আকাশ জাতীয় ডেস্ক:
কিশোর গ্যাং, মাদক ও টিকটক- এই তিন ব্যাধি নিয়ন্ত্রণে পরিবারকেই প্রথমে এগিয়ে আসতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন সম্পাদক ও জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি সাইফুল আলম।
‘মাদক, কিশোর গ্যাং ও টিকটক- সমাজের তিন ব্যাধি রোধ করণীয়’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে স্বাগত বক্তব্যে এ মন্তব্য করেন তিনি। শনিবার কনফারেন্স রুমে গোলটেবিল বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালন করেন উপসম্পাদক এহসানুল হক বাবু। সভাপতিত্ব করেন যমুনা গ্রুপের চেয়ারম্যান, সাবেক মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী এবং প্রকাশক অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম এমপি।
বৈঠকে পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন দেন মাদকদ্রব্য ও নেশা নিরোধ সংস্থার (মানস) প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অধ্যাপক ড. অরুপ রতন চৌধুরী।
সাইফুল আলম বলেন, ব্যথায় জর্জরিত এ সমাজ। সমাজে ব্যাধির শেষ নেই। সেই ব্যাধি নিরসনেও কাজ চালিয়ে যাচ্ছে সরকার। তবে মাদক, কিশোর গ্যাং ও টিকটক- এই তিনটি ব্যাধি বর্তমানে আমাদের পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে ভয়ঙ্করভাবে নাড়া দিয়েছে। এটা অস্বীকারের কোনো উপায় নেই। যে কারণে এ তিনটি সামাজিক ব্যাধির বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ করেছে। কীভাবে এর থেকে আমাদের উত্তরণ ঘটবে সেই দিকনির্দেশনা, সুপারিশ নিয়ে আলোচনা খুবই জরুরি মনে করেছে যুগান্তর। যুগান্তর মনে করে সংবাদ সংগ্রহ, প্রকাশের পাশাপাশি তার সামাজিক দায়বদ্ধতা রয়েছে। সেই দায়বদ্ধতা থেকেই কোভিড-১৯ এর মধ্যেও আমরা এ আয়োজনে সমবেত হয়েছি। সমাজকে দূষণমুক্ত করতে পরবর্তী সময়েও দেশের সুশীল সমাজ, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সুচিন্তিত মতামত গ্রহণ করে যুগান্তর প্রকাশ করবে।
কিশোর গ্যাং, মাদক ও টিকটক রোধে সাইফুল আলম বলেন, এসব অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পারিবারিক দায়িত্বটা বেশি। পরিবারকেই প্রথমে এগিয়ে আসতে হবে। পাশাপাশি সমাজ, রাষ্ট্রেরও দায়িত্ব রয়েছে। মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে আমরা যে রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছি তাকে মানবকল্যাণমুখী রাষ্ট্র গড়ে তুলতে হবে। সেক্ষেত্রে আমাদের সবার যার যার অবস্থান থেকে এগিয়ে আসতে হবে। আমাদের খারাপ যা কিছু আছে সেখান থেকে বেরিয়ে আসার একটা সমন্বিত কর্মপ্রয়াস চালাতে হবে। খারাপ কাজকে ঘৃণা করার মানসিকতা প্রতিটি মানুষের মধ্যে জাগিয়ে তুলতে হবে। আমরা প্রযুক্তি ব্যবহার করব, কিন্তু সেখানের খারাপ বিষয়টি পরিহার করব। তাহলেই সমাজ থেকে এসব ভয়ঙ্কর অপরাধ নির্মূল হতে পারে। পরিবর্তন আসতে পারে সমাজের।
বৈঠকে আরও বক্তব্য রাখেন- জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান নাছিমা বেগম, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আহসানুল জব্বার, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া, জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ডা. হেলাল উদ্দিন আহমেদ, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি মোখলেসুর রহমান ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার একেএম হাফিজ আক্তার, র্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. মশিউর রহমান এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধ বিজ্ঞান বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. জিয়া রহমান।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 



















