাইল ডাচ্-বাংলা এজেন্ট ব্যাংকিং অফিসের ব্যবস্থাপক আব্দুর রউফ বলেন, এ ঘটনা নিয়ে ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ একটি মিটিং করেছে। স্থানীয় পর্যায়ের লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে গ্রাহকদের টাকা পরিশোধ করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পাল্টা জবাব দিলেন কিউবার প্রেসিডেন্ট

গ্রাহকের কোটি টাকা নিয়ে উধাও ছাত্রলীগ নেতা

আপডেট সময় ০৬:১৬:২৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ জুন ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

টাঙ্গাইলে গ্রাহকের কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে পালিয়ে গেছে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকিং বুথের এজেন্ট। প্রতারক এজেন্ট সারোয়ার হোসেন সবুজ বাসাইল উপজেলার ফুলকী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি। তিনি আইসড়া গ্রামের মারিফত মিয়ার ছেলে।

সরেজমিন জানা গেছে, তিন বছর আগে ডাচ্-বাংলা কেন্দ্রীয় ব্যাংক আইসড়া বাজারে এজেন্ট ব্যাংকিং বুথ চালু করে। বাসাইলের ফুলকী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি সবুজ এজেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেন।

বাজারে একটি দোকান ভাড়া নিয়ে এজেন্ট ব্যাংকিং শুরু করেন তিনি। আইসড়া গ্রাম তাঁত সমৃদ্ধ এবং অনেক মানুষ প্রবাসী হওয়ায় তাদের স্ত্রী এবং বাবা-মাদের টার্গেট করেন সবুজ। ব্যাংকিং নীতিমালা উপেক্ষা করে সাধারণ রেটের চেয়ে উচ্চ হারে লাভের প্রলোভন দেখিয়ে ব্যাংকে টাকা জমা রাখতে প্রলুব্ধ করেন।

অতিমুনাফার আশায় গ্রামের সরল অনেক মানুষ বিদেশ থেকে পাঠানো টাকা ও বাজারের ব্যবসায়ীরা ব্যাংকে টাকা জমা রাখেন। জমা করা টাকা উত্তোলন করতে গিয়ে দেখেন তাদের জমানো টাকা ব্যাংক হিসাবে নেই। এজেন্ট সবুজের কাছে টাকার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বিভিন্ন গ্রাহকের টাকা দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তালবাহানা করেন ও ঘুরাতে থাকেন।

টাকা না পেয়ে গ্রাহকরা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। তাদের জমানো টাকা পাওয়ার আশায় বাজারে সালিশিবৈঠক বসান। সেখানে সবুজ টাকা ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। হঠাৎ করে গত সাত দিন ধরে সবুজ ব্যাংক বন্ধ করে পালিয়ে যান। এ ঘটনায় গ্রাহকরা বিক্ষুব্ধ হয়ে মিছিল সমাবেশ করেন।

ক্ষতিগ্রস্তদের অভিযোগে জানা গেছে, গ্রাহক রুম্পা বেগমের ১৪ লাখ টাকা, আফজাল হোসেনের ৯ লাখ টাকা, রাজু বেগমের ৭ লাখ টাকা, জলি বেগমের পৌঁনে ৪ লাখ টাকা, বাজারের চা বিক্রেতা আবুল হোসেনের ১ লাখ টাকা, ইতি খানের ৪০ হাজার টাকাসহ অসংখ্য গ্রাহকের প্রায় কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে পালিয়ে গেছেন এজেন্ট সবুজ।

ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহক ও দোকান ব্যবসায়ী রাজু বলেন, আমিও পাঁচ লাখ জমা দিয়ে প্রতারিত হয়েছি। ডাচ্-বাংলা এজেন্ট ব্যাংক টাঙ্গাইল অফিসের কিছু অসাধু কর্মকর্তা এর পেছনে জড়িত রয়েছে। তা না হলে সবুজ এই কোটি টাকা নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সাহস পেতেন না। আত্মসাতের সঙ্গে জড়িতদের বিচার ও টাকা ফেরতের দাবি জানান তিনি।

গ্রাহক ইতি খান অভিযোগ করে বলেন, আমরা বিশ্বাস করে ব্যাংকে টাকা রেখেছি। সে এমন প্রতারণা করবে বুঝতে পারিনি। প্রথম যখন টাকা জমা রাখি তখন মোবাইলে এসএমএস আসত। পরে ব্যাংকে টাকা জমা দিলে এসএমএস আসত না। এ বিষয়ে তাদের জানালে তারা বলত সার্ভার নষ্ট হয়েছে।

গ্রাহক আফজাল হোসেন বলেন, বিদেশে থেকে পাঠানো ৯ লাখ টাকা আমার মা ও স্ত্রী জমা রেখেছে। উচ্চ হারের প্রলোভন দেখিয়ে তাদের টাকা জমা রাখতে বাধ্য করেছে। তারাও গ্রামের ছেলে হিসেবে বিশ্বাস করেছে। দেশে এসে টাকা উঠাতে গেলে জানতে পারি টাকা নিয়ে পালিয়েছে। সে এমন প্রতারক ভাবতেও পারিনি।

ফুলকী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম বাবুল বলেন, গ্রাহকের টাকা নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় তাদের অভিযোগের ভিত্তিতে তিন দিন আগে আইসড়া বাজারের সব গ্রাহক, ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ, বাজার কমিটির নেতৃবৃন্দ এবং পলাতক এজেন্ট সবুজের বাবাকে নিয়ে সালিশিবৈঠকে বসা হয়। সবুজের বাবা তার সম্পতি বিক্রি করে গ্রাহকের টাকা পরিশোধে রাজি হন। সবার উপস্থিতিতে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের হিসাবের ভিত্তিতে টাকা পরিশোধ করা হবে বলেও জানান তিনি।

বাসাইল উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক কামরান খান বিপুল বলেন, সবুজ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি। সে একটি ব্যাংকের এজেন্ট ছিল। বহু গ্রাহকের টাকা আত্মসাৎ করেছে বলে শুনেছি। এ ঘটনায় তাকে পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। প্রমাণ পেলে তাকে দল থেকে বহিষ্কার ও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

টাঙ্গাইল ডাচ্-বাংলা এজেন্ট ব্যাংকিং অফিসের ব্যবস্থাপক আব্দুর রউফ বলেন, এ ঘটনা নিয়ে ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ একটি মিটিং করেছে। স্থানীয় পর্যায়ের লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে গ্রাহকদের টাকা পরিশোধ করার চেষ্টা করা হচ্ছে।