ঢাকা ০৮:৫৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬, ৭ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার বিষয়ে বিকল্প চিন্তাভাবনা চলছে

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

চলতি বছরের এসএসসি ও এইএসসি পরীক্ষার বিষয়ে বিকল্প চিন্তাভাবনা চলছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন, চলতি বছরের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা সংক্ষিপ্ত আকারে নেয়ার প্রস্তুতি চলছে। পরীক্ষা নেয়া সম্ভব না হলে বিকল্প চিন্তা করা হচ্ছে।

রবিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ভয়ের কোনো কারণ নেই, পরীক্ষা দিতে হবে কিনা সেটি পরের কথা। নিজেদের যতটুকু শিক্ষা কার্যক্রমের সঙ্গে সংযুক্ত রাখা সম্ভব ততটুকু করুন, নিজে সুস্থ থাকুন। আমরা চাই আমাদের সন্তানরা সুস্থ থাকুক। পরীক্ষা এক বছর না দিলে জীবনে এমন কোনো ক্ষতি হয়ে যাবে না।

করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া হবে জানিয়ে দীপু মনি বলেন, আপনারা জানেন ১৩ জুন থেকে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার চিন্তা আমাদের ছিল। সে বিষয়ে প্রস্তুতিও ছিল। কিন্তু এরই মধ্যে দেশের ২০টি জেলা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে গেছে। প্রায় ১০টি জেলার বিভিন্ন জায়গায় লকডাউন চলছে। এখন নতুন করে যে ভ্যারিয়েন্টগুলো পাওয়া যাচ্ছে, সেগুলো অনেক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। এই পরিস্থিতিতে আমরা বাধ্য হয়েছি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ছুটি ৩০ জুন পর্যন্ত বাড়াতে। এরপরও পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, সেটার ওপর নজর রেখে আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আমরা যখনই খুলি না কেন শিক্ষা ব্যবস্থা চালু রাখা অত্যন্ত জরুরি। আমরা অনলাইনে শিক্ষা দিয়ে শতকরা ৮০/৮৫ ভাগের বেশি শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছাতে পেরেছি। যার ফলে অ্যাসাইনমেন্ট ব্যবস্থা চালু করে আমরা ৯৩ ভাগ শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছাতে পেরেছি। আমাদের এই চেষ্টাগুলো অব্যাহত রয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শিক্ষাব্যবস্থার যে ক্ষতি হচ্ছে তা কাটিয়ে ওঠার জন্য নানা পদক্ষেপ হাতে নেয়া হচ্ছে।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে দীপু মনি বলেন, আপনারা বিভ্রান্ত হবেন না, ভুল পথে যাবেন না। নিজেরা নিজেদের বাড়িতে সুস্থ থাকার চেষ্টা করুন, মানসিকভাবে সুস্থ থাকার জন্য কাজ করুন, কোনো খারাপ কিছুতে নিজেদের জড়িয়ে ফেলবেন না। ভয়ের কোনো কারণ নেই। বিশেষভাবে এবার যাদের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা দেওয়ার কথা, উদ্বেগটা আসলে তাদেরই বেশি। আমরা ভেবেছিলাম তাদের ক্লাস করিয়ে পরীক্ষা নিতে পারব। এখন সেটি যদি না হয়, তাহলে তার বিকল্প চিন্তা করছি। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ব্যাপারে কী করা যায় আমরা সেগুলো নিয়েও ভাবছি।

‘আপনাদের সুস্থতা এবং জীবন আমাদের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষার্থীরা বাড়িতে যতটুকু সম্ভব তাদের পড়াশোনা চালিয়ে যাক। উদ্বেগের কোনো কারণ নেই। এমন কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে না, যাতে তারা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আমাদের যে ক্ষতিটা তা শিক্ষা ব্যবস্থার। সামগ্রিক বিশ্বে এই ক্ষতিটা হচ্ছে। এই ক্ষতি কীভাবে পুষিয়ে নেওয়া যাবে সেই ব্যাপারে আমাদের পরিকল্পনা রয়েছে। কিন্তু এখন আমরা পরীক্ষা নিতে পারব কিনা, পরীক্ষা নিতে না পারলে বিকল্প কি ব্যবস্থা হবে, সবকিছু নিয়ে আমাদের চিন্তা ভাবনা রয়েছে। একেবারে প্রস্তুতির দিকেই আমরা যাচ্ছি।–যোগ করেন দীপু মনি।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার বিষয়ে বিকল্প চিন্তাভাবনা চলছে

আপডেট সময় ০৪:৫৪:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ জুন ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

চলতি বছরের এসএসসি ও এইএসসি পরীক্ষার বিষয়ে বিকল্প চিন্তাভাবনা চলছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন, চলতি বছরের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা সংক্ষিপ্ত আকারে নেয়ার প্রস্তুতি চলছে। পরীক্ষা নেয়া সম্ভব না হলে বিকল্প চিন্তা করা হচ্ছে।

রবিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ভয়ের কোনো কারণ নেই, পরীক্ষা দিতে হবে কিনা সেটি পরের কথা। নিজেদের যতটুকু শিক্ষা কার্যক্রমের সঙ্গে সংযুক্ত রাখা সম্ভব ততটুকু করুন, নিজে সুস্থ থাকুন। আমরা চাই আমাদের সন্তানরা সুস্থ থাকুক। পরীক্ষা এক বছর না দিলে জীবনে এমন কোনো ক্ষতি হয়ে যাবে না।

করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া হবে জানিয়ে দীপু মনি বলেন, আপনারা জানেন ১৩ জুন থেকে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার চিন্তা আমাদের ছিল। সে বিষয়ে প্রস্তুতিও ছিল। কিন্তু এরই মধ্যে দেশের ২০টি জেলা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে গেছে। প্রায় ১০টি জেলার বিভিন্ন জায়গায় লকডাউন চলছে। এখন নতুন করে যে ভ্যারিয়েন্টগুলো পাওয়া যাচ্ছে, সেগুলো অনেক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। এই পরিস্থিতিতে আমরা বাধ্য হয়েছি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ছুটি ৩০ জুন পর্যন্ত বাড়াতে। এরপরও পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, সেটার ওপর নজর রেখে আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আমরা যখনই খুলি না কেন শিক্ষা ব্যবস্থা চালু রাখা অত্যন্ত জরুরি। আমরা অনলাইনে শিক্ষা দিয়ে শতকরা ৮০/৮৫ ভাগের বেশি শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছাতে পেরেছি। যার ফলে অ্যাসাইনমেন্ট ব্যবস্থা চালু করে আমরা ৯৩ ভাগ শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছাতে পেরেছি। আমাদের এই চেষ্টাগুলো অব্যাহত রয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শিক্ষাব্যবস্থার যে ক্ষতি হচ্ছে তা কাটিয়ে ওঠার জন্য নানা পদক্ষেপ হাতে নেয়া হচ্ছে।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে দীপু মনি বলেন, আপনারা বিভ্রান্ত হবেন না, ভুল পথে যাবেন না। নিজেরা নিজেদের বাড়িতে সুস্থ থাকার চেষ্টা করুন, মানসিকভাবে সুস্থ থাকার জন্য কাজ করুন, কোনো খারাপ কিছুতে নিজেদের জড়িয়ে ফেলবেন না। ভয়ের কোনো কারণ নেই। বিশেষভাবে এবার যাদের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা দেওয়ার কথা, উদ্বেগটা আসলে তাদেরই বেশি। আমরা ভেবেছিলাম তাদের ক্লাস করিয়ে পরীক্ষা নিতে পারব। এখন সেটি যদি না হয়, তাহলে তার বিকল্প চিন্তা করছি। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ব্যাপারে কী করা যায় আমরা সেগুলো নিয়েও ভাবছি।

‘আপনাদের সুস্থতা এবং জীবন আমাদের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষার্থীরা বাড়িতে যতটুকু সম্ভব তাদের পড়াশোনা চালিয়ে যাক। উদ্বেগের কোনো কারণ নেই। এমন কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে না, যাতে তারা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আমাদের যে ক্ষতিটা তা শিক্ষা ব্যবস্থার। সামগ্রিক বিশ্বে এই ক্ষতিটা হচ্ছে। এই ক্ষতি কীভাবে পুষিয়ে নেওয়া যাবে সেই ব্যাপারে আমাদের পরিকল্পনা রয়েছে। কিন্তু এখন আমরা পরীক্ষা নিতে পারব কিনা, পরীক্ষা নিতে না পারলে বিকল্প কি ব্যবস্থা হবে, সবকিছু নিয়ে আমাদের চিন্তা ভাবনা রয়েছে। একেবারে প্রস্তুতির দিকেই আমরা যাচ্ছি।–যোগ করেন দীপু মনি।